আজঃ মঙ্গলবার ৫ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামে রামজানে পণ্যের সংকট নিরসনে তিনগুণ বেড়েছে আমদানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে রমজানকে ঘিরে কোন ধরনের কৃত্রিম সংকট যেন না হয় সেজন্য পণ্যের আমদানি বেড়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এবার ব্যবসায়ীরা অনান্যবারের তুলনায় আগেই পণ্য আমদানি করছে। ব্যাংকও সুযোগ দিচ্ছে। সে অনুসারে প্রশাসনের বাজার তদারকি বাড়ালে অসাধু ব্যবসায়ীদের পুরোনো সিন্ডিকেটের তৎপরতা গজিয়ে উঠবে না। বিশেষ করে রমজান মাসকে সামনে রেখে আমদানি বেড়েছে খেজুর, ডাল, চিনিসহ প্রায় সকল পণ্যের। এসব আমদানির মধ্যে আগের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে রোজাদারদের অন্যতম খাবার খেজুর। এছাড়া রমজানকে ঘিরে কোন ধরনের কৃত্রিম সংকট যেন না হয় এবং অনান্যবারের মতো দাম যাতে না বাড়ে সেজন্য আমদানিতে শুল্কছাড়ের ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

জানা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে পেঁয়াজ, রসুন ও আদা আমদানি করার সুযোগ পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি রমজানের আগেই দেশি মসলা বাজারে আসবে; যার কারণে পচনশীল মসলার দাম বাড়বে না বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
চাক্তাইয়ের ফোরকান ট্রেডার্সের মালিক মো. ফোরকান বলেন, এ বছর আমদানি সরবরাহ ভালো থাকায় অনান্য বছরের মতো পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম বাড়তির কোন প্রভাব পড়বে না। রমজানের আগেই দেশি পেঁয়াজও বাজারে আসবে। ব্যবসায়ীরা এখন থেকে নানাদেশে আমদানিতে বুকিং রেখেছে। আর আমাদের ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যদের নেতৃত্বে বাজারকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হবে।

অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস ডাল আমদানি আগের বছরের তুলনায় প্রায় সাত মেট্রিক টন বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছর এক লাখ ৮৯ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন বিভিন্ন প্রকারের ডাল আমদনি করা হয়েছে। আর ২০২৩ সালে ছিল এক লাখ ৮২ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন। এছাড়া ছোলা চলতি অর্থবছরের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমদানি করা হয়েছে ২৬ হাজার ৩৬৭ মেট্রিক টন। তাছাড়া আগাম এলসি করা ডালও বাজারে আসা শুরু হয়েছে। শুল্কছাড়ের ডালও রমজানের একমাস আগেই বাজারে আসবে বলে জানান ডাল আমদানিকারকরা।
এছাড়া ২০২৪ সালে ভোজ্যতেল আমদানি করা হয়েছে ১৩ লাখ ৬০ হাজার ৩৫ মেট্রিক টন, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৩৩৪ মেট্রিক টন। অর্থাৎ গত বছরের ব্যবধানে চলতি অর্থবছর ৬৪ হাজার ৭০১ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল বেশি আমদানি করা হয়।
আমদানির সঙ্গে জড়িত খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, অন্যবারের তুলনায় এবার আমদানি সরবরাহ ভালো রয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকও আমদানিতে এলসি খোলার সুযোগ দিচ্ছে। তবে ডলার রেট যদি স্বাভাবিক থাকে তাহলে এবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে না। শুকনো মসলা উপকরণ আমদানিতে দাম হেরফের হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও পচনশীল মসলা উপকরণের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে চিনি আমদানি আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে। অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চিনি আমদানি করা হয়েছে পাঁচ লাখ ৬১ হাজার ৬২৩ মেট্রিক টন। আগের বছরের একই সময়ে দেশে চিনি আমদানি করা হয়েছিলো ছয় লাখ ৯০ হাজার ৮৮২ মেট্রিক টন। আর ডিসেম্বরে আমদানিকারকরা দেশে দুই হাজার ১৮৬ মেট্রিক টন খেজুর আমদানি করেছে। নভেম্বরে দেশে আনা হয়েছিল ৬৫৪ মেট্রিক টন। চলতি মাসে খেজুরের যথেষ্ট বুকিং করা হয়েছে যা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে অর্ধেক বাজারে চলে আসবে বলে জানান খেজুর আমদানিকারকরা।
স্টেশন রোডের ফলমন্ডি এলাকার খেজুর আমদানিকারক মো. আবু জাফর বলেন, ব্যবসায়ীরা খেজুর আমদানি করার সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু ইতিপূর্বে যেসব এলসি করেছে তার শুল্ক দিতে হয়েছে; যার কারণে কিছু খেজুরের দাম খরচ সমন্বয় করে বিক্রি করবেন আমদানিকারকরা। আর যেসব পণ্যে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে তাও খরচ ছাড় দিয়ে বিক্রি করা হবে। তবে চাহিদা অনুযায়ী এবার খেজুর আমদানি করতে পারছেন ব্যবসায়ীরা।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক এস এম মো. মহিউদ্দিন বলেন, অনান্য বছরের মতো এবারও ব্যবসায়ীরা রোজাকে ঘিরে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। সরকারও চ্যালেঞ্জ করেছে এবার কোন অবস্থায় পণ্যের সংকট হবে না।

 

সে কারণে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের আমদানি করার সুযোগ দিচ্ছে। অনেকেই আগাম মজুদ করছে। এবার দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
‘আমদানিতে ব্যাংকের ডলার রেট ও বুকিং খরচে গরমিল’ রয়েছে দাবি করে এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, আমদানিতে সকল ব্যাংক ডলার রেট একদামে নিচ্ছে না। ব্যাংকভেদে ভিন্ন ভিন্ন ডলার দর নিচ্ছে ব্যবসায়ীদের থেকে। এটি সংস্কারে আসা প্রয়োজন। নয়তো একেক ব্যবসায়ী একক রেটে পণ্য বিক্রি করবে। এতে প্রশাসনের তদারকিতে যেমন সমস্যা হবে; বাণিজ্যে ব্যবসায়ীদেরও সমস্যা হবে। নিত্যপণ্যের বাজারে সমতা আসবে না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কলমাকান্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাতজনিত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান।৫ মে (মঙ্গলবার) দুপুরে তিনি উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের চিকন মাটিয়া, তেলেঙ্গা ও মেদি বিলসহ দমদমা খাল এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, খারনৈ ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান, সমাজসেবক মজিবুর রহমান এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে আছি। ভারী বৃষ্টিপাত শুরুর দিন থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জিআর ক্যাশ ও চাল বিতরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকেই এসব সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খালের পুনর্বাসন এবং কৃষকদের সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

পূর্বধলায় বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের দেওটুকোন বাজারে বকেয়া বিল আদায়ের লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১১ টায় এ অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীম জাহান।

পূর্বধলা জোনাল অফিসের ডিজিয়েম মোঃ শাহিনুর আলম জানান, মোট ১২ জনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর মধ্যে চারজন তাৎক্ষণিকভাবে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার ২০ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি আটজনের কাছে প্রায় এক লক্ষ ৪৩ হাজার ৮০২ টাকা বকেয়া ছিল।

তিনি আরও জানান, জারিয়া, ধলামুলগাঁ ও ঘাগড়া ইউনিয়নের আওতায় মোট ১৩৭টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকার বেশি বকেয়া বিল আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ