আজঃ শনিবার ২১ মার্চ, ২০২৬

সংবাদ প্রকাশের জের

রূপগঞ্জে সাংবাদিকের উপর হামলাকারী ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার ॥ গ্রেফতারের দাবি

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক কালবেলা পত্রিকার রূপগঞ্জ(নারায়ণগঞ্জ)প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর মাহমুদের উপর হামলাকারী নারাণয়গঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়াকে ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ ১৮নভেম্বর সোমবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপিতে বহিষ্কারাদেশ প্রদান নিশ্চিত করেছেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে এ বহিষ্কারাদেশ প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর আব্দুল আলীম ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ মোমেনের সভাপতিত্বে পৃথক সভায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৭নভেম্বর রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল দক্ষিণপাড়া ৫নং ক্যানেল এলাকায় দৈনিক কালবেলা পত্রিকার রূপগঞ্জ প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর মাহমুদের উপর ৪০/৫০ সদস্যের একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। মাদক, কিশোরগ্যাং ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জের ও দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে ছাত্রদল নেতা ইয়াছিন মিয়ার নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা জাহাঙ্গীর মাহমুদকে বেদম প্রহার ও শরিরের বিভিন্নস্থানে ইট দিয়ে থেঁতলে দেয়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত সাংবাদিক জাহাঙ্গীর মাহমুদ জানান, তিনি কালবেলা পত্রিকায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া ওরফে ফেন্সি ইয়াসিনের বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মাদক, চাঁদাবাজি,নৈরাজ্য ও জমি দখলসহ অপরাধ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৫ দিন ধরে ইয়াসিন মিয়া ক্ষতি পূরণ বাবদ জাহাঙ্গীর মাহমুদের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে ইয়াসিন মিয়া বিভিন্ন সময় জাহাঙ্গীর মাহমুদকে হত্যাসহ মামলা হামলার হুমকি দিয়ে আসছিলো।গত রবিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ইয়াসিন মিয়া ওরফে ফেন্সি ইয়াসিনের নেতৃত্বে রাব্বিল, ইমনসহ ৪০/৫০ সদস্যের সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জাহাঙ্গীর মাহমুদকে অবরুদ্ধ করে চাঁদা দাবি করে। একপর্যায়ে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা ইট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থান থেঁতলে দেয়। এসময় জাহাঙ্গীরের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে ইয়াসিন মিয়া বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে এলাকা ত্যাগ করে। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়
এ ঘটনায় রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সাংবাদিক রাসেল আহমেদ বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর -২৯(১১)২০২৪।
রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন বলেন, কোন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, জমি দখলবাজসহ অপরাধীরা দলের কেউ না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ দলে কোন অপরাধীদের ঠাঁই নেই। অপরাধ করলে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। এ হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সাথে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করতে অনুরোধ জানাচ্ছি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। ইতিমধ্যে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছে। এ হামলার সাথে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনে আওতায় আনা হবে ।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সাংবাদিক রাসেল আহমেদ বাদী হয়ে আবু বক্করের ছেলে ইয়াছিন মিয়া(২৮), নাছির গাজীর ছেলে কাজল(৪৫), মোজাম্মেল হকের ছেলে রাব্বিল(২৮), আমিন উদ্দিনের ছেলে ইমন(২৬) ও জামাই সর্দারের ছেলে রকিকে(২৫) নামীয় ও অজ্ঞাত ৪০/৫০জনকে আসামী করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
রূপগঞ্জ থানা ওসি লিয়াকত আলী বলেন, ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিরা ঈদুল ফিতরের দিন স্বজনদের সাথে কথা বলতে পারবেন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিরা ঈদুল ফিতরের দিন স্বজনদের সাথে কথা বলতে পারবেন। কারা কতৃপক্ষ জানিয়েছেন -বন্দিদের ঈদের দিন স্বজনদের সাথে কথা বলার সুযোগ দেয়া হবে। এর পাশাপাশি রয়েছে বিশেষ খাওয়া দাওয়ার আয়োজন।এছাড়া বাড়ি থেকে পাঠানো খাবার খাওয়ার সুযোগ মিলছে বলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ্ শরীফ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রতিবছরের মত এবারও ঈদের দিন সকালে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের দিন সকালে বন্দিদের জন্য থাকছে পায়েস ও মুড়ি। আর দুপুরে থাকবে পোলাও, গরু অথবা খাসি, সালাদ, মিষ্টি, পান-সুপারি। আর রাতের বেলায় সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছের আয়োজন করা হয়েছে।

জেলার শাহ্ শরীফ আরো জানান-এছাড়া ঈদের পরদিন বন্দিরা বাড়ি থেকে পাঠানো খাবার খাওয়ার সুযোগ পাবেন। ঈদের দিন থেকে তিন দিন বন্দিরা স্বজনদের সাথে পাঁচ মিনিট করে টেলিফোনে এবং একবার স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারবেন।

সাধারণ সময়ে হাজতিরা মাসে দুই বার এবং কয়েদীরা মাসে একবার করে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেলেও ঈদের সময় বিশেষ ভাবে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন।একই ভাবে ১০ টাকার বিনিময়ে মাসে দুই বার স্বজনদের সাথে টেলিফোনে ১০ মিনিট কথা বলার সুযোগ পান বন্দীরা। তবে ঈদে বিনামূল্যে পাঁচ মিনিট করে কথা বলার সুযোগ পাবেন।বর্তমানে কারাগারে হাজতি ও কয়েদী মিলে পাঁচ হাজার ৮৫৮ জন বন্দি রয়েছেন।

ঈদের আনন্দ অসহায় মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে হবে: মেয়র শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চট্টগ্রামের নগরবাসী, বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী, পেশাজীবী এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীসহ সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাস ধৈর্য, সংযম, ত্যাগ এবং সহমর্মিতার এক অনন্য শিক্ষা দেয়। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর মাঝে বয়ে আনে আনন্দ ও প্রশান্তি। ঈদের মূল শিক্ষা হলো সব ভেদাভেদ ভুলে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া।তিনি আরও বলেন, ঈদের আনন্দ শুধু ব্যক্তিগতভাবে উদযাপন না করে সমাজের অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি সাম্প্রতিক ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের বিপুল সমর্থনের কথা উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জনগণ পাশে থাকবে—এটাই প্রত্যাশা।

তিনি হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঈদের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সচেতন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ