আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

সীতাকুণ্ডে শিপ ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ, দগ্ধ -১২

নিজস্ব প্রতিবেদক

চমেকে ৯ জনের অবস্থা আশংঙ্কাজনক, ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ দগ্ধ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শিপ ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর দগ্ধ ১২ জনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এসএন কর্পোরেশন নামে ওই শিপ ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের তেঁতুলতলা এলাকার সমুদ্র উপকূলে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট। বিস্ফোরণে আহতরা হলেন— জাহাঙ্গীর (৪৮), আহমাদুল্লাহ (৩৮), কাসেম (৩৯), সাগর (২০), আলামিন (২৩), কারিমুল (২১), হাবিব (৩৬), বরকত (২৩), আনোয়ার (৫০), রফিকুল (৩০), রফিক (৩০), সাইফুল (৩০) প্রমুখ।
আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সীতাকুণ্ড কুমিরা এলাকার এসএম করপোরেশন ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর তাতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এদিকে বিস্ফোরণের পর খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। চমেক হাসপাতালের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, অনেকে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ দগ্ধ। এদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা আশংঙ্কাজনক।
বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিরা ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মামুন বিকেলে বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করছি। তবে এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুনের তীব্রতায় ভিতরে প্রবেশ করা যাচ্ছে না।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, সীতাকুণ্ডে শিপ ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত গুরুতর আহত অবস্থায় ১২ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তারা ৩৬ নম্বর বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি আছেন। হাসপাতালে নিয়ে আসা অনেকে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ দগ্ধ। এদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা আশংঙ্কাজনক।
এস এন কর্পোরেশনের ম্যানেজার (এডমিন) ওমর ফারুক বলেন,একটি জাহাজ কাটার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। আজ জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে হঠাৎ একটি পাম্পের বিস্ফোরণ ঘটলে ১২ জন শ্রমিক আহত হন। আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম মেনেই জাহাজ কাটার কাজ করি। কিন্তু এই ঘটনা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্খিত। আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনায় শ্রমিক আহতের ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জাহাজ ভাঙ্গা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরাম।
ফোরামের আহবায়ক তপন দত্ত, যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ শফর আলী ও এ এম নাজিম উদ্দিন এবং জাহাজভাঙা শ্রমিক সেফটি কমিটির আহ্বায়ক মহির উদ্দিন মাহমুদ ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, গত ৩ জুলাই ফোর স্টার শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ভয়াবহ অগ্নিদুর্ঘটনায় চারজন শ্রমিক মারাত্মক আহত হন। তখন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের পরিদর্শন রিপোর্টে মালিক পক্ষের সুস্পষ্ট ত্রুটি ও অবহেলার প্রমাণ পাওয়া সত্ত্বেও মালিকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর ফলে আজ এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, এস এন কর্পোরেশন একটি গ্রিন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে। এ ধরনের ইয়ার্ডে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা প্রমাণ করে শিপ ব্রেকিং সেক্টরে এখনও নিরাপদ কর্মক্ষেত্র গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ফোরামের নেতারা শিল্প ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের যৌথ কমিটি গঠন করে দুর্ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মতিউর রহমান চৌধুরী নোয়াব সভাপতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী  মালিকদের সংগঠন- নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ