আজঃ সোমবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি ফজলুল্লাহকে অপসারণ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহকে। বুধবার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ সচিব মো. আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এমডিকে অপসারণের বিষয়টি জানানো হয়। ১৫ বছর পর তিনি এ পদ থেকে অপসারণ হলেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ওয়াসার নিয়মিত কাজ পরিচালনার সুবিধার্থে স্থানীয় সরকার চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালককে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এমডির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, এ কে এম ফজলুল্লাহ চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে অবসর নেন ২০০০ সালে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ৬ জুলাই প্রথমবার চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে এক বছরের জন্য নিয়োগ পান। এরপর আরও এক বছর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে ঢাকা ওয়াসার আদলে চট্টগ্রাম ওয়াসাতেও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ তৈরি করা হয়। ওয়াসা বোর্ডও পুনর্গঠন করা হয়। তখন এমডি পদে নিয়োগ পান তৎকালীন চেয়ারম্যান এ কে এম ফজলুল্লাহ। সেই থেকে এমডি পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ৩ বছরের জন্য এমডি পদে নিয়োগ পান। এমডি পদে থাকার সুবাদে প্রকল্পে অনিয়ম, নিয়োগে স্বজনপ্রীতি সহ বিভিন্ন অপরাধে জড়ান তিনি।
ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ এর ধারা ২৮ ক-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজলুল্লাহ’র চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলপূর্বক পদ থেকে অপসারণ করা হলো।
এদিকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদ থেকে অপসারিত প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ’র দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটির নেতারা। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম ওয়াসায় টানা ১৬ বছর ধরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকার পরও লোভনীয় সেই এমডি পদ আঁকড়ে থাকার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতাদের কাছে তদবির ও অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন এ কে এম ফজলুল্লাহ। অনতিবিলম্বে চট্টগ্রাম ওয়াসার বিতর্কিত প্রকৌশলী ফজলুল্লাহ’র আমলে সংঘটিত সকল দুর্নীতি-অনিয়মের তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনা ও তার দেশত্যাগে দ্রুত নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে।সর্বশেষ নিজের আত্মীয় স্বজনকে পদোন্নতি দেওয়া, নিজের মেয়ের প্রতিষ্ঠানকে সুয়্যারেজ প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়াসহ হাজারো অনিয়মে জড়িত তিনি।ইতিমধ্যে তার আত্মীয় ও ওয়াসা কর্মকর্তারা দেশত্যাগ করেছেন। অপসারিত এমডি যে কোনও সময় দেশ ত্যাগ করতে পারেন।
বিবৃতিদাতারা হলেন- ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, মহানগরের প্রেসিডেন্ট জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার প্রেসিডিন্ট আবদুল মান্নান, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি চৌধুরী কেএনএম রিয়াদ, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু হানিফ নোমান প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের আলোচনা সভা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব। রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি। অনুষ্ঠানে মুনাজাত পরিচালনা করেন শাহ আনিস জামে মসজিদের খতিব মাওলানা জামাল উদ্দিন।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. আরিফের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন সিনিয়র সহ সভাপতি মুস্তফা নঈম, কার্যকরী সদস্য সালেহ নোমান, গ্রন্থগার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সমাজসেবা ও অপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ ও সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা কামাল পাশা প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন, এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপটে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ফিরে এসেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদ সরকারের পতন ঘটে। পরে অর্ন্তর্র্বতী সরকারের নেতৃত্বে জাতি নতুন এক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শুরু করে। জুলাই বিপ্লবে ছাত্র জনতার নেতৃত্বে সকল পেশার, সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে এই ঐক্যের আলোকে আগামী দিনের বাংলাদেশ নির্মাণের আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।

এসএসসি ’৯১ চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেড’র দ্বিতীয় বর্ষপূতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


দীর্ঘ ৩৪ বছর পর আবার একসঙ্গে। চুলে পাক ধরা, বয়সের ভার কাঁধে, তবুও চোখে সেই স্কুলজীবনের চেনা উ”ছ¡াস। বন্ধুত্ব যে সময়ের কাছে হার মানে না, তারই জীবন্ত প্রমাণ হয়ে থাকল এসএসসি ’৯১ চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেড–এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন। চট্টগ্রামের বন্ধুদের সম্মিলিত উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই ক্লাবের দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন গত শনিবার ঐতিহ্যবাহী চিটাগাং ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়।

বর্তমানে বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়ে এগিয়ে চলা এই সংগঠনটি কেবল একটি ক্লাব নয় এটি ৩৪ বছরের স্মৃতি, আবেগ আর নির্ভেজাল বন্ধুত্বের এক দৃঢ় বন্ধন। অনেকের বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি, কেউ কেউ পঞ্চাশ পেরিয়েছেন, তবু একে অপরকে দেখে সবাই ফিরেগেলেন কৈশোরের সেই দিনগুলোতে। ১২ ঘন্টার অনুষ্ঠানে ফুটে উঠে ৩৪ বছরের পুরোনো স্মৃতি।

সকাল ৯টায় সদস্যদের আগমন, গিফট ও কূপন সংগ্রহের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের প্র¯‘তি শুরু হয়। সকাল ১০টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, পবিত্র গীতা পাঠ ও ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। মিলনমেলায় সম্প্রীতি ও মানবিকতার এক অনন্য বার্তা বহন করে। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ হয় দেশপ্রেমের আবহ।

এরপর প্রয়াত বন্ধুদের স্মরণে শোক প্রস্তব উপ¯’াপন, মোনাজাত ও নিরবতা পালন করা হয়। এই মুহূর্তে অনেকের চোখ ছলছল করে ওঠে কারণ বন্ধুত্বের পথচলায় কেউ কেউ আর ফিরে আসেননি।

এর পর স্বে”ছাসেবক প্যানেল ও উপদেষ্টা পরিষদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। আহবায়ক ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আলো শুভে”ছা বক্তব্য রাখেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বন্ধুত্বের শক্তি, সময়ের মূল্য এবং সবাইকে একত্রে রাখার প্রত্যয়।

তার বক্তব্যের পর শুরু হয় বন্ধুদের স্মৃতিচারণ পর্ব। বহুদিন পর একে অপরের সামনে দাঁড়িয়ে কেউ হারিয়ে যাওয়া স্কুলজীবনের গল্পে ফিরে যান, কেউ আবার নীরবে চোখের কোণে জমে ওঠা অশ্রু লুকিয়ে রাখেন। ছবি তোলা, কাঁধে হাত রেখে আড্ডা আর প্রাণখোলা হাসিতে পুরো মিলনমেলা মুহূর্তেই হয়ে ওঠে স্মৃতির এক জীবন্ত অ্যালবাম যেখানে সময়ের সব দূরত্ব মুছে যায়।

এরপর শুরু হয় দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক আয়োজন। প্রথম পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন পারভেজ, বিশ্বজিৎ, শেখ মো. শহিদুজ্জামান ও লিংকন। বন্ধু সুজন দেবের কন্যা অনন্যা দেব প্রাচীরের একক নৃত্য পরিবেশনা উপ¯ি’ত সবাইকে মুগ্ধ করে। বান্ধবীদের সংগীত পরিবেশন করেন ফাতেমা জোহরা, ফেন্সি, মৌসুমী ও নিপু।

মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর বিকেলজুড়ে শুরু হয় একের পর এক মনোজ্ঞ পরিবেশনা। রতœার বিশেষ পারফরম্যান্স, বন্ধু ওসমানের একক গান, অতিথি বন্ধু হাসান ফারুক (জিপিডি)-এর বক্তব্য। ঢাকা থেকে আগত এসএসসি ’৯১ ব্যাচের খ্যাতিমান শিল্পীরা উত্তম, হিমেল, সুজন, আসাদ, লিটনসহ অনেকেই তাঁদের কণ্ঠে গানের মায়াজাল ছড়ান। জুনি চাকমার ডুয়েট পারফরম্যান্স ছিল চোখ ধাঁধানো।বিকেলে পাহাড়ি নৃত্য, একক সংগীত ও বান্ধবীদের বিশেষ পরিবেশনায় পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে বৈচিত্রময়য় ও প্রাণবন্ত। ঢাকার বন্ধু সোনিয়া ববির পারফরম্যান্স, অতিথি শিল্পী সুইটি ও পপির মনমাতানো গানের আসর মিলনমেলার আবেগকে আরও গভীর করে তোলে।

এই বর্ষপূর্তি আয়োজনে সারা বাংলাদেশ থেকে সাড়ে ৮শত বন্ধু রেজিস্ট্রেশন করেন, প্রায় সকলে উপ¯ি’ত ছিলেন। সবচেয়ে বেশি বন্ধু উপ¯ি’ত ছিলেন চন্দনাইশ, রাঙ্গুনিয়া, মিরশ্বরাই ও পটিয়া থেকে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রণকারী সবাইকে টি-শার্ট, আকর্ষণীয় ব্যাগ, চার রঙের স্মরণীয় স্যুভেনির, কলম ও ব্যাজ উপহার দেওয়া হয়।

পুরো অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেন সাখাওয়াত হোসেন সাজ্জাদুল ইসলাম চৌধুরী, তত্ত্বাবধানে ছিলো গোফরান উদ্দিন, নুরউদ্দিন, মোহাম্মদ ইকবাল শহীদুল ইসলাম, মঈনুল ইসলাম, ইদ্রিস মিয়া, জাহানারা বেবী, সুজন দেব, শামসুন্নাহার, সাখাওয়াত সাজিদ, শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ, রাশেদ মীর, মোহাম্মদ নুরুল আবছার, সৈয়দ মোহাম্মদ খালেদ, রাজেশ চক্রবর্তী, মোহাম্মদ আনোয়ার, মঈনুল আহসান আলী, আহসান জামান, শারমিন সুলতানা, তানজিনা তৃষা, রোজিনা রোজী, এড. দিলরুবা লিজা, এড. কানিজ কাউসার রীমা, শিমু চৌধুরী, মোহাম্মদ ফারুক, নোমান সোহেল, মফিজ উল্লাহ,পলাশ বড়ুয়া, আরিফ উল ইসলা,ডাঃ মঈনুদ্দীন ইলিয়াস। ব্যারিষ্টার এস এম কফিল উদ্দিন ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কাকলি।

রাতে র‌্যাফেল ড্র এবং প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেনের সমাপ্তি বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।এই আয়োজন প্রমাাণ করেছে বয়স বাড়ে, সময় বদলায়, কিš‘ বন্ধুত্ব কখনো পুরোনো হয় না। ৩৪ বছর পর আবার একসঙ্গে বসে হাসি, গল্প করা আর স্মৃতিতে ডুবে যাওয়া এসএসসি ’৯১ চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেডের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি হয়ে থাকল জীবনের পাতায় লেখা এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।

আলোচিত খবর

আরব আমিরাতে ভিসা সংকটে বড় হুমকির মুখে বাংলাদেশি শ্রমবাজার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যের  অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। নতুন ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও কবে ভিসা উন্মুক্ত হবে— সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারছে না বাংলাদেশ মিশন। বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমিরাত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

ভিসা জটিলতা শ্রমবাজারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাব পড়ছে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, আয়-রোজগার এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে বসবাস, লিঙ্গ পরিবর্তন, সনদ জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ ওঠায় ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি করেছে আমিরাত সরকার। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

এদিকে দুবাইয়ে স্কিল ভিসা চালু থাকলেও সেখানেও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্র্যাজুয়েশন সনদ ছাড়া বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। সনদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, পরে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যাচাই এবং শেষে আমিরাতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও জটিল এ প্রক্রিয়ায় হতাশ কর্মপ্রত্যাশীরা।

বাংলাদেশ মিশনের তথ্যানুসারে, স্কিল ভিসায় সনদ জালিয়াতি ঠেকাতে তিন মাস আগে চালু করা হয়েছিল বারকোড ব্যবস্থা। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটিও জাল করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশিদের মানসিকতা না বদলালে ভিসা সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

আবুধাবি বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, “গত সাত মাস ধরে ভিসা ইস্যুতে চেষ্টা চালিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি।কবে হবে সেটিও অনিশ্চিত। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, তবে বিষয়টি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ”

 

জনশক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা পরিবর্তনের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে অনেক বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। অনেকেই জানেন না, ভিসা বাতিল হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বর্তমানে যারা আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

বাংলাদেশি প্রবাসী সংগঠকরা মনে করেন, এ অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসীদেরও ভিসা নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। নইলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ