আজঃ মঙ্গলবার ২৩ জুন, ২০২৬

সমন্বয়ক সেজে ৮৩ ভরি স্বর্ণ, ১৫ লাখ টাকা লুট

স ম জিয়াউর রহমান :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজধানীর উত্তরায় ইডেন কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ড. মমতাজ শাহানারের বাসা থেকে ছাত্র সমন্বয়ক পরিচয়ে ৮৩ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে ফ্ল্যাটে অবৈধ অস্ত্র ও টাকা মজুত আছে বলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কাছে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে শিক্ষিকা মমতাজের কাছে আরও ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে।
গত ১৮ অক্টোবর এ ঘটনা ঘটে। গতকাল ২৪ অক্টোবর রাতে বিষয়টি জানান ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
এ ঘটনায় জড়িত দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরা-পশ্চিম থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. মারুফ হাসান পল্লব (৩২) ও আব্দুল্লাহ আল মামুন সজিব (২৬)। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া ১৪ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ এক লাখ টাকা, একটি পাসপোর্ট ও ঘটনায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
তালেবুর রহমান বলেন, গত ১৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে অজ্ঞাতনামা ৯ থেকে ১০ জন দুষ্কৃতকারী উত্তরা-পশ্চিম থানার ১২ নম্বর সেক্টরের শাহ মখদুম অ্যাভিনিউ রোডের একটি বাসার ম্যানেজারকে জিম্মি করে বাসার ৬ তলায় ড. হারুনুর রশিদ হাওলাদারের ফ্ল্যাটে বিজিএমইএ ও শান্তা মারিয়াম ইউনিভার্সিটির ছাত্র এবং ছাত্র সমন্বয়কের পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করে।
অভিযুক্তরা ফ্ল্যাটের সিসি ক্যামেরার ডিভিআর খুলে ফেলে এবং উপস্থিত ড. হারুনুর রশিদ হাওলাদারের স্ত্রী ইডেন কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ড. মমতাজ শাহানারাকে বলে তাদের ফ্ল্যাটে অবৈধ অস্ত্র ও টাকা মজুত আছে। তারা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কাছে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ড. মমতাজ শাহানারারের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে কয়েকজন তার সঙ্গে কথা বলতে থাকে এবং বাকিরা তার ঘর থেকে ৮৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১৫ লাখ টাকা লুট করে নেয়।
ডিসি তালেবুর রহমান আরও বলেন, স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করে দুষ্কৃতকারীরা রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে চলে যাওয়ার সময় সিসি ক্যামেরার ডিভিআরও সঙ্গে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় গত ২০ অক্টোবর ড. মমতাজ শাহানারা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে উত্তরা-পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে। এরপর গত ২২ অক্টোবর ভোররাতে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের হোটেল প্যারাডাইজ থেকে জড়িত মো. মারুফ হাসান পল্লবকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে লুণ্ঠিত ১৪ ভরি স্বর্ণালংকার, একটি পাসপোর্ট ও ঘটনায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পরে গত ২৩ অক্টোবর গ্রেপ্তার মো. মারুফ হাসান পল্লবকে আদালতে প্রেরণ করলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং অপর অভিযুক্তদের ব্যাপারে তথ্য দেন। এরপর মারুফ হাসান পল্লবের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর থেকে আব্দুল্লাহ আল মামুন সজিবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে লুণ্ঠিত এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিপুল পরিমাণ ভেজাল লুব অয়েল এবং লুব অয়েল তৈরির কাঁচামাল জব্দ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কর্ণফুলী নদীর ডাঙ্গারচরে একটি অননুমোদিত কারখানায় বিপুল পরিমাণ ভেজাল লুব অয়েল এবং লুব অয়েল তৈরির কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। ২৩ জুন বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান-এঅবৈধ কারখানাটিতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল লুব অয়েল, লুব অয়েল তৈরির কাঁচামাল এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানাধীন ডাঙ্গারচর এলাকার একটি কারখানায় নষ্ট ও ব্যবহৃত তেল পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে ভেজাল লুব অয়েল উৎপাদন করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, সোমবার বিকেল ৩টায় কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রাম ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের সমন্বয়ে ওই কারখানায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পরবর্তীতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ভেজাল লুব অয়েল তৈরি ও মজুতের দায়ে মালিকপক্ষ থেকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেন এবং কারখানাটি ১৫ দিনের জন্য সিলগালা করা হয়।জব্দ করা ভেজাল লুব অয়েল, লুব অয়েল তৈরির কাঁচামাল এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদির বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জনস্বার্থ ও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

পানিতে পড়ে নিখোঁজ মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের লাশ উদ্ধার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

তাহিরপুর উপজেলার বড়দল গ্রামের খাল ভাঙনে ঘর ধসে রুবেল মিয়া (৩০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রায় ৭ ঘণ্টা পর ভেঙে পড়া ঘরের নিচ থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বড়দল পুরানহাটি এলাকার মাঝের খালে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়দল পুরানহাটি এলাকার বাসিন্দা বশিরুল হকের ছেলে রুবেল মিয়া(৩০)দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে ঘরের ভেতরে রশি দিয়ে সবসময় বেঁধে রাখতেন। সোমবার সকালে পাহাড়ি ঢলের পানি বড়দল মাঝের খাল দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানির প্রবল স্রোতে খালের পাড় ভেঙে গেলে পাশেই থাকা বশিরুল হকের ঘর খালে ধসে পড়ে। এ সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা দ্রুত ঘর থেকে বের হতে সক্ষম হলেও রুবেল মিয়া বের হতে পারেননি। ঘরের একটি কুটিরের সঙ্গে বাঁধা থাকায় ঘরসহ তিনি পানিতে তলিয়ে যান।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পর বিকাল ৪টার পর দুর্ঘটনাস্থলে ভেঙে পড়া ঘরের কুটিরের নিচ থেকে রুবেল মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পর নিখোঁজ রুবেল মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ