চাল আমদানির বিষয়ে ভিয়েতনামের সঙ্গে আলোচনা চলছে: খাদ্য উপদেষ্টা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাল আমদানির বিষয়ে ভিয়েতনামের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানালেন অন্তবর্তী সরকারের খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি করা খাদ্যদ্রব্য খালাস কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি থাকা স্বত্ত্বেও চাল আমদানির করার বিষয়ে জানতে চাইলে আলী ইমাম মজুমদার বলেন, বাণিজ্যকে আমরা রাজনীতির সঙ্গে মিলাচ্ছি না। ভারত যেহেতু আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী এবং ওখান থেকে আমদানি খরচ তুলনামূলকভাবে কম ও সস্তা দামে পাওয়া যায়, সেজন্য সেখান থেকে পণ্য আসাটা অব্যহত আছে। আমরাও সেটাকে ওয়েলকাম করছি। পাশাপাশি মিয়ানমার আমাদের কাছে আরও চাল বিক্রি করতে চাচ্ছে।

আমরা তাদের সঙ্গে এক লাখ টনের চুক্তি করেছি। তারা আরও বিক্রি করতে চাচ্ছে। আমরা তাদের দেশের অভ্যন্তরীন এবং সরবরাহের অবস্থা দেখে এরপর বিবেচনা করব। এছাড়া আরও উৎসের সন্ধান আমরা করছি। পাকিস্তান থেকে আমরা ৫০ হাজার মেট্রিকটন চাল আমরা আমদানির ব্যবস্থা করেছি।
সবমিলিয়ে কি পরিমাণ চাল আমদানি করা হচ্ছে জানতে চাইলে উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘আট থেকে নয়লাখ মেট্রিকটন চাল আসবে। সরকারি সেক্টরে প্রায়ই আটলাখ মেট্রিকটন চাল আসবে। ভারত, মিয়ানমার, পাকিস্তান এসব জায়গা থেকে আসবে। ভিয়েতনামের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এর আগে তিনি নগরীর পতেঙ্গায় নির্মাণাধীন সাইলো পরিদর্শন করেন। এ সময় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন,খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আব্দুল খালেক ও বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
বিদেশ থেকে কয়েক দফা চাল এলেও দাম কমছে না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে প্রথম কথা হচ্ছে দাম বাড়ানো বন্ধ হয়েছে। মোটা চাল যেটা আছে সেটার দাম তিন থেকে পাঁচ টাকা কমেছে। আমরা আরও আনতে থাকব। সেটা বাড়ার আর সুযোগ থাকবে না। বরং কমবে।

সামনে রমজানকে ঘিরে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার একটি শঙ্কা তৈরি হয়েছে, সেটা নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার কি ধরণের ব্যবস্থা নিচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, রমজান মাসে আমাদের খাদ্য মন্ত্রণালয় বিশেষ করে চাল ও গম সবচেয়ে বেশি দেখাশোনা করে। বাকি কিছু আইটেম দেখভাল করে টিসিবি। সেটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে। টিসিবিও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে উপজেলায় প্রতিদিন দুই মেট্রিক টন চাল বিক্রি শুরু হয়েছে এ মাস থেকে। রমজান মাসেও এটা থাকবে। সারাদেশে ৫০ লাখ লোকের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু হয়েছে।। দরিদ্র শ্রেণির ৫০ লাখ লোক মাসে ৩০ কেজি করে চাল পাবে ১৫ টাকা করে। আশা করছি রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য সহনশীল থাকবে।
খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, আমরা অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের দিক দিয়ে বেশি নজর দিচ্ছি। বিদেশ থেকে না আনতে পারলে আমরা সবচেয়ে বেশি খুশি হব।

দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমরা দুর্যোগ কবলিত দেশ। যে কোনোভাবে আমাদের দেশে দুর্যোগ আসে। দুর্যোগ আসলেই আমাদের দেশের ফসল ক্ষতি হয়। এবার যদি অকাল বন্যা না হতো আমাদের এতটা চাপে পড়তে হত না। আমরা চেষ্টা করছি যাতে আগামীতে ফসল ভালো হয়।খুব কম সময়ে যাতে অধিক ফসল ফলে অনেকগুলো গবেষণাগার সেজন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গবেষণার ফসলের বীজ যেটা আছে সেটা কৃষকদের সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে কম সময়ের মধ্যে ফসল ফলানো যায় সে চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে তো মানুষ বাড়ছে। শিল্পায়ন ও নগরায়নের জন্য চাষের জমি বেছে নেওয়া হচ্ছে। আবার অনেক পুকুর করা হচ্ছে। এতে ধানের জমি কমে যাচ্ছে। আমের বাগান করছে। সবকিছু ব্যালেন্স করার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

কৃষক বেসরকারি খাতে দাম বেশি পাওয়ায় সরকারকে চাল বিক্রি করতে চাই না এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ উপদেষ্টা বলেন, সরকারি খাতে আমরা যখন দাম নির্ধারণ করি তখন উৎপাদন খরচ ও কৃষকের লাভ দুটিই ধরি। সেক্ষেত্রে আমরা যদি কিছু বাড়িয়ে ধরি কৃষক
বিক্রি করবে। কিন্তু বাজারে দাম আরও বেড়ে যাবে, যদি সরকার বাড়তি দাম দিয়ে কিনে। আমাদেরকে ওখানেও ব্যালেন্স করতে হয়। কৃষকের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি দেখতে হয়। যেহেতু বন্যায় ফসল ক্ষতি হয়েছে তাই এবার আমদানিতে টোটাল ট্যাক্স উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটা সবসময় থাকবে না। আমাদের যদি ফসল ভালো হয় এটা আর থাকবে না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণ হারানো ১ হাজার ২৮২ একক কন্টেইনারবাহী জাহাজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণ হারানো ১ হাজার ২৮২ একক কন্টেইনারবাহী জাহাজ নিরাপদে নোঙর করতে সক্ষম হয়েছে। হাজার কোটি টাকার আমদানি পণ্যবোঝাই বিদেশি এই কন্টেইনার জাহাজ ‘সিএনসি ইউরেনাস’কে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের মেরিন বিভাগ। মঙ্গলবার গভীর রাতেই জাহাজটিকে বহিনোঙরের বি অ্যাংকরেজে সরিয়ে নেয়া হয়। জাহাজে থাকা ২৪ বিদেশি নাবিক নিরাপদে আছেন। কন্টেইনারে থাকা পণ্য অক্ষত আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে জাহাজে থাকা ১ হাজার ২৮২ একক আমদানি পণ্যের কন্টেইনার নিয়ে উদ্বেগে আছেন ব্যবসায়ীরা।

পণ্যের অবস্থা সম্পর্কে জানতে জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট আমেরিকান প্রেসিডেন্ট লাইনের (এপিএল) কর্মকর্তা এনামুল হক টিটুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এখন জাহাজটিকে কীভাবে জেটিতে আনা যায়, সে পরিকল্পনা করছে। প্রয়োজনে কন্টেইনার খালাস করে অথবা স্টিয়ারিং সচল করে জাহাজটি জেটিতে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, গভীর রাতে জোয়ার আসার পর জাহাজটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাত ১টার দিকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয় এবং রাত সোয়া ২টার দিকে জাহাজটিকে নিরাপদে বি অ্যাংকরেজে নেওয়া সম্ভব হয়।

তিনি আরও জানান, অভিযানে বন্দরের তিনজন জ্যেষ্ঠ পাইলট, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগবোট কান্দারি-২, কান্দারি-৪, কান্দারি-৬ ও কান্দারি-১১, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর টাগ শিবসা ও টানেল টাগ এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের টাগ প্রমত্ত অংশ নেয়। নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরাও সমন্বিতভাবে কাজ করেন।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মাল্টার পতাকাবাহী ‘সিএনসি ইউরেনাস’ জাহাজটি চীনের শেনজেনের শিকু বন্দর থেকে চট্টগ্রামে আসছিল। গত সোমবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় বন্দর জেটিতে প্রবেশের সময় জাহাজটির স্টিয়ারিং বিকল হয়ে যায়। এরপর এটি প্রথমে একটি লাল বয়ায় ধাক্কা খায়। পরে ভাসতে ভাসতে নেভাল একাডেমির পাশের রিটেইনিং ওয়ালের কাছে অগভীর এলাকায় আটকে যায়। সে সময় ভাটার কারণে জাহাজটি সাগরের দিকে সরে যেতে থাকলেও পানির গভীরতা কম থাকায় আর এগোতে পারেনি।

ভারতে পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করার আহ্বান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভারতে পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে এআহ্বান জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জুলাই-আগস্ট গণহত্যা মামলার আসামি, ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে ইতোপূর্বে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আইসিটির এই নিষেধাজ্ঞা জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আইসিটি পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করা ও দণ্ডিত আসামির পূর্বে দেওয়া সব বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সরাতে ও বন্ধ করতে এবং প্রচার ও প্রকাশ না করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে নির্দেশ দিয়েছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ