আজঃ রবিবার ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বন্যায় দূর্গত কৃষকদের জন্য ধানের বীজ বপন করলেন দুর্বার

ঠাীোঈী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্মরনকালের ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় চট্টগ্রামের মরসরাই উপজেলায়। বলা চলে সে ক্ষতিতে কৃষকদের হাত মাথায় উঠেছে । জলের বানে ডুবে গেছে আমন ধানের বীজতলা। কৃষকদের এরূপ দুশ্চিন্তায় পাশে দাঁড়ালেন দুর্বার’র সদস্যরা। “দুর্যোগে ঐক্য গড়ি, কৃষিতে স্বপ্ন বুনি” এই স্লোগানে নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে দুই সেপ্টেম্বর মিঠানালা ইউনিয়নে ২৫ শতক জমিতে তৈরী করেন বীজতলা। জমি চাষ থেকে শুরু করে, পানি সেচ ও জমির আলও করেন তারা। এরপর নামেন প্রতি আলে ধানের বীজ ছিটাতে। সেটাও করেন। দেখে মনে হচ্ছে তারা কৃষি বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তাদের এ বপনকৃত ধান বীজ থেকে উৎপাদিত ধানের চারা কৃষকরা ৫ একর জমিতে লাগাতে পারবেন। তারা বিআর-২২ জাতের ষাট কেজি ধানের বীজ বপন করেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে এ ধানের চারাগুলো বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। সমাজ উন্নয়ন সংস্থা দুর্বার প্রগতি সংগঠন ও কৃষি উন্নয়ন সংগঠন পত্র-পল্লব যৌথভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
দুর্বার’র এ কৃষি উদ্যোগ দেখতে আসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজা জেরিন, এসময় তিনি বলেন- এবারের বন্যায় আমাদের কৃষিতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে। কৃষকদের আমন ধানের বীজ তলা নষ্ট হয়ে গেছে। দুর্বার’র নিজস্ব উদ্যোগে কৃষকদের বিন্যামূল্যে ধানা চারা বিতরণ আমাদের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে সামান্য হলেও অবদান রাখবে। পুরো এ উদ্যোগ তত্ত্বাবধান করেন উপজেলা কৃষি অফিসার প্রতাপ চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে রুবেল চক্রবর্তী, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও তারেক আহমেদ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বীজ বপন কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে কৃষি অফিসার প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন- ‘কৃষি ও কৃষকদের কল্যাণে দুর্বার’র এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ আমন চাষী কিছুটা হলেও উপকৃত হবে তাদের এ উদ্যোগ থেকে।
এছাড়া গত ২১ আগস্ট থেকে বন্যায় মিরসরাইতে ফেনী নদীর পানি বাড়তে থাকলে পানি বন্দি হয়ে পড়ে শত শত মানুষ। চারদিকে যখন বাড়ছে পানির স্রোত। বাঁচার আকুতিতে যখন ভারি হয়ে উঠছে আকাশ- বাতাস। একে অপরের সাথে যখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আর দেরি না করে দুর্বার রেসকিউ টিম ২২, ২৩ ও ২৪ আগস্ট চারটি উদ্ধারকারী বোট ও পিকাপ নিয়ে ছুটে যান ফেনীর নিজকুঞ্জরা পিএইচপি কারখানার সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে ও মিরসরাইয়ের শান্তির হাট, গোলকের হাট, নাহেরপুর, ওসমানপুর, আবুরহাট কাজীগ্রাম , লুদ্দাখালী, এছাক ড্রাইভার হাট ও ঝুলনপোল এলাকায়। স্রোতের তীব্রতা ও গলা পানি উপেক্ষা করে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে তিন দিন, রাত ৩ টা পর্যন্ত প্রাণ-পণ চেষ্টা চালিয়ে প্রায় দুই শতাধিক পানিবন্দি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেন দুর্বার স্বেচ্ছাসেবীরা। মীরসরাইয়ের মিঠানালা, কাঁটাছড়া, ওসমানপুর, দূর্গাপুর, ধুম, মঘাদিয়া ও ইছাখালী ইউনিয়নের আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত মানুষ ও দূর্গত এলাকায় পানিবন্দি প্রায় ৫০০০ জনের মাঝে রাত ও দুপুরের খাবার, শুকনা ও ভারি খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্যালাইন ও ঔষুধ বিতরণ করে দুর্বার।
সংগঠনের সভাপতি রিপন কুমার দাশ বলেন- ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মাঝে আমরা আগাম শীতকালিন সবজি বীজ বিতরণ করবো। যাতে কৃষকদের ক্ষতি কিছুটা লাঘব হয়।’ সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন- ‘৫০ জন দুর্বার স্বেচ্ছাসেবী টানা ১০ দিন এ বিশাল কর্মযজ্ঞে স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন এবং সংগঠনের সদস্য, পৃষ্ঠপোষক ও শুভাকাঙ্খীগণ আর্থিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ,সিএমপি,র গণবিজ্ঞপ্তি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থার পর মধ্যরাতে ওই এলাকায় সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।শনিবার রাতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।তবে সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।

বিদেশি কোম্পানির কাছে এনসিটি ইজারার বিরোধিতা করে শনিবার শ্রমিক দলের ডাকা আট ঘণ্টার ধর্মঘটে দিনভর চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম অচল ছিল।রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শ্রমিক-কর্মচারি ঐক্য পরিষদ (স্কপ) রোববার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দর ভবন অভিমুখে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

গণবিজ্ঞপ্তি জারিতে বলা হয়েছে, বন্দর এলাকায় মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, পথসভা করলে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
এ কারণে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও স্বাভাবিক রাখাসহ জনশৃঙ্খলা, শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন বারেক বিল্ডিং মোড়, নিমতলা মোড়, ৩ নম্বর জেটি গেইট, কাস্টমস মোড়, সল্টগোলা ক্রসিংসহ আশপাশের এলাকায় অস্ত্রশস্ত্র, তলোয়ার, বর্শা, বন্দুক, ছোরা, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য, ইট-পাথর বহন ও ব্যবহার এবং যে কোনো ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও পথসভা ১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত ১ মাসের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।এ আদেশ না মানলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে হুঁশিয়ার করা হয়।চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮ এর ৩০ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সিএমপি কমিশনার এ পর্যন্ত তিন দফায় এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন।

সাঈদ আল নোমানের সমর্থনে ধানের শীষ সমর্থক গোষ্ঠীর মত বিনিময় সভা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাঈদ আল নোমানের সমর্থনে ধানের শীষ সমর্থক গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক মত বিনিময় সভা ৩০ জানুয়ারী রাতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ধানের শীষ সমর্থক গোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ হারুনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন, ধানের শীষ সমর্থক গোষ্ঠীর উপদেষ্টা তোফাজ্জল হোসেন।

বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুল হক চৌধুরী ফয়সাল, যুগ্ম আহবায়ক সালাউদ্দিন লিটন, রাশেদুল হক জুয়েল, ব্যারিস্টার নাজমুল হক, রায়হান উদ্দিন চৌধুরী জুয়েল, ওমর ফারুক ভূঁইয়া, সিরাজুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন সুজন, হারুনুর রশীদ হারুন,

মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ হাশেম, মোহাম্মদ বেলাল, মোহাম্মদ আব্দুল, ইব্রাহিম খলিল সুমন, নার্গিস আক্তার, রিয়াদ মোরশেদ, নুরুল আফসার টিটু, জাহেদুল আলম নিপু, শহিদুল ইসলাম পারভেজ, বাহার আহমেদ, মীর পারভেজ, আজফার ইকতিদার শাফি, ফরহাদ উদ্দিন চৌধুরী সুমন, ওসমান গনি তুষার, খলিলুর রহমান, মোহাম্মদ এস্কান্দার, জসীম উদ্দিন, মোঃ সানজিদ, মোহাম্মদ আরিফ, মোহাম্মদ রকি, মোহাম্মদ জিয়া, মোহাম্মদ বাবর, নিজামুদ্দিন, সখিনা বেগম, মোহাম্মদ মুসা, মোহাম্মদ ফিরোজ, মোহাম্মদ রিপন, সাজ্জাদ হোসেন, মোহাম্মদ সাকি, ইয়াসমিন আক্তার সুমি, জানু আক্তার, শওকত হোসেন প্রমুখ।

প্রধান অতিথি বলেন, সাঈদ আল নোমান ক্লিন ইমেজের স্মার্ট রাজনীতিবিদ। তাকে বিজয়ী করার জন্য ধানের শীষ সমর্থক গোষ্ঠীকে ব্যাপকভাবে গণসংযোগ করতে হবে। চট্টগ্রামের উন্নয়নে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাঈদ আল নোমানের আগামীর ভূমিকা চট্টগ্রামবাসীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন,সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে নিরলস পরিশ্রম করে, মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষের প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য আহবান করতে হবে। সাঈদ-আল-নোমান দলের সম্পদ তথা দেশের সম্পদ। সাঈদ- আল- নোমানকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

আলোচিত খবর

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত কানাডাভিত্তিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাইকোকে বাংলাদেশ সরকারকে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিডি/ICSID)-এর ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


জ্বালানি সচিব বলেন, বাংলাদেশ এই মামলায় প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। প্রাপ্ত অর্থ সেই দাবির তুলনায় অনেক কম। রায়ের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে খনন ও উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব পায় কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকো।

পরবর্তীতে নাইকোর পরিচালনাধীন অবস্থায় টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি এবং একই বছরের ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি মারাত্মক বিস্ফোরণ হয়। এসব বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ মজুদ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের অবকাঠামো, পরিবেশ ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র কার্যত অচল হয়ে পড়ে, যা দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ