জলাবদ্ধতা নিরসণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে বর্ষাকালের আগেই দ্রুত এবং কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সোমবার পরিচ্ছন্ন ও প্রকৌশল বিভাগের সমন্বয় সভায় তিনি এই নির্দেশ দেন তিনি। সভায় তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার জন্য নির্ধারিত হটস্পটগুলোতে আগামী বুধবারের মধ্যেই খনন কাজ শুরু করতে হবে।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসনে হুইল স্কেভেটরসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির যে ঘাটতি রয়েছে তা দ্রুত পূরণ করতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি ব্যাকহোলোডার গাড়ি সংগ্রহ করেছি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৪০ হাজার বিন বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমি ওয়ার্ডগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং করছি।
“যেসব যন্ত্রপাতি সংস্কারের অভাবে অচল হয়ে পড়েছে, সেগুলো মেরামত করে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করতে হবে।কিছু এলাকায় রাস্তাঘাট ভাঙ্গা থাকায় যেগুলো মানুষ জায়গায় হাটতে পারছে না। অনেক জায়গায় ওয়াসা রাস্তা খনন করে রেখেছে সেখানে আমরা কাজ করতে পারছি না। ক’মাস পরেই বর্ষাকাল কাজেই এই ফেব্রুয়ারি মার্চের মধ্যে যতটুক কাজ করা যায় ততটুক এর মধ্যে করতে হবে। সড়ক সংস্কারে ভালো মানের বিটুমিনসহ নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করতে হবে। ”
সভায় শীতকালীন মশার উপদ্রব কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন মেয়র। তিনি বলেন, “মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশার ওষুধ স্প্রে করতে হবে এবং পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন ঘটাতে হবে।”

প্রতিটি আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে নালা পরিষ্কারের জন্য ২০ জন করে পরিচ্ছন্ন কর্মী বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় সভায়। এ উদ্যোগের মাধ্যমে নালা পরিষ্কারের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সভার সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কাশেমসহ পরিচ্ছন্ন ও প্রকৌশল

বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। সভায় নগরীর জলাবদ্ধতার উপর মতামত দেন সমাজকর্মী শাহরিয়ার খালেদ।
সভার আলোচনায় অংশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের বিভাগীয় প্রতিবন্ধকতা এবং সমাধানের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। মেয়র কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করে নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করতে হবে।” এমন উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চব্বিশের চেতনা থাকলে হাসিনা আসতে পারবেন না : প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখার আহ্বান জানালেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।

চব্বিশের আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বললেন, তখন আমাদের ছাত্র জনতা সবার মধ্যে আন্দোলনের যে উদ্যম ছিল আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ করেও সেটা দমাতে পারেনি। অনেকে প্রত্যক্ষভাবে জুলাই অভ্যুত্থানে ছিলেন না। কিন্তু আমাদের নানাভাবে খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে সহযোগিতা দিয়েছেন। নিউমার্কেট মোড় দখলে নিতে গিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে যারা আহত হয়েছেন, তামাকমুণ্ডি লেইনের ব্যবসায়ীরা তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।
তিনি জানান, এই যে আন্দোলনের নানাভাবে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, ঐক্যবদ্ধ থাকা এটাই জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট। এই স্পিরিট আমাদের ধরে রাখতে হবে। তাহলে শেখ হাসিনা জীবনেও আর বাংলাদেশে আসতে পারবে না।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, কিছু মতানৈক্য দেখতে পাচ্ছি। এটা স্বাভাবিক। পথ চলতে গেলে থাকবেই। সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা করুন। কিন্তু দেশের স্বার্থে, জাতীয় স্বার্থে আমরা সবাই যেন জুলাই-আগস্টের গণভুত্থানের মতো কাঁধে কাধ মিলিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে পারি। বিনা বিচারে দেশবিরোধী শক্তি যেন আবার রাজনীতি করার দুঃস্বপ্ন না দেখে, সেই দুঃসাহস যেন তাদের না হয় সেজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
গত বছর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যে জুলাই জাতীয় সনদ ঘোষণা হয়েছে, সেটার আলোকে বিএনপি সরকার সব সংস্কার বাস্তবায়ন করবে বলেও আশ্বাস দেন মীর হেলাল।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, এরশাদ উল্লাহ ও সাঈদ আল নোমান, সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম, বিসিবি পরিচালক ইসরাফিল খসরু। সকালে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন প্রাঙ্গনে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, নানা সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ।

জুলাই-আগস্টের শহীদরা জাতীয় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ : চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুলাই-আগস্টের শহীদরা জাতীয় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরু থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে জনগণকে উদ্বুদ্ধ ও রাজপথের আন্দোলনকে বেগবান করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীর নিউ মার্কেট মোড় এলাকার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জুলাই-আগস্টের শহীদরা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে গণতান্ত্রিক চেতনা ও আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা আগামী প্রজন্মের পথচলার দিকনির্দেশনা হয়ে থাকবে। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো কেবল কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, তাদের আদর্শ ও স্বপ্নের বাংলাদেশ তৈরি করাই হবে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো।

মেয়র বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের সাফল্য নয়; এটি ছাত্র, শ্রমিক, রাজনৈতিক কর্মী, সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল। তাই একে কোনো সংকীর্ণ কোণ থেকে মূল্যায়ন না করে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখতে হবে।

চসিক মেয়র বলেন, দীর্ঘদিনের লড়াই, মামলা-হামলা, কারাবরণ ও নির্যাতনের মধ্য দিয়েই জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্খা তীব্র হয়ে উঠেছিল। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, শত প্রতিকূলতা ও কারাভোগ সত্ত্বেও তিনি দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের পথ থেকে সরেননি। একই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান আন্দোলন-সংগ্রামকে সুসংগঠিত করতে ভূমিকা রেখেছেন।

বক্তব্যকালে মেয়র জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সদস্য শহীদ ওয়াসিম আকরাম, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, রাব্বি, ফারুক, তানভীরসহ সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।

জুলাই চেতনায় গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে চসিক মেয়র দেশের সব নাগরিককে বিভেদ ভুলে সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা করার আহ্বান জানান।স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনসহ চসিকের বিভাগীয় ও শাখা প্রধানরা, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা ও রাজনৈতিক নেতারা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ