আজঃ মঙ্গলবার ৫ মে, ২০২৬

ভোলা:

ভোলার শিল্পকলা একাডেমিগুলোকে প্রাণপণে ঢেলে সাজাবেন ডিসি আরিফুজ্জামান

রিপন শান:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সুস্থ সুন্দর উন্নত প্রগতিশীল ভোলা জেলা বাস্তবায়নের জন্য ভোলার মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা জরুরি বলে মনে করছেন ভোলা জেলার জনবান্ধব প্রশাসক আরিফুজ্জামান। তিনি মনে করছেন- ভোলার আর্থ সামাজিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি যদি ভোলার মানুষকে বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক উন্নয়ন উপহার দেয়া যায় ; তাহলে ভোলার অগ্রগতি সাধন হবে বিপুল বৈভবে ।

এজন্য তিনি ভোলা জেলা শিল্পকলা একাডেমি সহ ভোলার সকল উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিকে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন । ২৮ আগস্ট ২০২৪ দুপুরে ভোলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গৃহীত এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে আরিফুজ্জামান বলেন- আবহমান কাল থেকেই দ্বীপজেলা ভোলাতে বহুমতের মিশ্র এক অবিমিশ্র সংস্কৃতির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় । প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভোলার জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ । নদীবিধৌত পলিমাটির জনপদ ভোলার জনজীবন প্রকৃতির বিচিত্র স্বাদ ও সাধনায় ভরপুর । এখানকার মানুষের বিচিত্র জীবন ও জীবিকা, লোকেদের ব্যবহার করা রকমারি আঞ্চলিক ভাষার বিষয় ও বৈচিত্র্য, যুগ যুগ ধরে লালন করা অতিথিপরায়নতা, বিয়েবাড়ির বহুমাত্রিক আয়োজন, গ্রামীন খেলাধূলার বাহার, ঈদ ও পূজা পার্বণে সার্বজনীন উৎসবমুখরতা, কৃষিভিত্তিক জীবনসংগ্রাম, মাছ ধরার নানানরকম উৎসব ইত্যাদি নানান জীবানুসঙ্গ দ্বীপজেলা ভোলার সংস্কৃতিকে ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ করেছে। ভোলার সংস্কৃতি সমৃদ্ধ বলেই ভোলার সাহিত্য উর্বর ।জাতীয় মঙ্গলের কবি মোজাম্মেল হক , কথাসাহিত্যিক মোশাররফ হোসেন শাজাহান দেশবরেণ্য সুরকার শহিদুল ইসলাম, উপমহাদেশের বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী পাপড়ি সারোয়ার, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি নাসির আহমেদ, শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোহাম্মদ হানিফ, শিক্ষাবিদ সালাউদ্দিন আহমাদ মিয়া, ইতিহাস গবেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ হোসেন, মোস্তফা হারুন, মুহাম্মদ শওকাত হোসেন, কবি ও গবেষক অধ্যক্ষ কায়সার আহমেদ দুলাল, কবি ও কণ্ঠশিল্পী হাসান মাহমুদ, সাংবাদিক ও সংগঠক নজরুল হক অনু, কবি অনন্ত জাহিদ, কবি শাহ মতিন টিপু, কবি ও নাট্যকার রিপন শান, কবি ফয়সল নোই, কবি মাসুদ হাসান , কবি জুননু রাইন, কবি নীহার মোশাররফ , শিশুসাহিত্যিক মামুন সারওয়ার, কবি হাওলাদার মাকসুদ, কবি আল মনির , কবি জুলফিকার আলী, কবি দিলরুবা জ্যাসমিন, কবি জেসমিন জাহিদ,কবি কামাল হোসেন শাহীন, কবি গাজী তাহের লিটন, কবি এরশাদ সোহেল, কবি ফারজানা স্নিগ্ধা, অভিনেতা সাঈদ তপু, অভিনেতা রাশেদ সীমান্ত, আবৃত্তিশিল্পী সামস মিঠু, নেয়ামত উল্যাহ, মশিউর রহমান পিংকু, নাট্যশিল্পী মরহুম আবুল কাশেম দুলাল, শাহজামাল দুলাল, অতনু করঞ্জাই, নাসির লিটন, মনির আহমদ শুভ্র, আবুল কাশেম মেলেটারী, বাদল কৃষ্ণ দেবনাথ, জিল্লুর রহমান তুহিন, মাঈনুল ইসলাম মনির, কণ্ঠশিল্পী আলম আরা মিনু , মনজুর আহমেদ, মনি দে, উত্তম ঘোষ, রেহেনা ফেরদৌস, বাঁধন তালুকদার , আবিদুল আলম, ফারজানা লিয়ানা, নৃত্যশিল্পী নাদিয়া হাওলাদার মিস্টি সহ একঝাঁক আলোকিত মানুষ তাদের জীবন ও কর্মের অমূল্য আরশীতে ভোলার স্হানীয় ইতিহাসসহ জাতীয় সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে আলোকিত ও সমৃদ্ধ করেছে। ক্ষেত্রবিশেষে এই আলো পৌঁছে গেছে বৈশ্বিক পরিমন্ডলে।
ভোলার সংস্কৃতিবান্ধব ডিসি আরিফুজ্জামান বলেন- ভোলাতে আমার জন্ম না হলেও ভোলাকেই আমি আমার জন্মস্থান জ্ঞান করছি । প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ভৌগলিক শোভায় আমার গ্রাম আর ভোলার গ্রামের মধ্যে কোনো তফাত নেই। ভোলাকে আমি ভীষণভাবে ভালোবাসে ফেলেছি এবং ভোলাকে আমি হৃদয়ের সমস্ত অনুভব দিয়ে উপভোগ করছি ।
ডিসি আরিফুজ্জামান আরো বলেন – এমনও দেখা গেছে, আমরা সরকারি আয়োজন ছাড়াই ভোলার শিল্পীরা ভোলার শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের ট্যালেন্ট থ্রো করে নানান পুরস্কার নিয়ে এসেছে। ভোলার মুখ উজ্জ্বল করছে ।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে আরিফুজ্জামান বলেন- আমি জেলা প্রশাসক হিসেবে ভোলাতে এসেছি আজ একবছর এক মাস । আমি লক্ষ্য করেছি ভোলায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির কোন সুসংগঠিত কমিটি নেই। জেলা কালচারাল অফিসারকে দিয়ে সাধারণ সম্পাদকের শূন্যস্থান চালিয়ে নেয়া হয় । আমার কখনোই কালচারাল অফিসার কে খুব একটা কালচারড মনে হয়নি । ভোলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নানান প্রতিভার সমাবেশ আমি লক্ষ্য করেছি । কিন্তু তাদের মধ্যে ঐক্য নেই । আমি মনে করি ভোলার সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে দলাদলি ও গ্রুপিং মোকাবেলা করে যদি একটি সার্বজনীন ঐকতান তৈরি করা যায় , তাহলে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সর্বজন গ্রহনযোগ্য একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা যাবে । আর জেলা শিল্পকলা একাডেমি ঠিক হলে, সকল উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।
অতিসম্প্রতি জেলা প্রশাসন আয়োজিত পিঠা উৎসবের বর্ণনা দিতে গিয়ে ডিসি আরিফুজ্জামান বলেন – পিঠা উৎসবের পারফরম্যান্সে আমি লক্ষ্য করেছি উপজেলাগুলোর পরিবেশনা তেমন গুছানো নয়। অনেক উপজেলার পারফরমেন্স ছিল “করার জন্যই করা” গোছের। এর কারণ- দক্ষ এবং যোগ্য লিডারশিপের অভাব। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় গঠন করা উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির ‘পকেট কমিটি’ আর নামসর্বস্ব রিহার্সাল দিয়ে তো আর অধিকতর ফলন আশা করা যায় না !!
আরিফুজ্জামান আরো বলেন- অনতিবিলম্বে ভোলা জেলা শিল্পকলা সহ সকল উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির মেয়াদোত্তীর্ণ ও অকার্যকর কমিটি বিলুপ্ত করে দক্ষ যোগ্য দায়িত্বের প্রতি কমিটেড দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের সংযুক্ত করে ভোলার সকল শিল্পকলার কমিটি গঠন করা হবে । দায়িত্ব জ্ঞানহীন, সামাজিকভাবে বিতর্কিত ও মাদকাসক্ত কেউ যেন কমিটিতে আসতে না পারে ; সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবো ।
জেলা সাহিত্য মেলা ২০২২(২০২৩) এর সফলতা উল্লেখ করে আগামী দিনে এটি কন্টিনিউ করবে কীনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে সম্পুর্ন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে থেকে উঠে আসা দ্বীপজেলা ভোলার ডিসি আরিফুজ্জামান জানান- আমার সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। ভোলাতে জাতীয় কবিতা পরিষদের কমিটি গঠন হয়েছে শুনে আমি ভীষণ আনন্দিত এবং অভিভূত। যে কোনো সভ্যতার উৎকৃষ্ট ব্যারোমিটার হচ্ছে তার কবি সাহিত্যিক। জাতীয় কবিতা পরিষদ ভোলা ; ভোলার আবহমান ইতিহাস ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির নির্যাসকে হৃদয়ে ধারণ করে বহুদূর এগিয়ে যাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস । শুধু জেলা প্রশাসক হিসেবে নয় একজন কবিতাশ্রমিক হিসেবে আমি আছি ভোলার কবিদের সাথে। আমি মনে করি কবিতা পরিষদ আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করলে খুব শীঘ্রই কুইন আইল্যান্ড ভোলাতে একটি “নদীমাতৃক জাতীয় কবিতা উৎসব” সফলভাবে আয়োজন করা সময়ের ব্যাপার মাত্র । আপনারা আমাকে দোয়া করবেন, বৈষম্য বিরোধী আজকের এই নতুন বাংলাদেশে শিক্ষা শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতির সৌরভে আমি যেন এক নতুন ভোলা উপহার দিয়ে যেতে পারি। এক্ষেত্রে দেশপ্রেম ও ঐক্যবদ্ধতার কোনো বিকল্প নেই। আর আমাদের মনে রাখতে হবে- ভোলা মানে শুধু ভোলা সদর নয় । ইলিশার প্রান্ত থেকে চরকুকরিমুকরির সাগরছোঁয়া সর্বশেষ সীমান্ত অর্থাৎ ভোলা সদর, বোরহানউদ্দিন, দৌলতখান, লালমোহন, তজুমদ্দিন, চরফ্যাসন , মনপুরার প্রতিটি জনপদের সম্মিলিত নাম দ্বীপজেলা ভোলা । ভোলায় জনম যার শতমুখি গর্ব তার ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নিষিদ্ধ আ.লীগ ও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের উত্তেজনা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।সোমবার বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম আদালত ভবনের আইনজীবী সমিতি ভবনের বার লাইব্রেরির প্রবেশমুখে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবীদের অভিযোগ, বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীরা তাদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা দেন। তবে বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দল-সমর্থিত আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৩টার দিকে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুর রশিদের নেতৃত্বে একদল আইনজীবী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে বার লাইব্রেরিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে প্রবেশমুখে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা বার লাইব্রেরির দরজা বন্ধ করে দেন।পরে আওয়ামী লীগ-সমর্থক বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ও সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতাকর্মীরা বার লাইব্রেরির সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

সভাপতি প্রার্থী আবদুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, তারা সাধারণ আইনজীবী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গেলে তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা ফরম সংগ্রহ করতে পারেননি।
অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম চট্টগ্রামের সদস্যসচিব কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।

ঘটনার বিষয়ে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, মনোনয়নপত্র সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার রওশন আরা জানান, বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত রয়েছে এবং যেকোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। বাধার বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, তপশীল অনুযায়ী, ৫ মে মনোনয়নপত্র বাছাই, ৬ মে আপত্তি শুনানি, ৮ মে মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ৯ মে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। আর ২১ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৬ পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রবিবার দুপুরে প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ।সভাপতির বক্তব্যে জাহিদুল করিম কচি বলেন, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে গণমাধ্যম সমাজের আয়না হিসেবে কাজ করে। প্রযুক্তির অগ্রগতিতে তথ্যপ্রবাহ দ্রুততর হলেও ভুয়া খবরের বিস্তারও বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের পেশাগত সততা ও দায়িত্ববোধ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়; বরং সমাজের সব স্তরের মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

সভায় বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একটি মুক্ত ও শক্তিশালী গণমাধ্যমই স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক হতে পারে।এসময় আরো বক্তব্য দেন, সিনিয়র সদস্য সিরাজুল করিম মানিক, প্রেস ক্লাবের অর্থ সম্পাদক ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার আবুল হাসনাত, গ্রন্থাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ, নির্বাহী সদস্য ও এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার আরিচ আহমেদ শাহ, কর্ণফুলী পত্রিকার বার্তা সম্পাদক জামাল উদ্দিন হাওলাদার, পূর্বদেশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার এম এ হোসাইন, নিউজ গার্ডেন পত্রিকার সম্পাদক কামরুল হুদা, পূর্বদেশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মনিরুল ইসলাম মুন্না, রিদুয়ান সিদ্দিকী, সাঙ্গু পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মো. নজরুল ইসলাম এবং রূপালী বাংলাদেশের সিনিয়র রিপোর্টার মো. শাহাবুদ্দীন সহ প্রমুখ।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ