আজঃ বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ, ২০২৬

বোয়ালখালীতে সবজির বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি।

এম মনির চৌধুরী রানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে উৎপাদিত নানান জাতের সবজিতে আর্থিক সচ্ছলতার পাশাপাশি উন্নত হচ্ছে গ্রামীণ জীবনযাত্রা। চলতি মৌসুমে রকমারি শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে, যা দেখে যে কারোই চোখ জুড়িয়ে যাবে। তবে জৈবসার ও সনাতন নানা পদ্ধতির মাধ্যমে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করলেও রোগবালাই নিয়ে শঙ্কিত কৃষক। বেসরকারি কোম্পানির বালাইনাশক ব্যবহারে বিপাকে পড়ছেন কৃষকেরা।

বোয়ালখালীর চরনদ্বীপ, খরনদ্বীপ,পোপাদিয়া, আমুচিয়া সারোয়াতলী, কধুরখীল , চরখিজীরপুর বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, এখন বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে শোভা পাচ্ছে শীতকালীন বিভিন্ন শাক-সবজি। যার মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুন, মরিচ, মুলা, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, তিতে করলা, ঢেঁড়স, ধুন্দল, চিচিঙ্গাসহ শাকসবজির ভালো ফলন হয়েছে। এতে বাজারদর ভালো পাওয়ায় কৃষকরা অত্যন্ত খুশি। এছাড়া, চরাঞ্চলে তরমুজের বাণিজ্যিক আবাদও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছে, যেখানে ৭৫ দিনেই মিলছে ভালো ফলন।

চরনদ্বীপ, কধুরখীল,খরণদ্বীপ এলাকার কর্ণফুলি নদীর পারের জমিগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে সবুজ সবজির চাদরে ঢাকা। মাঠের এই চিত্র শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায়নি বরং কৃষকদের মুখেও হাসি ফুটিয়েছে।
এবার কৃষি অফিসের প্রদর্শনী পেয়ে ১৪ শতক জমিতে হাইব্রিড জাতের “গ্রীণ বল” বেগুন লাগিয়েছেন শ্রীপুর খরণদ্বীপ এলাকার কৃষক সুবল দে। এতে খরচ বাদে ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে জানান তিনি।
৬০ শতক জমিতে স্নো-ওয়াইট জাতের ফুলকপি চাষ করে ৮০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন ওই এলাকার কৃষক রূপক দে। তিনি বলেন, ফুলকপি বিক্রির পর পরই একই জমিতে মিষ্টি কুমড়া লাগানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। আরো ৩০-৪০ হাজার টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি।
সারোয়াতলীর খিতাপচর এলাকার দক্ষিণা বিলে গিয়ে দেখা গেছে, ধনিয়া পাতার সবুজ সমারোহ। এছাড়াও ঢেঁড়স, ধুন্দল, লাউ, শীম, টমেটোসহ নানান জাতের শাকসবজি।নপাওয়ার ট্রিলারের অভাবে যথাসময়ে চাষাবাদ করা সম্ভব না হলেও কোদালে কুপিয়ে ৬০ শতক জমিতে হাইব্রিড জাতের “রাজা সুপার ” ঢেঁড়স লাগিয়েছেন কৃষক মাহাবুব। এখন ফলন আসতে দেখা গেছে। পাশাপাশি ৬০ শতক জমিতে ধনিয়া পাতার চাষ করেছেন ওই এলাকার কৃষক মো সাজ্জাদ হোসেন। এতে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে বোয়ালখালীতে শীতকালীন সবজির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। সরকারি সহায়তা সরকারি প্রণোদনা ও সঠিক পরামর্শের কারণে মৌসুমি শাকসবজি তরমুজসহ বিভিন্ন ফসল চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে লক্ষ্যমাত্রা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

টাকা আত্মসাৎ করে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার চট্টগ্রামে সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে এই চার্জগঠন করা হয়। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। এর আগে গত ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন বলেন, ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুদকের মামলায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আগামী ৫ এপ্রিল মামলা সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। ৮ জন আসামি হাজির ছিলেন।মামলার আসামিরা হলেন- সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (৫৬), তার স্ত্রী ইউসিবিএল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান (৪৬), সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী (৪৬) ও রোকসানা জামান চৌধুরী (৫৬)।সাবেক পরিচালকদের মধ্যে আরও আছেন- বশির আহমেদ (৫৫), আফরোজা জামান (৪৮), সৈয়দ কামরুজ্জামান (৬১), মো. শাহ আলম (৬২), মো. জোনাইদ শফিক (৬৪), অপরূপ চৌধুরী (৬৫), তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান (৬৬), ইউনুছ আহমদ (৭৯), হাজী আবু কালাম (৭৯), নুরুল ইসলাম চৌধুরী (৬২) এবং সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর (৭৭) ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরী (৬৪)।ব্যাংকটির সাবেক

কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন- মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ (৫১), আবদুল হামিদ চৌধুরী (৫০), আবদুর রউফ চৌধুরী, জিয়াউল করিম খান (৪৬), মীর মেসবাহ উদ্দীন হোসাইন (৬২) ও বজল আহমেদ বাবুল (৫৬)। জাবেদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন- মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরী (৫১), মোহাম্মদ মিছবাহুল আলম (৫০), আব্দুল আজিজ (৩৯), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (৫৪), মোহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী (৪৮), ইয়াছিনুর রহমান (৪৩), ইউছুফ চৌধুরী (৪৫) ও সাইফুল ইসলাম (৪৫),আরামিট গ্রুপের এজিএম উৎপল পাল (৫১), প্রদীপ কুমার বিশ্বাস (৫১), মো. জাহিদ (৪৫), মো. শহীদ (৪৯), মো. সুমন (৩৯), ইলিয়াস তালুকদার (৫০) ও ওসমান তালুকদার (৪৮)।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে নামসর্বস্ব ভিশন ট্রেডিং নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিয়ে ইউসিবিএল থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরবর্তীতে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ তার কর্মচারীদের মাধ্যমে সেই টাকা উত্তোলন করে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি কিনে নেন। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ৪(২) ও ৪ (৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন মর্মে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন। ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি করেছিলেন। মামলার ৩১ আসামির মধ্যে ২ জন মারা যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে সুপারিশ করেছেন।এরা হলেন- ইউসিবিএল’র সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল ও কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম নামে জাবেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী। বাকি ২৯ জনের সঙ্গে তদন্তে পাওয়া ৭ জনসহ মোট ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল দুদক। অভিযোগপত্রে ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

ভাঙ্গুড়ার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: জনস্বাস্থ্যে অগ্রণী ভূমিকা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ উন্নয়ন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেছেন পাবনা-০৩ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আলী আছগার। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও রোগী বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ উদ্দ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কেবল সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এটি রোগ প্রতিরোধ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার অন্যতম পূর্বশর্ত। জনগণের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আরও নিরাপদ, কার্যকর ও আস্থার জায়গায় পরিণত করতে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চালু রাখা প্রয়োজন।

এ সময় তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোছা. হালিমা খানমের সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, চিকিৎসাসেবার মান, অবকাঠামোগত সুবিধা ও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। সেবার মান আরও বাড়াতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও প্রদান করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুরা উপজেলা আমীর বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামী মাওলানা মহির উদ্দিন, নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান, ভাঙ্গুর ইউনিয়ন সভাপতি মাজহার নূর, যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি মো. আব্দুস সাদিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ কৌশিক, পৌর ৫ নম্বর ওয়ার্ড সেক্রেটারি আলহাজ মো. আবু বক্কর সিদ্দিক এবং যুব ও ক্রীড়া বিভাগের পৌর সহ-সভাপতি ডাঃ মোহাম্মদ বাকী বিল্লাহ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, টেকসই ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও জন প্রতিনিধিদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।

উল্লেখ্য, স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবা আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধারাবাহিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের ফলে রোগী ও তাদের স্বজনরা একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা পাবেন।

 

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ