আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

নাইক্ষ্যংছড়িতে বসে অবৈধ বিদেশি গরু-মহিষের হাট

আনোয়ার হোছাইন নাইক্ষ‍্যংছড়ি (বান্দরবান) সংবাদদাতাঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নাইক্ষ‍্যংছড়ি সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমার থেকে আসা পশু নিয়েই নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের চাকঢালায় বসে গরু-মহিষের হাট। সপ্তাহের ২ দিনই এ অবস্থা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। অথচ এ বাজারের আশেপাশে রয়েছে দায়িত্বশীল কতৃপক্ষ বুধবার (৯ অক্টোবর) সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্য মতে, বাংলাদেশ-মিয়ানমারে স্থল সীমান্তের ৪৪ পিলার থেকে ৫০ নম্বর পিলার পর্যন্ত দীর্ঘ সীমান্তের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার অংশে পশুর হাট বসে শুধুমাত্র চাকঢালা বাজারে। যেটি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। যা মিয়ানমার সীমান্ত থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ‍্যন্তরে। যে কারণে চোরাকারবারীরা নিরাপদ ও অধিক সুবিধা এ বাজার কেন্দ্রিক চোরাকারবার চালিয়ে আসছে বেপরোয়া ভাবে।

বুধবার ( ৯ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে বিজিবি টহল থাকায় দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত চাকঢালায় পশুর হাট বসে নি। বিজিবির জোয়ানরা দুপুরে খাবার খেতে যাওয়া মাত্রায় কয়েক ধিক থেকে প্রায় ১শ মিয়ানমার থেকে অবৈধ পথে আনা মহিষের পাল বাজারে ঢুকায় চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের সদস্যরা।
যার মধ্যে শুধু মেহেরপুর সড়ক দিয়ে আসে অর্ধশত বিশালাকারের মহিষ। অন্যান্য সড়ক দিয়ে মিলে আসে আরো বেশ পশু।

সূত্রমতে, হাট সকাল সাড়ে ১১টায় শেষ হওয়ার কথা, সে পশুর হাট চলে সন্ধ‍্যা পর্যন্ত।
সূত্রে আরো জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছে, সার, তেল, মুরগি, ডিম মাছ, চাল, ঔষধ, পলথিন, কীটনাশকসহ, বিস্কুট সহ কয়েকশ প্রকারের বাংলাদেশী পণ্য।
আর এ সব চোরাচালানে জড়িত রয়েছে,
চিহ্নিত ও আলোচিত ব্যক্তিরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ পশু এবং মালামাল আনা-নেয়ার জন্যে সড়ক ব্যবহার হচ্ছে ৫ টি। মেহেরপুর সড়ক, হামিদিয়া পাড়া সড়ক, দক্ষিণ মৌলভীরকাটা সড়ক, নিকুছড়ি থেকে সোনাইছড়ি সড়ক, ছালামী পাড়া শাহ আলমের দোকানের পাশ হয়ে লাইটে গোড়া সড়ক, আলী মেম্বার-অইক্যের ঘোনা সড়ক হয়ে লাইটে গোড়া সড়ক, মৌলভীকাট রাবার ড্যাম-ভামো ও শামশুর ঘোনা হয়ে ছালামীপাড়া খামারপাড়া অংকপাড়া হয়ে লাইটের গোড়া সড়ক। স্থানীয় ৮ ম শ্রেণির ছাত্র আবদুশ শুক্কুর এ প্রতিবেদককে বলেন,
আগে বিজিবি টহল বেশী ছিল, এখন কম। রাত যত গভীর হয় চোরাকারবার তত বাড়ে। এখানে নেতা থেকে শুরু করে অনেকেই এই কারবারে জড়িত।
চাকঢালা বাজার ব্যবসায়ী, শামশুর আলম, ছৈয়দ আলম ও ছব্বির আহমদ বলেন, বিশেষ করে চাকঢালা বাজারের রশিদের মাধ্যমে সব পশু বৈধতা পাচ্ছে৷ গরু, মহিষ ও ছাগলসহ অনেক পণ্য। মিয়ানমার কেন্দ্রিক স্বশস্ত্র ২ টি গোষ্ঠী
নিজেদের খাদ্য জোগান দিতে চোরাকারবারে জড়িয়ে পড়ায় এপারের বিজিবি সদস্যরা হিমশিম খাচ্ছেন প্রতিরোধে। ওপারে খোলা এপারে বাধা এ অবস্থায়
চোরকারবারীরা গোপনে পায়ে হেটে বা মোটর বাইকে চড়ে ওপারের কারবারীদের সাথে আতাত করে এ সব অপকর্ম চালিয়ে আসছে।
তাদের দাবী, সীমান্তে বিজিবির অস্থায়ী তল্লাশি ক্যাস্প বসিয়ে নজরদারী বাড়ালে এ চোরাকারবার বন্ধ হবে। তাদের দ্বিতীয় দাবী, এ দেশের বিজিবি, পুলিশ, নেতা, গোয়েন্দা, সাংবাদিক, আনসার শিক্ষক ও ইমামদের সমন্বয়ে তদারকিসহ পাহারা বসালে ১ সপ্তাহের মধ্যে চেরাকারবার বন্ধ হবে।

এ বিষয়ে নাইক্ষ‍্যংছড়ি ১১ বিজিবির জোন কমান্ডারের বক্তব্য জানার জন‍্য ফোন করা হলে ফোন রিসিভ না করাই কথা বলা সম্ভব হয়নি।তবে গত ২৯ সেপ্টেম্বর নাইক্ষ‍্যংছড়ির স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল মোঃ সাহল অহমদ নোবেল বলেছেন, চোরাকারবারীরা দেশের শক্র-জাতির শত্রু। তাদের কোন ছাড় দেওয়া যাবেনা।সীমান্ত রক্ষী বিজিবি সদস্যরা কঠোর অবস্থানে থেকে অভিযান চলমান রেখেছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে মাদক উদ্ধার, আটক- ২

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে দুইজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় একটি ট্রাক, ২ হাজার ৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ, ৫৮৫ পিস ইয়াবা ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মালামালের মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। পৃথক দুটি অভিযানে দুইজনকে আটক করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ, ইয়াবা, একটি ট্রাক ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ৫৯ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার এডি শেখ মনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে সোনামসজিদ বিওপির একটি টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের বালিয়াদিঘী গ্রামের প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইনের পাশের সড়কে অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় ঢাকা মেট্রো-ট ২০-৯৯৯০ নম্বরের একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে সাতটি প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা ২ হাজার ৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ‘এসকাফ’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ট্রাকচালক মো. রিয়াদ হোসেন (২০)কে আটক করা হয়েছে। তিনি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পাশাপুর গ্রামের বাসিন্দা।এ সময় ট্রাকটির পাশাপাশি একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা সিরাপ, ট্রাক ও মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য ৬৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

অন্যদিকে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে চৌকা বিওপির নায়েক সুরজিত নাগের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের খাসেরহাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ৫৮৫ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি মোবাইল ফোনসহ মো. নাঈম ইসলাম (১৮) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার জমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা।উদ্ধার করা ইয়াবা ও মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫০০ টাকা।

বিজিবি জানিয়েছে, পৃথক দুটি অভিযানে জব্দ করা ট্রাক, নেশাজাতীয় সিরাপ, ইয়াবা ও মোবাইল ফোনের মোট সিজার মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রামে সাড়ে তিন বছর আগে শিশুকে কেটে ছয় টুকরো, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত অপহরণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মো. আবিরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন একটি আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টায় চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন। চাঞ্চল্যকর এ মামলায় ৫০ জন সাক্ষীর মধ্যে মোট ৩৩ জনের সাক্ষ্য নিয়ে আদালত এ রায় দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আবির আদালতে উপস্থিত ছিলেন।সাড়ে তিন বছর আগে এই শিশুকে কেটে ছয় টুকরো করে লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গুমের লোমহর্ষক ঘটনার মামলার রায় দেয়া হল। দণ্ডিত ২৩ বছর বয়সী আবির আলীর বাড়ি রংপুর জেলায়। ঘটনার সময় চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের নয়ারহাট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর জালাল উদ্দিন বলেন, শিশুটিকে হত্যার অপরাধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। লাশ টুকরো-টুকরো করে গুমের অপরাধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর বিকালে নগরীর দক্ষিণ হালিশহরের নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার চার বছর ১১ মাস বয়সী মেয়ে আলীনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।

ঘটনা জেনেই ছায়া তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।২৪ নভেম্বর আয়াত হত্যার অভিযোগে প্রতিবেশী তরুণ আবির আলীকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। ২৫ নভেম্বর দায় স্বীকার করে তিনি আদালতে জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যে ৩০ নভেম্বর নগরীর ইপিজেড থানার আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে নালাসংলগ্ন স্লুইচগেট এলাকা থেকে আয়াতের বিচ্ছিন্ন দুই পায়ের অংশ এবং পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার হয়। ৬ ডিসেম্বর আবিরের সহযোগী এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।

আবিরের বরাতে পিবিআই তখন জানিয়েছিল, আবির ১৫ নভেম্বর আয়াতকে তুলে নিয়ে শ্বাসরোধে খুন করেন। এরপর লাশ কেটে ছয় টুকরো করেন। ১৬ নভেম্বর সকালে লাশের তিনটি টুকরো নগরীর আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে বেড়িবাঁধের পর আউটার রিং রোডসংলগ্ন বে-টার্মিনাল এলাকায় সাগরে ভাসিয়ে দেন। ওইদিন রাতে বাকি তিন টুকরো আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে একটি নালায় স্লুইচগেটের প্রবেশমুখে ফেলে দেন।

আয়াতের বাবার করা মামলা তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিটের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ কুমার দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে আবির আলী এবং তার কিশোর বয়সী বন্ধুকে আসামি করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, নগরীর দক্ষিণ হালিশহরের নয়ারহাট এলাকায় আয়াতের দাদা মনজুর হোসেনের মালিকানাধীন ভবনে ভাড়া থাকত আবিরের পরিবার। আবিরের জন্ম ওই বাসায়। তবে ঘটনার সময় তার বাবা আজাহারুল ইসলাম ওই বাসায় থাকলেও দাম্পত্য কলহের জেরে মা আলো বেগম আকমল আলী রোডে আলাদা বাসায় থাকতেন। আবির ও তার বোন মায়ের সঙ্গে থাকতেন। তবে আবির তার বাবার বাসায়ও নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন।

বেকার জীবনের হতাশা থেকে আবির সম্পদশালী পরিবারের শিশু আয়াতকে অপহরণ করে বড় অংকের টাকা মুক্তিপণ আদায় করার কৌশল নিয়েছিলেন। সহযোগী কিশোরকে নিয়ে তিনি আয়াতকে তুলে নিয়েছিলেন। এরপর আবির তার বাবার বাসায় নিয়ে শিশুটিকে খুন করেন। লাশ বস্তায় ভরে মায়ের বাসায় নিয়ে কেটে ছয় টুকরো করে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেন। ২০২৪ সালের ৩০ মে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

আদালতে উপস্থিত পিবিআই পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী জানালেন, মামলার দুজন আসামির মধ্যে আবির আলীর বিচার সম্পন্ন হয়েছে। অপর আসামি কিশোর বয়সী হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে চলমান আছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ