আজঃ সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬

চৌদ্দগ্রামের আলকরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

জহিরুল ইসলাম সুমন চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান করছে আলকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন সকালে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকেন অভিভাবকরা। দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণ করতে শিক্ষা উপদেষ্টাসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, আলকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে , নারানকুরি, বাকগ্রাম, ধোপাখিলা, আলকরা ও জঙ্গলপুর গ্রামের দেড় শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। ১৯৯৮ সালে বিদ্যালয়ের টিনসেড ঘর ভেঙে একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। পাঠদানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০০২ সালে একই ভবনের দোতলা নির্মাণ করে সরকার। ছয় কক্ষ বিশিষ্ট দোতলা ভবনের ১৫টিরও বেশি পিলারে গত কয়েক বছর ধরে ফাটল দেখা দিয়েছে।

প্রতিদিনই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে শ্রেণীকক্ষে পড়ালেখা করে। শিক্ষার্থীদের ন্যায় দূর্ঘটনার শঙ্কায় থাকেন শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ। এনিয়ে বেশ কয়েকবার শিক্ষকদের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারবৃন্দ বিদ্যালয় পরিদর্শন করে প্রকৃত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ‘পরিত্যক্ত ঘোষণা’ এবং নতুন করে ভবন নির্মাণে গত সরকারের সংসদ সদস্য মুজিবল হকসহ কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী নাবিলা আক্তার ও চতুর্থ শ্রেণীর তানিশা আফরিন বলেন, ‘আমরা আতঙ্কে পড়ালেখা করছি। উপরের স্যারদের বলবেন, আমাদের একটি নতুন বিল্ডিং করে দিতে। এটাই একমাত্র অনুরোধ’।

নারানকুরি গ্রামের খোরশেদ আলম, রহিমা বেগম, জাহাঙ্গীর হোসেন ও আলকরা গ্রামের মোঃ বাদল বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সন্তানদের পাঠদানে পাঠিয়ে শঙ্কায় থাকতে হয়, কখন দূর্ঘটনা ঘটে। শিগগিরই নতুন ভবন নির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানাচ্ছি’।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সেলিম মিয়া ও সাব্বির হোসেন বলেন, ‘বিল্ডিংয়ের ১৭-১৮টি পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। আরেক সহকারী শিক্ষক ইশরাত জাহান বাবলী বলেন আমরা সব সময় ভয়,ও আতংকের মধ্যে থাকি, এই ভয়,ও আতংকের মধ্যে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করাই। উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার প্রান্তিক সাহা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবহিত করেছেন। বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভর্তি করাতে চায় না’।

প্রধান শিক্ষক রোকসানা পারভিন বলেন, ‘একটি মাত্র ভবনেই চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। আর এ ভবনের অধিকাংশই পিলারেই ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কিছু পিলারের পলেস্তর খসে পড়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে অভিভাবকরা শঙ্কায় থাকেন। দ্রুত বিদ্যালয়ে একটি নতুন ভবন করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানাচ্ছি’।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল হুদা তালুকদার বলেন, ‘বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আবারও অবহিত করা হবে’।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

কিউলেক্স মশার প্রকোপ বেড়েছে: মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নালা-নর্দমা ও ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে স্থির পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটছে। তাই নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।’শনিবারের অঙ্গীকার, বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’—এই স্লোগান সামনে রেখে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও এর আশপাশের এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারা দেশে পরিচালিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে।মেয়র বলেন, নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান, কারণ প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।তাই মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এই এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে টব, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনের সামগ্রী বা প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নেয়, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জন্য দায়ী। তবে বর্তমানে কিউলেক্স মশার বিস্তার বেশি দেখা যাচ্ছে, যার প্রধান উৎস নোংরা ড্রেন ও জমে থাকা বর্জ্য। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।তিনি জানান, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে এই পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও অতিরিক্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ১৬০ জনের একটি বিশেষ দল কাজ করছে।মেয়র বলেন, চকবাজার, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, ফিরিঙ্গিবাজার, হালিশহর, পাহাড়তলীসহ কয়েকটি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষভাবে মশক নিধন ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

কার্যকর ওষুধ ব্যবহারের কারণে বর্তমানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। আমেরিকা থেকে আনা কার্যকর লার্ভিসাইড ব্যবহার করায় ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংসে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহর শুধু সিটি করপোরেশনের নয়—এটি সবার শহর। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসা-বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখলে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা সম্ভব।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সব সময় উন্নয়ন ও উদ্যোগে পথ দেখিয়েছে। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

উদ্বোধনের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেইন গেট, কেবি ফজলুল কাদের সড়ক এবং প্রবর্তক মোড় এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার করা হয় এবং মশক নিধনে লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটানো হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা ফগার মেশিন ও স্প্রে মেশিন ব্যবহার করে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম প্রমুখ।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ