চট্টগ্রামে পতেঙ্গায় জাহাজে আগুন, ডেক ক্যাডেটসহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিপিসির ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গায় তেলবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সৌরভ কুমার সাহা ও মো. হারুন নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের পুড়ে যাওয়া মরদেহ জাহাজে ঝুলছিল; সেখান থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করেন। এছাড়া এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন হতাহত রয়েছেন। সোমবার সকালে ইস্টার্ন রিফাইনারির ডলফিন জেটিতে ‘বাংলার জ্যোতিতে’ এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষের একাধিক টিম অগ্নিনির্বাপণে কাজ করে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সৌরভ কুমার সাহা নামে একজন ডেক ক্যাডেট মৃত্যুবরণ করেছেন। তার বাড়ি ঝিনাইদহ। এছাড়া হতাহত রয়েছেন বেশ কয়েকজন।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। দুপুরে বিপিসির সচিব এটিএম সেলিম সাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটিতে ইস্টার্ণ রিফাইনারী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরিফ হাসনাতকে আহ্বায়ক ও সংস্থাটির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং ও শিপিং) মো. মোস্তাফিজার রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। তাদের অগ্নিদুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে বিপিসির চেয়ারম্যানকে জমা দিতে বলা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্যরা হলেন, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (কার্গো সুপারভিশন অ্যান্ড অপারেশন) ক্যাপ্টেন জামাল হোসেন তালুকদার, বিপিসির উপ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মো. জাহিদ হোসাইন, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন), পদ্মা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) আসিফ মালিক, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন)।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন তারেক রহমান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সম্মানে আয়োজিত জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন।দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পর আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে আয়োজিত এ মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার নির্ধারিত শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পুকুরে স্নান করতে গিয়ে দুই বোনের মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পুকুরে স্নান করতে নেমে আপন দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার চর আমান উল্যাহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদ মার্কেটসংলগ্ন কৃষ্ণ কাহারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই বোন হলো স্বর্ণা রানী কাহার (৭) ও রুপা রানী কাহার (৫)। তারা ওই বাড়ির কৃষ্ণ কাহারের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে কৃষ্ণ কাহারের স্ত্রী পিংকী রানী বাথরুমে ছিলেন। এ সময় তার দুই মেয়ে বাড়ির পুকুরে স্নান করতে যায়। পরে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে পুকুরঘাটে মেয়েদের দেখতে না পেয়ে পাশের দাদার বাড়িতে খুঁজতে যান তিনি। সেখানে তাদের না পেয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। একপর্যায়ে পুকুরের দিকে তাকিয়ে পানির ওপর বুদ্‌বুদ উঠতে দেখেন পিংকী রানী। সন্দেহ হওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিক পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুর থেকে দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেন তিনি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী চরজব্বর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনাস্থলেই দুই শিশুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ