চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গুম, খুন ও গুপ্তহত্যা সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে চট্টগ্রামের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রতিনিধি সিয়াম ইলাহী। সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

৫ দফা দাবি সমুহ হচ্ছে গুপ্ত হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নতুন করে কেউ যেন হত্যার শিকার না হয় সে ব্যবস্থা করা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন, সন্ত্রাস এবং রাজনৈতিক আশ্রয় প্রতিরোধ করা , ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা নেয়া।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে এখনো ছাত্রলীগ যুবলীগের সন্ত্রাসীরা নানা ধরনের উস্কানিমূলক প্রচারণা করছে। এছাড়া গণহত্যার সাথে জড়িত যুবলীগ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদেরকে এখনো গ্রেফতার করা হয়নি ফলে তারা এখনও গুপ্ত হত্যার পরিকল্পনা করছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রতিনিধি সাফায়াত হোসেন , সাইফুর রহমান খান, সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রতিনিধি আবদুর রহমান, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়াত উল্লাহ বায়াত, ইস্ট ডেলটা ইউনিভার্সিটির ছাত্র প্রতিনিধি তওসিফ ইমরুজ, আরমান শাহরিয়ার, ফাহিম, মুনয়িম আছরা, খলিলুর রহমান মুজাহিদ প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজে দস্যুতা বাড়ছে, লুট হচ্ছে মালামাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বেড়েছে জলদস্যুতা। গত মাসেই বিদেশি জাহাজে অন্তত তিনটি দস্যুতার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে বন্দরের বহির্নোঙরে বিদেশ থেকে আমদানি করা জাহাজগুলোতে সুযোগ বুঝে জলদস্যুরা হানা দিচ্ছে। এভাবে বহির্নোঙরে ধারাবাহিক দস্যুতার ঘটনায় শুধু বিপুল পরিমাণ মালপত্র ও সরঞ্জাম লুটই হচ্ছে না, জাহাজের নিরাপত্তা ও নাবিকদের জীবনও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এদিকে হামলার ঘটনায় বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জলদস্যুতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে সম্প্রতি নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে আসা পণ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ খালাস হয় বহির্নোঙরে। নাব্য সংকটে জাহাজগুলো সরাসরি জেটিতে নোঙর করতে পারে না। ছোট আকারের (লাইটার) জাহাজে বেশির ভাগ আমদানি পণ্য খালাস করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি বড় পণ্যবাহী জাহাজ নোঙর করা থাকে সেখানে। এসব জাহাজ থেকে গড়ে দৈনিক দেড় লাখ টন পণ্য খালাস করা হয় লাইটার জাহাজে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের আমদানি-রপ্তানির ৯২ ভাগ পরিচালিত হয়। এটির বহির্নোঙরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে জাতীয় অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি শিপিং অপারেটরদের মধ্যে ঝুঁকির আশঙ্কা বাড়বে, বিমা ব্যয় এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের খরচও বেড়ে যাবে। তাই জরুরি পদক্ষেপ নিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি আমরা।

ভুক্তভোগী ও চট্টগ্রাম চেম্বারের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ১৬ জুলাই ভোরে চট্টগ্রাম বন্দরের চার্লি অ্যাঙ্করেজে নোঙর করা বিদেশি পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ‘তাই শুয়েন’-এ জলদস্যুরা হামলা চালায়। সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্পে স্ক্র্যাপিংয়ের জন্য হংকং থেকে আনা জাহাজটিতে প্রায় ২০ জন সশস্ত্র দস্যু পাঁচটি কাঠের নৌকায় করে এসে আক্রমণ করে। শিপিং এজেন্ট বেন লাইনের মালিক মোশাররফ হোসেন জানান, নোঙর করার সময় একদল দস্যু নাবিকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে, আরেক দল ডেক থেকে নোঙরের দড়ি, ব্যাটারি ও অন্যান্য মূল্যবান সরঞ্জাম লুট করে নেয়। জাহাজের ক্যাপ্টেন সঙ্গে সঙ্গে বন্দর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে রেডিও বার্তা পাঠালেও কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দস্যুরা পালিয়ে যায়।

এর আগে ৩০ জুন স্ক্র্যাপিংয়েল জন্য আমদানি করা ‘এমটি আইআরওএস’ নামের আরেক জাহাজে লুটপাট চালায় জলদস্যুরা। জাহাজটি থেকে কয়েক কোটি টাকার সরঞ্জাম লুট করা হয়। পরে নৌ পুলিশ রাজধানীর বাংলাবাজার এলাকা থেকে প্রায় দুই কোটি টাকার চোরাই মালপত্র উদ্ধার করে। এর আগের দিন ২৯ জুন চার্লি অ্যাঙ্করেজে নোঙর করা ‘এমভি হাই জু’ নামের জাহাজে হামলা চালায় অস্ত্রধারী জলদস্যুরা। ২০ জনের অধিক দস্যু জাহাজে উঠে প্রথমে নাবিকদের জিম্মি করে। পরে জাহাজ থেকে মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট করে।

স্ক্র্যাপিংয়ের জন্য আনা জাহাজটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, জাহাজ থেকে প্রায় এক কোটি টাকার যন্ত্রাংশ লুট করে নিয়ে গেছে জলদস্যুরা।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক তিনটি জলদস্যু হামলার ঘটনায় কোস্টগার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চট্টগ্রাম চেম্বারের চিঠিতেও উল্লেখ করা হয়, লুট হওয়া অধিকাংশ পণ্য এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো সত্ত্বেও দ্রুত কোনো সহযোগিতা মেলেনি।

আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা রিজিওনাল কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট অন কমবেটিং পাইরেসি অ্যান্ড আর্মড রোবেরি অ্যাগেইনস্ট শিপস ইন এশিয়া (রিক্যাপ)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো দস্যুতা বা চুরির ঘটনা ঘটেনি। তবে হঠাৎ করে একের পর এক ঘটনার পর শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরসহ বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংস্থা তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

বঙ্গোপসাগরের বহির্নোঙরে একাধিক জাহাজে চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর কোস্টগার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষ সক্রিয়ভাবে তৎপরতা শুরু করেছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পর্যালোচনা, ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করা হয়। সভায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে বহির্নোঙরে নজরদারি বাড়ানো, অনুমোদিত ওয়াচম্যান নিয়োগ নিশ্চিত করা, জাহাজের আগমনের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে সরবরাহ এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়েত হামীম জানান, বহির্নোঙরে জাহাজে অপরাধ প্রতিরোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে এবং কোস্টগার্ড নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে; ইতোমধ্যে এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটে কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে, জ্বলছেনা চুলা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

তীব্র গ্যাস-সংকটে বিপাকে পড়ছেন চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ। অনেকের বাড়িতে রান্নার গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এমনকি শিল্প উৎপাদন ও সিএনজি পাম্পগুলোতেও এর প্রভাব পড়ছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আগুন লাগার পর থেকেই সংকট শুরু হয়। ওই ঘটনার পর গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এদিকে গ্যাস সংকটে নগরের বহু এলাকায় বাসাবাড়ির চুলা আর জ্বলছে না। রান্না করতে না পেরে পরিবারগুলো বৈদ্যুতিক চুলা ও এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে কাট্টলী, ইপিজেড, পতেঙ্গা, বন্দর ও সীতাকুণ্ড শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় গ্যাস সংকটে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

রেনাববার নগরের আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও ও পাহাড়তলী এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বাসাবাড়িতে রান্না বন্ধ রয়েছে। কোথাও ভোরে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা গ্যাস এলেও সকাল গড়াতেই চাপ একেবারে কমে যায়। কিন্তু সকাল থেকে জ্বলছে না কারো চুলো। ফলে নগরবাসীর বড় একটি অংশ ঝুঁকছেন বিকল্প জ্বালানীতে। কেউ কেউ দীর্ঘ অপেক্ষার পর রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে এনেছেন।

হালিশহরের বাসিন্দা গৃহিণী নাজমা আক্তার বলেন, সকালে একটু গ্যাস পাই, তখন সব রান্না একসঙ্গে করার চেষ্টা করি। না হলে ইন্ডাকশন চুলায় রান্না করতে হয়। এতে বিদ্যুৎ বিলও বেড়ে যাচ্ছে। বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তিন দিন ধরে দুপুর ও রাতে গ্যাস পাইনি। বাইরে থেকে খাবার আনতে হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটা বড় কষ্ট।

চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অনেক পরিবার এখন ছোট সিলিন্ডার ব্যবহার শুরু করেছে। কিন্তু এলপিজির অতিরিক্ত খরচ বহন করা সবার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।এদিকে নগরের অলংকার মোড়, জিইসি, আগ্রাবাদ ও বন্দর এলাকার কয়েকটি ছোট হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্নার সময়সূচি বদলাতে হচ্ছে। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করছে।

আগ্রাবাদের এক হোটেল মালিক আবদুল কাদের বলেন, গ্যাসের চাপ না থাকলে চুলা জ্বলে না। এলপিজিতে রান্না করলে খরচ অনেক বেড়ে যায়। দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যায়, না বাড়ালে লোকসান।অন্যদিকে গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের শিল্প খাতে। পতেঙ্গা, ইপিজেড, কালুরঘাট, অক্সিজেন ও সীতাকুণ্ড শিল্পাঞ্চলের একাধিক কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাসচাপ না থাকায় বয়লার ও জেনারেটর পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।

ইপিজেড এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য যে পরিমাণ গ্যাস দরকার, তার অর্ধেকও পাচ্ছি না। কিছু মেশিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অর্ডার সময়মতো সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এইচএম স্টিলের পরিচালক সরোয়ার আলম বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং সরবরাহ না থাকায় আমরা অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। সম্প্রতি গ্যাসের এ সংকটের জন্য আমাদের উৎপাদন ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। অথচ আমাদের ইউটিলিটি বিল ও ওভারহেড কস্ট (মাথাপিছু ব্যায়) হিসেব করলে কোটি টাকা দৈনিক ক্ষতি হচ্ছে। উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বাড়লে বিক্রয়মূল্যও বেড়ে যেতে পারে।

সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালটি গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই দেশে এলএনজি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)-এর উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেন, টার্মিনালটিতে দুটি বয়লার রয়েছে। এর একটিতে অগ্নিকাণ্ডজনিত কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পুরো টার্মিনাল বন্ধ রাখতে হয়েছে।তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে একটি বয়লার চালু করা সম্ভব হবে। তখন দৈনিক প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু করা যেতে পারে।

জানা গেছে, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামেও লোডশেডিং বেড়েছে। বন্দর এলাকার ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াস বলেন, গ্যাস নেই, আবার বিদ্যুতও বারবার চলে যাচ্ছে। দোকানের ফ্রিজ ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে সমস্যা হচ্ছে।বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে মানুষ বৈদ্যুতিক চুলা বেশি ব্যবহার করায় চাহিদা আরও বেড়ে যাচ্ছে।

গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানী লিমিটেডের (জিটিসিএল) অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, দৈনিক চাহিদার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট সংকট তৈরি হচ্ছে। আমাদের দৈনিক চাহিদা রয়েছে ২৬-২৭’শ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে আমাদের সবক্ষেত্রে সমান ডিস্ট্রিবিউশন ঠিক রাখতে কিছু সময় অফ (বন্ধ) রাখতে হচ্ছে। অথবা চাপ কমাতে হচ্ছে। তাই স্বীকার করতেই হচ্ছে, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে গ্যাসের ভোগান্তিতে মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ