চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

করদাতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা জানালেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, চট্টগ্রামকে গ্রিন ও ক্লিন সিটিতে রূপান্তর করতে নিয়মিত কর পরিশোধ করুন। জনগণকে করের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দিতে চাই না। বরং করদাতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চাই।

রোববার মহানগরের ওয়াসা মোড়ে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিচ তলায় চসিকের উদ্যোগে ‘কর মেলা ২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চসিক মেয়র এসব কথা বলেন। জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, আপনারা যাতে সময়মত ট্যাক্সগুলো দিয়ে দেন। কারণ হোল্ডিং ট্যাক্স যদি আমরা ঠিকমত পেয়ে থাকি; তাহলে আমরা শহরকে সুন্দর করতে পারবো।

শহরের অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, চসিককে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্নভাবে আমরা কর আদায় বাড়ানোর চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যেই বন্দরকে আমরা চিঠি লিখেছি। আমাদের যে ন্যায্য কর তা যাতে আমাদের দেওয়া হয়। সড়কে বন্দরে পণ্য পরিবহনকারী ৭০-৮০ টনের যান চলাচল করায় রাস্তা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অথচ, শহরের অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তার বিপরীতে তাদের কাছ থেকে যথাযথ কর আদায় করা সময়ের দাবি। এছাড়া বিভিন্ন সংস্থা এখনো যারা কর দিচ্ছে না আমরা তাদেরকেও আহ্বান জানাচ্ছি। বিভিন্ন জায়গায় সরকারি অনেক কর বাকি আছে তাদেরকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি সময়মত কর প্রদান করে সহযোগিতা করুন। আমরা আপনাদেরকে ডিসকাউন্ট করার চেষ্টা করছি।

নিষ্পত্তি হয়ে গেছে সেগুলো আর কিছু করার থাকবে না উল্লেখ করে মেয়র বলেন, জনগণের সহায়ক হিসেবে কাজ করতে চাই। জনগণের ওপর কোন করের বোঝা আমরা চাপিয়ে দিতে চাই না। করদাতা ভাইয়েরা যাতে স্বস্তিদায়ক অবস্থায় করগুলো দিতে পারে সে ব্যবস্থা আমরা করে দিব। তবে এরমধ্যে যাদেরগুলো নিষ্পত্তি হয়ে গেছে; সেগুলো আর কিছু করার থাকবে না। যেহেতু এটা মিউচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। সেগুলো আমাদের কিছু করার নাই।তিনি আরো বলেন, নিষ্পত্তি যেগুলো এখনো হয়নি; সেগুলো স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আপনাদের ওপর করের বোঝা না চাপিয়ে যাতে করগুলো সহজভাবে দিতে পারেন সেভাবে ব্যবস্থা করা হবে।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ মেলায় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাব্বির রহমান সানিসহ রাজস্ব বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
চসিক মেয়র আরো বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শহরকে আরও সুন্দর ও উন্নত করে তুলতে। বর্তমানে আমরা শহরের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নের জন্য ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের করগুলো সময়মত প্রদান করলে ভবিষ্যতে এই খাতগুলোতে আরো বেশি পরিমাণে বাজেট প্রদান সম্ভব হবে। পাশাপাশি শহরের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্যও পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ করা হবে। যাতে জনগণের জীবনযাত্রা আরো সুগম এবং উন্নত হয়। এই কর আপনাদের কাজের জন্যই দিন; শহরকে সুন্দর করুন। শহরকে আরো সুন্দর ও আধুনিক করতে ট্রেড-লাইসেন্স অটোমেশনের আওতায় অনেকটা এসে গেছে। শিগগিরই হোল্ডিং ট্যাক্স অনলাইনে পরিশোধের সুবিধা চালু করা হবে। যাতে নাগরিকরা হয়রানিমুক্তভাবে কর প্রদান করতে পারেন।

কোন কর্মকর্তা ঝামেলা করতে মেয়রকে অবগত করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এখনো যদি কোন কর্মকর্তা অতিরিক্ত কিছু করতে চায় আমাদের জানাবেন। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা একটা সুন্দর সংস্কৃতি চালু করতে চাই। দুর্নীতিবিহীন সুন্দর একটি সমাজ শহর আমরা বিনির্মাণ করতে চাই।
কর মেলায় হোল্ডিং কর, ই-ট্রেড লাইসেন্স’র শতভাগ সারচার্জ মওকুফ, আপিল শুনানি এবং বিভিন্ন তথ্য প্রদানের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। জনগণ যাতে সহজে কর পরিশোধ করতে পারে, সে জন্য দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

মেলায় চসিকের রাজস্ব সার্কেল-১ ও রাজস্ব সার্কেল-৫ এর আওতাধীন এলাকাবাসীর করদাতারা ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, হোল্ডিং কর পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবার সুবিধা গ্রহণ করেন। সার্কেল-১ এর আওতাধীন ওয়ার্ডসমূহ ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী, ২ নম্বর জালালাবাদ, ৩ নম্বর পাঁচলাইশ, ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর, ৮ নম্বর শুলকবহর। এছাড়া, রাজস্ব সার্কেল-৫ এর আওতাধীন ওয়ার্ডসমূহ হল ১৪ নম্বর লালখান বাজার, ১৫ নম্বর বাগমনিরাম, ২১ নম্বর জামালখান, ২২ নম্বর এনায়েত বাজার, ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী এবং ২৮ নম্বর পাঠানটুলী।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের আকবর শাহে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আগুন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবর শাহ থানাধীন পরিবেশ অধিদপ্তরের পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে আকবর শাহ থানার টহল পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

ঘটনাস্থলের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সকালে হঠাৎ বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নিয়ন্ত্রণকক্ষের অপারেটর বলেন, সকাল ৬টার দিকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

দীর্ঘদিন ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করল চবি ছাত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মহুয়া তাসনিম দীর্ঘদিন ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ২টায় শিক্ষার্থী মহুয়ার মৃত্যুর বিষয়টি সহপাঠীদের নিশ্চিত করেছেন তার বোন। মহুয়ার বাড়ি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দিতে। তারা ঢাকার সাভার উপজেলায় থাকতেন।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার আগে থেকেই ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন এই শিক্ষার্থী। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাফিল হোসেন মানিক বলেন, মহুয়া গত আগস্টের ১৪ তারিখ আমাকে ভয়েস ম্যাসেজ পাঠিয়ে বলেছিল, ভাইয়া, সাভার এনাম মেডিক্যালে জরুরি ঙ+ রক্ত লাগবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কার জন্য রক্ত লাগবে? তখন বলল, ‘ভাইয়া, আমার জন্যই। আমার রক্তের প্লাটিলেট অনেক কমে গেছে, তাই প্লাটিলেট দেওয়া প্রয়োজন।

এরপর রক্তের ব্যবস্থা করার জন্য প্রায়-৭৮ জনকে নেওয়া হলেও কারও সাথেই গ্রুপের মিল ছিল না। পরে একজনের সাথে মিল পাওয়া গেলে ওই রাতেই তাকে প্ল্যাটিলেট দেওয়া হয়’।
তিনি আরও বলেন, ‘লিউকেমিয়ার চিকিৎসা চলছিল ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে। কিছুদিন আগে হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে মাত্র একদিনের জন্য বাড়ি ফিরেছিল। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার কথা ছিল তার’।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ