আজঃ বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

শীঘ্রই জোড়া লাগছে মেরিন ড্রাইভ!

কক্সবাজার প্রতিনিধি :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অবশেষে জোড়া লাগছে সাগরের ঢেউয়ের আগ্রাসনে বিলীন হওয়া কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ শুরুর দুই কিলোমিটার। শীঘ্রই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করবে সেনাবাহিনী। পর্যটন, ব্যবসায়ী, চালক ও যাত্রীরা বলছেন, বিকল্প পথে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে রেহাই ও মেরিন ড্রাইভের সুফল মিলবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ শুরু কলাতলী অংশ থেকে। এই কলাতলী থেকে বেলা হ্যাচারি পর্যন্ত নির্মিত মেরিন ড্রাইভটি বিলীন হয়েছে সাগরের আগ্রাসনে। একই সঙ্গে ঝুঁকির মুখে পড়ে অনেক স্থাপনা। তবে স্থাপনা রক্ষায় অনেকেই নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করে বাঁধ। তারপরও বছরের পর বছর জোড়া লাগেনি মেরিন ড্রাইভের বিলীন হওয়া অংশ।
যার কারণে মেরিন ড্রাইভে উঠতে ব্যবহার হচ্ছে বিকল্প সড়ক। যা অনেকটা সরু। যার কারণে এই সড়কে লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট। একই সঙ্গে প্রতিদিনই ঘটে দুর্ঘটনা। তবে মেরিন ড্রাইভের বিলীন হওয়া অংশে শিগগিরই কাজ শুরুর কথা শুনে দারুণ খুশি চালক ও যাত্রীরা।

টুরিস্ট জীপ চালক আবদুল আজিজ বলেন, মেরিন ড্রাইভ শুরুর কলাতলী থেকে বেলী হ্যাচারি পর্যন্ত ভাঙা। তাই বিকল্প সড়কটা অনেক ছোট। যার কারণে সবসময় যানজট লেগে থাকে। এতে পর্যটকসহ আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এখন ভাঙা অংশের কাজ শুরু হবে বলছে, এটা অবশ্যই সবার জন্য ভালো হবে।

সিএনজি চালক গিয়াস উদ্দিন বলেন, বিকল্প সড়কে ২ কিলোমিটার যেতে দেড় থেকে ২ ঘণ্টা লাগে। আর সাপ্তাহিক ছুটির দিন ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লেগে যায়।

হোটেল সী ক্রাউনের ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মেরিন ড্রাইভের বিলীন হওয়া অংশ সেনাবাহিনী কাজ শুরু করবে এটা পর্যটকদের জন্য অনেক সুবিধা হবে। কক্সবাজার বেড়াতে আসা ভ্রমণ পিপাসুদের আর দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ, যা বঙ্গোপসাগরের পাশ দিয়ে কক্সবাজারের কলাতলী সৈকত থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত, যা দেখতে যায় হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু। দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরিন ড্রাইভের বিলীন হওয়া অংশ মেরামত হলে বিকল্প পথে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে রেহাই ও মেরিন ড্রাইভের সুফল মিলবে বলে জানালেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, মেরিন ড্রাইভের বিলীন হওয়া অংশে অনেকগুলো স্থাপনা রয়েছে। তার মধ্যে হ্যাচারি, হোটেলসহ নানা স্থাপনা রয়েছে। এসব স্থাপনাও জোয়ার-ভাটার মধ্যে রয়েছে। এখন মেরিন ড্রাইভের বিলীন হওয়া অংশে প্রতিরক্ষা বাঁধ আর সড়ক হলে একদিকে স্থাপনাগুলো রক্ষা পাবে আর পর্যটন শিল্প বিকাশে সহায়ক হবে।

এদিকে সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ভিডিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন জানান, সেনাবাহিনী এরইমধ্যে শহরের যানজট নিরসনের লক্ষ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও নির্দিষ্ট পার্কিং স্পট না থাকার কারণে যেসব গাড়ি সড়কে পার্কিং করা হতো, সেসব গাড়ি পার্কিং এর জন্য আলাদা জায়গা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। যার কারণে কলাতলীর ডলফিন মোড়ে যানজট অনেকটায় কমেছে।

মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন বলেন, ১৯৯১ সালের পর থেকে মেরিন ড্রাইভে খণ্ডিত অংশ দিয়ে গাড়ি চলাচল করতে না পারায় প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এর কাজ শেষ হলে একটা প্রস্তাবনা পাঠানো হবে মন্ত্রণালয়ে। সেটি পাস হলে সড়কের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ; যার দূরত্ব দীর্ঘ ৮০ কিলোমিটার। কিন্তু গেলো দুই দশক আগে সাগরের প্রবল স্রোতে বিলীন হয়ে যায় মেরিন ড্রাইভ শুরুর প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ডিসি পার্কে ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের সমারোহে ফুল উৎসব শুরু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাঁদা, জবা, কৃষ্ণচূড়া, চন্দ্রমল্লিকা, আরও আছে লিলিয়াম, ম্যাগনোলিয়া ও ক্যামেলিয়া— এমন ১৪০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি লাখো ফুলে সেজেছে চট্টগ্রামে সাগরতীর। ফুল দিয়ে তৈরি ট্রেন, বক, ময়ূরসহ বিভিন্ন নান্দনিক স্থাপনা দিচ্ছে বাড়তি আকর্ষণ। আর এই ফুলের রাজ্যে হারাতে চাইলে যেতে হবে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুরে ডিসি পার্কে।

শুক্রবার চতুর্থবারের মতো আয়োজিত দেশের বৃহত্তম এ ফুল উৎসবের পর্দা উঠেছে। মাসব্যাপী উৎসব শেষে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি এর পর্দা নামবে। শুক্রবার সীতাকুণ্ড উপজেলাধীন সলিমপুর মৌজার সাগরপাড়ে ১৯৪ একর আয়তনের ডিসি পার্কে দেশের বৃহত্তম ফুল উৎসব উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক।

এ সময় তিনি ফুল উৎসব শুধু চট্টগ্রামের জন্য নয়, বরং সারাদেশের মানুষের জন্য আনন্দের বিষয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের অন্যান্য জেলার মানুষও ডিসি পার্কে এসে নির্মল আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগ দেশের অন্যান্য জেলার জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

মাসব্যাপী এই ফুল উৎসবে দেশি-বিদেশি প্রায় ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের সমারোহ রয়েছে। এ বছর দর্শনার্থীদের জন্য নতুন আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হয়েছে জিপ লাইন, ক্লাইম্বিং ট্রি, ট্রি হার্ট, বিগ ফ্লাওয়ার ট্রি, আমব্রেলা ট্রি ও ফ্লাওয়ার টি। ফুলের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা উপভোগ করতে পারবেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
উৎসবের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে গ্রামীণ মেলা, বই উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব, লেজার লাইট শো, ভিআর গেম, মুভি শো, ভায়োলিন শো, পুতুল নাচ ও মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট- ২০২৬ উপলক্ষে একটি সচেতনতামূলক স্টল স্থাপন করা হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান কর্নার।

সাইফুদ্দিন খালেদ খসরু সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখতেন-শোকসভা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাইফুদ্দিন খালেদ খসরু তাঁর কর্মের মাধ্যমে আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। প্রগতিশীল আন্দোলনের কর্মী ও বিশিষ্ট পেশাজীবি সাইফুদ্দিন খালেদ খসরুর শোকসভার নগরীর থিয়েটার ইনিস্টিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সাইফুদ্দিন খালেদ খসরু এর নাগরিক শোকসভা কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক মহীবুল আজিজ এর সভাপতিত্বে এবং আবৃত্তিশিল্পী ও নাগরিক কমিটির সদস্য মো: মুজাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় শোকসভায় বক্তব্য রাখেন, সাইফুদ্দিন খালেদ খসরু এর নাগরিক শোকসভা কমিটির সদস্য সচিব মোঃ আতিক, সাবেক ছাত্রনেতা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. ফজলে এলাহী মিলাদ, কবি ও সাংবাদিক অভীক ওসমান, সমাজ সমীক্ষা সংঘের সভাপতি কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু, কবি ও সাংবাদিক নাজিমুদ্দীন শ্যামল, শিক্ষাবিদ আজাদ বুলবুল, খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত বসু, যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি মোঃ শাহ আলম, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক এড. অসীম কুমার দাশ, সমাজ সমীক্ষা সংঘের নির্বাহী পরিচালক কল্লোল দাশ, নজরুল সংগীত শিল্পী সংস্থার সিনিয়র সহ সভাপতি এবং বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক দীপেন চৌধুরি, সম্মিলিত আবৃত্তি জোটের সহ সভাপতি প্রণব চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইউসুফ হোসেন ভুইঁয়া, বিশিষ্ট ব্যাংকার অশ্রুত কুমার চক্রবর্তী, সমাজ সমীক্ষা সংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালক সুমন চৌধুরী মনি, ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী জহিরুল আলম, সাইফুদ্দিন খালেদ খসরুর কন্যা যাহবা শবনম আভা প্রমুখ। সভায় বক্তারা সাইফুদ্দিন খালেদ খসরুর স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমৃত্যু তিনি ছিলেন একজন অসাম্প্রদায়িক, বিজ্ঞানমনষ্ক, মানবিক মানুষ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার শৈশব কৈশোর ও ছাত্র জীবনে তিনি বিভিন্ন মননশীল, ঋদ্ধ, গুণী ব্যক্তিদের নিত্য সংস্পর্শে ছিলেন। একটি সুরুচি সম্পন্ন সাংস্কৃতিক আবহে গড়ে ওঠেছে তার প্রাথমিক বেড়ে ওঠার দিনগুলো। আমৃত্যু তিনি প্রগতিশীল আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। সাইফুদ্দিন খালেদ খসরু বিশ্বাস করতেন মুক্ত মানুষের মুক্ত সমাজে। যুক্তি ও বুদ্ধির মুক্তিতে সাইফুদ্দিন খালেদ খসরুর আশাবাদ ছিল সবসময়।

বক্তারা আরো বলেন, আধুনিকতার নামে ভোগবাদী সমাজ, শোষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্ত থেকে সাইফুদ্দিন খালেদ খসরু সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখতেন। প্রকৃত মানুষের মানবিকতা, উদারতা নিয়ে মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন ছিল সাইফুদ্দিন খালেদ খসরুর। তিনি সকলের কাছে একই সাথে আস্থা, ভালোবাসা ও নির্ভরতার মানুষ ছিলেন। স্মরণ সভার শুরুতে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সাইফুদ্দিন খালেদ খসরুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয় এবং তাঁর স্মৃতির স্মরণে একমিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

আলোচিত খবর

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশে অনুমোদন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ – ২০২৬
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের এক সভায় এতে অনুমোদন দেওয়া হয়।প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এর প্রেস রিলিজে বলা হয় উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জট নিরসনে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কলেজগুলোর নিজস্ব পরিচয়, অবকাঠামো এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওপর তাদের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে।বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এইপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিদর্শন, মূল্যায়ন ও নির্দেশনার ক্ষমতা পাবে।

নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওযার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে পরিচালিত হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ