চট্টগ্রামের কারাগারে অসুস্থ বন্দিদের দুর্ভোগ, রাতে চিকিৎসক নেই

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রাতে চিকিৎসক না থাকায় অসুস্থ বন্দিদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কয়েকদিন আগে আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর থেকে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বন্দিদের। চিকিৎসকরে বদলে রাতে বন্দিদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন এক কারারক্ষী ও দুই নার্স। এছাড়া ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে বর্তমানে চালু আছে মাত্র ৮টি। অপর তিন মেডিকেল কর্মকর্তা শুধুমাত্র আউটডোরে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। রাতে শুধুমাত্র প্রয়োজন হলেই তারা বন্দি রোগীদের দেখতে আসেন।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৩ হাজার ৭০০ জন বন্দি রয়েছে কারাগারে। এদের জন্য সহকারী সার্জন পদমর্যাদার এক চিকিৎসকসহ চার ডাক্তার থাকার কথা। কিন্তু অক্টোবরে সহকারী সার্জন পদমর্যাদার আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. রেজা মো. সরোয়ার আকবর বদলি হলে রাতে রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে বিড়ম্বনা বাড়তে থাকে। প্রেষণ আদেশ প্রত্যাহার করে কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন হিসেবে তাকে পদায়ন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর পর থেকে অপর তিন মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. তুষার কান্তি নাথ, ডা. একরাম হোসেন ও ডা. জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী আউটডোরে সেবা দেন এবং জরুরি প্রয়োজন হলেই রাতে এসে রোগী দেখেন।
তাবে কারাগার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দায়িত্বরত তিন জন মেডিকেল কর্মকর্তারা ঠিকমতো রোস্টার ডিউটি পালন করেন না। বিকেলের পর সবাই ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখেন। ফলে চট্টগ্রাম মেডিকেলে স্ট্রোক ও হৃদরোগীদের অবস্থা অনেক সময় খারাপ হয়ে যায়। কারা হাসপাতালে শুরুতেই জরুরি চিকিৎসা না পাওয়ার কারণেই এমনটা হয়।
আরও জানা গেছে, রাতে আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা না থাকায় বন্দি রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন কারারক্ষী (প্যাথলজি) শহীদ সরোয়ার। তিনি ল্যাব টেকনিশিয়ান হওয়ায় হাসপাতালের ল্যাবের দায়িত্বে আছেন। রাতে তার সঙ্গী হিসেবে থাকেন ডিপ্লোমা নার্স লিটন তালুকদারসহ অপর এক নার্স। সরোয়ার ২০১৮ সালের আগে কুমিল্লা কারাগারে কারারক্ষী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ২০১৮ সালে তাকে ঢাকা সেনানিবাসে প্যাথলজির ওপরে ৪ বছরের ডিপ্লোমা কোর্স করতে পাঠানো হয়। এরপর তিনি চট্টগ্রাম কারাগারে যোগ দেন। রাতে কেউ অসুস্থ হলে সরোয়ার নিজেই চিকিৎসা দেন। এমনকি রোগীর রুটিন টেস্ট রিপোর্টে ডাক্তারের স্বাক্ষর ছাড়া সরোয়ার নিজেই স্বাক্ষর দিয়ে থাকেন। রাতে ডিপ্লোমা নার্স লিটন তালুকদারের দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও তিনি নিয়মিত আসেন না। এছাড়া অপর এক নার্সও রাতে থাকেন কালে-ভদ্রে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ সরোয়ার বলেন, রাতে কোনো বন্দি অসুস্থ হলে আমাকে খবর দেওয়া হয়। আমি এসে চিকিৎসা দিই। রুটিন টেস্টগুলোও করে থাকি। গুরুতর রোগী হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া ফোনে তুষার স্যার, একরাম স্যারকেও ডেকে আনা হয়। তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগ পর্যন্ত ৪০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন হাসপাতালে। আমি নিয়মিত ডেঙ্গু রোগীর প্লাটিলেট, সিবিসি পরীক্ষা করে চিকিৎসা দিয়েছি। বর্তমানে ৪ জন ডেঙ্গু রোগী আছে। তাদের চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ফ্লুইড ম্যানেজমেন্টের তদারিক আমি করছি।
কারাগারের চিকিৎসক ডা. তুষার বলেন, আমরা মূলত আউটডোর বেসিসে রোগীদের সেবা দিই। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। রাতে কোনো বন্দি অসুস্থ হলে, চিকিৎসাধীন কোনো বন্দির পরামর্শের প্রয়োজন হলে আমরা অনকলে আসি। রাতে ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেন শহীদ সরোয়ার নামে এক কারারক্ষী ও ডিপ্লোমা নার্সসহ দু’জন নার্স।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. মাসুদুর রহমান বলেন, আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা পদটি শূন্য হওয়ায় তা পূরণে কারা অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। আমরা বর্তমান লোকবল দিয়ে বন্দি রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করার কথা জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে লেবেলবিহীন ঘি দিয়ে খাবার তৈরি, জরিমানা গুনল বনফুল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় বেনামি লেবেলবিহীন ঘি ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনসহ নানা অপরাধে বনফুলকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এ অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম। এছাড়া আরও নানা অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক ফয়েজ উল্ল্যাহ।

তিনি জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন উপাদান উপকরণ ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, খাবার সংরক্ষণের ফ্রিজে তেলাপোকা বিচরণ, বেনামি লেবেলবিহীন ঘি ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন করায় বনফুলতে ৬০ হাজার টাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করায় এম অ্যান্ড এস মেডিকোকে ৬ হাজার টাকা, সাঈদ মেডিকেল হলকে ৩ হাজার টাকা, অপরিচ্ছন্ন অস্বাস্থ্যকর উপায় তেল সংরক্ষণ ও প্যাকেটজাতকরণ, মোড়কজাত তেলে মেয়াদ মূল্য না দেওয়ায় পাঠানটুলি চৌমুহনী তেলের দোকানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

BPHCDA-এর রাজশাহী বিভাগীয় কমিটিতে কার্যনির্বাহীর সন্মানিত সদস্য মনোনীত হলেন মোঃ আব্দুল জব্বার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার,
বিশেষ প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন (BPHCDA)-এর রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সন্মানিত সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মোঃ আব্দুল জব্বার।
পাবনা জেলা কমিটির পক্ষ থেকে তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

মোঃ আব্দুল জব্বার বর্তমানে BPHCDA-এর ভাঙ্গুড়া উপজেলা কমিটির সভাপতি ও পাবনা জেলা কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনের রাজশাহী বিভাগীয় কমিটিতে নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে তাকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় মোঃ আব্দুল জব্বার বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের সম্মানিত কেন্দ্রীয় ও রাজশাহী বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ এবং পাবনা জেলা কমিটির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উন্নয়ন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে চান। এ ক্ষেত্রে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা নিয়ে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

মোঃ আব্দুল জব্বার আরও আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। নতুন দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য তিনি সবার নিকট দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য, মোঃ আব্দুল জব্বার BPHCDA-এর ভাঙ্গুড়া উপজেলা কমিটির সভাপতি, পাবনা জেলা কমিটির সহ-সভাপতি এবং নব-মনোনীত রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সন্মানিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ