চট্টগ্রাম জেলায় ৩ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৮ জন কিশোরী পাবে এইচপিভি টিকা ঃ সিভিল সার্জন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নগরীর আন্দরকিল্লাস্থ চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুল মন্নান বলেছেন, জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার সারাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচীতে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকা সংযোজন করেছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫ম থেকে ৯ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছাত্রী/ কিশোরী (১০-১৪ বছর) ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহির্ভূত কমিউনিটির ১০-১৪ বছর বয়সী কিশোরীদেরকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই ব্যয়বহুল এইচপিভি টিকা প্রদান করা হবে। সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রাম জেলায় আগামী ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার থেকে অনুষ্টিত হবে মাসব্যাপী জাতীয় হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৪। শুক্রবার ও সরকারী ছুটির দিন ব্যতীত মোট ১৮ দিনের প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সরকারী হাসপাতাল, স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে কিশোরীদেরকে এইচপিভি টিকা প্রদান করা হবে। ১৭ ডিজিটের জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ও জন্মনিবন্ধন বিহীন কিশোরীদেরকে হোয়াইট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে ক্যাম্পেইনের প্রথম ১০দিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র সমূহে এবং পরবর্তী ৮ দিন স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রসমূহে কিশোরীদেরকে এইচপিভি টিকা দেয়া হবে। সকলের সহযোগিতায় জাতীয় এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করা হবে। এ লক্ষ্যে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থাগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। জাতীয় এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সোমবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা এ্যাডভোকেসী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জেলার ১৫ উপজেলার ৪ হাজার ৩৮৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫ম-৯ম শ্রেণির ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩০ জন কিশোরী ও স্কুল বহির্ভূত কমিউনিটির ৭ হাজার ৫১৮ জন কিশোরীসহ মোট ৩ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৮ জন কিশোরীকে এইচপিভি প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকায়ও প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কিশোরীকে এইচপিভি প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগে জাতীয় এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করা হবে। এ লক্ষ্যে সর্বত্র মাইকিং ও প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করতে আমাদের সকল প্রস্তুুতি রয়েছে।
তিনি বলেন, জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকা বিশ্বব্যাপী পরীক্ষিত, নিরাপদ ও কার্যকর। এক ডোজ এইচপিভি টিকা নিলে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যাবে। এটি কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবার এক নতুন দিগন্ত। বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার নারী জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছে। এই মারাত্মক রোগ প্রতিরোধে বর্তমান সরকার সারাদেশে আবারও বিনামূল্যে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। ১০-১৪ বছর বয়সী কোন কিশোরী কেউ যাতে এ টিকা থেকে বাদ না পড়ে সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হবে। ইপিআই ভ্যাকসিনের মধ্যে এইচপিভি সবচেয়ে দামী। এবারের লক্ষ্য হলো ৯৫ শতাংশ কিশোরীকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা।
তিনি আরও বলেন, আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে দেশের সাতটি বিভাগে কিশোরী ও ছাত্রীদের মাঝে এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে, যা চলবে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত। এ ক্যাম্পেইন সফল করতে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সমূহে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের ৯০ শতাংশকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই টিকা কিশোরীদের মাঝে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এসআইএমও ডা. এফ.এম জাহিদুল ইসলাম।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ও এমওসিএস ডা. মোঃ নওশাদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ্যাডভোকেসী সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুল মন্নান। রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুদীপ্ত সরকার, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ ফরিদুল আলম, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আলমগীর কবীর, লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ, ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা মোঃ আরেফিন আজিম, বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. প্রতীক সেন, বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. সব্যসাচী নাথ, সংবাদ সংস্থা এনএনবি’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান রনজিত কুমার শীল, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক ইউসুফ মিয়া, ডা. খাস্তগীর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল আমিন রিজভী, আন্দরকিল্লা জামে মসজিদের পেশ ইমাম মোঃ আনোয়ারুল হক প্রমূখ। বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারী দপ্তর-সংস্থার প্রতিনিধি, জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ্যাডভোকেসী সভায় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ফটিকছড়িতে উদযাপিত হলো ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম শুভ জন্মোৎসব

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গত ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ ফটিকছড়ি উপজেলা ও উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার যৌথ আয়োজনে ফটিকছড়ি পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডস্থ কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির (সেবাখোলা) প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর এম.পি। তিনি বলেন, “সনাতন ধর্মের এই মহান উৎসব আমাদের মধ্যে সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।” আলোকিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম। মহান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিষদের ফটিকছড়ি উপজেলার প্রধান উপদেষ্টা শ্রী মিহির চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক রোটারিয়ান জুয়েল চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উত্তর উপজেলার সভাপতি সন্তোষ কুমার শীল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফটিকছড়ি উপজেলার সাধারণ সম্পাদক বাবু রবিন পাল ও উত্তর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক বাবু এড. জনি কান্তি দে। সভাপতিত্ব করেন ফটিকছড়ি উপজেলার সভাপতি পণ্ডিত লিখন চক্রবর্তী (লিংকন)। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সুজিত চক্রবর্তী,

ডা: প্রতাপ রায়, সুমন কুমার বনিক, লিটন পাল লিটু, মিন্টু নাথ, সাগর দে আবির, সিদ্ধ-রসিক প্রভু, লায়ন ডা. বরুণ কুমার আচার্য্য বলাই, পলাশ নাথ, আকাশ দে, সুজন মজুমদার, অধ্যাপক দয়াল রায়, এড. মিহির, সৈকত দাশ, মিন্টু নাথ, মানস চক্রবর্তী, রাজু দে, সুদীপ পাল, সজল দে, উজ্জ্বল নাথ, নান্টু দাস, প্রদীপ রায়, জুয়েল মনি পাল, রুপন ভৌমিক, রবি শংকর, রবি দে, জয়ন্ত দাস জকি, অমর দে, রঞ্জিত শীল, এডভোকেট উত্তম কুমার মহাজন, এডভোকেট তরুণ কিশোর দেব, শিমুল চক্রবর্তী, দূর্জয় পাল প্রমূখ। অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সনাতনী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। গীতা পাঠ, কীর্তন ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালকের মরদেহ উদ্ধার চট্টগ্রামে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহরে নিজ বাসা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উত্তর আগ্রাবাদের রমনা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান তিন মেয়ের জনক। তার দুই মেয়ে ঢাকায় থাকেন। আরেক মেয়ে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।নিহতের সহকর্মীরা জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ব্যাংকে সহকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ছায়েদুর রহমান। তখন তাকে স্বাভাবিকই দেখা গেছে। তবে গত দুই থেকে তিন মাস ধরে কর্মস্থলে তিনি অনেকটাই চুপচাপ থাকতেন।

মিটিং শেষে বাসায় ফেরার পর তিনি দরজা বন্ধ করে দেন। পরে দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে হালিশহর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে তার মরদেহ উদ্ধার করে।হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন মণ্ডল বলেন, এক ব্যাংক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ