আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামের ডিসি পার্কে সৌরভ ছড়াচ্ছে দুই লক্ষ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট ডিসি পার্কেতৃতীয়বারের মতো ফুল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। পার্কটিতে এখন সৌরভ ছড়াচ্ছে ১৩৬ প্রজাতির দুই লাখের অধিক বাহারি ফুল। শনিবার থেকে শুরু হওয়া মাসব্যাপী এ ফুল উৎসব চলবে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পার্ক দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। টিকিটের মূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা।
এবারের ফুল উৎসবে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষদের জন্য রয়েছে ১৩৬ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের সমারোহ এবং প্রতিদিন বিনোদনমূলক নানা মনোমুগ্ধকর আয়োজন। মাসব্যাপী আয়োজিত এ ফুল উৎসবের বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল, মাসব্যাপী গ্রামীণ মেলা, বই উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, ফুলের সাজে একদিন, পিঠা উৎসব, নৌকা বাইচ, লেজার লাইট শো, ভিআর গেম, মুভি শো, ভায়োলিন শো, পুতুল নাচ, পানিতে ভাসমাস ফুল বাগানসহ নানা রকমের আয়োজন। এছাড়া উৎসবে আসা দর্শনার্থীদের নিজেদের ছবির ক্যারিকেচার আঁকার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। যা এখানে আসা প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ফুল পবিত্রতার প্রতীক, সৌন্দর্যের প্রতীক। ফুল মানুষের মনে প্রশান্তি এনে দেয়, মানুষের মনে নির্মল আনন্দ নিয়ে আসে। ফুলের সমারোহে এসে মানুষ সব মন্দ কাজ ভুলে সমাজের ইতিবাচক কার্যক্রমে নিজেকে সম্পৃক্ত করে। সমাজের সকল ¯‘র থেকে নেতিবাচক মনোভাব দুর করে ফুল সমাজে ভালবাসার নতুন বারতা নিয়ে আসে।
সেই আকাঙ্খাকে সামনে রেখে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে সীতাকুণ্ড উপকূলে বেদখল হওয়া ১৯৪ একর জায়গা উদ্ধার করে জেলা প্রশাসন ৩য় বারের মতো চট্টগ্রাম ফুল উৎসব আয়োজন করেছে। আগে এ জায়গাটি মাদক সেবীদের আখড়া ছিলো। সে স্থানে এখন বসেছে ভালবাসার মিলনমেলা তথা ফুল উৎসব। ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, গোলাপ-গাঁদা প্রভৃতি দেশী বিদেশী ১৩৬ প্রজাতির ফুলের পসরা বসেছে এ মেলায়। ফুলের সৌরভে চারদিক মাতোয়ারা। ফুলের সুবাসে সুবাসিত পুরো চট্টগ্রাম। এহেন নয়নাভিরাম ফুল উৎসব শুরু হয়েছে। শনিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রধান অ।তিথি হিসেবে থেকে ড. শেখ আব্দুর রশীদ এ উৎসব উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ফিতা কেটে, বেলুন ও শান্তির কপোত উড়িয়ে মাসব্যাপী চট্টগ্রাম ফুল উৎসবের উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথি অন্যান্য অতিথিদের নিয়ে ভাসমান ফুল বাগানসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের সমারোহ পরিদর্শন করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমরা যারা দায়িত্বশীল আছি এবং ভবিষ্যতে যারা দায়িত্ব গ্রহণ করবে সবার জীবনকে ফুলের মত পবিত্র করে গড়ে তুলতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, চট্টগ্রামের বড় ঐতিহ্য হচ্ছে মেজবান। এটা বছরের পর বছর ধরে চলছে বিধায় ঐতিহ্যতে রুপ নিয়েছে। একইভাবে যদি এ ফুল উৎসব টিকিয়ে রাখা যায় আগামীতে এটাও চট্টগ্রামের ঐতিহ্যে রুপ নেবে। মানুষের মনের প্রশান্তি মেটাতে এ ধরনের উৎসবের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মানুষের এ উদ্যোগ যখন দেশের সবাই জানতে পারবে তখন অন্যরাও ফুল উৎসব করার জন্য এগিয়ে আসবে এবং এটার জন্য সরকার সবোচ্ছ সহযোগিতা করবে।
তিনি আরো বলেন, ফুল আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফুল মনের জড়তা, সংকীর্ণতা দূর করে মানুষের মনকে নির্মল আনন্দ দেয়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের জীবনে ফুল ব্যবহার হয়ে থাকে। আজকে ১৩৬ প্রজাতির প্রায় ১ লক্ষ ফুল দেখে আমার মন প্রশান্তিতে ভরে গেছে। আগামী প্রজন্মের মনে ফুলের মাধুর্যকে ফুটিয়ে তুলতে এ ফুল উৎসব সহায়তা করবে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। স্থানীয় সরকারের অতিরিক্ত সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোঃ খোরশেদ আলম খান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ নুরুল্লাহ নুরী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, সুধীজন ও স্থানীয় শিল্পী, কলকৌশলী, অসংখ্য দর্শণার্থীসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় দলীয় নৃত্য, সঙ্গীত, দ্বৈতসঙ্গীত ও পাপেট শো পরিবেশিত হয়।
সভাপতির বকএব্য জেলা প্রশাসক বলেন, আপনার সবাই জানেন ফুল পবিত্রতার প্রতীক। আমরা মানুষকে যখন আর্শীবাদ জানাই তখন বলি, তোমার জীবন ফুলের মত সুন্দর হোক। তাইতো ফুল উৎসব। আগে এ জায়গাটা মাদকের অভয়ারণ্য ছিল। দখলদার ও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে ১৯৪ একর জায়গাকে উদ্ধার করে ফুলের পবিত্র ভূমিতে উন্নীত করতে পেরে আনন্দ অনুভব করছি। এ ফুল উৎসবকে শুধু মাসব্যাপী না করে সারাবছর যাতে করা যায় এবিষয় নিয়ে আমাদের চিন্তা রয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৪ একর এলাকাজুড়ে গড়ে উঠা ডিসি পার্কে তিনটি বিশাল আয়তনের পুকুর রয়েছে। আরও রয়েছে ফুডকোর্ট, পর্যটকদের বসার স্থান, সেলফি কর্নার, অনুষ্ঠানস্থল, ভাসমান ফুল বাগান, হাটা চলার উন্মুক্ত স্থান, অস্থায়ী খেলার মাঠ, স্থায়ী ফুলের বাগান, শিশুদের খেলার মাঠ, ভিআইপি জোন, কন্ট্রোল রুম, রেস্টুরেন্ট, ফুড কর্নার, সানসেড ভিউ পয়েন্ট, টিউলিপ গার্ডেন, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান কর্নার ও পাবলিক টয়লেট।
সরেজমিনে ফুল উৎসবকে ঘিরে নতুন করে সাজিয়ে তোলা ডিসি পার্কে গিয়ে দেখা যায়, পুরো পার্কটি ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে। তোরণ থেকে শুরু করে পানির ঢেউয়ের মাঝেও হাসছে নানান প্রজাতির ফুল। প্রতিটি মোড়েই হাওয়ায় দুলছে রঙিন ফুলগুলো। যা দেখে ফুলের পাশে দাঁড়িয়ে কিছু ছবি তোলার শখ এড়াতে পারছেন না ছেলে-বুড়ো কেউই।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলাউদ্দিন বলেন, ডিসি স্যারের নির্দেশনা মেনে পার্কটিতে মনের মতো করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। আশা করছি প্রতিদিন উপচে পড়া ভিড় থাকবে সেখানে। তিনি আরো বলেন, এখানে আগত দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য বেশ কিছু খাবারের দোকান, নানান স্টল, পর্যাপ্ত টয়লেট থেকে শুরু করে সবই নির্মাণ করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ডের ইউএনও কে এম রফিকুল ইসলাম জানান, ফুল উৎসবকে নতুন করে ভিন্নমাত্রায় সাজিয়ে তুলতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গত কয়েকমাস ধরে টানা কাজ করছিলেন এক ঝাঁক কর্মকর্তা-কর্মচারী। এবারের মেলার মঞ্চ করা হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের আদলে। মেলার গেট থেকে শুরু করে ভেতরে উপরে নিচে যেদিকেই চোখ পড়বে শুধু ফুল আর ফুল। দর্শনার্থীদের বিনোদনের সব ব্যবস্থা আছে এখানে। তিনি আশা করছেন এখানে আসা প্রতিটি দর্শনার্থী বেশ উপভোগ করবেন।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামরুজ্জামান বলেন, দেশে এরকম ফুল উৎসব হচ্ছে শুধুমাত্র ডিসি পার্কেই। চট্টগ্রামের মানুষের বিনোদনের জন্য এত সুন্দর স্পট আর নেই। তাই গতবছর এখানে লাখ লাখ মানুষের আগমন হয়েছে। দর্শনার্থীদের বিনোদনের কথা মাথায় রেখে পার্কে লক্ষাধিক ফুলের পাশাপাশি দুটি বিশাল দিঘিতে নানান রকমের রাইড, ভাসমান ফুল বাগান থেকে শুরু করে এমন অনেক কিছুই করা হয়েছে তাতে যেকোন দর্শনার্থীর মন মুগ্ধ হবেই।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা আরো জানান, জুলাই বিপ্লবের নানান চিত্রও তুলে ধরা হবে এবারের মেলার স্টলে। সব মিলিয়ে ফুল উৎসবে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখা হয়নি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার গুঁড়া দুধ আমদানি করে : প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রেড চিটাগাং ক্যাটল (আরসিসি)-এর গুরুত্ব তুলে ধরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, লাল গরুর দেশ চট্টগ্রাম। দুধ হয়তো কিছুটা কম দেয়, কিন্তু মাংসের দিক থেকে এবং জাতগত বৈশিষ্ট্যে রেড চিটাগাং ক্যাটলের তুলনা পৃথিবীর কোথাও নেই। তাই এই জাত সংরক্ষণ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। উপদেষ্টা বুধবার সকালে কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এ কে এগ্রো এন্ড ডেইরি হাব সংলগ্ন মাঠে “চট্টগ্রাম অঞ্চলে ডেইরি খাতের উন্নয়ন: সম্ভাবনা ও করণীয়” -শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপষ্টো বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে গুঁড়া দুধ আমদানি করে। এই টাকা যদি দেশীয় দুধ উৎপাদন বাড়াতে ব্যয় করা হয়, তাহলে আমদানির প্রয়োজন কমবে। গুঁড়া দুধ তরল দুধে ভেজালের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। তাই আমাদের শপথ নিতে আমদানি কমিয়ে দেশীয় তরল দুধের উৎপাদন বাড়াতে হবে।

বিদ্যুৎ বিল ও ভর্তুকি প্রসঙ্গে উপষ্টো বলেন, ব্যাপক আলোচনা ও প্রচেষ্টার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্প খাতে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল রেয়াত এবং ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া সম্ভব হয়েছে। এটি প্রাথমিক উদ্যোগ হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। তিনি খামারি নিবন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, নিবন্ধন ছাড়া প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব নয়। অনলাইনে নিবন্ধন হলে সব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে এবং নীতিনির্ধারণ সহজ হবে।

উপদেষ্টা বলেন, প্রাণিসম্প ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)-এর মাধ্যমে খামারিরা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, পিজি গ্রুপ গড়ে উঠেছে এবং অনেকের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে ডেইরি কার্যক্রম। তিনি বলেন, অনেকে বলছেন, লাভ-ক্ষতির হিসাব না করেও এটি এখন তাদের জীবনের অংশ। এর মানে ভবিষ্যতে এখান থেকেই তারা টেকসইভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।
নারীরে উদ্দেশে তিনি বলেন, দুধ শুধু উৎপানের পরিসংখ্যান নয়-মানুষ কতটা দুধ গ্রহণ করছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য দুধ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যা হাড়ের রোগ ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সহায়ক।

এলডিডিপি’র মাধ্যমে স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, স্কুলে দুধ সরবরাহ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দরিদ্র ও শহুরে শিশুদের জন্য যা কার্যকর উদ্যোগ। তিনি বলেন, বাংলাশে তরুণদের দেশ। ডেইরি ইন্ডাস্ট্রিতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। আমরা সংগ্রামী জাতি-দেশের উন্নয়নের জন্য এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

সেমিনারে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাশে ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মিজ শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (কৃত্রিম প্রজনন) মোঃ শাহজামান খান তুহিন, পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামছুননাহার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (পরিচালক) ডা. মোঃ আতিয়ার রহমান এবং এ কে এগ্রো এন্ড ডেইরি ফার্মের পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেইন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোঃ বয়জার রহমান। এছাড়া এলডিডিপিথর আওতায় ডেইরি হাব কার্যক্রম: বাস্তবায়ন, অগ্রগতি ও সম্ভাবনা শীর্ষক উপস্থাপনা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক ডা. মোঃ মোস্তফা কামাল।

চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াতের ঘাঁটিতে ‘পুরোনোর’ সাথে ‘নতুন’র লড়াই।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-১৫ আসনটি জামায়াতে ইসলামীর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আসন্ন নির্বাচনে আসনটিতে জামায়াত-বিএনপি প্রার্থী বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।এই আসনে জামায়াত এবার প্রার্থী করেছে দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য পোড়খাওয়া রাজনীতিক শাহজাহান চৌধুরীকে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন প্রথমবারের মতো নির্বাচনি লড়াইয়ে আসা নাজমুল মোস্তফা আমিন।
ভোটের মাঠের ‘পুরনো খেলোয়াড়’ শাহাজাহান চৌধুরীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক আর নবাগত নাজমুল মোস্তফা আমিনের ধানের শীষের প্রচার চলছে সমানতালে।

প্রথমবার খেলতে নেমে তরুণ নাজমুল বাজিমাত করবেন না-কি বয়সে প্রবীণ শাহজাহানের শিরোপা অক্ষুন্ন থাকবে- লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফল দেখার অপেক্ষায় আছেন সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার আপামর জনসাধারণ।
এদিকে প্রচারে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার মানুষের কাছে সেই নির্যাতনের কাহিনি তুলে কাতর কণ্ঠে ভোট প্রার্থনা করছেন শাহজাহান চৌধুরী। বিভিন্ন গণসংযোগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি শাহজাহান চৌধুরী, আমি বড় মজলুম, নির্যাতিত। সময়ে সময়ে নয়টি বছর আমি কারাগারে কাটিয়েছি। আমি জেলে থাকা অবস্থায় আমার মা আমাকে ছেড়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমি বড় ছেলে হিসেবে নিজের মাকে কবরে দেওয়ার সুযোগ পাইনি। আমাদের নেতারা ফাঁসির কাষ্ঠে গিয়েছেন।

আল্লামা সাঈদীকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে। আমি রাজপথে রক্ত দিয়েছি। আমি আপনাদের দুয়ারে এসেছি। আপনারা আমাকে ফেরত দেবেন না। অতীতে যেভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আপনারা ভোট দিয়ে আমাকে জয়ী করেছিলেন, আমি আবারও আপনাদের কাছে একটি ভোট ভিক্ষা চাই। আগামীদিনে আমি নিরাপদ, শান্তির সাতকানিয়া-লোহাগাড়া গড়ে তুলব। ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তাঘাট- আপনাদের যা যা প্রয়োজন, আমি আপনাদের পাশে থাকব।

অন্যদিকে নাজমুল মোস্তফা আমিনও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরে ভোটারদের নিজের দিকে টানার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি সন্ত্রাসমুক্ত সাতকানিয়া-লোহাগাড়া গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে উভয় প্রার্থীই বিরত আছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগে গিয়ে নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, ১৬ বছর আমি রাজপথে ছিলাম।

আওয়ামী লীগ আমার ওপর অনেক জুলুম করেছে। আমি ঘরে থাকতে পারিনি। রাজনীতিতে আমার ত্যাগের জন্য দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে এ আসনে প্রার্থী করেছেন। সাতকানিয়া ও লোহাগাড়াবাসীর কাছে আমার আকুল আবেদন, আপনারা গত ৩৬ বছরে এখানে বিভিন্ন প্রতীকের অনেক প্রার্থীকে দেখেছেন। এবার ধানের শীষে আপনাদের ভোট চাই। সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় আমি সন্ত্রাসের কবর রচনা করব। মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারবে, কথা দিচ্ছি। উন্নত, সমৃদ্ধ, আধুনিক এলাকা গড়ার জন্য আপনারা ধানের শীষে ভোট দিন।

ভোটের মাঠের কী অবস্থা— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধানের শীষ জনগণের প্রতীক। ধানের শীষ মানেই জোয়ার, ধানের শীষ মানেই ঘূর্ণিঝড়। ইনশাল্লাহ, আমি সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার সর্বস্তরের জনগণের বিপুল সাড়া পাচ্ছি। ধানের শীষ বিপুল ভোটে জয়ী হবে বলে আমি আশাবাদী। তবে এখানে সন্ত্রাসীদের দাপট দেখতে পাচ্ছি। তারা কিছু একটা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করেছি, তারা যেন ভোটের দিনের আগেই অবৈধ অস্ত্র, লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার করে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে।

জানা গেছে, পুরো লোহাগাড়া উপজেলা ও সাতকানিয়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৫। এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৬ হাজার ৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭০ হাজার ৯১৫ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৪ জন। নির্বাচনে প্রার্থী মাত্র তিনজন। জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী ও বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিনের সঙ্গে প্রার্থী হিসেবে আরও আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শরীফুল আলম চৌধুরী।

তিনবার নির্বাচন করে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও গেল ২৫ বছরে চারটি সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রামের আলোচিত নেতা শাহজাহান চৌধুরীকে। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে জরুরি অবস্থায় এবং আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরের অধিকাংশ সময়ই তাকে জেলখানায় কাটাতে হয়েছে। অর্ধশতাধিক মামলার আসামি হয়েছিলেন। কারাগারের বাইরে থাকলেও দিন কাটাতে হয়েছে লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে।

এছাড়া শাহজাহান চৌধুরী ১৯৯১ সালে তরুণ বয়সে প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) হেভিওয়েট নেতা আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হলেও বিএনপির প্রার্থী অলি আহমদের কাছে পরাজিত হন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট থেকে এ আসনে প্রার্থী করা হয়েছিল শাহজাহান চৌধুরীকে। কিন্তু অলি আহমদ ওই আসনে নির্বাচন করতে অনড় অবস্থান নেন। ফলে জোট থেকে আসনটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

অলি আহমদ ধানের শীষে এবং শাহজাহান চৌধুরী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হন। নির্বাচনে তিনি অলি আহমদকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে আনেন।কিন্তু ২০০৭ সালে এক-এগারো প্রেক্ষাপট পরবর্তী জরুরি অবস্থায় শাহজাহান চৌধুরী গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। সেই মামলায় সাজা হলে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে পারেননি। পরে অবশ্য ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে সাজা বাতিল হয়। ওই নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আরেক জামায়াত নেতা আ ন ম শামসুল ইসলাম প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন।

২০১৪ সালে ‘একতরফাভাবে’ অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নিয়ে প্রার্থী করে আ ন ম শামসুল ইসলামকে। বিতর্কিত ওই নির্বাচনে তাকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি। এর ফলে ২৫ বছর পর জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন নিয়ে আবারও ভোটের মাঠে এসেছেন শাহজাহান চৌধুরী।

অন্যদিকে নাজমুল মোস্তফা আমিন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এর আগে তিনি দক্ষিণের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৬ বছরে দলের কঠিন দুঃসময়ে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দিয়ে ও মামলা মোকাবিলায় সহযোগিতা করে তিনি দলের ভেতর গ্রহণযোগ্যতা পান বলে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
নাজমুল মোস্তফা আমিন ছাড়া চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আরও তিনজন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

এরা হলেন- চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. মহিউদ্দিন, বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন ও মুজিবুর রহমান। নাজমুলকে প্রার্থী করা হলে তিনজন ও তাদের অনুসারীরা বিদ্রোহ করেছিলেন। কিন্তু হাইকমান্ডের নির্দেশে পরবর্তী সময়ে তিনজনই নাজমুলের পক্ষে কাজ করতে সম্মত হন। বর্তমানে আসনটিতে ধানের শীষের জয়ের জন্য নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ