সাংবিধানিক সংস্কার ও দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা : একটি বিশ্লেষণ

ড. মো. সফিকুল ইসলাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্প্রতি রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছে। আমার মতে, এ কমিশনগুলোর মধ্যে সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এটি অন্যান্য সংস্কার কমিশনের কার্যক্রমের সঙ্গে ও যুক্ত। বিশেষ করে, শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, নির্বাচনকালীন সরকার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সাংবিধানিক সংস্কারের প্রধান বিষয় বলা যেতে পারে। এদের মধ্যে শাসন ও আইন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার দাবিটি অনেক আগে থেকেই আলোচিত হচ্ছে। বিদ্যমান সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনসভার ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। কেননা প্রধানমন্ত্রী একাধারে শাসন বিভাগের প্রধান ও জাতীয় সংসদের নেতা। দলীয় শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের নীতি, বিশেষ করে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনকৃত সকল নীতিই আইনসভায় কোন বাধা-বিঘ্ন ছাড়াই অনুমোদিত হয়। জাতীয় সংসদ একটি রাবার স্ট্যাম্পে পরিণত হয়েছে। এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা দ্বারা বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলেও এদেশে রাজনৈতিক এলিটদের মধ্যে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইন সভার ধারণা নতুন নয়। ব্রিটিশ উপোনিবেশিক শাসনামলে অখণ্ড ভারতে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার অস্তিত্ব ছিল। স্বাধীনতার শুরুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অরাজকতা ও অনৈক্য দূর করতে এবং পেশাজীবীদের স্বার্থ সংরক্ষণে বামধারার বিশিষ্ট তাত্ত্বিক সিরাজুল আলম খান এবং বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জিল্লুর রহমান খান একটি নতুন ধারার একক আইনসভা গঠনের প্রস্তাব করেন। সে সময় তারা দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার কথা না বললেও পরবর্তীকালে তারা সরাসরি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার কথা বলেন।
একইভাবে, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া স্পষ্টভাবে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। সে অনুযায়ী তিনি বিএনপি ঘোষিত ভীষণ-২০৩০ এ দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা ধারণা অন্তর্ভুক্ত করেন। ভিশন-২০৩০ এ বলা হয় “সংবিধানের এককেন্দ্রিক চরিত্র অক্ষুণ্ন রেখে বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের উচ্চ কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।”বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে এর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন। ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৫তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিন প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি সরকার গঠন করলে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তন করবেন। যুক্তরাজ্যের হাউজ অব লর্ডসের আদলে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বুদ্ধিজীবীদের প্রতিনিধিত্বশীল উচ্চ কক্ষ গঠন করা হবে। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, অনেকে সরকারে যোগ দেবেন না কিন্তু তাদের পরামর্শ আমাদের দরকার। এ জন্য সংসদের উচ্চকক্ষ সৃষ্টি করা হবে। উচ্চকক্ষে এসে তারা তাদের মতামত দিবেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে ১৯ ডিসেম্বর বিএনপি ঘোষিত ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা’ এর ৬নং দফায় দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা তথা জাতীয় সংসদের উচ্চ কক্ষ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। এখানে বলা হয়, “দেশের প্রথিত যশা শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, রাষ্টবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে জাতীয় সংসদের উচ্চ কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তন করা হবে।”এছাড়া বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন পরবর্তী জাতীয় সরকার গঠনের কথা ও বলেছেন। এর মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক দূরদৃষ্টির পরিচয় দিয়েছেন। বিশেষ করে জাতীয় ঐক্যের পথ সুগম করেছেন।
বর্তমানে দ্বিকক্ষ আইনসভা প্রতিষ্ঠার দাবি জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদগণ সাংবিধানিক সংস্কারের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরছেন। এখন জনগণের মনে প্রশ্ন উঠতে পারে এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থায় দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রযোজ্য কিনা এবং আমাদের দেশে এটি কেন দরকার? সংসদ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির জন্য বাংলাদেশের মতো এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থায় দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রতিষেধক হতে পারে। পৃথিবীর অনেক এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থায় এ ধরনের আইনসভা রয়েছে। গ্রেট ব্রিটেন, থাইল্যান্ড, আলজেরিয়া, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ায় আইনসভা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যে দল ক্ষমতায় থাকে আইন ও শাসন বিভাগে সে দলের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকে। বিশেষ করে, দলীয় সিদ্ধান্ত কেবিনেটের সিদ্ধান্তে পরিণত হয়। আইনসভা নাম মাত্র অনুমোদন করে। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভায় উভয় কক্ষে একদলের নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা কম থাকবে। বিশেষ করে, নিম্নকক্ষে ক্ষমতাসীন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং একচ্ছত্র প্রাধান্য থাকলে ও উচ্চ কক্ষে তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে থাকার সম্ভাবনা কমে যাবে। উচ্চ কক্ষ নিম্নকক্ষের Checks and Balance হিসেবে কাজ করবে। ক্ষমতাসীন দলের যা খুশী তা করার প্রবণতা কমে যাবে। কেননা নিম্নকক্ষে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রাধান্য পেলে উচ্চ কক্ষ তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখতে পারবে। ফলে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে।
বাংলাদেশে দুই কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আইনসভার উচ্চকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য নির্বাচিত ও এক তৃতীয়াংশ সদস্য মনোনীত হতে পারে। সমাজসেবা, সাহিত্য, শিক্ষা-গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে যাদের বিশেষ অবদান রয়েছে তাদের মধ্যে থেকে উচ্চকক্ষে এক তৃতীয়াংশ সদস্য মনোনীত হতে পারেন। ভারতের উচ্চকক্ষ রাজসভায় ১২ জন সদস্য সমাজসেবা, সাহিত্য, শিক্ষা-গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে যাদের বিশেষ অবদান রয়েছে তাদের মধ্যে থেকে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন দিয়ে থাকেন। সুতরাং উচ্চকক্ষের কিছু সদস্য অরাজনৈতিক (Non-Partisan) হয়। অর্থ বিল ব্যতীত সকল বিল আইন সভার উচ্চকক্ষে উত্থাপন করার ক্ষমতা দেয়া যেতে পারে। উচ্চকক্ষের অর্থ বিলসহ যে কোন বিল নিয়ে বিতর্ক, সংশোধন বা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা থাকবে। শাসন বিভাগের যে কোন কার্যক্রমের উপর প্রশ্ন উত্থাপন, সমালোচনা এবং তদন্ত করার ক্ষমতা দেয়া যেতে পারে। এতে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণে উচ্চকক্ষে ভূমিকা রাখতে পারবে। তাছাড়া উচ্চ কক্ষে নির্বাচিত সদস্যগণ যাতে তুলনামূলকভাবে বয়োজ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ হন সেজন্য বিশেষ শর্ত আরোপ করে বিধান করা যেতে পারে। আর মনোনীত সদস্যগণ বিশেষজ্ঞ জ্ঞান সম্পন্ন হবেন। ফলে জনকল্যাণমূলক ও মান সম্পন্ন আইন বা নীতি প্রণীত হতে পারে। এ ছাড়া, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, বিশেষ করে, নির্বাচন কমিশন ও পাবলিক সার্ভিস কমিশন সদস্যদের এবং মহা হিসাবরক্ষক ও নিরীক্ষক নিয়োগে উচ্চ কক্ষের অনুমোদনের ক্ষমতা দেয়া যেতে পারে। ফলে এসব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলনিরপেক্ষ, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিগণ নিয়োগ পাবেন। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকবে। প্রতিষ্ঠানগুলো আইন ও নীতি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে।
আইনসভার উচ্চকক্ষ হতে পারে মার্কিন সিনেটর মত একটি স্থায়ী কক্ষ। এর সদস্যদের মেয়াদকাল ছয় বছর হতে পারে। দুই বছর পর পর এ কক্ষের এক-তৃতীংশ সদস্যের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। সংবিধানে রাষ্ট্রপতির এটি ভেঙ্গে দেওয়ার ক্ষমতা রহিত করার বিধান যুক্ত করা যেতে পারে। এটি একটি স্থায়ী কক্ষ হিসেবে বাংলাদেশের যে কোন রাজনৈতিক সংকটে দল নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটের উদ্ভব হয়। এসব সংকট সমাধানে আইনসভার উচ্চ কক্ষের মত একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান থাকা দরকার। যাহোক, সংবিধান সংশোধন করে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা দরকার। কেননা এ সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করলে ও পরবর্তীতে নির্বাচিত জাতীয় সংসদের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি) ইতোমধ্যে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা ঘোষণা করে এ বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। তারপর ও আমি মনে করি এ সরকার বিএনপিসহ অন্যান্য সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার কাঠামো কেমন হবে এবং কখন থেকে শুরু করা যায় এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে সাংবিধানিক সংস্কারসহ অন্যান্য সংস্কারসমূহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা উচিত। জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান বিলম্ব হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। নতুন রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে।লেখক: অধ্যাপক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

উপজেলা ও ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটিসমূহ সক্রিয়করণে কাজ করতে হবে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এদেশের অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র সীমার মধ্যে দিনাতি পাত করছে। ঐ সমস্ত মানুষের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র বদ্ধপরিকর। আইনগত সহায়তা জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। দ্রুত সময়ে প্রান্তিক বিচারপ্রার্থী জনগণের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে উপজেলা ও ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটিসমূহ সক্রিয়করণে কাজ হরতে হবে। সরকারি আইনি সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রমের প্রচার বৃদ্ধি করতে হবে যাতে করে দেশের কোন অসহায় বিচারপ্রার্থী আইনের আশ্রয় বঞ্চিত না হয়”।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বুধবার বিকাল ৩.৩০ ঘটিকায় জেলা জজ আদালত চট্টগ্রামের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি চট্টগ্রামের নবনিযুক্ত মাননীয় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জনাব কাজী আবদুল হান্নান। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সিভিল জজ) জনাব সুব্রত দাশ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব এজিএম মনিরুল হাসান, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ সোহাগ তালুকদার, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-১ম আদালতের বিজ্ঞ বিচারক জনাব মোঃ আরফাতুল রাকিব, যুগ্ম জেলা জজ জনাব মুমিনুন্নেছা খানম,

বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, সিভিল জজ জনাব লাবণী শর্মা ও জনাব মোঃ জোবায়ের রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব রাসেল পিপিএম (বার), ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মৌনম বড়ুয়া, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক আতিয়া চৌধুরী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক এড. মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন, বিজ্ঞ সরকারি কৌসুলী (জিপি) জনাব মোহাম্মদ কাসেম চৌধুরী, বিজ্ঞ জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর এড. আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক, বিজ্ঞ মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর জনাব এড. মফিজুল হক ভূঞা, বিজ্ঞ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাবৃন্দ, সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ, লিগ্যাল এইড প্যানেল আইনজীবীবৃন্দ, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি চট্টগ্রামের সদস্যবৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধিবৃন্দ প্রমূখ। সভায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার জানান বিগত ০৮ মাসে ১৪৩৬টি আবেদনে (মামলায়) আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তৎমধ্যে ২৭৮টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। উক্ত সময়ে ৮০৬টি প্রি-কেইস এডিআর আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং এডিআরের মাধ্যমে ৮৮৪ বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন আদালত হতে পোস্ট কেইস বিরোধ মিমাংসার জন্য ৬৩টি মামলা রিসিভ হয়েছে এবং ৭৫টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে (বিগত বছরের জেরসহ)। বিরোধ মিমাংসার মাধ্যমে ১ কোটি ৫০ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রন্থ পক্ষকে প্রদান করা হয়েছে।

নিধারিত ভাড়া না মানলে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যবস্থা: ইউএনও

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সিএনজি অটোরিকশায় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট না থাকলে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপজেলার সব সিএনজি অটোরিকশায় দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার চার্ট টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বোয়ালখালী উপজেলা অডিটোরিয়ামে সিএনজির ভাড়া, যাত্রীসেবা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক।

সভায় যাত্রীদের স্বার্থ, চালক ও মালিকদের ন্যায্যতা এবং সিএনজি পরিবহনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে সিএনজিতে যাত্রী উঠানামার ভাড়া ৫ টাকা এবং ইউএনও কার্যালয় থেকে ফুলতল পর্যন্ত ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এ ছাড়া স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে ইউনিফর্ম পরিহিত কিংবা বৈধ পরিচয়পত্রধারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি সিএনজি অটোরিকশায় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব গাড়িতে ভাড়ার চার্ট লাগানো নিশ্চিত করতে হবে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ভাড়ার চার্ট না থাকা গাড়ির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় না করা এবং যাত্রীদের সঙ্গে শালীন, ভদ্র ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে চালকদের নির্দেশ দেওয়া হয়। যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, বোয়ালখালীর পাঁচটি স্টেশনে পূর্বের নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে ৫ টাকা করে বৃদ্ধি করা হবে। অন্য স্টেশনগুলোর ভাড়া আগের মতোই বহাল থাকবে।

সভায় বোয়ালখালী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কানিজ ফাতেমা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক চেয়ারম্যান, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ইসহাক চৌধুরী, বিএনপি নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা মুজাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি অধীর বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন দুলালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, এস এম মোদাচ্ছের, বোয়ালখালী সিএনজি অটোরিকশা টেম্পু শ্রমিক ও মালিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মো. ইদ্রিস, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাবিবুর রহমান, শ্রমিকনেতা আবদুল সাত্তার এবং কালুরঘাট-ফুলতল, শাকপুরা, সিও অফিস, জোটপুকুর, কানুনগোপাড়া, দাশেরদীঘি, বেংগুরাসহ বিভিন্ন এলাকার সিএনজি চালক ও সমিতির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।সভায় উপস্থিত বিভিন্ন পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে যাত্রীবান্ধব, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ সিএনজি পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ