আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

জলাবদ্ধতা নিরসনে কর্ণফুলীর সঙ্গে যুক্ত আটটি খালের মুখে ৫৫ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে যুক্ত আটটি খালের প্রবেশমুখ খনন করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর কর্তৃপক্ষের ড্রেজিংয়ের আওতায় থাকা আটটি খাল হচ্ছে- রাজাখালী খাল, চাক্তাই খাল, ফিশারিঘাট, জোবায়ের খাল, লইট্টা খাল, বিএফটি খাল, অভয়মিত্র খাল এবং পিকে সেন খাল। ইতোমধ্যে এসব খালের মুখে ৫৫ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করা হয়েছে বলে বন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, আমরা বন্দরের পক্ষ থেকে কর্ণফুলী নদীর মূল চ্যানেলে ড্রেজিং এবং নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোর প্রবেশমুখের বর্জ্য অপসারণের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। মাননীয় উপদেষ্টাবৃন্দের মতবিনিময় সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের আলোকে আমরা বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে এ কার্যক্রম আরও জোরদার করেছি। শহরে বিশেষ করে রাজাখালী ও চাক্তাই খালসহ নদীর সঙ্গে যুক্ত খালগুলো, যেগুলো আমাদের বন্দরের জলসীমার মধ্যে পড়েছে, সেগুলোর পানিপ্রবাহ ঠিক রাখার কাজ চলছে।

জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া মেগাপ্রকল্পসহ সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং শুরু করেছেন অন্তর্বতীকালীন সরকারের চারজন উপদেষ্টা। গত ১৯ জানুয়ারি দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক এবং সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান চট্টগ্রামে এসে বন্দর, সিটি করপোরেশন, সিডিএ, ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরবর্তীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত আরেক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানও চট্টগ্রামে এসে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেছিলেন।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালে ‘ক্যাপিটাল ড্রেজিং’ নামে ২৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করে। ২০২২ সাল থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। নৌবাহিনী এ প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা ফেরানোর পাশাপাশি এবং নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে আটটি খালের মুখ খনন করা হচ্ছে এ প্রকল্পের আওতায়।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক আরো জানান, দুটি কাটার সাকশান ড্রেজার, একটি এম্পিবিয়াস ড্রেজার এবং একটি বর্জ্য অপসারণকারী জাহাজ বে ক্লিনার-১ প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত আছে। প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ছয় থেকে সাত হাজার ঘনমিটার মাটি তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের আওতায় ৫৫ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। আমরা আশা করছি বর্ষার আগেই খালগুলোর প্রবেশমুখে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে। আমরা আমাদের এ কাজ নিয়মিত চালু রাখবো। তবে সমস্যাটা হচ্ছে খালের ভেতরে, সেখানে তো কাজ করার এখতিয়ার আমাদের নেই। খালের ভেতরে যদি প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্যের জন্য পানি আটকে যায়, সেক্ষেত্রে প্রবেশমুখ ড্রেজিং করলেও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে না। এজন্য নগরবাসীকে সচেতন করতে হবে, যাতে কেউ খাল-নালায়, ড্রেনে সরাসরি বর্জ্য নিক্ষেপ না করেন।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ দুটি, সিটি করপোরেশন একটি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। চার প্রকল্পে মোট ব্যয় প্রায় ১৪ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সিডিএ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব র‍্যাফেল ড্র বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত র‍্যাফেল ড্র–এর বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল খান, পাঠাগার সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আব্দুল্লাহ, কার্যকরী সদস্য সাইফুল ইসলাম শিল্পী ও আরিচ আহমেদ শাহসহ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় বিজয়ী মোট ৩০ জন সদস্যের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও দৃঢ় করেছে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সদস্যগণ পেশাগত জীবনে র‍্যাফেল ড্র’তে পুরস্কারপ্রাপ্তি এবং অপ্রাপ্তি নিয়ে তাদের স্মৃতিচারণ করেন। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়।

সিভাসু’তে ‘দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনে শীর্ষক ১০ দিনের প্রশিক্ষণ ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) ‘দ্গ্ধুজাত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ’ শীর্ষক দশ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আজ মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। সিভাসু’র পোল্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিআরটিসি) এবং ডেইরি ও পোল্ট্রি সাইন্স বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এবং সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন দুগ্ধ ঘাটতি উপজেলায় দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়নে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পিআরটিসি’র বোর্ড মিটিং কক্ষে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন সমবায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও নিবন্ধক মো. ইসমাইল হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, ঢাকার যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সুব্রত কুমার সিকদার। এছাড়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক ও প্রকল্প পরিচালক (প্রেষণ) তোফায়েল আহম্মদ এবং বাংলাদেশ ডেইরি অ্যান্ড ফ্যাটেনিং ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সিভাসু’র সিন্ডিকেট সদস্য মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। সভাপতিত্ব করেন পিআরটিসি’র পরিচালক প্রফেসর ড. এ. কে. এম. হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিভাসু’র প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ড. মো: ইনকেয়াজ উদ্দিন। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

দশ দিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দুধ থেকে দই, মিষ্টি, মাখন, ঘি, পনির, ছানা, লাবাং, বোরহানি, মাঠা ইত্যাদি তৈরির বিষয়ে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ প্রদান করেন সিভাসু’র ডেইরি ও পোল্ট্রি সাইন্স বিভাগের প্রফেসর গৌতম কুমার দেবনাথ, প্রফেসর ড. এ. কে. এম. হুমায়ুন কবির, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল হোসেন, প্রফেসর ড. মো: সাইফুল বারী ও ডা. উম্মে সালমা আমিন,

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক ও প্রকল্প পরিচালক (প্রেষণ) তোফায়েল আহম্মদ, সিভাসু’র প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ড. মো: ইনকেয়াজ উদ্দিন, জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, চট্টগ্রামের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ওমর ফারুক, বিএসটিআই চট্টগ্রামের ফিল্ড অফিসার (সার্টিফিকেশন মার্কস উইং) প্রকৌ. মো: মাহফুজুর রহমান এবং ট্রেড গ্লোবাল লিমিটেড, ঢাকার সিনিয়র সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার মো: শরিফ হোসেন।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ব্রাহ্মনবাড়িয়া, কুতুবদিয়া ও চকরিয়া অঞ্চলের দুগ্ধ ঘাটতি উপজেলায় দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্পের ২৫ জন সমবায় সমিতির সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ