বিএনপিতে ভিড়ে যারা অপকর্ম করছে তাদের ত্যাগ করুন-চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, অন্য দল থেকে এসে এখন বিএনপিতে যারা অপকর্ম করছে তাদের ত্যাগ করুন। তাদেরকে তো আমাদের দরকার নেই। আমরা এদের ছাড়া সবকিছু পারি এবং পেরেছিও। গত ১৬ বছর তো করেছি, তখন তো ছিল না। তাই তাদের বাদ দিয়ে আমাদের গড়তে হবে।

তিনি সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোডস্থ ফাইভ স্টার কনভেনশন হলে ১৭ নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে বিএনপির “রাষ্ট্রকাঠামো মেরামত” কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্মশালা ও প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সেকান্দরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. এমরান উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির প্রতিষ্টাকালিন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হারুন জামান, শওকত আজম খাজা।

চসিক মেয়র বলেন, ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড আমার নিজের এলাকা। এটি একটি বিএনপির উর্বর ওয়ার্ড। মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু যখন ২০১০ সালে মেয়র নির্বাচন করেন তখন ১৭, ১৮ এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সমন্বয়কারী ছিলাম। সেই ওয়ার্ডগুলো মঞ্জু সাহেবকে লিড দিয়েছে ২০ হাজার ভোট। এ তিন ওয়ার্ডে ভোট আছে ১ লাখের অধিক। তাই এ তিন ওয়ার্ডে যদি লিড নেওয়া যায় তাহলে অন্য ওয়ার্ডে হারলেও সমস্যা নেই। সংসদীয় আসনে এভাবেই আব্দুল্লাহ আল নোমান ভাই এখানে জিতেছেন।

শাহাদাত হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে একজন বিদেশি রাষ্ট্রদূত চসিকে আমার সাথে দেখা করেছিলেন। কখনো উপহার আনেননি। কিন্তু এবার বিশাল এক উপঢৌকন (উপহার) নিয়ে এসেছেন এবং আমাকে বলেছেন আপনারা সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন, অগ্রিম অভিনন্দন। তাদের কাছে এ মেসেজ চলে গেছে। তাই আপনাদের এখন কাজ হচ্ছে, যারা অন্য দল থেকে এখন আমাদের দলে ভিড়ে যে অপকর্ম করছে তাদের ত্যাগ করা। তাদেরকে তো আমাদের দরকার নেই। আমরা এদের ছাড়া সবকিছু পারি এবং পেরেছিও। গত ১৬ বছর তো করেছি, তখন তো ছিল না। তাই তাদের বাদ দিয়ে আমাদের গড়তে হবে।

তিনি বলেন, যারা আমাদের সাপোর্ট করতেন কিন্তু সামনে আসতে ভয় পেতেন, তারা তো আমাদের সঙ্গে আছেন। তারা হয়তো মাঠে ময়দানে ছিলেন না, কিন্তু আন্তরিকভাবে, সার্বিকভাবে অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছেন। তারা হয়তো রাজপথে মিছিল করতে পারেননি, কিন্তু সাহস যুগিয়েছেন। তারা যেহেতু আমাদের সঙ্গে আছেন তারাই আমাদের সম্পদ। তারাই কিন্তু আমাদের ভোট দিবে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপির ভোটাররা কিন্তু আওয়ামী লীগের ভোটারদের মতো মিছিল মিটিংয়ে সর্বাত্মক অংশ নেয় এ রকম না। বিএনপির মিছিল করবে এক গ্রুপ, আর অন্যদিকে ভোটাররা নীরবে ভোট দিবেন। এটা আপনারা সবাই জানেন। তাই আপনারা ওই লক্ষ্যে কাজ করেন।

শাহাদাত হোসেন বলেন, রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে দেশনায়ক তারেক রহমানের ৩১ দফা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এ দফা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান থেকেই শুরু হয়েছে। তিনি ১৯ দফা কর্মসূচি দিয়েছিলেন এবং এটা নিয়ে বিশাল পরিকল্পনা উপহার দিয়েছিলেন। পরে বেগম খালেদা জিয়া এবং এখন তারেক রহমান রাষ্টযন্ত্র মেরামতের জন্য ৩১ দফা উপহার দিয়েছেন। এরমধ্যে কিন্তু সমাজ সংস্কার, নগর সংস্কার, ওয়ার্ড সংস্কার, থানা সংস্কার, জাতি সংস্কার এবং রাষ্ট্র সংস্কারসহ সব ধরনের সংস্কার রয়েছে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে নাজিমুর রহমান বলেন, দেশের জনগণ দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। জনগণ এখন গণতন্ত্র, সুশাসন ও মৌলিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। তাই জাতীয় নির্বাচনই হবে জনগণের প্রতিনিধি নির্ধারণের একমাত্র পথ। বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তাই সংগঠনকে শক্তিশালী করে জনগণের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করতে হবে।

বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সদস্য মো. মহসিন, মহানগর বিএনপি নেতা ওমর ফারুক, আমিন মাহমুদ, ইব্রাহিম বাচ্চু, অধ্যক্ষ খোরশেদ আলম, ইসমাইল বাবুল, বিএনপি নেতা শেখ আলাউদ্দিন, আব্দুল কাদের, ফরিদুল হক লিটন, সাবেক কাউন্সিলর আরিফুল ইসলাম ডিউক, মহিউদ্দিন মিজান, খোরশেদ আলম, মোহাম্মদ ফারুক, ফোরকান চৌধুরী, এস এম পারভেজ প্রমূখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নিধারিত ভাড়া না মানলে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যবস্থা: ইউএনও

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সিএনজি অটোরিকশায় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট না থাকলে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপজেলার সব সিএনজি অটোরিকশায় দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার চার্ট টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বোয়ালখালী উপজেলা অডিটোরিয়ামে সিএনজির ভাড়া, যাত্রীসেবা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক।

সভায় যাত্রীদের স্বার্থ, চালক ও মালিকদের ন্যায্যতা এবং সিএনজি পরিবহনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে সিএনজিতে যাত্রী উঠানামার ভাড়া ৫ টাকা এবং ইউএনও কার্যালয় থেকে ফুলতল পর্যন্ত ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এ ছাড়া স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে ইউনিফর্ম পরিহিত কিংবা বৈধ পরিচয়পত্রধারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি সিএনজি অটোরিকশায় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব গাড়িতে ভাড়ার চার্ট লাগানো নিশ্চিত করতে হবে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ভাড়ার চার্ট না থাকা গাড়ির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় না করা এবং যাত্রীদের সঙ্গে শালীন, ভদ্র ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে চালকদের নির্দেশ দেওয়া হয়। যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, বোয়ালখালীর পাঁচটি স্টেশনে পূর্বের নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে ৫ টাকা করে বৃদ্ধি করা হবে। অন্য স্টেশনগুলোর ভাড়া আগের মতোই বহাল থাকবে।

সভায় বোয়ালখালী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কানিজ ফাতেমা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক চেয়ারম্যান, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ইসহাক চৌধুরী, বিএনপি নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা মুজাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি অধীর বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন দুলালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, এস এম মোদাচ্ছের, বোয়ালখালী সিএনজি অটোরিকশা টেম্পু শ্রমিক ও মালিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মো. ইদ্রিস, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাবিবুর রহমান, শ্রমিকনেতা আবদুল সাত্তার এবং কালুরঘাট-ফুলতল, শাকপুরা, সিও অফিস, জোটপুকুর, কানুনগোপাড়া, দাশেরদীঘি, বেংগুরাসহ বিভিন্ন এলাকার সিএনজি চালক ও সমিতির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।সভায় উপস্থিত বিভিন্ন পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে যাত্রীবান্ধব, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ সিএনজি পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

ইঞ্জিন দ্রুত মেরামতে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের নির্দেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি (আরটিএ), লোকোসেড, সিজিপিওয়াই, কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ (সিসিবিএল) ও পদ্মা অয়েল সাইডিং লাইন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এসব স্থাপনা পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনকালে রেলওয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (সিই), চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (সিওপিএস), চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম), চট্টগ্রামের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) এবং পাহাড়তলীর ডিএসডব্লিউসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমে রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি (আরটিএ) পরিদর্শন করেন মহাব্যবস্থাপক। এ সময় তিনি একাডেমির একাডেমিক ভবন, প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ কক্ষ, ডরমেটরি ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে বিভাগীয় প্রধানদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।এরপর তিনি সিজিপিওয়াই, টার্ন টেবিল, ট্রায়াঙ্গেল লাইন, ইয়ার্ড লাইন ও লোকোসেড পরিদর্শন করেন। লোকোসেড পরিদর্শনকালে ইঞ্জিন দ্রুত মেরামত ও সচল রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন পরামর্শ ও নির্দেশনা দেন।

পরে সিজিপিওয়াই এলাকায় কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ (সিসিবিএল) পরিদর্শন করেন মহাব্যবস্থাপক। এ সময় সিসিবিএলের সঙ্গে রেলওয়ের বিভিন্ন চুক্তি, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া দ্মা অয়েল সাইডিং লাইন পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ