আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমলা নির্ভর খন্ডকালীন প্রশাসক দিয়ে জনদুর্ভোগ সমাধান সম্ভব নয়-ক্যাব চট্টগ্রাম

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান স্থানীয় জনগনের দ্বারা পরিচালিত হবে এবং স্থানীয় জনদুর্ভোগ ও সমস্যা সমাধানে মূখ্য ভুমিকা পালন করবে এ বিধিবিধান সংবিধানেই লেখা থাকলেও যখন যে দল ক্ষমতায় এসেছে, তারা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্টানগুলোকে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে। বিগত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর নোবেল বিজীয় ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠিত হলে তাঁরাও সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে তাদের স্থানে সরকারি কর্মকর্তাদের খন্ডকালীন নিয়োগ প্রদান করেছেন। ফলে বিগত সরকারগুলোর মতো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্টানগুলোকে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দিয়ে তাদের ক্ষমতাকে আরও জোরদার করার মাধ্যমে স্থানীয় জনগনের স্বশাসিত উদ্যোগকে বাধাগ্রস্থ করা হয়েছে বলে মনে করছেন দেশের ক্রেতা ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটির নেতৃবৃন্দ।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিনাভোটে এবং অনেক স্থানে লোক দেখানো প্রহসনমুলক নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্টানাগুলো গঠিত হলেও ঢালাওভাবে সরকারি কর্মকর্তাদেরকে খন্ডকালীন ও প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে এর প্রতিকার সম্ভব নয়। প্রশাসক নিয়োগ স্বল্পকালীন হলেও সরকারি কর্মকর্তাগন এমনিতেই তাদের দায়িত্বভাবে জর্জরিত সেখানে স্থানীয় জনগনের দ্বারা পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধিত্বশীল ও নির্দলীয় চরিত্র ফিরিয়ে আনতে ঐ এলাকার স্থানীয় দলনিরপেক্ষ সমাজকর্মী, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পেশাজীবিদের পক্ষ থেকে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ প্রদানের বিকল্প নেই।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ঢালাওভাবে জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ না করে যেসব জনপ্রতিনিধি কার্যক্রম পরিচালায় সক্ষম তাদেরকে দিয়ে পরিচালনা করা এবং যারা পলাতক, তাঁদের স্থলে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে প্রয়োজনীয় স্থানে কো-অপ্ট করার বিধান প্রবর্তন করে কার্যক্রম পরিচালনা করলে স্থানীয় সরকারের চরিত্র ও অবয়ব ঠিক থাকতো। এছাড়াও স্থানীয় জনগন নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হতো না।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন হবার কারনে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরাই ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হতেন। আবার ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আইন সংশোধন করে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার কারণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্টানগুলোর বহুদলীয় চরিত্র বিলুপ্ত হয়। আর ক্ষমতাসীন দলের নেতারাই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন, সেকারনে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় সংস্থায় পরিনত হয়।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে বিভাগীয় শহরের সিটি করপোরেশনসমুহে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভাগীয় শহরের সিটি করপোরেশনের জনসংখ্যা অনেকে বেশি, এই বিপুলসংখ্যক মানুষের নাগরিক সেবা প্রদানের জন্য খন্ডকালীন প্রশাসকের পক্ষে কোন ভাবেই সম্ভব নয়। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভাগুলোকে যেভাবে আমলানির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে, তাতে এগুলো আর জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানের চরিত্রে থাকছে না। তাই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্টানগুলোকে অবশ্যই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন ব্যবস্থাকে সংস্কার করে প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্বশীল ও নির্দলীয় চরিত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।

০২ অক্টোবর ২০২৪ইং গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের প্রেসিডেন্ট জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা প্রেসিডিন্ট আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি চৌধুরী কেএনএম রিয়াদ, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু হানিফ নোমান প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যত পরিকল্পনা গ্রহণ করি, এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দুটি বিষয় কড়াকড়িভাবে নজর দিতে হবে। একটি হলো, মানুষের নিরাপত্তা। যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। অতীতে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, আমাদের কেউ অন্যায় করলেও, আমরা ছাড় দিইনি। রোববার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম মহানগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, আগামীতে সরকারে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আরেকটি বিষয়টি হচ্ছে দুর্নীতি। বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে।


অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই আগামীতে দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তারেক রহমান বলেন, আগামীতে বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন। ধানের শীষে ভোট দিন।
এবার ভোটের আগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন, তারপর কেন্দ্রে যাবেন। সেখানে ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। গত ১৫ বছর আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আবার এরকম একটি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই এবার ধানের শীষে ভোট দেন।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অনেক সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু তাতে কারও পেট ভরবে না। কারও লাভ হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাই আমরা কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যাতে করে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পায়।


তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের একটি বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন খাল-নালা বন্ধ হওয়ার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আমরা খাল কাটতে চাই। আপনারা কী আমাদের সঙ্গে খাল কাটা কর্মসূচিতে যোগ দিতে চান?। চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড রয়েছে। যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো বিএনপির আমলে হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আবার আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেন, তাহলে আরও ইপিজেড করা হবে। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম হবে বাণিজ্যিক রাজধানী।

ফরিদপুরে স্কুল শিক্ষার্থী সুরাইয়া হ-ত্যা-র বিচার দাবিতে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মানববন্ধন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোছা. সুরাইয়া খাতুন হ-ত্যা-র প্রতিবাদ ও হ-ত্যা-র সাথে জড়িতদের ফাঁ-সি-র দাবিতে বি-ক্ষো-ভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।
ফরিদপুর উপজেলার জন্তিহার খেলার মাঠে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীদের আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।


এ সময় জন্তিহার গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা, শিক্ষক সাংবাদিক ও সমাজকর্মী এস এম নাহিদ হাসানের ছায়া নির্দেশনায়, মানববন্ধনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কালিয়াকৈর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও ফরিদপুর উপজেলার জন্তিহার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে। ব্যানার-ফ্যাস্টুন হাতে ঘণ্টাব্যাপী চলা মানবন্ধনে বক্তারা নি-হ-ত সুরাইয়ার হ-ত্যা-র সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের দাবি জানান। তা না হলে, আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেন বক্তারা।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ