বিশ্বব্যাপী চক্ষু চিকিৎসা সেবাকারী প্রতিষ্ঠান অরবসি ইন্টারন্যাশনাল

বাংলাদেশে ১১ তম বারের মতো “অরবিস ফ্লাইং আই হসপিটাল” এ চক্ষু চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে চক্ষু সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের উন্নত প্রশিক্ষণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে এবং চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সার্বিক সহযোগিতায় অরবিস ফ্লাইং আই হসপিটাল বাংলাদেশে ১১তম বারের মতো এবং চট্টগ্রামে ৫ম বারের মতো দুই সপ্তাহ ব্যাপী চক্ষু প্রশিক্ষণ প্রকল্প শুরু করেছে। এ ছাড়াও উক্ত প্রকল্পে সহায়তা করেছে অ্যালকন কেয়ারস, অ্যালকন ফাউন্ডেশন, ফেডেক্স, অফথালমোলোজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওএসবি), বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন (বিসিপিএস) এবং ন্যাশনাল আই কেয়ার।
রোববার চট্টগ্রামের পাহাড়তলীস্থ চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইমরান সেমিনার হলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি ৫ম বারের মতো উড়স্ত হাসপাতাল আগমনে চট্টগ্রামকে বেছে নেয়ার জন্য অরবিস কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। মেয়র চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও অববিসের যৌথ কার্যক্রমে স্বাস্থ্যসেবাসহ আনুষাঙ্গিক বিষয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামে চোখের চিকিৎসায় এই চক্ষু হাসপাতাল অসামান্য অবদান রেখে চলেছে। অরবিস প্রযুক্তি বিনিময়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গত ২২ বছর ধরে তারা বাংলাদেশে আসছে। মানবতার সেবায় অবদান রেখে চলেছে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই আমি ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট সেন্টার স্থাপন করেছি মেমন হাসপাতালে। একটি কিডনি ডায়লাইসিস সেন্টার সেথানে করতে চেষ্টা করছি। যাতে দরিদ্র রোগীরা এই সেবা পেতে পারে। শহর অনেক বড়, কিন্তু কোন পার্ক আমরা শিশু কিশোরদের জন্য করতে পারিনি। মানুষের নি:শ্বাস নেবার কোন জায়গা নেই। বিপ্লব উদ্যানটি পার্কে ফিরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছি ইতিমধ্যে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালনে কাজ করছি। প্রতিটি ওয়ার্ডে আরবান ডিসপেনসারি করতে চাই। সিটি করপোরেশনের চিকিৎসা কেন্দ্র গুলোকে জেনারেল হসপিটাল পরিণত করতে চাই যাতে মানুষ সেবা নিতে পারে। ওয়েস্ট প্রডাক্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্ট করা জরুরী। যাতে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়া যায়। আবর্জনা থেকে জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব। আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। সেটা করতে পারলে ক্লিন, গ্রিন ও হেলদি সিটি করতে পারব।
সিআইআইটিসির প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং ট্রাস্টি অধ্যাপক ড. রবিউল হোসেন বলনে, বিশ্বব্যাপী চক্ষু চিকিৎসা সেবাকারী প্রতিষ্ঠান অরবসি ইন্টারন্যাশনাল চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিগত ২৫ বছর আগ থেকে কাজ শুরু করেছেন। অরবিস বাংলাদেশে আধুনিক চক্ষু চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসক, নার্সদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিব ব্যাপারে যথেষ্ট ভূমিকার পাশাপাশি সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। আমি আশা করবো অরবিস যেন তাদের মানব সম্পদ তৈরি ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম অব্যহত রাখেন।
আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. রবিউল হোসেন বলেন, অরবিসের চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জনবল প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আজকে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র শিশুদের চিকিৎসায় উন্নত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শিশুদের চোখের চিকিৎসায় প্রশিক্ষণে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের প্রায় ১৪টি হাসপাতালে নতুন ডিপার্টমেন্টেরে মাধ্যমে সম্প্রসারিত হয়েছে। যার ফলে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রশিক্ষণের জন্য চিকিৎসক, নার্সরা প্রশিক্ষণ নিতে আসেন।
সিআইসিটিসির প্রতিষ্ঠিত ও ম্যানেজিং ট্রাস্টি অধ্যাপক ড. রবিউল হোসেনের নির্দেশনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশে ফ্লাইং আই হসপিটাল প্রজেক্ট আয়োজন কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ডা. মো. মুনিরুজ্জামান ওসমানী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, অরবিস ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট ও সিইও ডেরেক হডকি। তিনি বলেন, আমরা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সিইআইটিসির সহযোগিতায় বাংলাদেশে উড়ন্ত চক্ষু হাসপাতাল প্রকল্প আবারও শুরু করতে পেরে গর্বিত। আমাদের দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের চোখের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অ্যালকন কেয়ার্স, অ্যালকন ফাউন্ডেশন এবং ফেডেক্সের সহযোগিতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।অরবিসের লক্ষ্য একটি শক্তিশালী এবং টেকসই চোখের চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা”।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ, অরবিস ফ্লাইং আই হসপিটালের ডিরেক্টর মরিস গ্যারি, সিইআইটিসি-এর মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. রাজিব হোসেন।
এর আগে সকালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহ্বুব খান, বিএসপি, বিইউপি, এনডিসি, পিএসসি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আব্দুল্লাহ আলমগীর, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।
বাংলাদেশে চক্ষু সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য এটি অরবিস ফ্লাইং আই হসপিটালের একাদশ অবতরণ। প্রথমবার ১৯৮৫ সালে এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে এই প্রশিক্ষণ প্রকল্প অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৭ নভেম্বর থেকে এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে চলবে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের চক্ষু বিশেষজ্ঞ, নার্স এবং টেকনিশিয়ানগণ প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থিত ফ্লাইং আই হসপিটাল এবং অরবিসের পার্টনার হাসপাতাল চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।এই প্রকল্পের প্রশিক্ষণের মূল বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে ছানি, গ্লুকোমা, রেটিনা, অকুলোপ্লাস্টি এবং কর্নিয়ার রোগের চিকিৎসা। এছাড়াও রয়েছে নিউরো অফথালমোলজি ওয়ার্কশপ, অপটোমেট্রি ওয়েবিনার, নার্সিং এবং বায়োমেডিক্যাল সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ।

আন্তর্জাতিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চক্ষু বিশেষজ্ঞদের জন্য অরবিস ফ্লাইং আই হসপিটালের ভেতরে প্রশিক্ষণ প্রদান করবে, যা বিশ্বের একমাত্র সম্পূর্ণ স্বীকৃত বিমানভিত্তিক চক্ষু শিক্ষাদান হসপিটাল। অরবিসের ক্লিনিক্যাল স্টাফ এবং স্বেচ্ছাসেবক বিশেষজ্ঞগণ (ভলান্টিয়ার ফ্যাকাল্টি) সারা দেশ থেকে আগত চক্ষু বিশেষজ্ঞদের হাতে-কলমে সার্জারি ও রোগী সেবা প্রশিক্ষণ প্রদান করবে, এর পাশাপাশি সিমুলেশন প্রশিক্ষণ ও চক্ষু কর্মশালার আয়োজনও করা হবে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য স্থানীয় চক্ষু সেবাদাতাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং বাংলাদেশে চক্ষু স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। অরবিস বিশ্বের প্রথম ও একমাত্র উড়ন্ত চক্ষু হাসপাতাল (ঋষুরহম ঊুব ঐড়ংঢ়রঃধষ) পরিচালনা করে, যা একটি এমডি-১০ বিমানের উপর সম্পূর্ণভাবে স্বীকৃত চক্ষু শিক্ষার হাসপাতাল হিসেবে বিশ্বে সমাদৃত।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কর বিরোধ, উচ্চ আদালতে যাবে চট্টগ্রাম বন্দর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) হোল্ডিং ট্যাক্স বা পৌরকর ১৫ শতাংশ কমিয়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) দাবি করা ২৬৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বিপরীতে এই কর ২২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত সোমবার (২ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত দেন। সিটি করপোরেশন এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করবে।

রায়ের বিষয়ে চসিকের আইনজীবী মঈনুদ্দিন সোহেল বলেছেন, দাবি করা কর ১৫ শতাংশ কমিয়ে ২২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক রায়। সিটি করপোরেশন এই রায়ে সন্তুষ্ট।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত সাজ্জাদ বলেছেন, হোল্ডিং ট্যাক্সের আপিল আংশিক মঞ্জুর হয়েছে। মোট মূল্যায়ন ১ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা থেকে ২৩৩ কোটি কমানো হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর এই রায়ে সংক্ষুব্ধ। এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করা হবে।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চসিক ও বন্দরের একটি যৌথ দল ১ কোটি ৯৭ লাখ বর্গফুট জায়গার ওপর মূল্যায়ন সম্পন্ন করে। এর ভিত্তিতে বন্দরের ওপর ২৬৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স ধার্য করা হয়। এই মূল্যায়নের বিরুদ্ধে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করে। তবে আইন অনুযায়ী আপিল করার শর্ত হিসেবে মোট দাবির ৭৫ শতাংশ, অর্থাৎ ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকা চসিকের তহবিলে জমা দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। চসিকের ইতিহাসে আগে কখনো একক কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে একসঙ্গে এত বড় অঙ্কের টাকা জমা হয়নি।তবে এই জমা দেওয়া অর্থ চূড়ান্ত পৌরকর নয় বলে আগেই জানিয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দর।

বন্দরের মুখপাত্র ও ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন জানিয়েছিলেন, আপিলের আইনি বাধ্যবাধকতা রক্ষার্থে ওই টাকা ‘জামানত’ হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার শুনানিতে যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন, সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ৬ নভেম্বর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটি (বাগীশিক) কেন্দ্রীয় সংসদের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান আগামী ৬ নভেম্বর (শুক্রবার) নগরীর জিইসি কনভেনশন হলে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে রাষ্ট্রীয় অতিথি, বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদ, জেলা ও মহানগর সংসদের নেতৃবৃন্দ, সনাতনী সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সুধীজন উপস্থিত থাকবেন।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকাল ৫টায় নগরীর আন্দরকিল্লাস্থ বাগীশিক কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অভিষেক পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাড. প্রণব কুমার মজুমদার। সম্মেলন পরিচালনা করেন অভিষেক উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব অরুন কান্তি মল্লিক।

লিখিত বক্তব্যে অ্যাড. প্রণব কুমার মজুমদার বলেন, অভিষেক অনুষ্ঠান কেবল একটি আনুষ্ঠানিক পরিচিতি বা দায়িত্ব গ্রহণের আয়োজন নয়; বরং এটি বাগীশিকের সাংগঠনিক অগ্রযাত্রা, নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ, ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ়করণ এবংহ গীতার শিক্ষা সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ্য। বাগীশিক’র কার্যক্রম বর্তমানে সারাদেশের প্রায় ৫৪টি জেলায় বিস্তৃত।

যেখানে প্রায় ৮ হাজার গীতা স্কুলের প্রায় ৪ লাখ শিক্ষার্থী ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা লাভ করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড তথা মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি, প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও অগ্নিদূর্গতদের সহায়তা, কন্যা দায়গ্রস্ত পিতাদের আর্থিক সহায়তা, বৃক্ষরোপণ, জাতীয় দিবস উদযাপন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধকল্পে প্রচারণা, মন্দিরভিত্তিক বিবাহ ও স্বাত্বিক পূজা নিশ্চিতকরণের মতো কর্মকান্ড নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে সংগঠনের পক্ষ থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে।

তিনি জানান, দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে থাকছে পার্থসারথি পূজা, জাতীয় ও সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, সমবেত গীতাপাঠ, নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সংসদের শপথবাক্য পাঠ, অভিষেক অনুষ্ঠান, গীতি আলেখ্য, সংবর্ধনা, আলোচনা সভা, অন্নপ্রসাদ বিতরণসহ বিভিন্ন ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক আয়োজন। অনুষ্ঠানে মহাত্মা মহারাজদের মধ্যে আশীর্বাদক থাকবেন সীতাকুণ্ড শঙ্করমঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজ এবং পাঁচরিয়া তপোবন আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী রবীশ্বরানন্দ পুরী মহারাজ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের উপদেষ্টা তিনকড়ি চক্রবর্তী। মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলন করবেন বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের উপদেষ্টা শিবু প্রসাদ দত্ত। প্রধান অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। প্রধান বক্তা থাকবেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।

মহান অতিথি থাকবেন বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের উপদেষ্টা ও মনস্বী শিক্ষাবিদ অধ্যাপক হারাধন নাগ। সংবর্ধিত অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, একুশেপদক প্রাপ্ত বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. হরিশংকর জলদাস ও প্রথিতযশা মানবিক চিকিৎসক প্রফেসর ডা. বিনয় পাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ঝুন্টু চৌধুরী। বিশেষ বক্তব্য রাখবেন বাগীশিক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শুভাশীষ শর্মা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন অভিষেক উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাড. প্রণব কুমার মজুমদার ও স্বাগত বক্তব্য রাখবেন অভিষেক উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব অরুণ কান্তি মল্লিক।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, বাগীশিক বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার শাশ্বত শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং মানবকল্যাণের আদর্শ প্রচার ও প্রসারে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। গীতার অমর বাণীকে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ধারণ এবং তার আলোকে একটি নৈতিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণই এই সংগঠনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই ধারাবাহিকতায় বাগীশিক’র নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সংসদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, সুসংগঠিত ও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে অভিষেক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের দৃঢ় প্রত্যয়, বাগীশিক একটি সুশৃঙ্খল, ঐক্যবদ্ধ ও আদর্শিক সংগঠন হিসেবে সনাতনী সমাজের শিক্ষা, সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে আরও কার্যকর অবদান রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাগীশিক কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা অধ্যক্ষ বিজয় লক্ষ্মী দেবী, দিলীপ কুমার ভট্টাচার্য্য, লায়ন শম্ভু দাশ, অধ্যাপক বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী, দেবব্রত দাশ, সভাপতি ঝুন্টু চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শুভাশীষ শর্মা, সাবেক সভাপতি দেশপ্রিয় চৌধুরী বিনয়, সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. অঞ্জন কুমার দাশ ও প্রীতম চৌধুরী, সহ-সভাপতি সুশীল দত্ত, কর্মকর্তা পলাশ কান্তি নাথ রণী, এস প্রকাশ পাল, যীশু সেন, রাশু কান্তি বিশ্বাস, বিপ্লব পাল চৌধুরী, সুমন দাশ, ডা. রূপম রুদ্র, শিল্পী চৌধুরী, ডা. দেবাশীষ মজুমদার, সজীব দত্ত সৌরভ, সজিব মজুমদার, মোহন চৌধুরী প্রমুখ।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ