আজঃ বুধবার ২১ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রচন্ড শীতে কাজ নাই দিনমুজুরের

মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

 

ভোরে আজান দেওয়ার সময় উঠেছি। রাতেই সাইকেলে কোদাল আর ডালি বাঁইধে রাখি। ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসতে হয়। রাস্তায় আসতে আসতে মনে হয়, ফিরে যাই। এই শীতে সাত দিনে মাত্র এক দিন কাজ পায়েছি, এটা ছিল ১ জন দিনমুজুরের কথা।

কাজেম আলী (৪৫) যখন কথাগুলো বলছিলেন, তখন রোদের দেখা মেলে প্রকৃতিতে। তবুও শীতের জামা খোলেননি তিনি। বললেন, ‘রাস্তায় আসতি আসতি যে শীত গায়ে ঢুকে যায়, তা এই রোদে আর যাবি না।’

কাজেম আলীর সঙ্গে রাজশাহী নগরের তালাইমারী মোড়ে কথা হয়। তিনি রোজ কাজের সন্ধানে শহরে আসেন পুঠিয়া উপজেলার জয়পুর গ্রাম থেকে।

 

তালাইমারীর মতো রাজশাহী নগরের বিনোদপুর, রেলগেট, বর্ণালি মোড়, কোর্ট স্টেশনসহ কয়েকটি এলাকায় কাকডাকা ভোরে গ্রাম থেকে শহরে কাজের সন্ধানে আসেন এই মানুষেরা। সাইকেল চালিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা এই শ্রমজীবী মানুষেরা সঙ্গ নিয়ে আসেন একটি ডালি আর কোদাল। সরকার পতনের পর শহরে কাজে একটু ভাটা পড়েছে। এই শীতে তা আরও কমে গেছে।

তালাইমারী মোড়ে কথা হয় রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর গ্রামের মোতালেব আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গ্রামে কাজ নেই। ধান কাটাও শেষ হয়ে গেছে। আলু পেঁয়াজ লাগানোর কাজও প্রায় শেষ। শহরই এখন শেষ ভরসা। আমাদের তো আর জমিজমা নেই যে চাষ করে খাব।’ তিনিও সপ্তাহে এক দিন ৬০০ টাকার একটি কাজ পেয়েছিলেন বলে জানান।

একই গ্রামের মো. হাসান বলেন, এই শীতে কার ভালো লাগে এখানে কাজে আসতে। কাজ পেলে এক কথা। তিনি জানেন এখন কাজ পাওয়া কঠিন, তবুও আসেন। আজকে একটু রোদের তেজ আছে। কয়েক দিন আগে হাড়কাঁপানো শীত ছিলো।

রাজশাহীর ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলে। দিনের বেলায় রোদ উঠলেও কনকনে ঠান্ডা বাতাসে শীতের তীব্রতা ছিল।

তালাইমারীর মতো রাজশাহী নগরের বিনোদপুর, রেলগেট, বর্ণালি মোড়, কোর্ট স্টেশনসহ কয়েকটি এলাকায় কাকডাকা ভোরে গ্রাম থেকে শহরে কাজের সন্ধানে আসেন এই মানুষেরা
তালাইমারীর মতো রাজশাহী নগরের বিনোদপুর, রেলগেট, বর্ণালি মোড়, কোর্ট স্টেশনসহ কয়েকটি এলাকায় কাকডাকা ভোরে গ্রাম থেকে শহরে কাজের সন্ধানে আসেন এই মানুষেরা৷

নগরীর রেলগেট এলাকায় গিয়ে কয়েকজন শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে কথা হয়। পবার পারিলা ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম বলেন, ছয় দিন কাজে এসে চার দিনই ঘুরে যেতে হয়েছে। বাজারে এখন সবজি বাদে সবকিছুর দামই বাড়তি। সংসার চালাতে হচ্ছে ধারকর্জ করে।

পবা উপজেলার দামকুড়া এলাকা থেকে আসা আবদুল জব্বারও খুব বেশি কাজ পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘এত দূর থেকে সাইকেল চালিয়ে এসে কাজ পাই না। এই ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে আসি। কাজ পেলে সব কষ্ট দূর হয়ে যায়। কিন্তু কাজ পাওয়া যেন সোনার হরিণ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঈশ্বরদী এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে শীতার্ত মানুষের জন্য পাঠানো শীতবস্ত্র হস্তান্তর।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকায় বসবাসকারী ঈশ্বরদীবাসীর সমন্বয়ে গঠিত “ঈশ্বরদী এসোসিয়েশন” ঢাকার পক্ষ থেকে ঈশ্বরদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড মোঃ আসাদুজ্জামান এর কাছে আন্তরিক সহযোগিতা পৌঁছে দেন।

শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ঢাকা থেকে ছুটে আসেন ঈশ্বরদী এসোসিয়েশন ঢাকা এর সভাপতি ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ও ঈশ্বরদীর কৃতি সন্তান মোঃ আবু বক্কর তপন।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলা চত্বরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আসাদুজ্জামান এর কাছে এ শীতবস্ত্র হস্তান্তর করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালের যুগ্ন জেলা ও দায়েরা জজ মোঃ সিরাজুল ইসলাম মামুন, ঈশ্বরদী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জহুরুল ইসলাম, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সহ-সম্পাদক শেখ ওয়াহেদ আলী সিন্টু, ঈশ্বরদী শিল্প ও বণিক সমিতির নির্বাহী সদস্য সেলিম আহমেদ, ঈশ্বরদী অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেজাউল করিম ফেরদৌস, সংগঠক আফসার আলী, ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন ও পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সেলিম উদ্দিন প্রমূখ।

আবু বক্কর তপন বলেন, ঢাকাস্থ ঈশ্বরদী এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আমরা সব সময় দুস্থ, গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, বিভিন্ন উপকরণ এবং শীত মৌসুমে শীতার্ত মানুষদের মাঝে আন্তরিক সহযোগিতা শীতবস্তু পৌঁছে দেই। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দুস্থ, গরিব ও অসহায় শীতার্ত মানুষদের শীত নিবারণের জন্য ১০০০ টি সোয়েটার ও জ্যাকেট হস্তান্তর করেছি।

তিনি আরো বলেন, এ সমাজের ধনাঢ্য বিত্তমানেরা তাদের হাত প্রসারিত করে অসহায় শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ালে শীত থেকে তারা রক্ষা পাবে। প্রতিবছর আমরা এভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করে থাকি। আগামীতে ঈশ্বরদী এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আরও বেশি দুস্থ,গরিব ও অসহায় মানুষদের শীত নিবারনে জন্য তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবো।

হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর নগরের আন্দরকিল্লাহ শাহী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কাজীর দেউড়ি মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ন্যায়ের পক্ষে আপসহীন এক সংগ্রামী কণ্ঠ।তাঁকে নির্মমভাবে প্রকাশ্যে জুমার নামাজের পর হত্যা করলেও আজও বিচার না হওয়ায় দেশের জনগণ ক্ষুব্ধ। অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শহীদ হাদির হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন চলবে এবং এই দাবি আদায় করে নেওয়া হবে।

বক্তব্য রাখেন জুলাই ঐক্য চট্টগ্রামের প্রধান সমন্বয়কারী আবরার হাসান রিয়াদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ইবনে হোসেন জিয়াদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক রাফসান রাকিব, তৌসিফ ইমরোজ, আরমান শাহরিয়ারসহ অন্যান্য নেতারা।

আলোচিত খবর

গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে প্রধান উপদেষ্টা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Oplus_131072

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গণভবনে তৈরি করা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

Oplus_131072

রাজনৈতিক দলের নেতা ও সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টাদের নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন তিনি।


রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা ও সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ ঘুরে দেখেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
ছবি: পিআইডি

আরও পড়ুন

সর্বশেষ