আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে অগ্নি দূর্ঘটনার ঝুঁকিতে শতাধিক মার্কেট ও কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে শতাধিক মার্কেট এবং জনবহুল এলাকা অগ্নি দূর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে। অগ্নি দূর্ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিস বাহিনী দূর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই অনেকটাই ক্ষতি হয়ে যায়। প্রতি বছর নগরীর কোন না কোন মার্কেটে ঘটে চলেছে অগ্নি দূর্ঘটনা। ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী, চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লায় সমবায় মার্কেটে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যায় এবং একজনের মৃত্যু হয়। একই বছরের ১২ জানুয়ারী রেয়াজউদ্দিন বাজারের নুপুর মাকের্টে আগুন লাগে। এর আগে চৌধুরী প্লাজা, হোটেল সফিনা, জহুর হকার মাকের্টে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। আবার অনেক মাকের্টে রয়েছে পোশাক কারখানা কিংবা বিভিন্ন ক্রোকারীজ ও খাদ্য তৈরির কারখানা।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের আঞ্চলিক অফিসের দেয়া তথ্য মতে, চট্টগ্রামে অন্তত ৪৫ মার্কেটে ও ১০টি বাজার আগুনের ঝূঁকিতে রয়েছে। মার্কেটগুলো তৈরি হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। তাছাড়া অনেকদিন পূর্বে নির্মিত কিছু ভবন রয়েছে, সেগুলোর কোন মেয়াদ নেই এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ ভবনগুলো ভাঙ্গার জন্য সিডিএকে যে নোটিশ করা হয়েছিল তা কখনেই আলোর মুখ দেখেনি।
পরিবেশবিদরা এ ব্যাপারে বারবার সিডিএ, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরে তাগাদা দিলেও কার্যত এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকী এ তালিকা অনুসারে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করেননি।
চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকার গত কয়েকমাসে বেশ কয়েকটি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুয়ায়ী বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকার ফাইভস্টার গলির মুখে মোহাম্মদ মিয়ার চার তলার ভবনের নীচতলায় সেমাই কারখানা রয়েছে। এ কারখানার ২য়, ৩য় ও ৪র্থ তলায় আবাসিক ভাড়াটিয়া রয়েছে। যখন সেমাইয়ের চুলায় আগুন দেয়া হয়, তখন উপরে বসবাসরতরা আগুনের তাপে কষ্ট ও দূর্ভোগের শিকার হয়। এখানে যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে অঘ্নিদূর্ঘটনা। ধ্বসে পড়তে পারে ভবন। এ চারতলা ভবনের নীচ তলায় সেমাই কারখানার গ্যাসের চুলার উত্তাপে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ভবনের উপরের তলার বাসিন্দারা। ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল অনেক বছর পূর্বে। এ ভবনের মেয়াদ আরো অনেক বছর আগে ফুরিয়ে গেছে। সেমাই কারখানার তাপের ভবনের বিভিন্নস্থাানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
ভবনটির বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় রাজাখালী ফায়ার সর্ভিসের ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, ভবনটি বেশ জারজীর্ণ ও ঝুকিপূর্ণ। তাই ভবন মালিককে বেশ কয়েকবার নোটিশে ভবন ভাঙ্গার তাগিদ দিয়েছি। তাছাড়া এ এলাকায় অন্যান্য ব্যবসা ও আবাসিক এলাকা থাকার কারনে সেমাই কারখানা সরিয়ে নিতে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। সেমাই কারখানাটি আবাসিক এলাকায় হওয়ায় পরিবেশেরও বিপর্যয় হচ্ছে। প্রতিনিয়ত নিদারুণ কষ্ট পাচ্ছে এখানকার বসবাসরতরা। এদিকে আবাসিক এলাকা থেকে পোশাক ও শিল্প কারখানা শিল্পজোানে সরিয়ে নেয়ার সরকারী সিদ্ধান্ত থাকলেও ওই সকল পোশাক ও অন্যান্য কারখানা সরিয়ে না নেয়ার কারণে প্রায়ই কোন না কোন দূর্ঘটনা ঘটে চলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিডিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে কয়েকবার অভিযোগ দিয়েও কার্যত ফল আসেনি। রাজাখালী এলাকার বাসিন্দারা বলেন, অবিলম্বে এ ঝূঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙ্গে ফেলা হোক।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মতিউর রহমান চৌধুরী নোয়াব সভাপতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী  মালিকদের সংগঠন- নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ