কেজিডিসিএলে প্রিপেইড মিটার স্থাপনে ১ লাখ ৩০ হাজার আবেদনে সাড়া মিলেছে ৬৩ হাজারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) ১ লাখ ৩০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। ১ লাখ মিটারের বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৬৩ হাজার গ্রাহক প্রিপেইড মিটার বসিয়েছে। বাকিদের বেশিরভাগের সাড়াশব্দ নেই। তাদের দৃষ্টিগোচর করে নিয়মিত পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা, চিঠি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কখনো কখনো ছুটে যাচ্ছেন খোদ প্রকল্প সংশ্লিষ্টরাই।

এদিকে আবেদন করেও এখন পর্যন্ত যেসব গ্রাহক প্রিপেইড মিটার বসায়নি তাদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে যাচ্ছে কেজিডিসিএল। তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পথে হাঁটছে সংস্থাটি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রিপেইড মিটার স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক ও কেজিডিসিএলের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. নাহিদ আলম

বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবাইকেই প্রিপেইড মিটার নিতে হবে। আমাদের নীতিমালায়ও মিটারের কথা বলা আছে। মিটারের মাধ্যমেই গ্যাস দিতে হবে। যারা আবেদন করেও এখন পর্যন্ত প্রিপেইড মিটার স্থাপন করছেন না আমরা দুই এক মাসের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে যাবো। সোজা কথা যারা মিটার নিবে না আমরা তাদের লাইন কেটে দিবো।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্যান্য গ্রাহকদের পর্যায়ক্রমে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনতে পরিকল্পনা চলছে। শিগগির তাদেরও প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হবে।প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবাসিক গ্রাহকদের প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রকল্পের মেয়াদ জুনে শেষ হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির মেয়াদ এক দফা বাড়ানো হয়েছে। আবারো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ নেই।

ফলে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তেই কঠোর হতে হচ্ছে সংস্থাটিকে।
জানা গেছে, আবাসিক সংযোগে ১ লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপনের ২০২১ সালের ১৮ মে এ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। ২৪১ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে দুই বছরের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।

সূত্রে জানা গেছে, প্রিপেইড মিটার স্থাপনের আগে গ্রাহকের নিজস্ব খরচে রাইজার থেকে রান্নাঘর পর্যন্ত পৃথক লাইন নিতে হবে। ভবনে নতুন করে পাইপ লাইন স্থাপনসহ একেকটি চুলার পেছনে ৪ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। বিরাট অংকের এ টাকা খরচে নারাজ বেশিরভাগ গ্রাহক। ফলে শুরুতে প্রিপেইড মিটার স্থাপনে আগ্রহী হলেও পরে খরচের ভারে ঝিমিয়ে পড়েছেন তারা।যদিও কেজিডিসিএল মনে করছে, খরচ ছাড়াও গ্যাস চুরিও একটি কারণ হতে পারে।

নাম প্রকাশে কেজিডিসিএলের কয়েকজন কর্মকর্তা বলছেন, অনেকে সরকার নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহার করেন। বর্তমানে আবাসিকে দুই চুলায় ৬০ ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১০৮০ হাজার টাকা। এটাই সরকার নির্ধারিত লিমিট যে আপনি ১০৮০ টাকা দিয়ে ৬০ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করেন। এখন অনেক গ্রাহক এর চেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহার করছেন। তাই অনেক গ্রাহক চিন্তা করছেন আমরা যদি মিটার লাগাই আমাদের যে গ্যাসের ব্যবহার তা ৬০ ঘনমিটারের চেয়ে বেশি হবে। বিল বেশি যাবে এই কারণেই অনেক গ্রাহক মিটার নিতে চায় না।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাহক বলেন, আমার ভবনে ২৬টি ফ্ল্যাট। সব ফ্ল্যাটের জন্য রাইজার থেকে আলাদা ২৬টি লাইন টানতে হবে। একেকটি লাইন টানতে ৪ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হবে। এই মুহুর্তে এ টাকা খরচ করা সম্ভব না। আরেকজন গ্রাহক বলেন, গ্যাস বিল সাশ্রয় হবে ঠিক আছে। কিন্তু বিল তো দেয় ভাড়াটিয়া। আমার লাভ কি?। উল্টো এখন আলাদা করে নতুন লাইন টানতে অনেক খরচ সেটা কে দিবে? পরে প্রত্যেকমাসে মিটার ভাড়াও কাটবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে লেবেলবিহীন ঘি দিয়ে খাবার তৈরি, জরিমানা গুনল বনফুল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় বেনামি লেবেলবিহীন ঘি ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনসহ নানা অপরাধে বনফুলকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এ অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম। এছাড়া আরও নানা অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক ফয়েজ উল্ল্যাহ।

তিনি জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন উপাদান উপকরণ ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, খাবার সংরক্ষণের ফ্রিজে তেলাপোকা বিচরণ, বেনামি লেবেলবিহীন ঘি ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন করায় বনফুলতে ৬০ হাজার টাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করায় এম অ্যান্ড এস মেডিকোকে ৬ হাজার টাকা, সাঈদ মেডিকেল হলকে ৩ হাজার টাকা, অপরিচ্ছন্ন অস্বাস্থ্যকর উপায় তেল সংরক্ষণ ও প্যাকেটজাতকরণ, মোড়কজাত তেলে মেয়াদ মূল্য না দেওয়ায় পাঠানটুলি চৌমুহনী তেলের দোকানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

কর বিরোধ, উচ্চ আদালতে যাবে চট্টগ্রাম বন্দর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) হোল্ডিং ট্যাক্স বা পৌরকর ১৫ শতাংশ কমিয়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) দাবি করা ২৬৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বিপরীতে এই কর ২২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত সোমবার (২ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত দেন। সিটি করপোরেশন এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করবে।

রায়ের বিষয়ে চসিকের আইনজীবী মঈনুদ্দিন সোহেল বলেছেন, দাবি করা কর ১৫ শতাংশ কমিয়ে ২২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক রায়। সিটি করপোরেশন এই রায়ে সন্তুষ্ট।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত সাজ্জাদ বলেছেন, হোল্ডিং ট্যাক্সের আপিল আংশিক মঞ্জুর হয়েছে। মোট মূল্যায়ন ১ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা থেকে ২৩৩ কোটি কমানো হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর এই রায়ে সংক্ষুব্ধ। এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করা হবে।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চসিক ও বন্দরের একটি যৌথ দল ১ কোটি ৯৭ লাখ বর্গফুট জায়গার ওপর মূল্যায়ন সম্পন্ন করে। এর ভিত্তিতে বন্দরের ওপর ২৬৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স ধার্য করা হয়। এই মূল্যায়নের বিরুদ্ধে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করে। তবে আইন অনুযায়ী আপিল করার শর্ত হিসেবে মোট দাবির ৭৫ শতাংশ, অর্থাৎ ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকা চসিকের তহবিলে জমা দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। চসিকের ইতিহাসে আগে কখনো একক কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে একসঙ্গে এত বড় অঙ্কের টাকা জমা হয়নি।তবে এই জমা দেওয়া অর্থ চূড়ান্ত পৌরকর নয় বলে আগেই জানিয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দর।

বন্দরের মুখপাত্র ও ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন জানিয়েছিলেন, আপিলের আইনি বাধ্যবাধকতা রক্ষার্থে ওই টাকা ‘জামানত’ হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার শুনানিতে যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন, সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ