সিভাসুতে কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষায় উপস্থিতির হার ৬৯.০৬ শতাংশ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ে ডিগ্রি প্রদানকারী ৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা আজ শুক্রবার সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১টায় শুরু হওয়া পরীক্ষা চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। এবার সর্বমোট ৭৫,০১৭ জন আবেদনকারীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৫১,৮১১ জন ভর্তিচ্ছু। উপস্থিতির হার ছিল ৬৯.০৬ শতাংশ। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) তত্ত্বাবধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১১টি কেন্দ্রে একযোগে এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবার কৃষি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে সর্বমোট আসন রয়েছে ৩,৭১৮ টি। ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হবে আগামী ৩০ অক্টোবর ২০২৪ খ্রি. এবং সশরীরে ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে ০৯-১২ ডিসেম্বর ২০২৪ খ্রি.পর্যন্ত।
সিভাসু’র উপাচার্য ও কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান সিভাসু ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষার বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন। সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। পরীক্ষা কার্যক্রম স্ষ্ঠুুভাবে সম্পাদনে সহযোগিতার জন্য উপাচার্য পুলিশ প্রশাসনকেও ধন্যবাদ জানান
পরিদর্শনকালে উপাচার্যের সাথে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড সায়েন্স ও টেকনোলজি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ফেরদৌসী আকতার, ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. শেখ আহমাদ-আল-নাহিদ, রেজিস্ট্রার মীর্জা ফারুক ইমাম এবং প্রক্টর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।
কৃষিগুচ্ছে থাকা ০৯টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো-বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (আসন সংখ্যা-১১১৬), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (আসন সংখ্যা-৪৩৫), শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (আসন সংখ্যা-৬৯৮), পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (আসন সংখ্যা-৪৪৮), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (আসন সংখ্যা-২৭০), সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (আসন সংখ্যা-৪৩১), খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (আসন সংখ্যা-১৫০), হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (আসন সংখ্যা-৯০) ও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (আসন সংখ্যা-৮০)।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

লতিকচু চাষে আলোর মুখ দেখছেন ভেড়ামারার শিরিনা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করে সফলতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের কাজীহাটা ব্লকের স্বরুপের ঘোপ গ্রামের গৃহিণী মোছাঃ শিরিনা খাতুন (৫২)। এক সময় যে লতিকচুর আবাদ এ অঞ্চলে খুব একটা দেখা যেত না, সেই লতিকচুই এখন তার জন্য সম্ভাবনাময় আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। মাত্র ২০ শতক জমিতে বারি-পানিকচু-১ জাতের চাষ করে তিনি ইতোমধ্যে এলাকায় সাড়া ফেলে দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিরিনার পতিত জমিতে সবুজ কচুগাছে ভরপুর লতি। তিনি নিজেই জমি থেকে লতি সংগ্রহ করছেন। শিরিনা খাতুন জানান, ভেড়ামারা কৃষি অফিসের পরামর্শে এবছরের মে মাসে তিনি কচুর চারা সংগ্রহ করে ২০ শতক জমিতে রোপণ করেন। রোপণের ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যেই তিনি লতি বিক্রি শুরু করেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ১ থেকে ২ মণ লতি বাজারে সরবরাহ করছি। পুরো মৌসুমে লতি বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছি। মৌসুম শেষে কচুর কন্দ বিক্রি করেও বাড়তি আয় করা যায়।” লাভজনক হওয়ায় আগামীতে আরও বেশি জমিতে এ চাষ করবেন বলেও জানান তিনি।

ভেড়ামারা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. সদরুল ইসলাম বলেন, বর্ষায় পানিতে ডুবে যাওয়া নিচু জমিতে কৃষকের আগ্রহ ছিল সীমিত। তবে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার সেই জমিগুলোতে এখন সার্থকভাবে চাষ হচ্ছে লতিকচু। শিরিনা খাতুন তার জলন্ত উদাহরণ। স্যাঁতসেঁতে জমিতে কচুর সফল আবাদ শিরিনা খাতুনের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি অফিসার মোছা. মাহমুদা সুলতানা পলি বলেন, যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় লতিকচু চাষে উদ্যোগ নেওয়া হয়। উন্নত জাতের বারি-পানি কচু-১, বারি-পানি কচু-২ এবং স্থানীয় জাতের কচুর চারা, সার ও জৈবসার সরবরাহ করা হয় শিরিনা খাতুনকে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবসের মাধ্যমে শিরিনা খাতুনের পতিত জমিতে এই লতি কচু চাষে উদ্ধুদ্ধ করা হয়। লতিকচু চাষ এখন শুধু নিজস্ব ভোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি পরিণত হয়েছে বাণিজ্যিক কৃষির একটি স্থায়ী মডেলে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই খাত থেকে শিরিনা খাতুন নিয়মিত আয় করতে পারছেন, যা অর্থনৈতিকভাবে তাকে স্বাবলম্বী করে তুলছে।

কুষ্টিয়ায় বস্তায় আদা চাষে সোহাগের নীরব বিপ্লব: বীজ ছড়িয়েছে ১০ উপজেলায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গত মৌসুমে ৭ হাজার বস্তায় আদা চাষ করে তাক লাগানো কুষ্টিয়া মিরপুরের সফল কৃষি উদ্যোক্তা মোঃ আব্দুর রহমান সোহাগ এবার গড়ে তুলেছেন ১৫ হাজার বস্তার বিশাল আদা খামার। পিতা মোঃ আফতাব উদ্দিনের সন্তান সোহাগের এই নীরব কৃষি বিপ্লব শুধু নিজের খামারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ২০২৫-২৬ মৌসুমে তাঁর উৎপাদিত উন্নত জাতের বীজ আদা ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে জেলার বাইরে অন্তত ১০টি উপজেলায়। পাশাপাশি নিজ গ্রাম নওদা খাঁড়ারার বহু আগ্রহী কৃষকও তাঁর বীজ ব্যবহার করে চলতি মৌসুমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেতে শুরু করেছেন।

সরেজমিনে নওদাখাঁড়ারা ব্লকে সোহাগের খামারে গিয়ে দেখা যায় এক মনোরম দৃশ্য। সুবিন্যস্তভাবে সাজানো ১৫ হাজার বস্তায় লকলকিয়ে বাড়ছে আদা গাছ। খামারের প্রতিটি গাছের উচ্চতা গড়ে প্রায় আড়াই ফুটে পৌঁছেছে। কোনো ধরনের রোগবালাইয়ের লক্ষণ নেই, গাছে গাছে ফুটে উঠেছে সতেজ ও স্বাস্থ্যকর আবহ।

গত মৌসুমে ‘যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প’–এর আওতায় বস্তায় আদা চাষ করে উপজেলা পর্যায়ে সেরা যুব উদ্যোক্তার স্বীকৃতি পান সোহাগ। সেই অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তীতে অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে এবার তিনি নেমেছেন আরও বড় পরিসরে। আদা চাষের আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চফলনশীল ব্যবস্থাপনা সরাসরি দেখতে তিনি সম্প্রতি সফর করেছেন থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়া। সেই আন্তর্জাতিক বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং পরীক্ষামূলকভাবে লাগানো বৈচিত্র্যময় জাতের আদা খামারে প্রয়োগ করায় এবারের গাছগুলোর বৃদ্ধি বিগত বছরের চেয়েও অনেক বেশি দৃষ্টিনন্দন।

উদ্যোক্তা মোঃ আব্দুর রহমান সোহাগ জানান, “গত বছরের ভুলত্রুটি ও অভিজ্ঞতা থেকে এবার মাটির মিশ্রণ ও পরিচর্যায় বিশেষ পরিবর্তন এনেছি। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে যে প্রযুক্তি ও আধুনিক কলাকৌশল দেখে এসেছি, তা এই খামারে শতভাগ বাস্তবায়ন করছি। গাছের বর্তমান স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধি দেখে আমি শতভাগ আশাবাদী—গতবারের চেয়ে এবার প্রতি বস্তায় ফলন ও গুণগত মান দুটোই বহুগুণ বাড়বে।”

সোহাগের খামার দেখে ও তাঁর কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে উপকৃত স্থানীয় কৃষকরা জানান, অনাবাদী বা ছায়াযুক্ত জমিতে বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষের যে পথ সোহাগ দেখিয়েছেন, তা পুরো অঞ্চলের বেকার যুবক ও কৃষকদের মাঝে নতুন আয়ের পথ খুলে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি আর বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে সোহাগের এই ১৫ হাজার বস্তার প্রকল্প দেশের মসলা ফসলের ঘাটতি পূরণে একটি শক্তিশালী ও অনুকরণীয় মডেল হতে চলেছে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ