আজঃ শুক্রবার ৮ মে, ২০২৬

জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম মহানগর অচল, কোথায়ও বুকসমান পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একটানা বর্ষণে বৃষ্টির পানিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোমর সমান, কোথাও আবার বুক সমান পানিতে তলিয়ে গেছে নগরীর বিভিন্ন সড়ক। ফলে যানচলাচল কমে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পোহাতে হয় নগরবাসীকে। এসএসসি পরীক্ষায় থাকা পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা দুর্ভোগে পড়ে।

কয়েক ঘণ্টার টানা এই ভারী বৃষ্টিতে প্রবর্তক মোড়, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর ,বহদ্দারহাট হেমসেন লেন, দেওয়ানজি পুকুর পাড় এলাকায় জলবাদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে নগরবাসী। মঙ্গলবার সকাল থেকে বন্দর নগরীর আকাশ ছিল মেঘলা। বেলা ১২টা থেকে মুষুলধারে বৃষ্টি শুরু হয় চলে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত।অনেক এলাকায় ড্রেন উপচে পানি সড়ক ও বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়েছে।নিচু এলাকাগুলোতে পানি বুকসমান হওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল। মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ে বেশ কিছু গাড়ি। দুর্ভোগে পড়েছে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেলা আড়াইটায় নগরীর প্রবর্তক ও মুরাদপুর এলাকার সড়কগুলোতে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেখানে কোমর থেকে বুক পর্যন্ত পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে নগরীর রহমতগঞ্জ, কাতালগঞ্জ, রাহাত্তারপুল, আগ্রাবাদ এলাকার সড়কে হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব সড়কে যানচলাচল একেবারেই কম। ফলে ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই পানি জমে দ্রুত পরিস্থিতি খারাপ হয়ে পড়ে। পানি নামতে দেরি হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে।

ফাওজিয়া জামান নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী বলেন, আজ ইংরেজি ২য় পত্রের পরীক্ষা ছিল। হল থেকে বের হয়ে গাড়ি না পেয়ে হেঁটে হেঁটে মুরাদপুর আসলাম। এখানে তো হেঁটে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নাই। কোমর পর্যন্ত ময়লা পানি।নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার বাসিন্দা মামুনুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামে সাধারণত এমন পানি দেখা যেত টানা তিন-চারদিম বৃষ্টি হলে। এখন দেখছি ১ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা হচ্ছে।

মুরাদপুরে জলাবদ্ধতায় আটকে পড়া উন্নয়নকর্মী তোফায়েলুর রহমান বলেন, যারা বৃষ্টি এবং সমুদ্রকে ভালোবাসেন, তারা চট্টগ্রামের মুরাদপুর চলে আসুন। এত পানি সমুদ্র না সড়ক বুঝার উপায় নেই। এসএসসি পরীক্ষা থাকায় অনেকে মানুষ আটকা পড়ে।
প্রবতর্ক মোড় এলাকায় পথচারী শুভ দাশ বলেন, প্রবর্তক মোড় আমার বুক সমান পানি। অনেক কষ্টে গোল পাহাড় পর্যন্ত এসেছি। জন্ম থেকে দেখছি সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা। আমাদের এই দুঃখ কখন যাবে জানি না। প্রবর্তক এলাকায় সড়কে পানি জমে থাকার প্রভাবে জিইসির মোড়, গোলপাহাড়সহ আশপাশের সব এলাকায় তীব্র যানজট দেখা গেছে।

সড়কের ওই অংশে গিয়ে দেখা যায়, পানিতে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে বেশ কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা আটকা পড়েছে। সড়কের এক পাশে রাখা কয়েকটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল অর্ধেকের বেশি পানিতে ডুবে গেছে।
জানা গেছে, প্রবর্তক মোড় এলাকায় সড়কের এক পাশে হিজড়া খাল সম্প্রসারণের কাজ চলছে। সেখানে খালের মুখে দেওয়া আছে অস্থায়ী বাঁধ। এ কারণে বৃষ্টি না হলেও এই এলাকার সড়কে পানি জমে থাকে। বৃষ্টি হওয়ায় তা আরও তীব্র হয়। এ ছাড়া, চকবাজার–মুরাদপুর সড়কের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার প্রবেশমুখের অদূরে মূল সড়কে চলছে কালভার্ট নির্মাণ কাজ। এজন্য খালে দেওয়া হয়েছে বাঁধ। এর প্রভাবে কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকা ও পাঁচলাইশ এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়।

বেলা আড়াইটার দিকে প্রবর্তক মোড় ও চমেক এলাকা ঘুরে দেখেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সাংবাদিকদের মেয়র বলেন, যেখানে সমস্যা আছে, সেগুলো দেখতে আমি সরেজমিন এখানে এসেছি। এরই মধ্যে বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, গোসাইলডাঙা, সিডিএ, আগ্রাবাদ, চকবাজার, ফুলতলি ঘুরে এখানে এসেছি।

আমি মনিটরিং এর মধ্যে আছি।একটা কর্মযজ্ঞ চলছে আসলে। গতবছর বর্ষাতে আমরা জলাবদ্ধতা কমিয়ে দিতে পেরেছিলাম। হিজড়া খালের কাজ যদি ১৫ মে এর মধ্যে শেষ করতে পারি তাহলে জলাবদ্ধতা কমাতে পারব। প্রবর্তক মোড় ও আশেপাশের এলাকায় হিজড়া খালের কাজ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড করছে জানিয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকল্পের অধীনে হিজড়া খাল, জামালখান খাল এবং মুরাদপুরের যে অংশ সেখানে কাজ এখনো শেষ হয়নি।

এদিকে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী চারদিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ২জন নিহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।উপজেলার বেনিপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন— নাচোল উপজেলার আজিপুর গ্রামের সালামের ছেলে মো. সোহাগ (১৭) এবং শিবগঞ্জ উপজেলার বালুটঙ্গি গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে রবিউল আওয়াল জিসান (২৭)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরবেলা সোহাগ ও জিসান মোটরসাইকেলে করে আজিপুর থেকে ধানসুরার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বেনিপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই আরোহীর মৃত্যু হয়।

নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ট্রাকটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।াঅ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করেছে বিজিবি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৭ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)-এর একটি বিশেষ টহলদল এ অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি সূত্র জানায়, মনোহরপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের রামনাথপুর গ্রামে টহল চলাকালে একজন চোরাকারবারী বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে একটি বস্তার ভেতর থেকে ২৭ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪১ হাজার টাকা।জব্দকৃত মদ শিবগঞ্জ থানায় জমা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান (পিএসসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে।তিনি আরও জানান, বর্তমানে জ্বালানি ও ভোজ্য তেল চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্ত ও নদীপথে অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট কার্যক্রম এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর চালু হলো ইস্টার্ন রিফাইনারি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে উৎপাদনে ফিরেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। শুক্রবার সকাল ৮ থেকে চট্টগ্রামের এই শোধনাগারটিতে পুনরায় পরিশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শরীফ হাসনাত বলেন, কুতুবদিয়ায় অবস্থানরত ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ থেকে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল রিফাইনারিতে পৌঁছানো শুরু হয়েছে। এর পরপরই চালু করা হয় শোধনাগারটি।ইআরএল সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান দেশে পৌঁছায়নি। ফলে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে বুধবার দুপুরে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি কুতুবদিয়া চ্যানেলে এসে পৌঁছায়। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশে আসা প্রথম ক্রুড অয়েলের চালান। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি বাংলাদেশে আসে। ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি কর্ণফুলী নদী হয়ে বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়তে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী ছোট ছোট ট্যাংকারে তেল খালাস করে পতেঙ্গার ইআরএলে নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়াকে লাইটারিং বলা হয়।এদিকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় ‘নর্ডিকস পলাক্স’ নামের আরেকটি জাহাজে থাকা বিপিসির এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের বাকি জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানিনির্ভর। বর্তমানে দেশে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন ও জেট ফুয়েলেরও উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মোট ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ