আজঃ শনিবার ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬

জলাবদ্ধতা নিরসনে কর্ণফুলীর সঙ্গে যুক্ত আটটি খালের মুখে ৫৫ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে যুক্ত আটটি খালের প্রবেশমুখ খনন করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর কর্তৃপক্ষের ড্রেজিংয়ের আওতায় থাকা আটটি খাল হচ্ছে- রাজাখালী খাল, চাক্তাই খাল, ফিশারিঘাট, জোবায়ের খাল, লইট্টা খাল, বিএফটি খাল, অভয়মিত্র খাল এবং পিকে সেন খাল। ইতোমধ্যে এসব খালের মুখে ৫৫ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করা হয়েছে বলে বন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, আমরা বন্দরের পক্ষ থেকে কর্ণফুলী নদীর মূল চ্যানেলে ড্রেজিং এবং নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোর প্রবেশমুখের বর্জ্য অপসারণের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। মাননীয় উপদেষ্টাবৃন্দের মতবিনিময় সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের আলোকে আমরা বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে এ কার্যক্রম আরও জোরদার করেছি। শহরে বিশেষ করে রাজাখালী ও চাক্তাই খালসহ নদীর সঙ্গে যুক্ত খালগুলো, যেগুলো আমাদের বন্দরের জলসীমার মধ্যে পড়েছে, সেগুলোর পানিপ্রবাহ ঠিক রাখার কাজ চলছে।

জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া মেগাপ্রকল্পসহ সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং শুরু করেছেন অন্তর্বতীকালীন সরকারের চারজন উপদেষ্টা। গত ১৯ জানুয়ারি দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক এবং সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান চট্টগ্রামে এসে বন্দর, সিটি করপোরেশন, সিডিএ, ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরবর্তীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত আরেক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানও চট্টগ্রামে এসে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেছিলেন।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালে ‘ক্যাপিটাল ড্রেজিং’ নামে ২৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করে। ২০২২ সাল থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। নৌবাহিনী এ প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা ফেরানোর পাশাপাশি এবং নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে আটটি খালের মুখ খনন করা হচ্ছে এ প্রকল্পের আওতায়।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক আরো জানান, দুটি কাটার সাকশান ড্রেজার, একটি এম্পিবিয়াস ড্রেজার এবং একটি বর্জ্য অপসারণকারী জাহাজ বে ক্লিনার-১ প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত আছে। প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ছয় থেকে সাত হাজার ঘনমিটার মাটি তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের আওতায় ৫৫ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। আমরা আশা করছি বর্ষার আগেই খালগুলোর প্রবেশমুখে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে। আমরা আমাদের এ কাজ নিয়মিত চালু রাখবো। তবে সমস্যাটা হচ্ছে খালের ভেতরে, সেখানে তো কাজ করার এখতিয়ার আমাদের নেই। খালের ভেতরে যদি প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্যের জন্য পানি আটকে যায়, সেক্ষেত্রে প্রবেশমুখ ড্রেজিং করলেও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে না। এজন্য নগরবাসীকে সচেতন করতে হবে, যাতে কেউ খাল-নালায়, ড্রেনে সরাসরি বর্জ্য নিক্ষেপ না করেন।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ দুটি, সিটি করপোরেশন একটি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। চার প্রকল্পে মোট ব্যয় প্রায় ১৪ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সিডিএ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কৃষিবিদ শহিদুল ইসলামের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শিবচর উপজেলায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় উপজেলার সূর্যনগর বাজার এলাকার হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়ের একটি আন্ডারপাসের নিচে মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

পরে জানা যায়, নিহত ঐব্যক্তিটি কৃষিবিদ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। তিনি আন্তর্জাতিক গম ও ভূট্টা গবেষণা কেন্দ্র(সিআইএমএমওয়াইটি)- এর রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি পটুয়াখালী জেলার মহিপুর ইউনিয়নের সেরাজপুর গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে। সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে ঢাকার গুলশান এলাকায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের একটি শাখায় পে-অর্ডার জমা দিতে গিয়ে শহীদুল ইসলাম নিখোঁজ হন।

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের সাথে সাঈদ আল নোমানের মতবিনিময়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাহাড়তলীস্থ চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি) এর সাথে চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমানের মতবিনিময় সভা শুক্রবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতালের ইমরান সেমিনার হলে আয়োজিত সভায় দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাাখেন চক্ষু হাসপাতালের উপদেষ্টা ও সাবেক ম্যানেজিং ট্রাষ্টি আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন। সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের ম্যানেজিং ট্রাষ্টি মো. জাহাঙ্গীর আলম খান। আইসিও এর পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ওসমানীর পরিচালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের ছানি রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. রাজিব হোসেন।

বক্তব্য রাখেন, কার্যকরী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ রেজওয়ান শাহিদী, ডা. মেরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, ফাহমিদা, মো. মামুন প্রমূখ। ম্যানেজিং ট্রাষ্টি মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, হাসপাতালটির প্রতিষ্ঠাতা আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন এমন একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন যা বাংলাদেশ নয় দক্ষিণ এশিয়ায় আছে বলে মনে হয়না। তিনি এ প্রতিষ্ঠানটি যাতে সুরক্ষিত থাকে সে জন্য সাঈদ আল নোমানকে লক্ষ্য রাখার আহবান জানান।

সভায় অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন তার আত্মজীবনী ‘প্লেজার অ্যান্ড পেইন’’ নামক গ্রন্থটি সাঈদ আল নোমানের হাতে তুলে দেন। এ সময় অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন সাঈদ আল নোমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, নিজের জীবন, পরিবার, চিন্তা-ভাবনা এবং সম্পদের বড় একটি অংশ ব্যয় করে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার যে দুঃসাহস দেখিয়েছে সেজন্য তিনি তার এই সাহসকে শ্রদ্ধা করেন। এমন দুঃসাহস জন্য আমরা গর্বিত।

তিনি বলেন, এমন শিক্ষিত, নন্দিত ব্যক্তি রাজনীতিতে আসার খুব কম নজির রয়েছে। তিনি তাঁর আরো সফলতা কামনা করেন। সাঈদ আল নোমান বলেন, মানবতার কন্যানে মানুষকে ভাালোবেসে আমার অভিভাবক অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তবে এই ৫৪ বছরে অনেক জঞ্জাল, সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমরা যদি আমাদের সামষ্টিক শক্তি ধরে রাখতে পারি তাহলে আমরা আরো এগিয়ে যেতে পারবো।

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সাঈদ আল নোমান বলেন, জেনারেল হাসপাতালের সক্ষমতা বর্তমানে খুবই সীমিত। এটিকে আধুনিক ও কার্যকর করে তোলার পাশাপাশি মেডিক্যাল কলেজে রূপান্তরের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়তলী, খুলশী ও হালিশহর এলাকায় সরকারি হাসপাতালের ঘাটতি প্রকট। খুলশীতে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থাকলেও হালিশহর ও পাহাড়তলীতে কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই। ফলে চিকিৎসাসেবাকে অবশ্যই রাষ্ট্রীয়ভাবে বিবেচনা করতে হবে। বড় পরিসরে সরকারি উদ্যোগ ছাড়া এই খাতে টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

আলোচিত খবর

জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় বেশি সময় লাগতে পারে- ইসি সচিব।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের দুই ধরনের ব্যালটে ভোট দিতে হবে এবং প্রার্থীর সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ভোটগ্রহণ ও গণনা—উভয় প্রক্রিয়াতেই স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক ও বিএনসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি আরও জানান, এবারের নির্বাচনে প্রবাসী ভোটার ও দেশের অভ্যন্তরীণ ভোটারদের জন্য আলাদা ব্যালট ব্যবহৃত হবে। এর সঙ্গে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় ভোট গণনায় অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালট গণনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে সচিব বলেন, ফেনী-৩ আসনে পোস্টাল ভোটার ১৬ হাজার ৩৮ জন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ২৭৪ জন এবং কুমিল্লা জেলায় ১৩ হাজার ৯৩৯ জন ভোটার পোস্টাল পদ্ধতিতে নিবন্ধিত। একটি কেন্দ্রে সাধারণত তিন হাজার ভোটার থাকলেও পোস্টাল ব্যালটের চাপ পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি, যা ফল প্রকাশে বিলম্ব ঘটাতে পারে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ