শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে লেপ তোশক কারিগরদের ব্যস্ততা

সাহিদ বাদশা বাবু , লালমনিরহাট ::

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

লালমনিরহাটে শীতের তীব্রতার সঙ্গে বেড়েছে লেপ, তোশক,জাজিম সহ কম্বলের কদর। ফলে এসব সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা। সরেজমিনে লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের চাহিদা হরেক রকমের তুলা দিয়ে ছোট বড় লেপ বা তোশক তৈরি করার।

বর্তমানে কারিগরদের ব্যস্ততা সঙ্গে ক্রেতাদের ভিড়ও বেড়েছে। দোকানিরা ক্রেতাদের বিভিন্ন মানের কাপড় ও তুলা দেখাচ্ছেন, নিচ্ছেন অর্ডার। কারিগররা তৈরি করছেন বিভিন্ন সাইজের লেপ- তোশক- জাজিম। জেলার শহরের লেপ-তোশক তৈরির ১৪ থেকে ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মযজ্ঞ চলছে সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। বাজারে সব রকমের জিনিসের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেপ-তোশক তৈরির উপকরণের খরচও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার প্রতি গজ লেপ তৈরির কাপড়ের দাম
৫০-৬০ টাকা, তোশকের প্রতি গজ কাপড়ের দাম ৪৫-৫০টাকা এবং প্রতি গজ জাজিম তৈরির কাপড়ের দাম রাখা হচ্ছে ১২০-১৫০ টাকা করে। প্রকারভেদে গার্মেন্টস তুলা ৫০ থেকে ১০০ টাকা, ফোম তুলা ২০০, শিমুল তুলা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি জুটের দাম রাখা হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা করে। এ বছরের প্রায় সব ধরনের তুলার কেজিতে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এ বছর এক পিস রেডিমেট লেপ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে, তোশক বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১৭০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া জাজিম বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া বালিশ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকায়।

বড়বাড়ী বাজারে লেপ-তোশকের কারিগর
শরিফুল ইসলাম (২২) বলেন, ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের চাপ ও বাড়ছে। এখন রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করেও মহাজনের চাহিদা পূরণ করতে পারছি না। এবার গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছি ।

কারিগর মাসুদ বলেন (৩৫), প্রতিবছরের মতো এবারও শীতের আগে ব্যস্ততা বেড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লেপ-তোশক তৈরির কাজ চলে আমাদের। একটি লেপ তৈরি করলে আকারভেদে ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা এবং তোশক তৈরি করতে পারলে প্রতিজন ১৫০-৩০০ টাকা মজুরি পাই।

ক্রেতা আকবর (৫৪) বলেন, লেপের জন্য দোকানে গিয়ে অর্ডার দিচ্ছি দুটি লেপের।
এতে মোট খরচ পড়েছে চার হাজার ৪০০টাকা । রাতে শীতের তীব্রতা বাড়ে। কাঁথা দিয়ে শীত নিবারণ হয় না। এ কারণে অল্প টাকা দিয়ে লেপ বানিয়ে নিচ্ছি।

প্রবীণ কারিগর আমজাদ হোসেন(৬০)বলেন, ‘বছরের বেশিরভাগ সময়ই আমাদের বসে থাকতে হয়। শীতের তিন মাস সিজন, এ সময়ে ব্যস্ততা বেশি থাকে। এবারে আগেভাগেই মৌসুম চলে এসেছে। লেপ-তোশক তৈরির কাজের চাপ বেড়েছে। সকাল থেকে রাত অবধি কাজ করে ক্রেতাদের চাহিদামতো ডেলিভারি দিতে হচ্ছে। একেকজন কারিগর প্রতিদিন গড়ে ৪-৫টি করে লেপ বানাতে পারে। এতে ৫০০-৬৯৯ টাকা আয় হয়। বর্তমানে এ আয় দিয়ে চলতে হিমশিম খেতে হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দুই অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু: বিচার ও যৌতুকপ্রথা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


চট্টগ্রামের পটিয়ায় দুই অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং যৌতুকপ্রথা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে জাতীয় ছাত্র শক্তি পটিয়া উপজেলা শাখা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে পটিয়া থানার মোড় চত্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতাকর্মী, নিহত দুই নারীর পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্র শক্তি পটিয়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম তৌকির, মুখ্য সংগঠক মিছকাত আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সাকিবুল ইসলাম সাকিব এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল্লাহ আশরাফুল (সিফাত)।বক্তারা বলেন, যৌতুকের দাবিতে নারীর ওপর নির্যাতন ও প্রাণহানির ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যৌতুকপ্রথা নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা। এ সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে পরিবার ও সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

তারা আরও বলেন, পটিয়ায় দুই অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করতে হবে। তদন্তে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
সমাবেশ থেকে যৌতুকপ্রথা নির্মূল, নারীর প্রতি নির্যাতন প্রতিরোধ এবং দুই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

নোয়াখালীতে সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট বাড়ি দখল ও হামলার অভিযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালী পৌরসভার মাইজদীতে নিজের মালিকানাধীন ফ্ল্যাটবাড়ি দখল, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ তুলেছেন কাজী আজিজ উল্যা নামে এক ব্যক্তি। তার অভিযোগ, বাড়ির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ও তার বৃদ্ধ মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা নিজেদের বসতবাড়িতে ফিরতে পারছেন না। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কাজী আজিজ উল্যা।

ভুক্তভোগী কাজী আজিজ উল্যা নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের স্টেডিয়াম পাড়ার কাজী বাড়ির বাসিন্দা। তার দাবি, ৯৮ নম্বর মাইজদী মৌজায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জমির ওপর পাঁচতলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট একতলা ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। বাড়িটির নাম আজিজ টাওয়ার।

লিখিত বক্তব্যে কাজী আজিজ অভিযোগ করেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ মাঠকর্মী এবিএম আবদুল মতিন চৌধুরী ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর বোনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি কেনেন। পরে তিনি আরো দেড় শতাংশ জমির জাল দলিল তৈরি করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর ফ্ল্যাটবাড়ির একটি অংশ দখলের চেষ্টা করেন। এতে বাধা দেওয়ায় বিভিন্ন সময়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।

কাজী আজিজ বলেন, ২০২৩ সালের ১৩ মে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দাপট দেখিয়ে আবদুল মতিন চৌধুরী ও তার স্ত্রী আজিজুর নাহারের নেতৃত্বে একদল লোক তার ফ্ল্যাটবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ওই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তার বৃদ্ধ মা সারেজাহান বেগম ও বোন সেলিনা আক্তার বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর করা হয়। পরে বাড়িটির একতলা ইউনিট দখল করে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবদুল মতিন চৌধুরী বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেলে তিনি পুনরায় বাড়ির দখল বুঝে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তবে গত ১ সেপ্টেম্বর আবদুল মতিন চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী, ছেলেরা এবং বিভিন্ন এলাকার ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে আবারও বাড়িটিতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন কাজী আজিজ। এ সময় তাকে ও তার বৃদ্ধ মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং পুনরায় বাড়িটি দখল করা হয়।

কাজী আজিজের অভিযোগ, বর্তমানে বাড়ির ভেতরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের অবস্থান করিয়ে তাঁকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। একাধিকবার বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এতে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে চরম দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে তাঁদের।

কাজী আজিজ উল্যা তার বসতবাড়ি দখল, হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুল মতিন চৌধুরীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ