স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামস্থ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের জাতীয়তাবাদী চিকিৎসকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে =====ডা. শাহাদাত হোসেন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা.শাহাদাত হোসেন বলেছেন,গত ১৬ বছরে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার করতে শত কোটি টাকার দুর্নীতির হয়েছে। পর্দা দুর্নীতি, বালিশ দুর্নীতিতে সারা বিশ্বকে অবাক করেছে। ডাক্তার বদলি বাণিজ্য করেছে। বৈষম্যের শিকার হয়েছে শত শত ডাক্তার ।গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া পরিপূর্ণ সংস্কার সম্ভব নয়। পরিপূর্ণ সংস্কারের জন্য নির্বাচিত সরকারের কোন বিকল্প নেই। তাই দ্রুত সময়ে সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের কোনো বিকল্প নেই। সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে, জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে ইনশাআল্লাহ। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সকলকে নিয়ে একটি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।আজ সন্ধ্যায় নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে চট্টগ্রামস্থ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের জাতীয়তাবাদী চিকিৎসকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ডা.শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, গত ১৬ বছর মামলা হামলাকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেছে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার। বিএনপিসহ বিরোধীমতকে গুম খুন মামলা হামলা দায়ের করেছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সপ্তাহে ছয়দিন আদালতে হাজিরা দিয়ে কেটেছে নেতাকর্মীদের জীবন। শেখ হাসিনার মতো অমানবিক নির্যাতন ও অত্যাচার ইতিহাসে আর কোন সরকার করেনি।
ডা.শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই। প্রতিটি সেক্টরে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা রয়ে গেছে। তারা এখনো স্বৈরাচারী শক্তির হয়ে কাজ করছে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আমাদের সবাইকে স্ব স্ব ক্ষেত্রে এসব বিষয়ে আওয়াজ তুলতে হবে। প্রতিটি সেক্টরে স্বৈরাচারের দোসর আছে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।

ডা.শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবসময় চিকিৎসকদের উপর নির্ভর করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া কখনো আপোস করেননি। ওয়ান ইলেভেনের সময় শেখ হাসিনা রাতের আঁধারে চলে গেছেন। এবারও দলের কথা চিন্তা না করে পালিয়ে গেছেন। ওয়ান ইলেভেনের সময় দেশনেত্রীকে বিদেশে দুই ছেলে নিয়ে চলে যেতে বলছেন। কিন্তু তিনি বলেছেন তারেক কোকো নয় পুরো দেশে আমার ছেলে মেয়ে আছে। তাদের ফেলে আমি দেশ ছেড়ে চলে যেতে পারব না। চিকিৎসা নিতে হলে আমি আমার দেশের অভিজ্ঞ চিকিৎসক আছেন তাদের কাছ থেকে চিকিৎসা নিব।
ড্যাবের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাসেরের সভাপতিত্বে এবং ডা.এস.এম রিয়াসাদ এবং ডা.মো.জাহিদুল এর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায়
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ড্যাব চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সভাপতি ডা.জসিম উদ্দিন, ড্যাব চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি ডা. তমিজউদ্দিন মানিক, ড্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি ডা. আব্বাস উদ্দিন, ড্যাব চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক ডা. বেলায় হোসেন ঢালী, ড্যাব নেতা ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. সরওয়া আলম,ড্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সহ-সভাপতি ডা.নুরুল করিম, ড্যাব চট্টগ্রাম সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক, ডা.ইসা চৌধুরী, ডা. আরিফ হায়দার, ডা. শফিকুল রহমান, ডা.মিজানুর রহমান, ডা. জাবেদ জাহাঙ্গীর তুহিন, ডা. এরশাদ একরামুল্লা,ডা. আলিনুর বক্সীর, ডা. রেজাউল করিম, ডা. নুর আলম অরণ্য, ডা. আশিক সালাউদ্দিন, ডা. আব্দুল আল মামুন, ডা. ইফতেখার টিঠু,ডা. জাহেদ উদ্দিন, ডা. আরফিন রেজা, ডা. নাসিম রেজা, ডা.জিআরএম জিহাদুল ইসলাম, ডা. মাইনুল রিদওয়ান, ডা. আদনান, ডা. অপু, ডা. সোহাগ চক্রবর্তী, ডা. সরোয়ার, ডা. সালে, ডা. বেলাল, ডা. আলা আমিন, ডা.নাঈম, ডা. আসিফ, ডা. সোহাগ, ডা. শুভ, ডা.তাহমিন
প্রমূখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থান এখনো যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি : জামায়াত আমির

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তনের সূচনা হলেও তা এখনো যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে নগরের খুলশী থানার জিইসি কনভেনশন হলে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে প্রাক্তন সাথী ও সদস্য সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য জুলাইয়ে রক্ত দেয়নি। জনগণ লুটতরাজ, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। ভবিষ্যতে প্রতিটি অপরাধের হিসাব দিতে হবে, জবাবদিহি করতে হবে। ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গত ১৭ বছরে তাদের ওপর বিভিন্ন মাত্রায় জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। অপবাদ দিয়ে শীর্ষস্থানীয় ১২ জন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদী আমলে অসংখ্য নারী-পুরুষকে জীবন দিতে হয়েছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।তিনি বললেন, জামায়াতে ইসলামী মানুষের আমানত রক্ষা করবে। জনগণের মধ্যে এই বিশ্বাস এক দিনে তৈরি হয়নি।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেছেন, একটি আদর্শিক সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সবাইকে সংঘবদ্ধ জীবনযাপন করতে হবে। যতক্ষণ নিঃশ্বাস থাকবে, ততক্ষণ ইসলামী আন্দোলনের পথে অবিচল থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

সম্মেলন চলে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত। সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এবং সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনসহ আনুমানিক দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর সাথী-সদস্যদের আমৃত্যু সংগঠনের কর্মী হিসেবে কাজ করতে হবে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তনের সূচনা হলেও তা এখনো যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। অতীতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা জুলুম-নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

গত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে তা মেনে নেওয়া হয়েছে বলে জানান জামায়াত আমির। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতেও একই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।জান্নাতের টিকিট বিক্রির অভিযোগ নাকচ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা মানুষকে জান্নাতে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেন।

পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ডা. শফিকুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে বলেছেন, এটি তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। পরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন বলেই ইশরাক পদত্যাগ করেছেন।
মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে নেওয়ার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, মাদক সমাজদেহকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। ওই অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইশরাকের কাজকে সরাসরি নেতিবাচক বলার সুযোগ নেই। তবে একজন জনপ্রতিনিধি বা প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র বহন করলে কিংবা কাউকে অস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করলে, তার উদ্দেশ্য ভালো হলেও অন্যরা সেটিকে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হিসেবে নিতে পারে।তিনি বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মাদক নির্মূলের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয়েছে। তবে তাদের লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নয়, তারা মাদক নির্মূল করতে চান। মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। সম্মেলন শেষে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে নগরের চকবাজার এলাকার হোটেল পেনিনসুলায় যান জামায়াত আমির। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম শেষে চাকসু নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ত্যাগ করেন।

সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব: চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাহাত্তারপুল মোড়ে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে চসিকের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে উপস্থিত হয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। মেয়র বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলে হবে না। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এখন মূল লক্ষ্য। ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এই তিন মাসের কর্মসূচি সফল করতে হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা।

বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা আশপাশে যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে।
এডিস মশার আচরণ সম্পর্কে নগরবাসীকে সচেতন করে মেয়র বলেন, এ মশা সাধারণত দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে। তাই শুধু রাতে নয়, দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সতর্ক থাকতে হবে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ঘরের অন্ধকার ও আড়ালযুক্ত স্থান এবং আশপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

ডেঙ্গু নিয়ে সঠিক তথ্য প্রচারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে কথা বলার আগে সঠিক তথ্য ও পরিসংখ্যান জানতে হবে। ঢালাওভাবে তথ্য প্রচার করলে মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। প্রয়োজন সঠিক ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরের হাসপাতালগুলোতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সব ডেঙ্গুরোগীকে সিটি করপোরেশন এলাকার রোগী হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। কোন এলাকায় কতজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, সেই তথ্যের ভিত্তিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।

জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে মেয়র বলেন, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চসিকের পক্ষ থেকে এনএস-১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা রয়েছে।

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, নিজের ঘর, নিজের আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখুন। কোথাও পানি জমতে দেবেন না। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ