আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

গাজীপুরে সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা মামলা: জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

সুরুজ্জামান রাসেল গাজীপুর প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানার সুরাবাড়ি গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া ও ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত সাংবাদিকদের নামে কাশিমপুর থানার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সাংবাদিকদের ফাঁসানোয় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর ২০২৪) সকাল ১১টায় গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে গাজীপুরে কর্মরত সাংবাদিকেরা মানববন্ধন ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

মানববন্ধন চলাকালে সংবাদ সংস্থা এনএনবি’র সম্পাদক জুলীয়াস চৌধুরীর সভাপতিত্ত্বে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, তদন্ত না করে সাংবাদিকদের নামে মামলাটি গ্রহণ করায় পুলিশের পক্ষপাতিত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বক্তারা সাংবাদিকদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোয় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান

মানববন্ধন থেকে সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা মামলা অবিলম্বে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুরাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা দেওয়ান মোজাম্মেল হক একাধিক জাল দলিল তৈরি করে দখলকৃত জমি নিজের নামে নামজারি করিয়ে নেন। ওই জমিতে মো. মাহবুবুর রহমান বিশ্বাস পোল্ট্রি এন্ড ফিশ ফিডস্ লিমিটেডের নামে একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান চালু করেন। ওই জমির প্রকৃত মালিক হাবেল মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এই জালিয়াতি ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত যাচাই-বাছাই শেষে জমির জাল দলিল বাতিল করেন।

এরপর, হাবেল মিয়া গং জমি পুনরুদ্ধারের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে মিস কেস দায়ের করেন (পিটিশন মোকদ্দমা নম্বর: ৫৪৮/২০২৪ এবং ৫৪৯/২০২৪)। ভূমি অফিস থেকে ২১ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে সরেজমিনে তদন্তের নোটিশ প্রদান করা হয়।

ভূমি অফিসের এই তদন্ত কার্যক্রম উপলক্ষ্যে দেওয়ান মোজাম্মেল হক ও তাঁর সহযোগীরা ২১ নভেম্বর ২০২৪ সকালে জমিতে ও জমির আশেপাশে সশস্ত্র লোকজন জড়ো করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে যান এবং তথ্যচিত্র ও ভিডিও ধারণ করে ফিরে আসেন।

পরের দিন, ২২ নভেম্বর ২০২৪ ভোরে সাংবাদিকরা জানতে পারেন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কাশিমপুর থানায় গভীর রাতে মাহবুব গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ফ্রোজেন ফুড শাখার পারচেজ অফিসার মো. শামীম হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা [নম্বর: ২৪/২৪০ (55GNM)] দায়ের করেছেন। মামলায় দৈনিক জনবাণী পত্রিকার গাজীপুর প্রতিনিধি নাশিদ আহমেদ তুষারকে ১৫ নম্বর আসামিকরা হয়। দৈনিক জনবাণী পত্রিকা ও চ্যানেল এস টেলিভিশনের কাশিমপুর প্রতিনিধি ও কাশিমপুর থানা প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মো. জামাল আহাম্মেদ প্রধানিয়াকে ২৯ নম্বর আসামি করা হয়। দৈনিক স্বাধীন বাংলা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মো. হাসমত হাসুকে ৩০ নম্বর আসামি করা হয়। গাজীপুর জেলার স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক কণ্ঠবানীর মফস্বল সম্পাদক নসির উদ্দিনকে করা হয় ৩২ নম্বর আসামি।

অদ্ভুত বিষয় হলো, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার খোরশেদ আলমেকে ১৬ নম্বর আসামি করা হয়। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। দৈনিক অগ্নিশিখা পত্রিকার কাশিমপুর প্রতিনিধি ও কাশিমপুর থানা প্রেসক্লাবের আইন বিষয়ক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন ফারুক, তিনিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না, তাকে ৩১ নম্বর আসামি করা হয়।

তরিঘড়ি করে কাজ সারতে সকল সাংবাদিকেরই নামের ভুল বানান, আংশিক নাম ও মোবাইল ফোন নম্বর উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করা হয়।

দৈনিক জনবাণী পত্রিকা ও চ্যানেল এস টেলিভিশনের কাশিমপুর প্রতিনিধি ও কাশিমপুর থানা প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মো. জামাল আহাম্মেদ প্রধানিয়া বলেন, ‘প্রতিপক্ষের হামলার শিকার মো. মালেক ওরফে মালু’র ৯৯৯ এ ফোনের প্রেক্ষিতে কাশিমপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর ও দ্বিতীয় কর্মকর্তা বিপ্লব হোসেন ফারুক সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। এর পর পরই ঘটনাস্থলে আসেন কাশিমপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান। তখন থেকেই আমরা সাংবাদিকেরা তাদের (পুলিশ) সঙ্গে থেকে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করি। এবং আমরা সাংবাদিকেরা পুলিশের সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করি। তার পরও কেন আমাদের নামে মামলা হলো তা বোধগম্য নয়।

আরমান হোসেন, দৈনিক স্বাধীন বাংলার স্টাফ রিপোর্টার মো: হাসমত, দৈনিক স্বাধীন বাংলার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার হোসনে আরা হীরা, দৈনিক জনবাণীর রিপোর্টার ও কাশিমপুর থানা প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মো: জামাল আহাম্মেদ প্রধানিয়া, দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার স্টাফ রিপোর্টার আব্দুর রাজ্জাক রাজু, দৈনিক এই বাংলার দপ্তর সম্পাদক (গাজীপুর) মো: নাসির উদ্দিন, দৈনিক সময়ের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিনিধি মো: হাসান আলি, সিএনএন বাংলা টিভির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মো: হাইউল উদ্দিন খান, দৈনিক ভোরের ডাকের গাজীপুর মহানগর সংবাদদাতা মো: আল-আমিন হোসেন, মুভি বাংলা টিভির কাশিমপুর প্রতিনিধি আল মনসুর সরকার, বাংলা টিভির কাশিমপুর প্রতিনিধি মো: হাসান সরকার, টপ নিউজ প্রতিদিনের প্রকাশক সামছুদ্দিন জুয়েল, দৈনিক আজকের বাংলার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মো: গোলাম রসুল (দিনার), দৈনিক সকালের সময়ের বাসন (গাজীপুর) প্রতিনিধি মো: সালাহ উদ্দিন আহমেদ, দৈনিক মুক্ত খবরের বিশেষ প্রতিনিধি মো: সাজুদ্দিন সরকার, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের রিপোর্টার মো: মেহরাব হোসেন, আমার প্রাণের বাংলা পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি আবু সালেক ভুইয়া, দৈনিক একুশে সংবাদের বিশেষ প্রতিনিধি মো. রাজু আহাম্মেদ, দৈনিক আমাদের সময়ের কালীগঞ্জ প্রতিনিধি ও দৈনিক দেশান্তরের সম্পাদক ও প্রকাশক মো. রফিকুল ইসলাম রফিক।

উপস্থিত ছিলেন, এটিএন বাংলার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মাজাহারুল আলম মাসুম, দৈনিক কন্ঠবাণীর সম্পাদক জান-এ-আলম, দৈনিক ভয়েস অফ এশিয়ার স্টাফ রিপোর্টার এম.এ ফিরোজ (লাভলু), দৈনিক যায়যায়দিনের গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি বায়েজীদ হোসেন, দৈনিক মর্নিং গ্লোরির গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম জিতু, গাজীপুর প্রেসক্লাবের সাবেক দপ্তর সম্পাদক জাহিদ হোসেন বকুল, গাজীপুর প্রেসক্লাবের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা, ভাষাটিভির সম্পাদক আতিকুল ইসলাম, এবিসি নিউজের ফটোজার্নালিষ্ট স্বপন চন্দ্র দাস, জনতার ক্রাইমের সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জাহাঙ্গীর আলম ভোরের কণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক মো. আব্দুল বারী, দৈনিক মাতৃজগতের স্টাফ রিপোর্টার শাহানাজ পারভীন, দৈনিক বর্তমান কথার স্টাফ রিপোর্টার মো: ফয়জুল ইসলাম আরিফ, দৈনিক বর্তমান কথার রিপোর্টার মো: মাহবুব আলম, আসক ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কো-অর্ডিনেটর বাংলাদেশ ও দৈনিক সন্ধ্যাবাণীর ক্রাইম রিপোর্টার মোছা: নাছিমা আক্তার রেনু প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দেড় মাসের শিশু নিয়ে কারাগারে যাওয়া মায়ের মুক্তি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুলকে হত্যাচেষ্টার মামলায় দেড় মাসের মেয়েকে নিয়ে কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগের কর্মী শিল্পী বেগম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।বুধবার বেলা ১২টার কিছু আগে কাশিমপুর কারাগার থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। এসময় পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।শিল্পীর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, গতকাল দুপুরে জামিন নামঞ্জুর করে শিল্পীকে কারাগারে পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে জামিন পান তিনি।

শিল্পীর স্বামী রহিম হোসেন সোহাগ বলেন-গরমে বাচ্চাটা একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওর মা তো আগে থেকেই অসুস্থ। টেনশনের কারণে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছে।শিল্পী বেগম ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

তেজকুনিপাড়ার রেলওয়ে কলোনি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।স্বজনরা সে সময় বলেছিলেন, গত ৪ মার্চ ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতাল সি সেকশনের মাধ্যমে শিল্পীর সন্তানের জন্ম হয়। এর পর বাথরুমে পড়ে বাঁ হাত ভেঙে যায় শিল্পীর।

জামিন নাকচ হওয়ার পর শিল্পী বলেন-সিজারের কাটা জায়গায় এখনো ব্যথা করে। বাচ্চাকে ঠিকমত খাওয়াতে পারি না। ও তো মরে যাবে।দেড় মাসের শিশুকে নিয়ে কারাগারে মা’– এমন খবর প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানামুখি আলোচনা শুরু হয়। সন্ধ্যায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক দিক বিবেচনা করে শিল্পীকে জামিন দেন।

রাতুলের হত্যা চেষ্টা মামলার বিবরণে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চানখারপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুল। সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান৷ সেখানে ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী তাদের আক্রমণ করেন।

পরে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় এজাহারভুক্ত আসামিরাসহ অচেনা ১২০/১৩০ জন ওই শিক্ষার্থীর তেজগাঁওয়ের বাসায় হামলা চালায়। বাসার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র ভাংচুর করায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। তিন লাখ টাকার বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান আসামিরা। শিল্পী ও অন্য আসামিরা ওই শিক্ষার্থীর বাবা সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ জানুয়ারি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১০৩ জনের নাম উল্লেখ করে অচেনা ১২০/১৩০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থী রাতুলের মা শাহনুর খানম তেজগাঁও থানায় মামলা করেন।

গ্যাস সরবরাহ কম, জ্বালানি সংকট চাকা ঘুরছেনা চট্টগ্রামের ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রের, চরম ভোগান্তি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে, ফলে ভ্যাপসা গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়, এমনকি দেখা দিয়েছে পানির সংকটও।জ্বালানি সংকটের কারণে এসব বিদ্যাৎকেন্দ্রগুলোর চাকা বন্ধ রয়েছে। যার ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। উৎপাদন কমে আসলেও গরমের কারণ বাড়ছে চাহিদা। ফলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে বাড়ছে ভোগান্তি। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, বৈশাখ মাসের গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।ফটিকছড়ির ব্যবসায়ী হামিদুল ইসলাম বলেন, দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। দোকানে অনলাইনভিত্তিক কাজ করতে হয়। বিদ্যুৎ ছাড়া কাজ করা যায় না। আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।পিডিবির চট্টগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান জানান, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া ও জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী লোডশেডিং কমবেশি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২১১ দশমিক ২০ মেগাওয়াট। উৎপাদন হয় ১ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। তবে এর মধ্যে ১৪২ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করায় স্থানীয়ভাবে ৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। এর আগে বেলা ১১টায় চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১ হাজার ২০০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৯০ মেগাওয়াট।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি কেন্দ্র উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে এনলিমা (১১৬ মেগাওয়াট), জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট), জুলধা-২ ও ৩ (প্রতিটি ১০০ মেগাওয়াট), রাউজান ১ ও ২ (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট) এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্ট উল্লেখযোগ্য। পিডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা ১১টায় ১১টি ও সন্ধ্যা ৭টায় ১৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ছিল শূন্যের কোঠায়। এরমধ্যে ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সকাল-সন্ধ্যা উৎপাদনের বাইরে ছিল। এর মধ্যে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সকালে কিছু উৎপাদন মিললেও সন্ধ্যায় তা শূন্যে নেমে আসে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র দুটি।

বর্তমানে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত নির্ভর করছে কয়েকটি কেন্দ্রের ওপর। সন্ধ্যার হিসাব অনুযায়ী বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ৬১২ মেগাওয়াট, শিকলবাহা কেন্দ্র থেকে ২১৮ মেগাওয়াট এবং মিরসরাইয়ের বি-আর পাওয়ার কেন্দ্র থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ