আজঃ মঙ্গলবার ৫ মে, ২০২৬

রাজশাহীতে কৃষক পাচ্ছে আধুনিক সেচ ব্যবস্থা

মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহীতে কৃষক পাচ্ছে আধুনিক সেচ ব্যবস্থা।
দেড় যুগ আগেও এসব জেলায় সেচের অভাবে অনাবাদি পড়ে থাকত শত শত হেক্টর জমি। শুষ্ক মৌসুমে ফসলি জমির মাটি ফেটে যেত। শুধু বর্ষাকালেই কৃষকেরা এক মৌসুমে চাষাবাদ করতে পারতেন। কিন্তু বরেন্দ্র সেচ প্রকল্প চালুর পর সেই দৃশ্য পাল্টে গেছে।

বর্তমানে স্মার্ট প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে ঘণ্টাপ্রতি ১২০ থেকে ১৪৫ টাকায় সেচ সুবিধা পাচ্ছেন কৃষকেরা। ফলে আউশ, আমন ও রবি মৌসুমে কোনো জমি অনাবাদি থাকছে না। সরিষা, ভুট্টা, পেঁয়াজ ও আলুসহ নানা ধরনের ফসলের সমারোহ দেখা যাচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলে।

বিএমডিএ’র রাজশাহী রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সেচ কার্যক্রম চালু রাখতে গভীর নলকূপ স্থাপন এবং নদী-খাল খননের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তবে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ভূ-উপরস্থ পানি ব্যবহারে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কৃষকদের পানি সাশ্রয়ী ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, বগুড়া ও পাবনায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক গভীর নলকূপে পানি উঠছে না। প্রায় ২০০টি ডিপ টিউবওয়েল নষ্ট হয়ে গেছে।

বিএমডিএর সেচ উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, এসব এলাকায় নতুন গভীর নলকূপ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বরেন্দ্র অঞ্চলে ৯ হাজার ১০০টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ কৃষকের ৩ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে। কৃষকেরা এই উদ্যোগকে কৃষি উৎপাদনের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বৃষ্টিতে ৮০০ চাষির মাথায় হাত, উৎপাদিত লবন মিশে গেছে মাটিতে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম মিলছে কম। এর ওপর হঠাৎ অসময়ের কালবৈশাখী ও ভারী বর্ষণে ক্ষতি হয়েছে লবণমাঠের। এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন প্রায় ৮০০ লবণচাষি। চট্টগ্রামের উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালীর লবণ শিল্পে এমন বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় মাঠেই গলে গেছে হাজার হাজার মণ লবণ। লবণের এই আকস্মিক উৎপাদন ঘাটতি আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে। লবণের সরবরাহ কমলে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
লবণ মিল মালিকদের মতে, নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত লবণের মৌসুম হলেও শেষ সময়ে কালবৈশাখীর আঘাতে এই খাতটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর চাষাবাদ কম হওয়ায় উৎপাদন ঘাটতির ঝুঁকি আগে থেকেই ছিল, যা এখন আরও ঘনীভূত হয়েছে।

চট্টগ্রাম বৃহত্তর কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির সভাপতি মুসলিম উদ্দীন জানান, কোরবানির সময় সারা দেশে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন লবণ প্রয়োজন হয়। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ৭৪ কেজির লবণের বস্তার দাম ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০০ টাকায় ঠেকেছে। লবণের দাম বাড়লে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের খরচও বেড়ে যাবে বলে তিনি জানান।

লবন চাষিরা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে মাঠে প্রস্তুত করা লবণ পানিতে মিশে গেছে। মৌসুমের শেষ সময়ে এমন ক্ষতিতে তারা দিশেহারা। বাঁশখালীর গন্ডামারা, পুইছড়ী, শেখেরখীল, সরল, ছনুয়া ও কাতারিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হলেও বর্তমানে অধিকাংশ মাঠই বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে আছে।

বিসিকের লবণ উৎপাদন মনিটরিং সেলের তথ্যমতে, দেশে চলতি বছর লবণের চাহিদা প্রায় ২৭ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে ৩০ হাজার টন লবণ উৎপাদন হলেও সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টন উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গত ৬ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র চার দিনেই উৎপাদন কমেছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন।
বাঁশাখলীর ছনুয়া এলাকার লবণ চাষি আবুল কালাম বলেন, সমুদ্রের লোনা পানি শুকিয়ে আমরা লবণ তৈরি করি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে মাঠের সব লবণ নষ্ট হয়ে গেছে। এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে আমরা লাখ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়ব।

বাঁশখালীর গন্ডামারা সমিতির সভাপতি আবু আহমদ জানান, বাঁশখালীতে প্রায় ১০ হাজার চাষি ও ৩০ হাজার শ্রমিক এই পেশায় জড়িত। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে শুধু তাদের সমিতির ৮০০ চাষিরই প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রোববার দুপুর পর্যন্ত দেশের ১৩টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী বর্ষণের শঙ্কা রয়েছে।

রাজশাহীতে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহীর চারঘাটে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে উপজেলার সরদহ রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ বুধবার চারঘাট মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এই দম্পতি। পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, নাটোর সদর উপজেলার ওই দম্পতি প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার বিকেলে ট্রেনে পপকর্ন বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে বের হন।

ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি শেষে রাত প্রায় ১টার দিকে তারা সরদহ স্টেশনে নামেন। পরে স্টেশনসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে বিস্কুট খাচ্ছিলেন তারা। এ সময় এক ব্যক্তি লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারী প্রথমে স্বামীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং তাকে একটি পরিত্যক্ত দোকানের পাশে বেঁধে রাখে। এরপর তার স্ত্রীকে স্টেশনসংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় তাদের পপকর্ন বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী স্বামী জানান, তিনি চিৎকার করলে প্রায় ৪৫ মিনিট পর আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তিনি জঙ্গল থেকে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে অভিযুক্তের নাম আশরাফুল ইসলাম বলে জানতে পারেন। আশরাফুল চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছী জাগিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ