আজঃ মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

বিদেশে চাকুরীর নামে ১৬ লাখ টাকা প্রতারণা, জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

ক্রাইম রিপোর্টার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুর মহানগরীতে গরীব পরিবারের ৪ যুবক স্বপ্ন দেখছিলেন বিদেশ গিয়ে সংসারের অভাব ঘোচাবেন। এজন্য প্রতারক চক্রের প্রলোভনেই তাদেরকে ১৬ লাখ টাকা দেন। কিন্তু পরে এই প্রতারক চক্র সৌদিআরবে (বিদেশ) ৩ যুবককে না পাটিয়ে তাদের টাকা আত্মসাৎ ও ১ যুবককে অবৈধভাবে বিদেশ পাঠিয়ে জিম্মি করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করায় প্রতারণার শিকার হয়ে এখন তারা সর্বশান্ত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

 

সম্প্রতি সরেজমিনে জিএমপি সদর থানার রথখোলা ও পূর্ব চান্দনা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ৩ যুবক ও তাদের পরিবারসহ জিম্মি হওয়া যুবকের পরিবারের লোকজনের আহাজারির দৃশ্য। বিদেশে যেতে না পেরে প্রতারণার শিকার হওয়া এই যুবকরা লাখ লাখ টাকা খুইয়ে বর্তমানে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতারণার শিকার যুবকরা হলেন- রথখোলা এলাকার হতদরিদ্র কাজী মোঃ মিলন মাহমুদের ছেলে কাজী মেহেদী হাসান (২৯), মোঃ আনোয়ার হোসেনের ছেলে মোঃ মাজারুল ইসলাম (২৮), পূর্ব চান্দনা এলাকার মোঃ জামাল উদ্দিনের ছেলে মোঃ লাল চাঁন (২২) এবং বর্তমানে সৌদি আরবে আটক মোঃ ইসমাইল হোসেনের ছেলে রমজান (২৯)। প্রতারনার শিকার চার যুবকের পক্ষে কাজী মোঃ মিলন মাহমুদ প্রতারক সদস্যের ৪ জনকে আসামী করে ২০১২ সনের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনসহ দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৬ ধারা বিধান মতে সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।

 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর থানার লোহাগাছ এলাকার মোঃ মকবুল হোসেনের ছেলে মোঃ রিফাত খান সৌদি আরবে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত। সে এই প্রতারক চক্রের প্রধান। তার সহযোগী- তার স্ত্রী নাজমা ও ভাই রিয়াদ, মোঃ নুরুল ইসলাম নুরুর ছেলে মাহিন (২৩), বদরুল ইসলামের ছেলে মোঃ তারেক (২৩)। কয়েক মাস আগে এই ৪ যুবককে সৌদি আরবে যাওয়ার প্রলোভন দেন এই চক্রের সদস্যরা। সরল বিশ্বাসে এই প্রতারক চক্রকে ওই যুবকরা আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিঃ, বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রত্যেকে ৪ লাখ টাকা করে, মোট ১৬ লাখ টাকা প্রদান করেন। এরপর প্রতারক চক্রের প্রধান রিফাত ৪ যুবকের মধ্যে ১ যুবক রমজানকে চাকুরীর ভিসা ব্যতীত অবৈধভাবে সৌদি আরবে নিয়ে কাজ না দিয়ে প্রতারণা এবং পাসপোর্ট ব্লক করে। এই যুবককে দেশে ফিরিয়ে আনতে তার পরিবার চক্রের অন্য সদস্যদের চাপ প্রয়োগ করে। তারপর রিফাত এই যুবককে জোরপূর্বক আটক রেখে তার পরিবারের কাছে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। বাকি ৩ যুবক টাকা ফেরত চাইলে চক্রের সদস্যরা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এমনকি হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন ভূক্তভোগী যুবকরা।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভুক্তভোগী থানায় এজাহার দায়ের করলেও ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫৪, পিআরবি ২৪৪ (ক) ধারার আইন লঙ্ঘন করে পুলিশ এই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা নেয় নি। ফলে অপূরণীয় ক্ষতির শিকার এই ৪ যুবকের পরিবার।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এজাহারকারী বাদী সহ অন্যান্য তিন যুবকরা জানান, তারা প্রতারণার শিকার হয়ে টাকা ফেরত চাইলেও পাচ্ছে না। এমনকি থানায় এজাহার দায়ের করেও কোনো সুফল পান নি। এমনকি উনারা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মামলা নিতে বাদী অনেক বার থানায় গিয়ে অনুরোধ করলেও প্রতারক চক্র প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে অনীহা পুলিশের।

এএসংক্রান্তে প্রতারক চক্রের সদস্য তারেকের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে তিনি ১ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে। চক্রের অন্য সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা এবিষয়ে তথ্য প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করে।

 

এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার এসআই সাহেব আলীর সাথে যোগাযোগ করলে উনি জানান, উক্ত বিষয়টি তদন্তধীন, তদন্ত সাপেক্ষে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

প্রতারক চক্রের বিরূদ্ধে মামলা নেওয়ার বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের কাছে জানতে উনার মোবাইল নম্বরে ফোন করে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে উনি ফোন রিসিভ করেনি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে বিয়ের প্রলোভনে নারীকে ধর্ষণ মামলায় প্রবাসী গ্রেফতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর চাঁন্দগাও থানার ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মো.লোকমান হাকিমকে (৩২) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭ এর সদস্যরা। গ্রেফতার লোকমান কর্ণফুলী থানার চরপাথরঘাটা আজিমপাড়ার বাদশা মিয়ার ছেলে।
র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, ভিকটিম পেশায় একজন টেইলার্স কর্মী। কর্ণফুলী এলাকায় মো. লোকমান হাকিমের সাথে ভিকটিমের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত ২০ নভেম্বর লোকমান দেশে আসেন এবং ২৪ নভেম্বর ভিকটিমকে কক্সবাজার নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেন। পরে ভিকটিম বিয়ের চাপ দিতে থাকলে পরে কোর্ট ম্যারেজের কথা বলে চান্দগাঁও থানা থানা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে পুনরায় শারীরিক সম্পর্ক করেন। এসময় লোকমান কৌশলে মোবাইলে ভিডিও করে নেন। পরে ভিডিওগুলো

ভিকটিমের ইমুতে পাঠিয়ে ১ লাখ টাকা দাবি করে অন্যথায় ভিডিওগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ভিকটিম চান্দগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি আরও জানান, গত রোববার রাত ৮টায় গোপন খবরের ভিত্তিতে নগরীর বাকলিয়া থানাধীন নতুর ব্রিজ বাস স্টেশন এলাকা থেকে আসামি মো. লোকমানকে গ্রেফতার করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা ব্যাটালিয়ান ৫৯ বিজিবি’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ মহানন্দা ব্যাটালিয়ান (৫৯ বিজিবি)’র ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। বুধবার(৩ ডিসেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার গোবরাতলায় ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে এই আয়োজন করা হয়।প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা, আলোচনা সভা, ব্যাটালিয়ন সমাবেশ, ও মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল কামাল হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ শাহাদাৎ হোসেন মাসুদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জস্থ মহানন্দা ব্যাটালিয়ান (৫৯ বিজিবি)’র অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল গোলাম কিবরিয়া, উপ-অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল আসিফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ এ.এন.এম ওয়াসিম ফিরোজ, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন সহ জেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

আরব আমিরাতে ভিসা সংকটে বড় হুমকির মুখে বাংলাদেশি শ্রমবাজার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যের  অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। নতুন ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও কবে ভিসা উন্মুক্ত হবে— সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারছে না বাংলাদেশ মিশন। বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমিরাত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

ভিসা জটিলতা শ্রমবাজারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাব পড়ছে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, আয়-রোজগার এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে বসবাস, লিঙ্গ পরিবর্তন, সনদ জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ ওঠায় ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি করেছে আমিরাত সরকার। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

এদিকে দুবাইয়ে স্কিল ভিসা চালু থাকলেও সেখানেও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্র্যাজুয়েশন সনদ ছাড়া বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। সনদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, পরে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যাচাই এবং শেষে আমিরাতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও জটিল এ প্রক্রিয়ায় হতাশ কর্মপ্রত্যাশীরা।

বাংলাদেশ মিশনের তথ্যানুসারে, স্কিল ভিসায় সনদ জালিয়াতি ঠেকাতে তিন মাস আগে চালু করা হয়েছিল বারকোড ব্যবস্থা। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটিও জাল করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশিদের মানসিকতা না বদলালে ভিসা সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

আবুধাবি বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, “গত সাত মাস ধরে ভিসা ইস্যুতে চেষ্টা চালিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি।কবে হবে সেটিও অনিশ্চিত। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, তবে বিষয়টি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ”

 

জনশক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা পরিবর্তনের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে অনেক বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। অনেকেই জানেন না, ভিসা বাতিল হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বর্তমানে যারা আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

বাংলাদেশি প্রবাসী সংগঠকরা মনে করেন, এ অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসীদেরও ভিসা নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। নইলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ