আজঃ মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

কেজিডিসিএলে প্রিপেইড মিটার স্থাপনে ১ লাখ ৩০ হাজার আবেদনে সাড়া মিলেছে ৬৩ হাজারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) ১ লাখ ৩০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। ১ লাখ মিটারের বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৬৩ হাজার গ্রাহক প্রিপেইড মিটার বসিয়েছে। বাকিদের বেশিরভাগের সাড়াশব্দ নেই। তাদের দৃষ্টিগোচর করে নিয়মিত পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা, চিঠি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কখনো কখনো ছুটে যাচ্ছেন খোদ প্রকল্প সংশ্লিষ্টরাই।

এদিকে আবেদন করেও এখন পর্যন্ত যেসব গ্রাহক প্রিপেইড মিটার বসায়নি তাদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে যাচ্ছে কেজিডিসিএল। তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পথে হাঁটছে সংস্থাটি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রিপেইড মিটার স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক ও কেজিডিসিএলের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. নাহিদ আলম

বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবাইকেই প্রিপেইড মিটার নিতে হবে। আমাদের নীতিমালায়ও মিটারের কথা বলা আছে। মিটারের মাধ্যমেই গ্যাস দিতে হবে। যারা আবেদন করেও এখন পর্যন্ত প্রিপেইড মিটার স্থাপন করছেন না আমরা দুই এক মাসের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে যাবো। সোজা কথা যারা মিটার নিবে না আমরা তাদের লাইন কেটে দিবো।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্যান্য গ্রাহকদের পর্যায়ক্রমে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনতে পরিকল্পনা চলছে। শিগগির তাদেরও প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হবে।প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবাসিক গ্রাহকদের প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রকল্পের মেয়াদ জুনে শেষ হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির মেয়াদ এক দফা বাড়ানো হয়েছে। আবারো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ নেই।

ফলে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তেই কঠোর হতে হচ্ছে সংস্থাটিকে।
জানা গেছে, আবাসিক সংযোগে ১ লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপনের ২০২১ সালের ১৮ মে এ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। ২৪১ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে দুই বছরের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।

সূত্রে জানা গেছে, প্রিপেইড মিটার স্থাপনের আগে গ্রাহকের নিজস্ব খরচে রাইজার থেকে রান্নাঘর পর্যন্ত পৃথক লাইন নিতে হবে। ভবনে নতুন করে পাইপ লাইন স্থাপনসহ একেকটি চুলার পেছনে ৪ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। বিরাট অংকের এ টাকা খরচে নারাজ বেশিরভাগ গ্রাহক। ফলে শুরুতে প্রিপেইড মিটার স্থাপনে আগ্রহী হলেও পরে খরচের ভারে ঝিমিয়ে পড়েছেন তারা।যদিও কেজিডিসিএল মনে করছে, খরচ ছাড়াও গ্যাস চুরিও একটি কারণ হতে পারে।

নাম প্রকাশে কেজিডিসিএলের কয়েকজন কর্মকর্তা বলছেন, অনেকে সরকার নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহার করেন। বর্তমানে আবাসিকে দুই চুলায় ৬০ ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১০৮০ হাজার টাকা। এটাই সরকার নির্ধারিত লিমিট যে আপনি ১০৮০ টাকা দিয়ে ৬০ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করেন। এখন অনেক গ্রাহক এর চেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহার করছেন। তাই অনেক গ্রাহক চিন্তা করছেন আমরা যদি মিটার লাগাই আমাদের যে গ্যাসের ব্যবহার তা ৬০ ঘনমিটারের চেয়ে বেশি হবে। বিল বেশি যাবে এই কারণেই অনেক গ্রাহক মিটার নিতে চায় না।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাহক বলেন, আমার ভবনে ২৬টি ফ্ল্যাট। সব ফ্ল্যাটের জন্য রাইজার থেকে আলাদা ২৬টি লাইন টানতে হবে। একেকটি লাইন টানতে ৪ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হবে। এই মুহুর্তে এ টাকা খরচ করা সম্ভব না। আরেকজন গ্রাহক বলেন, গ্যাস বিল সাশ্রয় হবে ঠিক আছে। কিন্তু বিল তো দেয় ভাড়াটিয়া। আমার লাভ কি?। উল্টো এখন আলাদা করে নতুন লাইন টানতে অনেক খরচ সেটা কে দিবে? পরে প্রত্যেকমাসে মিটার ভাড়াও কাটবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা ব্যাটালিয়ান ৫৯ বিজিবি’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ মহানন্দা ব্যাটালিয়ান (৫৯ বিজিবি)’র ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। বুধবার(৩ ডিসেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার গোবরাতলায় ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে এই আয়োজন করা হয়।প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা, আলোচনা সভা, ব্যাটালিয়ন সমাবেশ, ও মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল কামাল হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ শাহাদাৎ হোসেন মাসুদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জস্থ মহানন্দা ব্যাটালিয়ান (৫৯ বিজিবি)’র অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল গোলাম কিবরিয়া, উপ-অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল আসিফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ এ.এন.এম ওয়াসিম ফিরোজ, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন সহ জেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড ও মাসিক কল্যান সভা 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও মাসিক কল্যান সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাঠে মাষ্টার প্যারেডে সালাম গ্রহণ শেষে মাসিক কল্যান সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।


জেলা পুলিশ লাইন্সে ড্রিল শেডে মাসিক  কল্যান সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার
গৌতম কুমার বিশ্বাস উপস্থিত অফিসার ও ফোর্সদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং অফিসার ও ফোর্সদের সার্বিক কল্যাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট ইনচার্জবৃন্দকে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। 

উক্ত কল্যাণ আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ একরামুল হক, পিপিএম, অ‌তি‌রিক্ত পু‌লিশ সুপার (সদর সা‌র্কেল) মোঃ ইয়াসির আরাফাত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোমস্তাপুর সার্কেল) মোঃ হাসান তারেক, এএসপি (প্রবিঃ) সহ জেলার অফিসার ইনচার্জবৃন্দ, ইন্সপেক্টরবৃন্দ এবং জেলার অন্যান্য পুলিশ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

আরব আমিরাতে ভিসা সংকটে বড় হুমকির মুখে বাংলাদেশি শ্রমবাজার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যের  অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। নতুন ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও কবে ভিসা উন্মুক্ত হবে— সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারছে না বাংলাদেশ মিশন। বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমিরাত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

ভিসা জটিলতা শ্রমবাজারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাব পড়ছে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, আয়-রোজগার এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে বসবাস, লিঙ্গ পরিবর্তন, সনদ জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ ওঠায় ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি করেছে আমিরাত সরকার। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

এদিকে দুবাইয়ে স্কিল ভিসা চালু থাকলেও সেখানেও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্র্যাজুয়েশন সনদ ছাড়া বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। সনদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, পরে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যাচাই এবং শেষে আমিরাতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও জটিল এ প্রক্রিয়ায় হতাশ কর্মপ্রত্যাশীরা।

বাংলাদেশ মিশনের তথ্যানুসারে, স্কিল ভিসায় সনদ জালিয়াতি ঠেকাতে তিন মাস আগে চালু করা হয়েছিল বারকোড ব্যবস্থা। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটিও জাল করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশিদের মানসিকতা না বদলালে ভিসা সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

আবুধাবি বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, “গত সাত মাস ধরে ভিসা ইস্যুতে চেষ্টা চালিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি।কবে হবে সেটিও অনিশ্চিত। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, তবে বিষয়টি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ”

 

জনশক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা পরিবর্তনের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে অনেক বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। অনেকেই জানেন না, ভিসা বাতিল হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বর্তমানে যারা আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

বাংলাদেশি প্রবাসী সংগঠকরা মনে করেন, এ অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসীদেরও ভিসা নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। নইলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ