বিএসসি আরেকটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ঃ ‘নাশকতা’র আশংকা এমডির

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাঁচদিনের ব্যবধানে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) আরেকটি তেলবাহী জাহাজে আগুনের ঘটনাকে ‘নাশকতা’ বলে আশংকা করছেন প্রতিষ্ঠানটির এমডি কমডোর মাহমুদুল মালেক। এর আগে শুক্রবার (৪ আগস্ট) রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে বঙ্গোপসাগরে পতেঙ্গা এলাকায় নোঙর করা বিএসসির মালিকানাধীন ‘এমটি বাংলার সৌরভ’ নামে তেলবাহী ওই জাহাজটিতে আগুনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জাহাজটির স্টুয়ার্ড সাদেক মিয়া (৫৯) মারা যান। নিহত সাদেকের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়।
শনিবার সকালে বিএসসি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির এমডি কমডোর মাহমুদুল মালেক এ কথা জানান তিনি।এর আগে সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে কর্ণফুলী নদীর ডলফিন জেটিতে ‘বাংলার জ্যোতি’ নামে একটি তেলবাহী জাহাজে আগুনের ঘটনা ঘটে। এ জাহাজও বিএসসির মালিকানাধীন ছিল। এ ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়। তিনজনই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, বাংলার সৌরভ জাহাজের সম্মুখ অংশ থেকে একইসঙ্গে চার জায়গায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। অথচ জাহাজে কোনো বিস্ফোরণ হয়নি। তাই আমাদের আশঙ্কা এটা নাশকতা। রাতের ১২টা ৩ মিনিটে বাংলার সৌরভ জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় সমুদ্র খুব উত্তাল ছিল। বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাতটি টাগবোট একযোগে অপারেশন পরিচালনা করে। প্রায় দেড় ঘন্টায় অগ্নি নির্বাপন করার পরে বাতাসের কারণে ভেতর থেকে আবার আগুন জ্বলে ওঠে। কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, যখন জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে ঠিক একইসময়ে পাশ দিয়ে একটি স্পীডবোটও যায়। যেহেতু গ্যাস ফর্ম কিংবা অন্য কোনো কারণে আগুন লাগার ঘটেনি। তাই আমরা ধারণা করছি, এটা নাশকতামূলক অগ্নিকাণ্ড হতে পারে। কিন্তু সবকিছু তদন্তের পরেই জানা যাবে। তিনি আরও বলেন, এটা লাস্ট সার্ভিস হওয়ার কথা ছিল বাংলার সৌরভের। এ জাহাজে তেল ছিল ১১ হাজার ৫৫ টন। জাহাজে সর্বমোট জনবল ছিল ৪৮ জন। আগুন লাগার পর কিছু ক্রু অন্য বোটে এবং কেউ পানিতে ঝাঁপ দেয়। সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। শুধু একজন স্টুয়ারড ছিলেন, বয়স্কয়। উনার নাম সাদেক মিয়া। তীরে পৌঁছানোর পরও উনার সেন্স ছিল। ট্রমাজনিত কারণে হাসপাতালে নেয়ার পথে বা হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি মারা যান। যাদেরকে রেসকিউ করা হয়েছে, তাদের কেউ তেমন ইনজুরড হয়নি। এ ঘটনায় বিএসসির টেকনিক্যাল ডিরেক্টরকে প্রধান করে আট সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমডোর মাহমুদুল মালেক।
বিএসসির পর পর দুইটি অয়েল ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ড জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা বলে আশঙ্কা করে নৌবাহিনীর এ কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় জ্বালানির জন্য ব্যাক টু ব্যাক এ ধরনের দুটি ঘটনা হুমকি স্বরূপ। কয়েকদিন আগে বাংলার জ্যোতিতে আগুন লেগেছিল। এরপর আগুন লাগল বাংলার সৌরভে। তাই আমরা ধারণা করছি, এ ঘটনা জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলার অপচেষ্টা। এ ঘটনায় কারা জড়িত তা শনাক্ত করা উচিত।
বিএসসির মালিকানাধীন সচল সাতটি জাহাজের মধ্যে বাংলার সৌরভ ও বাংলার জ্যোতি বন্দরের বহির্নোঙ্গর থেকে তেল লাইটারের কাজ করত। অপর পাঁচটি জাহাজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত আছে। ১৯৮৭ সালে নির্মিত জাহাজ দুটি ডেনমার্ক থেকে কেনার পর বিএসসির বহরে যুক্ত হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর এলাকার ন্যাম ভবন থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি জিএম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ন্যাম ভবনের ৫নং ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা এখনও জানা যায়নি।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, রুমের জানালা দিয়ে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। তবে কখন, কীভাবে কেন এ ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের দেয়া তথ্যে জানা যায়, মরদেহ উদ্ধারের পর ফরেনসিকের জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, নজরুল ইসলাম তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে দুপুরের খাবার খেয়েছেন। এরপর তারা বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আলাদা আলাদা রুমে যান। পরে ৫টার পরে ছোট স্ত্রী মরিয়মকে ডাকতে গেলে দরজা বন্ধ পান। পরে জানালা দিয়ে দেখেন আলোচিত দ্বিতীয় স্ত্রী ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন। পরে তিনি থানা পুলিশকে জানান। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা সে বিষয় বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।

অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তরুণীর মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়ন ফকিরাবাদে বকশিপাড়ায় স্বামীর পরিকল্পনায় ঠান্ডা মাথায় খুন করে তমা খাতুনকে। তমা খাতুনের স্বামী বক্কর হোসেন এখন ভেড়ামারা থানা পুলিশ হেফাজতে। তমা খাতুন (১৮) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে মারা যান। নিহত তমা খাতুন ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ বকশীপাড়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে।

নিহতের পরিবারের দাবি, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যায়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহতের মামাতো ভাই হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে ভেড়ামারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তমার মৃত্যুর পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্বামীর পরিকল্পনায় ঠান্ডা মাথায় খুন করে তমা খাতুনকে।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ জাহেদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই তরুণী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ধর্ষণের কোনো আলামত বা প্রমাণ পুলিশ পায়নি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই তরুণীকে হাসপাতালে আনা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে হাসপাতালে ভর্তির সময় পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ