চউক’র ১৩ প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে কমিটি আসবে শনিবারে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

  1.  চট্টগ্রাম  উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) এর ছোট বড় মিলে প্রায় ৩০টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। যার মধ্য থেকে ১৩টি প্রকল্পের তদন্ত করা হবে। প্রকল্পগুলো চউকের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুচ ছালামের আমলে হাতে নেয়া হয়েছিল। তার সময়কালে নেয়া ১৩টি প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রণালয়। ওই কমিটিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. কামাল উদ্দিনকে আহব্বায়ক ও চউক’র সচিব রবীন্দ্র চাকমাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২৮ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সিডিএ’র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন আব্দুচ ছালাম। এই ১০ বছরে তিনি ছোট বড় মিলে প্রায় ৩০টি প্রকল্প গ্রহণ করেন। যার মধ্য থেকে ১৩টি প্রকল্পের তদন্ত করবে কমিটি।
চউক’র এই ১৩ প্রকল্পগুলো হচ্ছে- এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার, মুরাদপুর ফ্লাইওভার, কদমতলী ফ্লাইওভার, জলাবদ্ধতা প্রকল্প, কালুরঘাট-চাক্তাই রিং রোড প্রকল্প, বাকলিয়া এক্সেস রোড, চিটাগাং সিটি আউটার রিং রোড, সিডিএ স্কয়ার, কল্পতরু প্রকল্প, সল্টগোলা ডরমেটরি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টার প্ল্যান, বায়েজিদ লিংক রোড প্রকল্প।
জানা গেছে, এই ১৩ প্রকল্পের ফিজিবিলিটি রিপোর্ট, প্রকল্পের ফিজিবিলিটি রিপোর্টের টর (টার্মস অব রেফারেন্স), ইআইএ রিপোর্ট, বাস্তবায়ন মনিটরিং মূল্যায়ন বিভাগের প্রতিবেদন, টেন্ডার ডকুমেন্টস, ঠিকাদার নির্বাচন প্রক্রিয়ার ডকুমেন্টস এবং পিইসি ফর ইসিএনসিইসি প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন তদন্ত কমিটি। তদন্তের কাজে আগামী শনিবার সিডিএতে আসবেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও তদন্ত কমিটির আহব্বায়ক মো. কামাল উদ্দিন। তদন্ত কমিটিকে সহায়তা প্রদানের জন্য অফিস আদেশ জারি করেছে চউক। চউক’র সচিব রবীন্দ্র চাকমা স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে প্রকল্পের ফাইল সমূহ নিরাপদে সংরক্ষণ ও কমিটির তদন্ত কাজে সার্বিক সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
চউক’র সচিব রবীন্দ্র চাকমা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নাম ও পূর্ণ ঠিকানা, প্রকল্পের ডিপিপি/সর্বশেষ আরডিপিপি, প্রকল্পের ক্রয় পরিকল্পনা মোতাবেক ক্রয় সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি, প্রকল্পের ক্রয়কৃত মালামাল বুঝে নেওয়ার কাগজপত্রাদি, প্রকল্পের ড্রইং ও ডিজাইন, প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ও সংশোধিত ব্যয়, প্রকল্পের কনসালটেন্ট রিপোর্ট, প্রকল্পের চুক্তিপত্র, প্রকল্পের পিইসি সভার প্রতিবেদন, প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির সভার কার্যবিবরণী, প্লট/ফ্ল্যাট বরাদ্দের তালিকা (২০০৯ সাল থেকে), চলমান প্রকল্পের সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা, প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি প্রতিবেদন এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র ও ফাইলসমূহ নিরাপদে সংরক্ষণ ও কমিটির তদন্ত কাজে সার্বিক সহযোগিতার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন তদন্ত কমিটি।
তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখার উপসচিব-২ মো. নাজমুল আলম, সিডিএ’র বোর্ড সদস্য স্থপতি সৈয়দা জেরিনা হোসাইন ও এডভোকেট সৈয়দ কুদরত আলী। ২০০৯ সালে আব্দুচ ছালাম সিডিএ’র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর তার সময়কালে নেওয়া ১৩টি প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্ত করবে এই কমিটি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে অভিযানে মিলল সাড়ে ১৪ লাখ টাকার ইয়াবা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম রেলওয়ে রেলস্টেশনে অভিযান চালিয়ে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের এক স্টুয়ার্ডের ব্যাগ থেকে ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৭। মঙ্গলবার র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, আটক মাহাবুর রহমানের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে অবস্থান নেয় র‌্যাবের একটি দল। তাদের কাছে তথ্য ছিল, কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের এক স্টুয়ার্ড ইয়াবার একটি চালান বহন করছেন। বিকেল ৪টা ২ মিনিটে ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছালে ‘জ’ বগি থেকে নামার সময় স্টুয়ার্ড মো. মাহাবুর রহমান (২০) র‌্যাব সদস্যদের দেখে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে আটক করা হয়। তিনি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার নলছিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

পরে তার সঙ্গে থাকা একটি কালো কাঁধের ব্যাগ তল্লাশি করে কালো পলিথিনে মোড়ানো ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

ভাঙ্গুড়ায় নকল দুধ তৈরির উপকরণ সহ এক ব্যক্তির কারাদণ্ড ও অর্থদন্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নকল দুধ তৈরির উপকরণ মজুদ ও ভেজাল দুধ তৈরির অভিযোগে আশরাফুল আলী(৪২) নামে এক ব্যক্তি কে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই রাত সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নে উপজেলা প্রশাসনের পরিচালিত এক অভিযানে তাকে আটক করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আশরাফুল আলী সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মো. নুর ইসলামের ছেলে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে আশরাফুল আলীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২০০ লিটার নকল দুধ এবং দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত উপকরণের মধ্যে কেমিক্যাল, ভোজ্য তেল, চিনি ও অন্যান্য সামগ্রী রয়েছে, যা ব্যবহার করে ভেজাল দুধ প্রস্তুত করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

অভিযান শেষে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফুজ্জামান।আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আশরাফুল আলী কে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

এ সময় অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের সদস্যরা।উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজার জাতকরণের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ