দূর্গা পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন : চসিক প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক

চসিকের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গঠিত কমিটির প্রথম সভায় বক্তব্য রাখছে বিভাগীয় কমিশনার ও চসিক প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গঠিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে বিভাগীয় কমিশনার ও চসিক প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে চসিক প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন, দূর্গা পূজা যাতে যথাযথভাবে সম্পন্ন করা যায় সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে কাজ করতে হবে বিশেষ করে ফায়ার সার্ভিসকে ২৪ ঘন্টা পূজা মন্ডপগুলোর নিরাপত্তার বিষয় সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিমা বিসর্জনের এলাকাগুলোতে ডুবুরি এবং যেকোনো অগ্নিকাণ্ড ঘটলে সেটি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত লোকবল রাখতে হবে। সিটি কর্পোরেশন প্রকৌশল বিভাগকে দ্রুত প্যাঁচওয়ার্কের কাজ শেষ করতে হবে। নগরীর ড্রেনগুলোর ম্যাপিং করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সরকার এই কমিটিকে দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা কমিটির সবাই মিলে কর্পোরেশনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার মাধ্যমে নগরীর উন্নয়নে কাজ করব। পূজার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য আমরা নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। সিভিল সার্জন থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যে সমস্ত এলাকায় ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে সেখানে প্রকোপ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে এছাড়া মশা নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে নগরীর সড়কগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সবগুলো সংস্কারের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নগরীর আলোকায়ন নিশ্চিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার লতিফুল হক কাজমী বলেন, নগরীর জলবদ্ধতার অন্যতম কারণ নালার মাঝে অপরিকল্পিতভাবে সংযোগ লাইনের পাইপ। এই পাইপ গুলোর কারণে ভারী বৃষ্টি হলে ময়লা জমে পানি চলাচল করতে পারেনা। ফলে নগরীতে জনবদ্ধতা তৈরি হয়। এ সমস্যা সমাধানে ওয়াসা ও পিডিবিকে এগিয়ে আসতে হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক-বলেন চট্টগ্রামের সার্বিক স্বাস্থ্য মানের উন্নয়নে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা প্রয়োজন বিশেষ করে সংগৃহীত বর্জ্য পৃথকীকরণের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের বর্জ্যকে আলাদাভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে। নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার মান উন্নয়ন করা গেলে নগরী জলবদ্ধতা কমবে ডেঙ্গু সহ বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব কমবে। নাগরিকদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে প্রথম সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের অবকাঠামো গত সক্ষমতা এবং কুফল বাড়াতে হবে।
ওয়াসার ডিএমডি বিষ্ণ কুমার সরকার জানান, চট্টগ্রাম ওয়াসা নগরীর সুপারিশ ব্যবস্থাপনায় বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এছাড়া নগরীর প্রতিটি এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহে কাজ করছে ওয়াসা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনর সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মনীষা মহাজন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, শাহরিন ফেরদৌস, রক্তিম চৌধুরীসহ কর্মকর্তাবৃন্দ। সভায় সরকারী অন্যান্য সংস্থার সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বর্তমান সরকারের সময়েই লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হবে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন,বর্তমান নির্বাচিত সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের কল্যাণে যা যা করণীয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা দেশের উন্নয়ন ও অবকাঠামোর কাজ করে চলেছি।সারা দেশের সাথে সড়কপথে সহজ যাতায়াতের জন্য চার লাইনের রাস্তা নির্মানের কাজে এগিয়ে চলেছে। রাস্তা নির্মাণের সময় মানুষের কিছুটা ভোগান্তি হলেও ভবিষ্যতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবে। আমরা আশা করছি বর্তমান সরকারের সময়েই লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করতে পারব। এ নিয়ে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি।


শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশনের (বাজুস) লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির শপথ বাক্য পাঠ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।আমাদের সরকার জনগণের জবাব দিহিতার সরকার। আমরা জনকল্যাণে সর্বদা ব্যাপিত রয়েছি।বিগত সময় যে সরকার ছিল তাদের কোন জবাবদিহি ছিল না। যখন যা ইচ্ছা তা, যখন যেটা মনে কড়েছে, যখন যেটা দরকার কড়েছে, সেটা করে নিয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু সরকার দেশপ্রেমিক হলে চলবে না, আমাদের সবাইকে দেশপ্রেমিক হতে হবে। সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। স্বর্ণ ব্যবসার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে মজবুত রাখতে পারবেন, তাহলে আপনাদের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পারি। সেই সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে দেশের আইনশৃঙ্খলাকেও অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রত্যেকটা ব্যবসা দেশের আইনশৃঙ্খলার ওপর নির্ভর করে। তাহলে আইন শৃঙ্খলাকে স্বাভাবিক রাখার জন্য আমাদেরকে খুব সতর্ক থাকা উচিত।

আইন শৃংখলা ঠিক না থাকলে স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ অন্য ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে না। সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেনা । আমরা ভোটের অধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমাদেরকে আন্দোলন করেছি। গণতন্ত্রের ভিত যত শুক্তিশালী হবে, আপনার ব্যবসা-বাণিজ্য ও ততবেশি মজবুত হবে।গণতন্ত্রের ভীত মজবুত হলে দেশের ভীতও মজবুত হয়।
বাজুসের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খানের সভাপতিত্বে ও লক্ষ্মীপুর জেলা বাজুসের চেয়ারম্যান সমীর কর্মকারের সঞ্চালনায় তিনি প্রধান অতিথি বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ হলে ভোলা, পটুয়াখালী , বরগুনা, বরিশাল, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলার মানুষ উপকৃত হবে। অনায়াসে এসকল জেলার মানুষ লক্ষ্মীপুরের উপর দিয়ে যাতায়াত করবে। ফলে লক্ষীপুরের মানুষের সবচেয়ে উপকৃত বেশি হবে।

বাজুসের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান বলেন, সারাদেশে স্বর্ণ ব্যবসার সাথে অনেকেই জড়িত রয়েছে। তবে প্রত্যক্ষভাবে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ এর ব্যবসা করে চলেছে।স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা ভ্যাট- ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করতে চায়। ভ্যাট ও ট্যাক্স পরিশোধ করার জন্য সহজ পদ্ধতি দেয়া প্রয়োজন। শুধুমাত্র এলে ফান্ডে টাকা জমা দিলে দেশের রাষ্ট্রীয় কোষাগার সমৃদ্ধ হবে না। স্বাধীনতার এতটি বছেরর পরও স্বর্ণ ব্যবসায় কোন নীতিমালা নাই। এটা আমাদের কষ্টের বিষয়। এ ব্যবসায় নীতিমালা না থাকার কারণে, ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হয়ে থাকে।

এজন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের জন্য একটি নীতিমালা করে দিন।ইতিমধ্যে সরকারের অর্থমন্ত্রীর এ নিয়ে বৈঠক হয়েছে। স্বর্ণ ব্যবসায় নীতিমালা প্রণয়ন হলে, আমরা নির্বিগ্নে ব্যবসা করতে পারব। বাংলাদেশ থেকে স্বর্ণ পাচার হবে না। এবং এ দেশকে ট্রানজিট করে স্বর্নের অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের নানা দুঃখ দুর্দশা নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাথে আমরা দেখা করতে চাই। এজন্য পানি সম্পদ মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

বাজুসের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খানের সভাপতিত্বে ও লক্ষ্মীপুর জেলা বাজুসের চেয়ারম্যান সমীর কর্মকারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ডিস্ট্রিক মনিটরিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট আজাদ আহমেদ, বাজুস ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, বাজুসের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন, বাজুস নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মানিক,লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সিনিয়র সহ সভাপতি অপূর্ব লাল রায়, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শংকর মজুমদার, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন চন্দ্র নাথ, সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহা প্রমুখ।

বর্তমান অস্থির বিশ্বে বুদ্ধের মহান বাণীই শান্তি ফেরাতে পারে: সাংসদ নুরুল আমিন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মিরসরাই উপজেলাধীন পাঁচটি বৌদ্ধ গ্রামের বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু, বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিনিধি এবং সাধারণ বৌদ্ধ জনগণের সাথে সাথে মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অদ্য ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলেলে মিরসরাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুল আমিন। ভিক্ষু মহাসভার সহ-সভাপতি শ্রীমৎ প্রিয়ানন্দ মহাথেরের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পুষ্পেন্দু বড়ুয়া।

অগ্রণী ব্যাংকের ডিজিএম বিজয় বড়ুয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব পুলক কান্তি বড়ুয়া, চট্টগ্রাম মেডিকেলের নেফ্রোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. বিপ্লব কুমার বড়ুয়া, দমদমা নবাবপুর ধর্মকীর্তি বৌদ্ধ বিহারের আজীবন অধ্যক্ষ বিশ্বনাগরিক ড. ধর্মকীর্তি মহাথেরো এবং শাষন বংশ মহাথরসহ প্রতিটি বৌদ্ধ গ্রামের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।
প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান অস্থির বিশ্বে বুদ্ধের মহান বাণীই শান্তি ফেরাতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার সারাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী অস্থির সময়ে মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ গ্রামে বৌদ্ধ বিহারের নিরাপত্তা ও বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের সাধারণ কর্মীরা উনার নির্দেশে অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে কাজ করেছিল। তিনি মিরসরাই উপজেলার প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে তিন লক্ষ টাকা করে অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। পরিশেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ