আজঃ শনিবার ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

যেখানে প্রচলিত ওষুধ কার্যকর হয় না চট্টগ্রামে খাবার পানির নমুনায় ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশে শনাক্ত টাইফয়েডের জীবাণু

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানের হাসপাতাল, রেস্টুরেন্ট, বাসস্থান এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের খাবার পানির নমুনায় ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশে শনাক্ত হয় টাইফয়েডের জীবাণু। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই জীবাণুগুলোর ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ নমুনা মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে খাবার পানির উৎসে বহুমুখী এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সালমোনেলার (টাইফয়েড) জীবাণু পাওয়া গেছে। জীবাণুর এ উপস্থিতি শুধু বাংলাদেশ নয়, বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্যও এক গুরুতর হুমকি বলে মনে করছেন গবেষকরা।
গবেষকরা জানান, সালমোনেলার টাইপ (টাইফয়েড) বেশিরভাগ তিনটি এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জিনগুলো শনাক্ত হয়। যা এই জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধের ক্ষমতাকে ব্যাখ্যা করে। কো-ট্রাইমক্সাজল এবং সিপ্রোফ্লক্সাসিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ এন্টিবায়োটিক এখনও কার্যকর হলেও বেশকিছু জীবাণু এই ওষুধগুলোর প্রতি প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এছাড়া ভয়ঙ্কর এ জীবাণু শরীরে প্রবেশ করলে ভবিষ্যতে কোন ওষুধ কার্যকর হবে না। যা মানবদেহের জন্য হুমকিস্বরূপ।
চবি’র জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এম মাসুদুল আজাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে এ গবেষণা চালানো হয়। গবেষণায় যুক্ত ছিলেন একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোহানা আকতার মিনা, পবিত্র দেবনাথ, একেএম জাকির হোসাইন, জাহিদ হাসান। গবেষণাপত্রটি আন্তর্জাতিক সেল পাবলিকেশনের ‘হেলিয়ান’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
এ বিষয়ে গবেষক অধ্যাপক ড. এ এম মাসুদুল আজাদ চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বলেন, এই গবেষণার ফলাফল শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক গুরুত্বই বহন করে না; বরং এটি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। খাবার পানিতে এই জীবাণুর উপস্থিতি প্রমাণ করে পানির মাধ্যমে এর সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল দেশে দ্রুত মহামারি আকার ধারণ করতে পারে। মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু এমন একটি হুমকি তৈরি করে, যেখানে প্রচলিত ওষুধ কার্যকর হয় না। নতুন ও শক্তিশালী এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রয়োজন হয়, যা বেশ ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জন্য এটি আর্থিকভাবে অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য অশনিসংকেত উল্লেখ করে গবেষকসহ চিকিৎসকরা বলছেন, এ পরিস্থিতি শুধুমাত্র পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবই বাড়াচ্ছে না, বরং এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর (মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট) দ্রুত বিস্তারের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।
জানা গেছে, ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামবিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্র, রেস্টুরেন্ট এবং বাসস্থান থেকে ১৫০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। যা পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের ল্যাবরেটরি অফ মাইক্রোবায়াল এন্ড ক্যান্সার জিনোমিক্স গবেষণাগারেই গবেষণার কাজ সম্পন্ন করেন গবেষকরা। ১৫০টি নমুনার ৮টিতে সালমোনেলার টাইপ (টাইফয়েড) জীবাণু শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ নমুনা মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু হিসেবে চিহ্নিত হয়।
গবেষণার তথ্যের বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস’র (বিআইটিআইডি) সহকারী অধ্যাপক (মাইক্রোবায়োলজি) ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, গবেষণায় যে তথ্যটি উঠে এসেছে, তা খুবই উদ্বেগজনক। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই হুমকি হয়ে উঠবে। বিশেষ করে শিশু ও দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষেরা এই জীবাণু দ্বারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। টাইফয়েড জ্বর শিশুদের মধ্যে মারাত্মক স্বাস্থ্য জটিলতা এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে। তাই এ বিষয়ে এখনই সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি কার্যকরী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নাহয় সামনে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে জুতার সোলের ভেতরে অভিনব কায়দায় ইয়াবা পাচার, গ্রেফতার-২

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের জুতার সোলের ভেতরে অভিনব কায়দায় রাখা ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বাকলিয়া থানাধীন এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে শহীদ বশরুজ্জামান গোলচত্বরের পুলিশ বক্সের সামনে সড়কে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এরা হল, নরসিংদী সদর উপজেলার পশ্চিম কান্দাপাড়া এলাকার খোরশেদা বেগম (৪৫) ও শাহ জালাল মিয়া (৫২)।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সম্প্রীতি ও উন্নয়নের অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে সাঈদ আল নোমান: নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সনাতনী সম্প্রদায়ের সাথে এক মতবিনিময় সভায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম ১০ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আল নোমান। শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর মুরাদপুর এলাকায় আয়োজিত সনাতনী সম্প্রদায়ের ভোটারদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি তার নির্বাচনী পরিকল্পনার পাশাপাশি এলাকার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার কথা তুলে ধরেন।


বক্তব্যের শুরুতেই সাইদ আল নোমান সনাতনী সম্প্রদায়ের সাথে তার পরিবারের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমার বাবা আসকার দিঘীর দুর্গাপূজা উদযাপন পরিষদের একমাত্র মুসলিম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমিও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা থেকে এই সম্প্রদায়ের উন্নয়নে কাজ করে আসছি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো ধর্মীয় বৈষম্য নয় বরং সবার অংশগ্রহণেই একটি উন্নত সমাজ গঠন সম্ভব।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ভোট দেওয়া আপনাদের নাগরিক অধিকার। প্রশাসন থেকে সকল ধরণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। আপনারা সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।

​এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি রাস্তাঘাট সংস্কার, পানির সমস্যা সমাধান এবং কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর অবস্থানের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে থাকাই আমার মূল লক্ষ্য।

​অনুষ্ঠানে স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা সাইদ আল নোমানের এই সময়োচিত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানান।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সনাতনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলোচিত খবর

র‌্যাব নাম বদলে হচ্ছে এসআইএফ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতিসংঘের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবাধিবকার সংগঠন বহুদিন ধরে পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‌্যাব বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়ে এলেও তার বদলে নাম বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান বা র‌্যাবের নতুন নাম হবে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স বা এসআইএফ।

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন-ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন দিয়েছেন। শিগগিরই একটি সরকারি আদেশ জারি হবে।নামের সঙ্গে পোশাকেও পরিবর্তন আসছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন-ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসআইএফ সদস্যদের নতুন পোশাকে দেখতে পাবেন।বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে জঙ্গিবাদের উত্থান ও আইনশৃঙ্খলার ক্রমাগত অবনতির মধ্যে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, আনসার ও ভিডিপি, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সদস্যদের নিয়ে র‌্যাব গঠিত হয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ