আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

বৈষম্য দুর করতে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে মালিক-শ্রমিকদের সাথে যাত্রীর প্রতিনিধিত্ব চাই

এম মনির চৌধুরী রানা

যাত্রী অধিকার দিবসের বক্তারা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পরিবহনে বৈষম্য দুর করতে পরিবহন পরিচালনা ও সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের পাশাপাশি যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবী জানিয়েছে সমাজের বিশিষ্টজনেরা।

আজ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ শুক্রবার দেশের রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে যাত্রী অধিকার দিবসের আলোচনা সভায় উপরোক্ত দাবী উঠে আসে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে যাত্রী অধিকার দিবস উপলক্ষে “ বিগত সরকারের প্রণীত সড়ক আইনে যাত্রী স্বার্থ উপেক্ষিত ” শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। উল্লেখ্য যে, যাত্রী হয়রানী, ভাড়া নৈরাজ্য, পরিবহনে বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, সড়ক দুর্ঘটনা, অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে দাবি আদায়ের প্রতীকি দিবস হিসেবে বাংলাদেশে ৬ষ্ঠ বারের মতো এই দিবসটি পালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ পরিবহনে বিশৃংঙ্খলা ও নৈরাজ্য কিছুতেই থামছে না। ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবীতে দেশের ইতিহাসে সারা জাগানো সর্ববৃহত ছাত্র আন্দোলনের পরে, বিগত আওয়ামীলীগ সরকার সড়ক পরিবহনের নতুন আইন করলেন। আইন বাস্তবায়নও হলো। কিন্তু পরিবহনে বিশৃংঙ্খলা কেবল বাড়ছেই। পরিবহনখাতসহ দেশের সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার শত সহশ্র তাজা প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন সেক্টরেও দীর্ঘদিন যাবৎ যাত্রী সাধারণ ছিল বঞ্চিত। সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে তাদের প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ। পরিবহনের প্রধানতম স্টেকহোল্ডার দেশের জনগন তথা যাত্রী সাধারণ হলেও, আওয়ামীলীগ সরকারের বিগত ১৬ বছর পরিবহন পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান স্টেকহোল্ডার যাত্রী সাধারণের প্রতিনিধিত্ব বাদ দিয়ে সরকারের অনুগত লেজুরভিত্তিক একটি বাস মালিক সমিতি ও একটি পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃত্বে পরিবহন সেক্টর পরিচালনা করতে গিয়ে সবকিছু যেন লেজেগোবরে অবস্থার সৃষ্টি করেছে তৎকালীন সরকার। ফলে পরিবহনে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা, ভাড়া নৈরাজ্য, যাত্রী হয়রানী অস্বাভাবিক হারে কেবল বেড়েছে। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে যাত্রী সাধারণের সাথে সরকারের যোগাযোগের কোন উপায় ছিল না। পরিবহন সেক্টরে যাত্রী স্বার্থের সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হতো বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশন গুটিকতেক নেতাদের প্রেসক্রিপসনে। ফলে রাজধানীর কোন বাসে একজন ভদ্রলোকের সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে যাতায়াতের পরিবেশ নেই। সিটি সার্ভিসগুলোর কোন বাসের আসনে বসা যায় না। পরিস্কার-পরিচ্ছনতার বালাই নেই। সিট ভাঙ্গা, দরজা জানালা ভাঙ্গা, বাসের ছালতা উঠে গেছে বহুযুগ আগে। এসব মেয়াদোর্ত্তীন লক্কড়-ঝক্কড় বাস উচ্ছেদের নামে নানান তাল বাহানা, নানান আশ্বাস, নানান কমিটি করে মিডিয়ার সামনে আইওয়াশ করতো তৎকালীন সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফলে তিনি ধারাবাহিকভাবে চার মেয়াদে ১৫ বছর সড়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেও দেশের মানুষকে যাতায়াতের ক্ষেত্রে শান্তি ও স্বস্থি দিতে সম্পূর্ণ রূপে ব্যর্থ হয়েছেন। যাতায়াতের ক্ষেত্রে মানুষের সংকটকে পুঁজি করে বিগত ১৫ বছরে দেশের সড়ক যোগাযোগে উন্নয়নের অবকাঠামো নির্মাানের জন্য নেওয়া হয়েছে একের পর এক মেগা প্রকল্প, উদেশ্য ছিল মেগা লুটপাট। পরিবহনে মালিক-শ্রমিক নেতাদের তোষামোদি করার মাধ্যমে যাত্রীদের পকেট কাটার নৈরাজ্য চলেছে। চাঁদাবাজির নামে শতশত কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। ক্ষমতাসীনরা চাঁদাবাজির অংশীদার থাকায় কোন প্রতিবাদ করা যায়নি। এই বৈষম্য দুর করতে হলে, পরিবহন আইন সংশোধন করে যাত্রী ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে আজ পরিবহনে চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি বন্ধ হলেও পণ্যমূল্য কমছে না, বাস ভাড়া কমছে না। আওয়ামীলীগের সিন্ডিকেট পালিয়েছে এখন সিন্ডিকেট করছেন কারা। এখন পরিবহনে চাঁদাবাজি করছেন কারা। তার বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্ছার হতে হবে। অবশ্যই পণ্যমূল্য ও বাস ভাড়া কমাতে হবে। গত ১ মাসে সড়ক উপদেষ্টা জনগন সরাসরি উপকৃত হয় এমন কোন দৃশ্যমান কার্যক্রম হাতে নিতে পারেনি।

নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ বলেন, সড়কে বিশৃংঙ্খলা ও নৈরাজ্য থামাতে হলে প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্ববান হওয়া জরুরী। আইনের সুশাসন ও পরিবহনের কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে আসা জরুরী।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার রফিকুল হোসেন কাজল বলেন, ঢাকা শহরে চলাচলকারী প্রতিটি বাস মোটরযান আইন অনুযায়ী ফিটনেসের অযোগ্য। মোটা অংকের চাঁদা দিয়ে এসব বাস রাস্তায় চলে। এসব বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হচ্ছে। পরিবহনের কাঠামোগত পরিবর্তন আনা না গেলে চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য বন্ধ হবে না। তাই এইখাত আমুল সংস্কার করা এখন সময়ের দাবী।

এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট সাংবাদিক মনজুরুল আলম পান্না, যাত্রী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক কেফায়েত শাকিল, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমম্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা সম্পদ, ড্রাইভার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বাদল আহমেদ, যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতা তাওহিদুল হক লিটন, এম মনিরুল হক, মাহমুদুল হাসান রাসেল প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি, প্রতিবাদে অবস্থান ধর্মঘট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে হাইকোর্টে চলমান মামলায় দখলদারদের পক্ষে অবস্থান না নেওয়ার দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে ৮টি পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নগরীর চেরাগি পাহাড় চত্বর এলাকায় চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন এই ধর্মঘটের আয়োজন করে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এস এম পেয়ার আলী সঞ্চালনায় অবস্থান ধর্মঘটে অংশ নেয় বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম, সৃষ্টি, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন, কর্ণফুলী সুরক্ষা পরিষদ, ইউনাইটেড সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, রেজাউল করিম শিকদার ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন।
অবস্থান র্ধমঘট চলাকালে বক্তারা বলেন, কর্ণফুলী নদী রক্ষায় তিন দফা দাবি অচিরেই বাস্তবায়ন করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যম কর্ণফুলীতে সাম্পান ও জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

তিনটি দাবি হচ্ছে- মহামান্য হাইকোর্টে চলমান মামলায় দখলদারদের পক্ষ নিয়ে জনস্বার্থ মামলার বিরোধিতাকারীদের প্রত্যাহার করতে হবে। হাইকোর্ট নির্দেশিত নদী জীবত্ব সত্ত্বা আদেশ অনুযায়ী কর্ণফুলী দখল দূষণমুক্ত করতে হবে এবং সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় কর্ণফুলী নদীর তীরে টিকে থাকা সাড়ে তিন শতাধিক দেশিয় প্রজাতির গাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।পাশাপাশি নদী তীরে ব্যাপকহারে গাছ লাগাতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদলে গ্রাম সরকার বা ওয়ার্ড সরকার করে তাদের সমন্বয়ে দেশ পরিচালনা না করলে এই অব্যবস্থাপনা যাবে না।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে কর্ণফুলীর কারণে। দুখের কথা হচ্ছে- দেশের সঞ্চালক এই নদী রক্ষার জন্য সরকার ও প্রশাসন বরাবর উদাসীন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি- আপনারা কর্ণফুলী দখল দূষণমুক্ত করুন, না হয় জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না। সাংবাদিক আলীউর রহমান বলেন, নতুন সরকারের নদী ও খাল রক্ষার ঘোষণায় কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হওয়ার আশায় ছিলাম। এখন অনেকে দখলদারদের পক্ষ নিয়ে কর্ণফুলীকে চিরতরে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে, যা চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ প্রতিহত করবে।

এসময় বক্তব্য দেন ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সহ-সভাপতি জানে আলম, কর্ণফুলী সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি কামাল পারভেজ, বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এম নুরুল হুদা চৌধুরী, রেজাউল করিম সিকদার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাহিদুল করিম বাপ্পি, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাফর আলম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক লোকমান দয়াল, ইউনাইটেড সোশ্যাল নেটওয়ার্কের পরিচালক আমির হোসেন, হস্তচালিত বড় সাম্পান মাঝি সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন, চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট সাম্পান সমিতির সাধারণ সম্পাদক কোরবান আলী, মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন রায়, সমাজসেবক আরমান হোসেন প্রমুখ।

বালু নদের কায়েতপাড়া-নগরপাড়া সেতু আগামী এক বছরের মধ্যে চালু করা হবে – প্রতিমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মাহাবুবুর রহমান রনি, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, বালু নদের কায়েতপাড়া-নগরপাড়া সেতু আগামী এক বছরের মধ্যে চালু করা হবে। সেতু চালু হলে দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত প্রত্যাশা পূরণে ঢাকার পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো একধাপ এগিয়ে যাবে। একটি কুচক্রী মহল এতদিন সেতু নির্মাণ কাজ বাঁধাগ্রস্থ করে রাখে। আজ ১৮জুন বৃহস্পতিবার রূপগঞ্জ উপজেলার ইছাপুরা সেতু ও কায়েতপাড়া-নগরপাড়া সেতু পরিদর্শন শেষে নগরপাড়ায় আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাইফুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব গোলাম ফারুক খোকন, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, সাধারণ সম্পাদক হাজী বাছির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ঢাকার পূর্ব মাদারটেক, সবুজবাগ হয়ে বালু নদের সেতু পার হয়ে সিলেট ও চট্টগ্রামসহ ঢাকার পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় সহজেই আসা-যাওয়া করা যাবে। সেই দিক থেকে বালু নদের সেতুটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। বালু নদের সেতু নির্মাণ কাজ আগামী এক বছরের মধ্যে সমাপ্ত করা হবে। সেতু দু’টি চালু হলে লাখো মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। কৃষি ও ব্যবসা বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সিলেটসহ ঢাকার পূর্বাঞ্চলীয় জেলায় যানবাহন চলাচল আরো সহজ ও দ্রুত হবে। উল্লেখ বালু নদের কায়েতপাড়া-নগরপাড়া সেতু নির্মাণ ২৩ বছরেও শেষ হয়নি।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ