ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা দলীয়করণ করার বিপক্ষে। তারেক রহমানের নির্দেশ, আমরা কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করতে চাই না। বাংলাদেশটা ধ্বংস হয়ে গেছে দলীয়করণের কারণে। প্রত্যেকটি জায়গায় দলীয়করণ করতে করতে দেশ আজ এ জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে।

নতুন বছরের প্রথমদিন বুধবার (১ জানুয়ারী) দুপুরে নগরীর মেহেদীবাগস্থ বাসভবনে চট্টগ্রাম বঞ্চিত ব্যবসায়ী ফোরামের উদ্যোগে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বঞ্চিত ব্যাবসায়ী ফোরামের আহবায়ক এস এম সাইফুল আলমের সভাপতিত্বে ও ফোরামের পরিচালক সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী রোকন উদ্দিন মাহমুদের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএ এর সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, বঞ্চিত ব্যবসায়ী ফোরামের সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম চৌধুরী।

ব্যবসায়ীদের হয়ে কে নেতৃত্ব দিবে তা নিজেদের মধ্যে ঠিক করতে হবে জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, যখন আমি মন্ত্রী ছিলাম তখন কে কোথাকার, কোন চেম্বারের, কোন এসোসিয়েশনে কে হবে, সেসব মাথা ঘামায়নি। কারণ, এটা একেবারে উচিত না। আপনাদের নেতা আপনাদের নির্ধারণ করতে হবে। কে নেতৃত্ব দিবে সেটার সিদ্ধান্ত আপনাদের। সেখানে আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। আমরা (বিএনপি) চাইও না।

দেশের মানুষের মনোজগতের বিশাল পরিবর্তন হয়েছে, তা ধারণ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটা শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরে মানুষের মনোজগতের যে বিশাল পরিবর্তন হয়েছে, সেটা আমরা উপলব্ধি করতে পারছি না। এই পরিবর্তনের সাথে যারা নিজেদের ধারণ করতে পারবে না, আগামী দিনে সে রাজনীতিবিদ হোক, আর যেই হোক তার কোনো ভবিষ্যৎ নেই দেশে। মানুষের প্রত্যাশা, আকাঙ্ক্ষা, ধারণা সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে গেছে। রাজনীতিও আগের মতো চলবে না।

ব্যবসায়ে নতুন ধারণা, সততা ও স্বচ্ছতা আনতে হবে জানিয়ে সাবেক এ বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আপনাদের (ব্যবসায়ী) ট্রেড বডিও চলবে না।এগুলোর মধ্যে নতুন ধারণা আনতে হবে। এখানে সততা আনতে হবে, স্বচ্ছতা আনতে হবে। মানুষ যাতে বাইরে থেকেও দেখতে পারে, ভেতর থেকেও দেখতে পারে। এরমধ্যে ঘোলাটে করার সুযোগ নেই। তাই এটা আমাদের সকলকে ধারণ করতে হবে।

দেশকে পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতি দিয়ে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, এ সুযোগ যদি আমরা দেশকে পরিবর্তন করার জন্য এবার ব্যবহার করতে না পারি, তাহলে আমরা সকলে ডুবে যাব। রাজনীতিবিদরা ডুববে, দেশের জনগণ ডুববে, ব্যবসায়ীরা ডুববে, সিএনএফ এসোসিয়েশনও কাজ করতে পারবে না। তাই এ সুযোগটা নিতে হলে সকলের মধ্যে সততা, স্বচ্ছতা, নতুন ভাবনা এবং নতুন চিন্তায় আমাদের সামনের দিকে এগোতে হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশটা যেভাবে দলীয়করণ এবং লুটপাটের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সিএনএফ এসোসিয়েশন কিন্তু তার বাইরের কেউ না। শুধু যে চট্টগ্রাম সিএনএফ এসোসিয়েশন ধ্বংস হয়েছে তা নয়, দেশে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানই এভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। তাই রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্ত করে সকলের জন্য একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করে দেওয়া। দল হিসেবে এ দায়িত্বটা পালন করছি। কে নেতৃত্বে যাবে, কোন দল যাবে, এসবের মধ্যে আমরা (বিএনপি) নেই। আপনারা আমাদের সহযোগিতা করুন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করবো যাতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে পারি।

ব্যবসায় নেতৃত্ব ভালো না হলে প্রতিষ্ঠানে ক্ষতি জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, আপনারা নেতৃত্ব যদি ভালো আনতে না পারেন, এতে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশের তো হবেই, অর্থনীতিরও হবে। তবে সবচেয়ে বেশি আপনাদের প্রতিষ্ঠান ক্ষতি হবে। আপনারা যারা মেম্বার আছেন, তাদের নিজেদের স্বার্থ এবং দেশের স্বার্থ দেখতে হবে। কিন্তু আমরা নিজেদের স্বার্থ নিয়ে এতো গভীরে চলে যায়, তখন আমরা দেশের স্বার্থ দেখি না।

প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতে হলে দোসরদের জায়গা দেওয়া যাবে না জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতে হলে দোসরদের জায়গা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি দোসরদের জায়গা দেওয়া হয় তাহলে নিজেদেরই ক্ষতি হবে। তাই আপনাদের নিজেদের অবস্থান নিতে হবে। বাইরে থেকে গিয়ে কিছু করতে পারবেন না। দোসররা যাতে ফিরে না আসে, যারা লুটপাট করেছে, দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে, অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে, দেশের রাজনীতি ধ্বংস করে দিয়েছে, প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে, সেই দোসররা যদি আবার আপনাদের এখানে ফিরে আসে। তাহলে সেখানে তো আপনারা নিজেরাই আত্মহত্যা করবেন। এরজন্য আপনাদের যে অবস্থান নেওয়া দরকার, তা আপনাদের (ব্যবসায়ী) নিতে হবে। বাকিরা আপনাদের সহযোগিতা করতে পারবে, কিন্তু আপনাদের কাজ আর কেউ করতে পারবে না। এজন্য শক্ত অবস্থান নিতে হবে।

মাঝামাঝি অবস্থাণে কোনো লাভ হবে না জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, এখানে মাঝামাঝি কোনো অবস্থান নেই। মাঝামাঝি গেলে আপনাদের কোনো লাভ হবে না। দোসরদের বিরুদ্ধে যারা শক্ত অবস্থান নিয়েছে, তারা সফল হয়েছে। আর যারা নিতে পারে নাই, চেষ্টা করেছে, আবার ভাবছে সম্পর্কের কথা এখানে এসবের কিন্তু কোনো জায়গা নেই।

দোসরদের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আপন ভাই হলেও দোসরদের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। আমরা আত্মীয়স্বজন আছে যারা দোসরদের সঙ্গে ছিল, তাদের আমি বাসায়ও প্রবেশ করতে দিই না।

দোসরদের নির্বাচন তো দূরের কথা আগে জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে মন্তব্য করে আমীর খসরু বলেন, যারা এত বছর লুটপাট করেছে, এদের ফিরে আসার কোনো অধিকার নেই। আর ফিরে আসার দরকারও নেই, এদের তো হাজার হাজার কোটি টাকা হয়ে গেছে। তাদের আর ব্যবসা করার দরকার নেই। এদের এখন জেলে দেওয়া দরকার শুধু। তাদের যারা হাজার কোটি টাকার মানুষ হয়েছে, তারা কেউ নিয়মের মাধ্যমে হয়নি। অনিয়মের মাধ্যমেই হয়েছে, তাই এদের জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে। নির্বাচন করা তো দূরের কথা, তাদের তো দেশের মানুষের সামনে, আইনের সামনে জবাবদিহিতা করতে হবে। প্রথমে জবাবদিহি তারপর নির্বাচনের ব্যাপার। সেটা অনেক পরের কথা। শেখ হাসিনার মতো বিভিন্ন এসোসিয়েশনের যারা পালিয়ে গেছেন তারাও মেসেজ কলের মাধ্যমে নির্দেশ দেন। যারা এসব নির্দেশ গ্রহণ করে তাদেরও জেলে দেওয়া দরকার।

এস এম ফজলুল হক বলেন, বাংলাদেশের ট্রেড বডি ও এসোসিয়েশনগুলোকে বাদ দিলে কোন অর্থনীতিই হয় না। অর্থনীতি ছাড়া দেশ চলতে পারে না। দেশে যত ট্রেড বডি ও অ্যাসোসিয়েশন আছে সবগুলোকে দেখভাল করে দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দিয়েছে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। তার সাথে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, কিছু ট্রেড বডি ও অ্যাসোসিয়েশনকে বাদ দিলে বাকিগুলো গার্বেজের মত। আমির খসরু নির্দেশ দিয়েছেন এইগুলিকে দূষণমুক্ত করে সুশৃংখলভাবে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। তাই বিগত দিনে যেসব ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারেন নাই, আপনারা সুসংগঠিত হোন। দেশের স্বার্থে দুর্নীতিমুক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলুন।

এরশাদ উল্লাহ বলেন, বিগত দিনে যারা সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের দায়িত্বে ছিল তারা সিএন্ডএফকে খনি পেয়েছে মনে করতো। সেখানে তাদের যে সিন্ডিকেট আছে তা ভাঙতে হবে। সিএন্ডএফে সব তো ফ্যাসিবাদের ভোটার।তাদেরকে বাদ না দিলে নির্বাচনে গিয়ে কোন লাভ হবে না। এনবিআরের সংস্থার কমিটির কাছে তাদের অনিয়মের বিষয়ে জানাতে হবে। এই নির্বাচন কমিশন ভেঙ্গে দিতে হবে। নতুন করে কমিশন গঠন করতে হবে।

নাজিমুর রহমান বলেন, বন্দর নগরী চট্টগ্রাম হচ্ছে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। ব্যবসা বাণিজ্যের মূল প্রাণ কেন্দ্র এই চট্টগ্রাম। বিগত ১৭ বছর ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানকে সঠিকভাবে ব্যবসা করতে দেওয়া হয়নি। সাধারণ ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। তাই আগামী সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের নির্বাচনে ফ্যাসিবাদের দোসরদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে। নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে ব্যবসাবান্ধব সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন নিশ্চিত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে এস এম সাইফুল আলম বলেন, বিগত সরকারের দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বঞ্চিত ব্যবসায়ী ফোরামের দৃঢ় ভূমিকার কারণে চট্টগ্রাম চেম্বারকে আমরা কলঙ্ক মুক্ত করতে পেরেছি। আমাদেরকে অনেক প্রলোভন দেখিয়েছে কিন্তু আমরা কোন কম্প্রমাইজ করি নাই। সাধারণ ব্যবসায়ীদের স্বার্থে আমরা চট্টগ্রাম কাস্টম সিএনএফ এসোসিয়েশনে অযাচিত হস্তক্ষেপ করি নাই। কোন প্রকার জোর জবরদস্তি করি নাই। নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারে অনেক ব্যবসায়ীর আপত্তি আছে। এই কমিশনের অধিনে যদি নির্বাচন করে সেটি প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী শওকত আলী, আবু ছালেহ, এড. ওমর ফারুক, আবদুল্লাহ আল মিলন, ওয়াহিদ মুরাদ, নুরুল হক, নুরুল ইসলাম, কামরুজ্জামান, আলী আহসান, আলমগীর সরকার, এনামুল হক চৌধুরী, এ এস এম ইসমাইল খান, মোরশেদুল আলম, শাহনেওয়াজ রুমি, তাজুল ইসলাম, গোলাম নবী, মো. আলমগীর, আবু তাহের, উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী ফোরামের জয়নাল আবেদীন জিয়া, হুমায়ুন কবির সোহেল, জামাল উদ্দিন বাবলু সহ বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ী।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নিধারিত ভাড়া না মানলে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যবস্থা: ইউএনও

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সিএনজি অটোরিকশায় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট না থাকলে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপজেলার সব সিএনজি অটোরিকশায় দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার চার্ট টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বোয়ালখালী উপজেলা অডিটোরিয়ামে সিএনজির ভাড়া, যাত্রীসেবা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক।

সভায় যাত্রীদের স্বার্থ, চালক ও মালিকদের ন্যায্যতা এবং সিএনজি পরিবহনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে সিএনজিতে যাত্রী উঠানামার ভাড়া ৫ টাকা এবং ইউএনও কার্যালয় থেকে ফুলতল পর্যন্ত ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এ ছাড়া স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে ইউনিফর্ম পরিহিত কিংবা বৈধ পরিচয়পত্রধারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি সিএনজি অটোরিকশায় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব গাড়িতে ভাড়ার চার্ট লাগানো নিশ্চিত করতে হবে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ভাড়ার চার্ট না থাকা গাড়ির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় না করা এবং যাত্রীদের সঙ্গে শালীন, ভদ্র ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে চালকদের নির্দেশ দেওয়া হয়। যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, বোয়ালখালীর পাঁচটি স্টেশনে পূর্বের নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে ৫ টাকা করে বৃদ্ধি করা হবে। অন্য স্টেশনগুলোর ভাড়া আগের মতোই বহাল থাকবে।

সভায় বোয়ালখালী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কানিজ ফাতেমা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক চেয়ারম্যান, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ইসহাক চৌধুরী, বিএনপি নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা মুজাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি অধীর বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন দুলালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, এস এম মোদাচ্ছের, বোয়ালখালী সিএনজি অটোরিকশা টেম্পু শ্রমিক ও মালিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মো. ইদ্রিস, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাবিবুর রহমান, শ্রমিকনেতা আবদুল সাত্তার এবং কালুরঘাট-ফুলতল, শাকপুরা, সিও অফিস, জোটপুকুর, কানুনগোপাড়া, দাশেরদীঘি, বেংগুরাসহ বিভিন্ন এলাকার সিএনজি চালক ও সমিতির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।সভায় উপস্থিত বিভিন্ন পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে যাত্রীবান্ধব, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ সিএনজি পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

ইঞ্জিন দ্রুত মেরামতে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের নির্দেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি (আরটিএ), লোকোসেড, সিজিপিওয়াই, কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ (সিসিবিএল) ও পদ্মা অয়েল সাইডিং লাইন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এসব স্থাপনা পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনকালে রেলওয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (সিই), চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (সিওপিএস), চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম), চট্টগ্রামের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) এবং পাহাড়তলীর ডিএসডব্লিউসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমে রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি (আরটিএ) পরিদর্শন করেন মহাব্যবস্থাপক। এ সময় তিনি একাডেমির একাডেমিক ভবন, প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ কক্ষ, ডরমেটরি ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে বিভাগীয় প্রধানদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।এরপর তিনি সিজিপিওয়াই, টার্ন টেবিল, ট্রায়াঙ্গেল লাইন, ইয়ার্ড লাইন ও লোকোসেড পরিদর্শন করেন। লোকোসেড পরিদর্শনকালে ইঞ্জিন দ্রুত মেরামত ও সচল রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন পরামর্শ ও নির্দেশনা দেন।

পরে সিজিপিওয়াই এলাকায় কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ (সিসিবিএল) পরিদর্শন করেন মহাব্যবস্থাপক। এ সময় সিসিবিএলের সঙ্গে রেলওয়ের বিভিন্ন চুক্তি, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া দ্মা অয়েল সাইডিং লাইন পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ