আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

কুতুবদিয়ায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা : থানায় মামলা দায়ের

অন্তর দে বিশাল, কক্সবাজার প্রতিনিধি :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যায়নরত এক হিন্দু নাবালিকা ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে। গত রোববার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের খুইল্যার পাড়া গ্রামের অর্জুন দাশের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।ভিকটিম চম্পা দাশ (ছদ্মনাম) ধূরুং আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজের ৬ ষষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষার্থী। এই ঘটনায় এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করলে ভিকটিমের মা মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) কুতুবদিয়া থানায় এস্তাফ মাঝি নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে মায়ের অনুপস্থিতিতে বাড়িতে একা থাকা এক কিশোরীকে এস্তাপ মাঝি নামে এক যুবক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা-মা, যারা চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে কর্মরত, থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগী কিশোরী মায়ের ফুফুর বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করত। ছাত্রীর চিৎকারে এলাকাবাসী দৌড়ে এসে তাকে উদ্ধার করে।
মামলার বাদী লাকী দাশ জানান, আমার মেয়েকে একা পেয়ে এস্তাফ মাঝি ধর্ষণের চেষ্টা করেছে কুতুবদিয়া থানায় আমি বাদী হয়ে মামলা করেছি। আসামীকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানাচ্ছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রীর এক নিকট আত্মীয় জানান, এস্তাপ মাঝি একজন চরিত্রহীন লোক এর আগেও সে হিন্দু মহিলার সাথে একই অপরাধ করেছে, তার বিচার না হওয়ায় সে বারবার একই অপরাধ করে যাচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই ছাত্রীর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় আছে বলে জানান। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ছাত্রীর সাথে আমি কথা বলেছি, তাকে একা মেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে, এস্তাপ মাঝি এর আগেও এক হিন্দু মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল। ভিকটিমের পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। নিজে উপস্থিত হয়ে থানায় মামলা দায়ের করতে সহযোগিতা করেছি বলে জানান তিনি।

উত্তর ধূরুং ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হালিম সিকদার বলেন, ঘটনাটি গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে শুনার পর কুতুবদিয়া থানার ওসিকে অবহিত করেছি, ওসি পুলিশ পাঠিয়েছে, এটা হিন্দু নেতারাসহ স্থানীয়রা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে শুনেছি।

কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরমান হোসেন জানান, ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে তার মা লাকী দাশ বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেছে, এজাহারটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করে আসামিকে আটকের চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ