আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

কেজিডিসিএলে প্রিপেইড মিটার স্থাপনে ১ লাখ ৩০ হাজার আবেদনে সাড়া মিলেছে ৬৩ হাজারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) ১ লাখ ৩০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। ১ লাখ মিটারের বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৬৩ হাজার গ্রাহক প্রিপেইড মিটার বসিয়েছে। বাকিদের বেশিরভাগের সাড়াশব্দ নেই। তাদের দৃষ্টিগোচর করে নিয়মিত পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা, চিঠি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কখনো কখনো ছুটে যাচ্ছেন খোদ প্রকল্প সংশ্লিষ্টরাই।

এদিকে আবেদন করেও এখন পর্যন্ত যেসব গ্রাহক প্রিপেইড মিটার বসায়নি তাদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে যাচ্ছে কেজিডিসিএল। তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পথে হাঁটছে সংস্থাটি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রিপেইড মিটার স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক ও কেজিডিসিএলের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. নাহিদ আলম

বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবাইকেই প্রিপেইড মিটার নিতে হবে। আমাদের নীতিমালায়ও মিটারের কথা বলা আছে। মিটারের মাধ্যমেই গ্যাস দিতে হবে। যারা আবেদন করেও এখন পর্যন্ত প্রিপেইড মিটার স্থাপন করছেন না আমরা দুই এক মাসের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে যাবো। সোজা কথা যারা মিটার নিবে না আমরা তাদের লাইন কেটে দিবো।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্যান্য গ্রাহকদের পর্যায়ক্রমে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনতে পরিকল্পনা চলছে। শিগগির তাদেরও প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হবে।প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবাসিক গ্রাহকদের প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রকল্পের মেয়াদ জুনে শেষ হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির মেয়াদ এক দফা বাড়ানো হয়েছে। আবারো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ নেই।

ফলে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তেই কঠোর হতে হচ্ছে সংস্থাটিকে।
জানা গেছে, আবাসিক সংযোগে ১ লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপনের ২০২১ সালের ১৮ মে এ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। ২৪১ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে দুই বছরের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।

সূত্রে জানা গেছে, প্রিপেইড মিটার স্থাপনের আগে গ্রাহকের নিজস্ব খরচে রাইজার থেকে রান্নাঘর পর্যন্ত পৃথক লাইন নিতে হবে। ভবনে নতুন করে পাইপ লাইন স্থাপনসহ একেকটি চুলার পেছনে ৪ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। বিরাট অংকের এ টাকা খরচে নারাজ বেশিরভাগ গ্রাহক। ফলে শুরুতে প্রিপেইড মিটার স্থাপনে আগ্রহী হলেও পরে খরচের ভারে ঝিমিয়ে পড়েছেন তারা।যদিও কেজিডিসিএল মনে করছে, খরচ ছাড়াও গ্যাস চুরিও একটি কারণ হতে পারে।

নাম প্রকাশে কেজিডিসিএলের কয়েকজন কর্মকর্তা বলছেন, অনেকে সরকার নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহার করেন। বর্তমানে আবাসিকে দুই চুলায় ৬০ ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১০৮০ হাজার টাকা। এটাই সরকার নির্ধারিত লিমিট যে আপনি ১০৮০ টাকা দিয়ে ৬০ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করেন। এখন অনেক গ্রাহক এর চেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহার করছেন। তাই অনেক গ্রাহক চিন্তা করছেন আমরা যদি মিটার লাগাই আমাদের যে গ্যাসের ব্যবহার তা ৬০ ঘনমিটারের চেয়ে বেশি হবে। বিল বেশি যাবে এই কারণেই অনেক গ্রাহক মিটার নিতে চায় না।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাহক বলেন, আমার ভবনে ২৬টি ফ্ল্যাট। সব ফ্ল্যাটের জন্য রাইজার থেকে আলাদা ২৬টি লাইন টানতে হবে। একেকটি লাইন টানতে ৪ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হবে। এই মুহুর্তে এ টাকা খরচ করা সম্ভব না। আরেকজন গ্রাহক বলেন, গ্যাস বিল সাশ্রয় হবে ঠিক আছে। কিন্তু বিল তো দেয় ভাড়াটিয়া। আমার লাভ কি?। উল্টো এখন আলাদা করে নতুন লাইন টানতে অনেক খরচ সেটা কে দিবে? পরে প্রত্যেকমাসে মিটার ভাড়াও কাটবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

যশোরের চাড়াভিটায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


যশোরে বাঘারপাড়ার চাড়াভিটা ও তার পার্শ্বতি এলাকায়  হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখী ঝড়। আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেলা ২টার দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘে ডেকে   মেঘা আচ্ছন্ন হয়ে ঝড় বাতাসের সাথে বজ্র বূষ্টি শুরু হয়ে

টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় চলে এই ঝড়।চাড়াভিটা বাজারে পাশেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলে ও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি উপ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ের কারণে দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।, গত কয়েক দিন ধরে যশোর অঞ্চলে  তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। বিশেষ করে খেটেখাওয়া মানুষ গরমে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। দুপুরের পর আকাশ কালো মেঘে গুমোট আকার ধারণ করে শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়। সেই সঙ্গে বজ্রপাত।

বাঘারপাড়া  উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের চাড়াভিটা বাজার সহ কয়েকটি  এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙ্গে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে।যে কারণে  বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় ভূতুড়ে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।এলাকাবাসী জানান, এ ধরনের ঝড় অনেক দিন দেখা যায়নি।। একই সঙ্গে এলাকার কৃষকদের আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ