আজঃ সোমবার ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

সংস্কারের গল্প আমাদেরকে বলার দরকার নেই

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রামে একুশে বইমেলায় শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় আমীর খসর মাহমুদ চৌধুরী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসর মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সংস্কারের গল্প আমাদেরকে বলার দরকার নেই। এই গল্প যারা নতুন নতুন সংস্কার শিখেছে, তাদের মধ্যে আর আপনাদের মধ্যে রেখে দিন। ৩১ দফা সংস্কার আকাশ থেকে পড়েনি। এটি প্রণয়নের পেছনে অনেক বিতর্ক, আলোচনা ও প্রস্তাবনা এসেছে। সকলের ঐক্যমতের ভিত্তিতেই আমরা ৩১ দফা প্রণয়ন করেছি। বাংলাদেশের মানুষের আগামী দিনের পরিবর্তনের বার্তা এই ৩১ দফার মাধ্যমেই দেওয়া হয়েছে। এই বার্তা নিয়ে আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছি এবং সংস্কারের জন্য আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

তিনি শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম চত্বরে অমর একুশে বইমেলার মঞ্চে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও বই মেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব প্রকাশক শাহাবুদ্দিন হাসান বাবুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক ইদ্রিছ মিয়া, সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন, স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

আমীর খসর বলেন, কোনো ব্যক্তির ভিশন বা কোনো গোষ্ঠীর মিশনের ভিত্তিতে সংস্কার হবে না। বাংলাদেশের জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই সংস্কার হবে। ৩১ দফার জন্য আমাদের জনগণের কাছে যেতে হবে। জনগণ যখন এসব দফার প্রতি সমর্থন জানিয়ে ভোট দেবে, তখন আমরা এটি বাস্তবায়ন করতে পারব।

বিএনপির ৩১ দফা ও অন্যান্য সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে তিনি বলেন, এখন যারা সংস্কারের কথা বলেন, তাদের কাছে কোনো ম্যান্ডেট আছে? তাদের পক্ষে কার সমর্থন আছে? তাদেরকে কে বলেছে? হ্যাঁ, প্রণয়ন করন, কমিশন হয়েছে, ভালো কথা। এগুলো সব আমরা আগামী সংসদে প্রস্তাব আকারে উপস্থাপন করবো। আপনারা কষ্ট করে করেছেন, অনেক ধন্যবাদ। এগুলো আমরা আগামী সংসদে পেশ করব। ৩১ দফা সংসদে আলোচনা হবে। আমরা বলেছি, হয়ে যাবে, তা নয়, সংসদে আলোচনা হবে। অন্য কোনো দলের যদি কোনো প্রস্তাব থাকে, সেটাও সংসদে উপস্থাপন করক। কারণ, আমরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাই। জনগণের চিন্তার প্রতিফলন রাষ্ট্র পরিচালনায় ও দৈনন্দিন জীবনে ঘটাতে হবে।

তিনি বলেন, যে নতুন পথ তারেক রহমান দেখিয়েছেন, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, অন্যের প্রতি সহনশীলতা ও সহানুভূতি দেখানো। অন্য মত হলেও সেটি গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন আনতে হবে। শুধুমাত্র সংস্কার করলেই হবে না, রাজনৈতিক সংস্কারের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে। আমার বিরদ্ধে কেউ বললেও তাকে সম্মান জানাতে হবে, তার মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে হবে। দ্বিমত পোষণ করবো, কিন্তু সম্মান দিতে হবে। আপনারা দেখেছেন, তারেক রহমানকে একটি পত্রিকায় কার্টুনের মাধ্যমে সমালোচনা করা হয়েছিল। পরে তিনি বলেছেন, এটার জন্যই তো আমরা যুদ্ধ করেছি, এ স্বাধীনতা পাওয়ার জন্য। এ স্বাধীনতা পাওয়ার জন্যই ফ্যাসিবাদের বিরদ্ধে যুদ্ধ করেছি।

আমীর খসর বলেন, বইমেলা জিনিসটা আমি ভুলে গিয়েছি। কারণ, বিগত দিনে বইমেলা বলতে যা বোঝানো হতো, তা হলো, একটি দলের প্রতিষ্ঠাতা, তার মেয়ে, তার পরিবার, তাদের চিন্তা ভাবনা ও দর্শন প্রতিফলিত হতো সেই বইমেলায়। এমনকি স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও তাদের পরিবারের দর্শন ও চিন্তা ভাবনা কারিকুলামের মাধ্যমে পড়তে, শিখতে বাধ্য করা হয়েছে। কোনো বিশেষ দর্শন, চিন্তা বা পরিবার যেন বাংলাদেশের মনোজগতে এককভাবে প্রবেশ করতে না পারে, সেটা আমরা আগামী দিনে নিশ্চিত করবো।

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি আবার তাদের পথে চলি, তাহলে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জিয়াউর রহমান সাহেব দেখে গিয়েছেন, সেই বাংলাদেশ আমরা গড়তে পারবো না। শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে বিশাল পরিবর্তন এসেছে। মানুষের চিন্তা ভাবনা, দর্শন ও সৃজনশীলতা এখন উন্মুক্ত অবস্থায় আছে। সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টি করতে হবে, যাতে সবাই নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে। আমাদের ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবে এসবের কথা বলা আছে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হতে পারলে, আমরা যারা আন্দোলন করেছি স্বৈরাচারের বিরদ্ধে, যারা একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, জাতীয় সরকার গঠন করে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবো। বিএনপি একা নয়, আমরা যারা সম্মিলিতভাবে ৩১ দফা প্রণয়ন করেছি, সবাই মিলে এটি বাস্তবায়ন করব।

ভিন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, আগের মতো দেশ পরিচালনা করা যাবে না। নতুন ভাবনায়, নতুন চিন্তায় আমরা যে বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি, সেই বাংলাদেশ হবে ভিন্ন বাংলাদেশ। অতীতের ভুল ত্রুটি মুছে দিয়ে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি নতুন বাংলাদেশ গড়া হবে।

বইমেলা ও মুক্তচিন্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উন্মুক্ত লেখাপড়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশের লেখাগুলোকে সম্মান জানাতে হবে, সব বিষয়ে লেখকদের সমর্থন দিতে হবে। বাংলাদেশের শিক্ষিত মানুষ ও লেখকদের জন্য আমাদের জায়গা তৈরি করতে হবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, শাহাদাত নিরপেক্ষভাবে চট্টগ্রাম নগরীকে সুন্দরভাবে গড়ার জন্য কাজ করক। আপনারা তাকে সহযোগিতা করবেন। সমস্যা থাকবে, সে সব সমাধান দিতে পারবে না। আমরা দলীয়করণে বিশ্বাসী নই। সে সঠিকভাবে নিরপেক্ষভাবে কাজ করক, তাহলে বিএনপি লাভবান হবে। শেখ হাসিনার পথে হাঁটলে চলবে না।

নতুন নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে আমীর খসর মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জাতীয়তাবাদী চিন্তার অনুসারীদের আগামী দিনে এই স্বাধীনতার চেতনাতেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে। আমরা সংঘর্ষের রাজনীতি চাই না, প্রতিশোধের রাজনীতি চাই না। হ্যাঁ, বিচার অবশ্যই করতে হবে, যারা খুন করেছে, গুম করেছে, তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। কাউকে বিচারের বাইরে রাখা যাবে না। একই সঙ্গে দেশ গঠনের প্রকল্পে বিএনপির যে চিন্তা রয়েছে, সেটিই মাথায় রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চসিক বাংলাদেশের একমাত্র সিটি কর্পোরেশন যেখানে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় ১০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমি মনে করি, এই বিপুল শিক্ষা কাঠামোকে কাজে লাগিয়ে বাংলা ভাষার প্রসারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। আমরা চাই সঠিকভাবে বাংলা অনুবাদ হোক। নগরীতে বিভিন্ন ইংরেজি সাইনবোর্ড ও দিকনির্দেশনামূলক চিহ্নের বাংলা অনুবাদ করতে এবং ভাষার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

নগরীর সাইনবোর্ড ও গুরত্বপূর্ণ স্থাপনার ইংরেজি লেখাগুলোর সঠিক বাংলা অনুবাদ নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ টিম গঠন করার ঘোষণা দিয়ে মেয়র বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরামর্শে এই উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমি আসলে উনার কথার সূত্র ধরে এটাই বলছি যে আমরা এ ধরনের একটা টিম তৈরি করতে চাই, যেটা সাইনবোর্ড গুলোর অনুবাদ করবে।

তিনি বলেন, আমাদের অনেক লেখক আছেন, কিন্তু অনেক সময় তারা তাদের লেখা ছাপাতে পারছেন না। আমরা চাই, লেখকরা তাদের সঠিক জায়গায় সুযোগ পান। আগামীতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এই সুযোগ করে দেবে।

ডা. শাহাদাত বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সবসময় শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে আগ্রহী। এবারের অনুষ্ঠানে বাইরের কোনো শিল্পী গান করেননি, বরং নগরীর বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরাই অংশগ্রহণ করেছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে অনেক অগ্রসর। চসিকের মতো এতটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সারা বাংলাদেশের আর কোথাও গয়ে ওঠেনি। সেজন্য আমি সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে চসিকের সকল কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানাই। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে বাচ্চাদেরকে মিথ্যা ও ভুল তথ্য দিয়ে অন্ধকারে রেখেছিল। তাই দেশের প্রকৃত ইতিহাস লেখকদের লেখনীর মাধ্যমে তুলে আনতে হবে।

মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, বিগত সরকারের সময়ে বই পুস্তক থেকে সত্য ইতিহাস তুলে দেয়া হয়েছিল। শহীদ জিয়ার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। শুধু শেখ মুজিবের নাম গুণ কীর্তন করা হয়েছে। তাই এখন সত্যিকারের ইতিহাস বই পুস্তকে তুলে আনতে হবে। আজকে অন্তর্র্বতীকালিন সরকার দেশ পরিচালনা করছে। তাদের কাজ হল, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। আমরা দেখতে পাচ্ছি, নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। তাই আমরা বলতে চাই, সংস্কারের নামে নির্বাচন বিলম্বিত করা যাবে না। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দিতে হবে।

ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, চট্টগ্রামের এই বইমেলাতে সব ধরনের বই প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। যেটা গত ১৭ বছর ছিল না। তখন জাতীয়তাবাদী চেতনার কোন প্রকাশকের বই ও কবিতা প্রকাশিত হতে দেওয়া হয়নি। সব সময় একটি বিশেষ দেশকে প্রাধান্য দেওয়া হতো। এবারের বইমেলার আয়োজন দেখে অনেক স্বস্তি পেয়েছি। এখানে সব শ্রেণী পেশার মানুষকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সেজন্য সিটি কর্পোরেশনকে ধন্যবাদ জানাই।

আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ বলেন, জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে দেশ নতুন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। এমনই এক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এ দিনটি বাংলাদেশের মানুষের অস্তিত্বে মিশে আছে এবং থাকবে চিরদিন। প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা প্রেরণার উৎস হয়ে আছে। পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোনো জাতি তাদের মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দেয়নি।

এতে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, এডভোকেট আব্দুস সাত্তার, এস এম সাইফুল আলম, হারন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জয়নাল আবেদীন জিয়া, আবুল হাশেম, ইস্কান্দর মির্জা, মো. সালাউদ্দিন, মো. কামরল ইসলাম, মশিউল আলম স্বপন, জাফর আহমেদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, বিভাগীয় শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরল্লাহ বাহার, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, সাধারণ সম্পাদক জেলি চৌধুরী, জাসাসের আহ্বায়ক এম এ মুসা বাবলু, সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ শিপন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম, সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন প্রমূখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভূটানের মান্যবর রাষ্ট্রদূতের চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত কিংডম অব ভূটান এর রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রাম বন্দরে আগমন করেন। চট্টগ্রাম বন্দরে পেৌছালে মাননীয় চেয়ারম্যান চবক, রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, ওএসপি, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। এসময় চেয়ারম্যান তাঁর সময়কালে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন অগ্রগতির বিষয়ে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। চেয়ারম্যান আনন্দের সাথে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর কন্টেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিং এ রের্কড গড়াসহ, জাহাজের ওয়েটিং টাইম শূন্যে নামানো, অটোমেশন এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত এবং ISPS টিম কর্তৃক জিরো অবজারভেশন অর্জনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

মান্যবর রাষ্ট্রদূত চবক এর সাফল্যে অভিভূত হন এবং চেয়ারম্যান, চবক কে ভূটান সরকারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। মান্যবর রাষ্ট্রদূত ইতোপূর্বে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে ভূটানে কন্টেইনার প্রেরনের বিষয়ে সহযোগিতার জন্য চবক চেয়ারম্যানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যবহার করে ভূটানের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যক্রম আরো গতিশীল করা সম্ভব হবে। পরিশেষে মান্যবর রাষ্ট্রদূত ও চেয়ারম্যান, চবক দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে ভবিষ্যতে দুদেশের সম্পর্ককে আরো উচ্চতায় নিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে মান্যবর রাষ্ট্রদূত বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সরেজমিনে পরির্দশন করেন এবং কার্যক্রম দেখে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।

শেরপুর ও বগুড়া থেকে নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শেরপুর ও বগুড়া থেকে নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে শেরপুর ও বগুড়ার দুই আসনের নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। জাতীয় সংসদ ভবনের পঞ্চম তলায় স্পিকারের কক্ষে রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা ১২টায় এই শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ নবনির্বাচিত শেরপুর-৩ আসনের মো. মাহমুদুল হক রুবেল ও বগুড়া-৬ আসনের রেজাউল করিম বাদশাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু ও সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত ৩১ জন নাবিকের হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি ‘বাংলার জয়যাত্রা’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ ৪০ দিন আটকে থাকার পর যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি না পেয়ে আবারও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে ফিরে যাওয়ার পথে রয়েছে।বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ইরানের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমতি চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় শারজায় ফিরে যেতে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও ইঞ্জিন চালু রাখতে হওয়ায় রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাবারের বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স দেওয়া হচ্ছে।

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। টানা প্রায় ৪০ ঘণ্টা যাত্রা শেষে শুক্রবার সকালে প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হয়। তবে তেহরান সেই অনুমতি দেয়নি। ফলে জাহাজটিকে ঘুরিয়ে নিরাপদে শারজায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছে। পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ১১ মার্চ জেবেল আলীতে পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পর কুয়েতে নতুন পণ্য বোঝাইয়ের পরিকল্পনা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ