আজঃ মঙ্গলবার ৫ মে, ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয় দুর্ঘটনায় ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি  আশঙ্কা

রেজাউল ইসলাম মাসুদ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন বাজারে বহুতল ভবনে বাড়িতে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তবুও সাবধান হচ্ছেন না অনেকেই। শহরের অনেক রাস্তা ও মার্কেটে ঢোকার পথ সরু। নেই অগ্নি নির্বাপনের ব্যবস্থা। বড় দুর্ঘটনা ঘটলে অর্থনৈতিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা।

 

ঠাকুরগাঁওয়ে অনেক স্থানে প্রতিনিয়ত ঘটছে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হলেও সচেতন হচ্ছেন না অনেকেই। জেলায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে একমাত্র ভরসা ফায়ার সার্ভিস। বিভিন্ন স্থানে নেই এখনো পর্যন্ত অগ্নি নিরাপত্তার ব্যবস্থা।একদিকে যেমন জলাশয় সংকট, শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বা বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে নদী এবং পুকুর থেকে পানি আনতে হলে অনেকটা পথ যেতে হয় ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষকে। দিনের পর দিন গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন ভবন। দুর্ঘটনার কথা ভাবছেন না প্রতিষ্ঠানের মালিক।

ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে পৌর শহরের রোড বাজার, কালিবাড়ি বাজার, নিউ মার্কেট, স্বর্ণকার পট্টি সহ বেশ কয়েকটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এলাকা এসব বাজার ও মার্কেটে কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে বিপাকে পড়তে হবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয়দের। একদিকে যেমন প্রবেশ পথ ছোট অন্যদিকে নেই অগ্নি নিরাপত্তার ব্যবস্থা।

বেশি ভাগ পুরনো মার্কেটের বাইরেই এমন দৃশ্য। প্রতিষ্ঠান চলাকালীন এক গলি দিয়ে ঢুকলে অন্য গলি দিয়ে বের হতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় জনসাধারণকে। শহরের অধিকাংশ বহুতল ভবন, মার্কেটে নেই কোনো অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

প্রতিষ্ঠানগুলোতে জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই চলছে বেচাকেনা। আগুন লাগলে বা ভূমিকম্প হলে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও জান মালের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অসংখ্য বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে রান্না করলেও তাদেরও নেই কোন প্রস্তুতি জানেন না কিভাবে কি করতে হয়। তাই সকলকে সচেতন হয়ে, প্রশাসনের এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া উচিত এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।

 

এদিকে ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সেরউপ-পরিচালক শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও একটি ব্যস্ততম শহর এখানে কয়েকটি এরিয়া আছে যেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ বলা যায়। এখানে বড় দুর্ঘটনা ঘটলে আশেপাশে কোন পানির ব্যবস্থা নেই। অনেক দূরে টাঙ্গন নদী আছে সেখান থেকেই পানি আনতে হয়। শহরের মধ্যে ফায়ারের গাড়ি যাতে প্রবেশ করা করতে পারে এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

 

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা বলেন শহরের কয়েকটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে দ্রুত পানি পাওয়ার ব্যবস্থায় নেই। সেই কারণে অগ্নিকাণ্ডের প্রস্তুতি হিসেবে মধ্যে কিছু ওয়াটার রিজার্ভার করার যায় তাহলে হয়তো সেই দুর্যোগটি মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলা হয়েছে দ্রুত এটার প্রস্তাব পাঠানো হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কলমাকান্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাতজনিত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান।৫ মে (মঙ্গলবার) দুপুরে তিনি উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের চিকন মাটিয়া, তেলেঙ্গা ও মেদি বিলসহ দমদমা খাল এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, খারনৈ ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান, সমাজসেবক মজিবুর রহমান এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে আছি। ভারী বৃষ্টিপাত শুরুর দিন থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জিআর ক্যাশ ও চাল বিতরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকেই এসব সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খালের পুনর্বাসন এবং কৃষকদের সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

পূর্বধলায় বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের দেওটুকোন বাজারে বকেয়া বিল আদায়ের লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১১ টায় এ অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীম জাহান।

পূর্বধলা জোনাল অফিসের ডিজিয়েম মোঃ শাহিনুর আলম জানান, মোট ১২ জনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর মধ্যে চারজন তাৎক্ষণিকভাবে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার ২০ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি আটজনের কাছে প্রায় এক লক্ষ ৪৩ হাজার ৮০২ টাকা বকেয়া ছিল।

তিনি আরও জানান, জারিয়া, ধলামুলগাঁ ও ঘাগড়া ইউনিয়নের আওতায় মোট ১৩৭টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকার বেশি বকেয়া বিল আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ