আজঃ রবিবার ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬

পরিচ্ছন্নকর্মীর চোখের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রতিটি ওয়ার্ড পরিদর্শনে যাচ্ছেন। রোববার সকালে চসিকের ১৫ নম্বর বাগমনিরাম ওয়ার্ডে পরিদর্শনে গিয়ে মেয়র অনেকগুলো বিষয় দেখতে পান। গিয়েই বরাবরের মতো পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরা নিচ্ছিলেন তিনি। তাদের নামে নানান অভিযোগ ও কাজের সুনাম শুনে জানান প্রতিক্রিয়াও। তবে এ সময় দুই পরিচ্ছন্নকর্মীর শারীরিক সমস্যা দেখতে পেয়ে ‘নরম সুরে’ তাদের সঙ্গে কথা বলে দায়িত্ব নিলেন চিকিৎসার।এ সময় শ্রবণশক্তিহীন জসিম উদ্দিনের সমস্যার কথা শোনেন এবং আরেক পরিচ্ছন্নকর্মী রহিম বাদশার চোখের সমস্যায় দেখতে পেয়ে চিকিৎসার দায়িত্ব নেন তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিদর্শনে মেয়রকে কাছে পেয়ে পরিচ্ছন্নকর্মীরা তাদের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। পরিচ্ছন্নকর্মীদের অভিযোগ- তারা তাদের নিরাপত্তা সরঞ্জামের কিছুই পান না। পাশাপাশি ভ্যান নষ্ট হলে সেটিও তাদের পকেটের টাকা দিয়ে মেরামত করতে হয়। এছাড়াও, তাদের বেতনও মিলে দেরিতে। এদিকে একে একে পরিচ্ছন্নকর্মীদের হাজিরা নিচ্ছিলেন মেয়র। নাম শুনে পরিচ্ছন্নকর্মীরাও উপস্থিত হচ্ছিলেন মেয়রের সামনে। হাজির হওয়া পরিচ্ছন্নকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগে কেউ বলছেন কাজ করেন আবার কেউ বলছেন তারা কাজ করেন না। এমন সময় তালিকায় হঠাৎ নাম আসে রহিম বাদশা নামে এক পরিচ্ছন্নকর্মীর। মেয়র তার নাম ধরে ডাকতেই উপস্থিত একজন মজার সুরে বলেন, কিরে তুকে ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে দেখা যায় না। তবে অনেকে আবার তিনি ভালো মানুষ- কাজ করেন নিয়মিত এমন কথাও বলেন।
যদিও এসবের কিছুই কর্ণপাত করেননি সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। পরিচ্ছন্নকর্মী রহিম বাদশা সামনে আসতেই তার চোখের দিকে নজর পড়ে মেয়রের। সঙ্গে সঙ্গে মেয়র জিজ্ঞেস করেন চোখের কি সমস্যা? পরিচ্ছন্নকর্মীও তার চোখের সমস্যার কথা মেয়রকে জানান। আর মেয়র ‘নরম সুরে’ জানিয়ে দেন ‘রহিম বাদশার চিকিৎসার দায়িত্ব চসিকের’।
তবে এর আগেই মেয়র তার চোখের পরীক্ষা নিয়েছেন। উপস্থিত জনগণের সামনে আঙ্গুল উঁচিয়ে ধরে জিজ্ঞেস করেছেন এখানে কতটি আঙ্গুল। যদিও কর্মীর স্বাভাবিক চোখে না দেখার কারণে তিনি ভুল বলেছেন। তখন মেয়র পুরোপুরি নিশ্চিত হন ওই পরিচ্ছন্নকর্মী আসলেই চোখের সমস্যায় ভুগছেন। তাই যেহেতু সে দিনের বেলায় কম দেখতে পান তার জন্য রাতে কাজ করা সমস্যার।
এ সময় মেয়রের কাছে ওই পরিচ্ছন্নকর্মী আবদার করেন যাতে তাকে রাতের বেলায় বাদ দিয়ে দিনের কাজ করার সুযোগ দেন। পরে মেয়র বিষয়টি অফিসিয়াল জানাবেন বলে জানান। তবে আগে চিকিৎসা করানোর কথা জানান মেয়র।
চোখের চিকিৎসার বিষয়ে মেয়রের দেওয়া আশ্বাসে খুশি বলে জানিয়েছেন পরিচ্ছন্নকর্মী রহিম বাদশা। তিনি বলেন, ১০ বছর ধরে সিটি করপোরেশনে কাজ করছি। আর এ চোখের সমস্যাও ১০-১৫ বছর ধরে। মেয়র মহোদয় আজ আমার চোখের অবস্থা দেখতে পেয়ে চিকিৎসা করানোর কথা বলেছেন। এতে আমি অনেক খুশি। তিনি আরো বলেন, মেয়র মহোদয়কে এটিও বলেছি, যাতে আমাকে দিনের বেলায় কাজ করার সুযোগ দেন। তাহলে আমার জন্য উপকার হবে।
এ সময় চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, এসব তো আসলে আগে থেকে হয়ে আসছে। আমি মাত্র কিছুদিন হলো দায়িত্ব নিয়েছি। আশা করি আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে। শ্রমিকদের সেফটি মেজারমেন্টের জন্য যেটা যেটা দরকার, সেগুলো দেওয়া হবে। আগে কেন দেওয়া হয়নি; সেটা জানি না। তবে এখন থেকে সব ঠিক হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, পরিচ্ছন্নকর্মীরা যেহেতু বেতন পান। তাই তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো কাজ করা। আর আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তাদের সেফটি মেজারমেন্টের বিষয়গুলো দেখা। ছোট ছোট ভ্যানের কথা বলছে সেগুলো আমরা দেখছি। পরিচ্ছন্ন কর্মীরাও মেয়রের একটি অংশ জানিয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি আশা করব আমি যেহেতু জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি; তারাও (পরিচ্ছন্নকর্মী) আমার একটা অংশ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএনপি আমলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি : চসিক মেয়র।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্বাচনের স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচন নিয়ে আজও তেমন কোনো প্রশ্ন ওঠে না, কারণ ওই নির্বাচনগুলো ছিল স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য। একইভাবে ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার নির্বাচন নিয়েও বড় কোনো বিতর্ক নেই। সে সময় সব পক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়া সরাসরি দেখেছে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছে।

মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর আয়োজনে, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিএমইউজে) সহযোগিতায় চট্টগ্রাম জেলার সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ’কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ১৯৯৪ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী নির্বাচন করেছিলেন এবং সে নির্বাচন নিয়েও কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। জোট সরকারের আমলেও তিনি আবার মেয়র নির্বাচিত হন, তখনও নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হয়নি। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বিএনপি কখনও নির্বাচনে ‘নগ্ন হস্তক্ষেপ’করেনি।

তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আ জ ম নাছির উদ্দীন ও রেজাউল করিম চৌধুরীর ক্ষেত্রে যে পরিস্থিতি দেখা গেছে, মহিউদ্দিন চৌধুরীর সময় সে রকম চিত্র দেখা যায়নি। এতে নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

মেয়র বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সাংবাদিকতা কেবল খবর পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ ছিল না। গণমাধ্যম নেতৃত্ব গঠন, রাজনৈতিক ইমেজ নির্মাণ এবং গণআন্দোলনের গতিপথ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে আশির ও নব্বইয়ের দশকে ছাত্ররাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতির বিকাশে গণমাধ্যম ছিল এক অনিবার্য শক্তি।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পিআইবির পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উপকমিটির উপদেষ্টা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলী পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম ও পিআইবি প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন। এছাড়া প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশকারীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মোস্তাফিজুর রহমান, মনিরুল ইসলাম পারভেজ, মাইনুদ্দীন, জীবন মুছা ও আজিজা হক পায়েল।

অনুষ্ঠানে এসময় উপস্থিত ছিলেন, সহসভাপতি ডেইজি মওদুদ, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রূপম চক্রবর্তী, ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল খান, গ্রন্থাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ, কার্যকরী সদস্য সাইফুল ইসলাম শিল্পী এবং আরিচ আহমেদ শাহ।
প্রসঙ্গত, পিআইবির আয়োজনে দুদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ১০০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

চট্টগ্রাম বন্দরে এক বছরে জাহাজ এসেছে ৪৩৯৬টি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছর বিভিন্ন সময়ে দাবি আদায়ের জন্য এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন ও কর্মবিরতি, পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের কয়েক দফা ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হলেও কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড গড়েছে। বিশেষ করে শুল্ক কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি, পরিবহন ধর্মঘটসহ নানা প্রতিকূলতার পরও বছর শেষ হওয়ার আগেই কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড গড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বেড়েছে বন্দরে জাহাজ আসার সংখ্যাও।

বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত জাহাজ এসেছে ৪৩৯৬টি, ২০২৪ সালে বন্দরে মোট জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩৮৫৭টি।২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪১০৩; ২০২২ সালে ৪৩৬১টি, ২০২১ সালে ৪২০৯টি এবং ২০২০ সালে ৩৭২৮টি জাহাজ বন্দরে এসেছিল। অন্যদিকে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫৭৭ টিইইউএস (প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের), যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৭ টিইইউএস।তার মানে চলতি বছর শেষ হওয়ার চারদিন আগেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আগের বছরের চেয়ে ৮৭ হাজার ৯৫০ টিইইএস কন্টেইনার বেশি হ্যান্ডলিং করেছে।

বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৩০ লাখ ৫০ হাজার ৭৯৩ টিইইউএস, ২০২২ সালে ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৫০৪ টিইইউএস, ২০২১ সালে ৩২ লাখ ১৪ হাজার ৫৪৮ টিইইউএস এবং ২০২০ সালে ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল। অন্যদিকে চলতি বছরের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্গো (খোলা পণ্য) হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৩ কোটি ৬৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৬ টন। আগের বছরে এই পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার ১৪ টন। অর্থ্যাৎ, চলতি পঞ্জিকাবর্ষে ১ কোটি ২৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭২ ক টন বেশি পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে।

বন্দর সূত্র জানা গেছে, ২০২৩ সালে ১২ কোটি ২ লাখ ৩০ হাজার ২৯৩ টন, ২০২২ সালে ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৬৫ হাজার ৬৮২ টন, ২০২১ সালে ১১ কোটি ৬৬ লাখ ১৯ হাজার ১৫৮ টন এবং ২০২০ সালে ১০ কোটি ৩২ লাখ ৯ হাজার ৭২৪ টন খোলা পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে।

বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, বন্দরের ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, বন্দর ব্যবহারকারীদের সহযোগিতার কারণে এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, চলতি বছর শেষ হতে বেশ কয়েকদিন বাকি রয়েছে। তার আগেই কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে এ অগ্রগতি বন্দরের সক্ষমতা বাড়ার দিকটাই নির্দেশ করে। আগামীতে আরও বেশি হ্যান্ডলিংয়ের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, এক পঞ্জিকাবর্ষে আমরা আগেরবারের চেয়ে বেশি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করেছি। বছর শেষ হতে বেশ কয়েকদিন বাকি রয়েছে। বছর শেষে এ পরিমাণ আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, চলতি বছরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বন্দরের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে রেকর্ড পরিমাণে কন্টেইনার এবং কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে।জাহাজের অপেক্ষমান সময় প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা গেছে। এর ফলে জাহাজ সাথে সাথে বার্থিং পাচ্ছে এবং দ্রুত পণ্য খালাস সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “ই-গেট পাস, কন্টেইনার ট্র্যাকিং এবং স্বয়ংক্রিয় পেমেন্ট সিস্টেমের ফলে স্বচ্ছতা এসেছে এবং ভোগন্তিও কমেছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো মার্কি কোস্ট গার্ডের আইএসপিএস অডিটে প্রথমবারের মতো ‘জিরো অবজারভেশন’ পেয়ে নিরাপদ ও আর্ন্তজাতিক মানসম্পন্ন বন্দরে পরিণত হয়েছে।

আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ আরো বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সময়োপযোগী নীতিমালা বিশ্ব সামুদ্রিক বাণিজ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ অর্জন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বন্দরের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

 

আলোচিত খবর

নির্বাচনে নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ আইজিপির।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল পুলিশ সদস্যকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম। একই সঙ্গে জনবান্ধব পুলিশিং আরও শক্তিশালী করে জনগণের জান-মাল রক্ষায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।শনিবার (২৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্সের সিভিক সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশ অফিসার ও ফোর্স সদস্যদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ প্রাক-নির্বাচনি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইজিপি।

আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যা পুলিশি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করবে।তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে যে কোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও পেশাদার আচরণ বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং জনগণের প্রত্যাশিত পুলিশি সেবা সহজ ও কার্যকরভাবে দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।

এ সময় আইজিপির দিকনির্দেশনার আলোকে সকল ইউনিটকে শৃঙ্খলা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়। সভায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা নির্বাচনকালীন চ্যালেঞ্জ, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং কল্যাণমূলক বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— দ্বীপ থানাসমূহের জন্য স্পিডবোট সরবরাহ, মোটরসাইকেল ক্রয়ে ঋণ সুবিধা, দ্বীপ ভাতা চালু ও বৃদ্ধি এবং নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সরকারি সুবিধা বৃদ্ধি।সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ।

সমাপনী বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজিপি ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান। সভায় চট্টগ্রাম রেঞ্জ কার্যালয়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশসহ চট্টগ্রাম বিভাগের আওতাধীন ২৯টি ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন পদবীর মোট ৪৫৮ জন অফিসার ও ফোর্স সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ