আজঃ শনিবার ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬

একহাতি বাইক রাইডার জাবেদের তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমণ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল মোটরবাইক নিয়ে সারাদেশ ভ্রমণ করবেন। ২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ডান হাত হারিয়ে থমকে দাঁড়িয়ে যায় বাইক বিলাস। চুর্ণবিচুর্ণ হয়ে ভেঙ্গে যায় মনের গভীরে দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। পারিবারিক বিধি নিষেধের জালে আটকে বন্ধ হয়ে যায় তার বাইক চালানো। লালিত স্বপ্ন ঝরা ফুলের মত খসে পড়লেও থেমে যায়নি জাবেদ জাহাঙ্গির রিপনের উদ্যোম।

শুরু করেন একহাতে মোটরবাইক চালানোর কৌশল রপ্ত করার প্রাণপন চেষ্টা। একসময় পুরোপুরি করায়াত্ত হয় একহাতে বাইক চালানোর কৌশল। এখন তিনি একহাতি বাইক রাইডার।

বলছিলাম সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের জাবেদ জাহাঙ্গীর ওরফে রিপনের কথা। যিনি এলাকায় ওয়ান হ্যান্ডেড বাইক রাইডার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

একহাতে মোটরবাইক চালিয়ে দেশের এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে ভ্রমন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তেঁতুলিয়া থেকে রওনা হয়ে একহাতি বাইক রাইডার জাবেদ ২৩ ঘন্টায় টেকনাফ পৌঁছে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন।

জাবেদ জাহাঙ্গীর রিপন জানান, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ভ্রমণের জন্য প্রথমে সাতকানিয়া উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাইক চালিয়ে যাত্রা শুরু করেন। সেখান থেকে তিনি রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলা হয়ে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় গিয়ে পৌঁছান। অতপর তেঁতুলিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে টেকনাফের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে ২৩ ঘন্টা একহাতে বাইক চালিয়ে দীর্ঘ ৯শ’ ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি টেকনাফ জিরো পয়েন্টে এসে পৌঁছান।

জানা যায়, ২০১৬ সালে জাবেদ জাহাঙ্গীর রিপন বন্ধুদের নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণের উদ্দেশ্যে নিজ বাড়ি থেকে বাসযোগে যাত্রা করেন। তিনি বাসের ডান পাশের সিটে জানালা দিয়ে ডান হাত বের করে বসেছিলেন। তাদের বাসটি কেরানিহাট ষ্টেশন পার হয়ে সাতকানিয়া রাস্তার মাথায় গিয়ে পৌঁছালে চট্টগ্রামগামী একটি বাসের ধাক্কায় তার ডান হাতটি বিচ্ছিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন। এরপর ২ বছর বিরতি দিয়ে ২০১৮ সালে এক হাতে মোটরবাইক চালনো রপ্ত করেন। তখন থেকে বাইক চালিয়ে বিভিন্ন জেলা ভ্রমণ শুরু করে অদ্যাবধি চালিয়ে যাচ্ছেন।

এখন পর্যন্ত তিনি একহাতে মোটরবাইক চালিয়ে পর্যায়ক্রমে কুমিল্লা, কক্সবাজার, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, ঢাকা, গাজীপুর , নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজশাহী ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও পঞ্চগড়সহ ৫৯টি জেলা ভ্রমণ করেছেন। একযোগে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণের পাশাপাশি বিশ্ব ভ্রমণের স্বপ্ন দেখছেন একহাতি বাইক রাইডার জাবেদ জাহাঙ্গির ওরফে রিপন।

তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমণের সময় জাবেদ জাহাঙ্গীর রিপনের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তারই বন্ধু মো. কায়েস উদ্দিন। তিনি বলেন, আমি মোটরবাইক চালাতে পারি না। সড়ক দুর্ঘটনার কথা মাথায় আসলে বাইকে চড়তেও আমার ভয় হয়। বন্ধু জাবেদ জাহাঙ্গীর রিপনের অনুরোধ রক্ষার্থে তার মোটরবাইকের পেছনে বসে সফরসঙ্গী হিসেবে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমণ করেছি ৷ বন্ধু জাবেদ জাহাঙ্গীর রিপন একহাতে মোটরবাইক চালিয়ে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পৌঁছানো অসম্ভবই মনে করেছিলাম। পরে বুঝলাম আমার ধারণা ভুল ছিল। আমি তার এ বিরল ঘটনার সাক্ষী। আমি অত্যন্ত আনন্দিত।

জাবেদ জাহাঙ্গীর রিপন বলেন, আমি যখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র তখন থেকে মোটরবাইক চালানো শুরু করি। তখন থেকেই মোটরবাইকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব ভ্রমণ করার স্বপ্ন লালন করছি। তবে ২০১৬ সালে বাস দুর্ঘটনায় আমার ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে আমার মন থেকে স্বপ্ন বিচ্ছিন্ন হয়নি। যারফলে আজকের এ বাইক ভ্রমন সম্ভব হয়েছে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমার ডান হাত না থাকায় বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ আমাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোটরবাইকের রেজিষ্ট্রেশন ইস্যু করছে না। এতে বিভিন্ন জেলায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে আমাকে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। বর্তমানে আমি আমার মোটরবাইকটি আমার বাবার নামে রেজিস্ট্রেশন করে ব্যবহার করছি। আমি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের নিকট বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি আমাকে যদি ড্রাইভিং লাইসেন্স ও আমার নামে মোটরবাইক রেজিস্ট্রেশন ইস্যু করা হয় আমি একদিন বিশ্ব জয় করে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করতে পারব।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নতুন রাজনৈতিক মুভমেন্ট এনপিএ’র আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষা এই পাঁচ মূলনীতি নিয়ে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন-এনপিএ’র আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।আজ ১৬ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেল চারটায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্ল্যাটফর্মটির ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ঘোষণা করা হয়।

কাউন্সিলের মুখপাত্র হয়েছেন ফেরদৌস আরা রুমী, নাজিফা জান্নাত ও তুহিন খান। তারা একেকজন একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পালাক্রমে এই দায়িত্ব পালন করবেন।কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- অনার্য মুর্শিদ, অনিক রায়, অনিকেত চার্বাক, অনিন্দ্য পন্ডিত, অনিরুদ্ধ রতন দাস, অনুপম সৈকত শান্ত, অপু সাহা, অমর্ত্য রায়, অলিউর সান, অলিক মৃ, আফজাল হোসেন, আতিকুর রহমান আতিক, আদ্রিতা কবির, আলমগীর কবির মিথুন, আসাদ রেহমান, আশিকুর রহমান অনিক, আহমেদ আন-নাবা, ইমতিয়াজ নাদভী, ইরফান আহমেদ, ইলোরা সুলতানা, ঋভু রহমান, কাওসার শাকিল, কাওসার হামিদ, কে এম সুফিয়ান, কৌশিক আহমেদ, খালিদ হাসান আলো, জাকারিয়া হোসেইন, জান্নাতুল মাওয়া আইনান, জাহিদ জামিল, জাহিদ হোসেন ইনকিয়াদ, টিপু গোস্বামী, তসলিম আহমেদ, তাসলিমা মিজি, তাহমীদুর আর চৌধুরী, তাহসিন আহমেদ অমি, নজরুল ইসলাম, নাজমুল আহমেদ, নাফিসা রায়হানা, নাশাদ ময়ুখ, নাসিরউদ্দিন টগর, নিসর্গ নিলয়, নীলা চাকমা, নূমান আহমাদ চৌধুরী, পারভেজ আলম, পুন্নি কবির, ফজলে রাব্বী খান তাজ, ফয়জুল্লাহ আনান, ফরহাদ নাইয়া, ফারিয়া জামান নিকি, ফেরদৌস আরা রুমী, বাকী বিল্লাহ, বিনয় আমিন, মঈনুল ইসলাম শুদ্ধ, মনোয়ার হোসেন নাইম, মাঈন আহমেদ, মাহবুবুর রহমান, মামুনুর রশিদ, মারুফ বিল্লাহ তন্ময়, মাসুদ রানা, মিম আরাফত মানব, মিতা নাহার, মীর মোকাররম শুভ, মীর হুযাইফা আল-মামদূহ, মুকুল ইসলাম, মুশফিকুর রহমান, মো. হাসিব, মোশফেক আরা শিমুল, মোহন বড়ুয়া, রঞ্জন কুমার দে, রহমত উল আলম, রাজীব চক্রবর্তী সুকান্ত, রাফসান আহমেদ, রাশেদুল কবীর রাফি, রাহাত মুস্তাফিজ, রাহুল দাস, রিয়াদুস সালেহীন জাওয়াদ, রেজওয়ান আমীন, রেজাউর রহমান রিন্টু, রৌদ্র তাপসী, শর্মী হোসেন, শামীম আরা নীপা, শেখ ফাতেমা খায়রুন, সমির সরকার, হাসান ইকবাল সজীব, সমির সরকার, সজীব তানভীর, সাখাওয়াত ফাহাদ, সাদ আহমেদ, সাদিক মোহাম্মদ আলম, সামি মোহাম্মদ, সালেহ রাব্বি, সেতু আরিফ, সৈয়দা নীলিমা দোলা, সোনিয়া আফরোজ যুথী, সৌরভ দেব, হাবিব ইমরান জনি, হাসান সালিহি এবং হাসান সোলাইমান।

নতুন মাত্রায় এফ্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে: সর্বস্তরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সাম্য ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা, সংবিধান সংস্কার, মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের সংস্কার এবং অর্থনৈতিক রূপান্তর।এসময় স্বাগত বক্তব্যে কাউন্সিলের সদস্য অনিক রায় বলেন- আমরা রাজনীতিকে কেবল ভাবাদর্শিক লড়াইয়ে পরিণত করতে চাই না। আবার ওয়েলফেয়ারের নামে পেট্র-ক্লায়েন্ট ভিত্তিক রাজনীতিও আমাদের লক্ষ্য নয়। আমরা চাই রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের একটি মৌলিক রূপান্তর। আমরা চাই একটি মানবিক রাষ্ট্র, শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, ন্যায্য অর্থনীতি এবং সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন।তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি পুঁজির গণতান্ত্রিক বিকাশ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই পারে এই দেশকে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে। এই কারণেই আমরা বলছি আমাদের পথ একটি সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট, সামাজিক গণতন্ত্রের আন্দোলন। এটি কেবল ক্ষমতার লড়াই নয় বরং সমাজকে সুসংহত ও গণতান্ত্রিক করে তোলা এবং মানুষের আত্মসামাজিক মুক্তি নিশ্চিত করার সংগ্রাম। যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি ন্যায্য ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

গণভোট নিয়ে মিথ্যাচার ছড়ানো হচ্ছে-আলী রীয়াজ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, গণভোট নিয়ে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পলাতক ফ্যাসিবাদীরা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে লুটপাটের টাকা খরচ করে এ পরিকল্পিত মিথ্যাচার করছে।

জনগণকে সত্যটা জানানোর মধ্য দিয়ে মিথ্যাকে পরাভূত করতে হবে।তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, আলেম সমাজ, ছাত্র, আপামর জনতা নির্যাতিত-নিপীড়িত হয়েছেন।জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর সেই শহীদদের রক্তেই রচিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেসব শহীদের রক্তের দায় আমরা যেন ভুলে না যাই।গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মুখ্যসমন্বয়কের দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়,

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন।গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ সম্মেলনের আয়োজন করে।চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন,

বাংলাদেশ পুলিশ চট্টগ্রাম রেঞ্জ-এর ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ।চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত ইমামগণ সম্মেলনে অংশ নেন।
নবীন প্রজন্মের জন্য একটি ভবিষ্যত তৈরি করার দায়িত্ব আমাদের সবার উল্লেখ করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, যে প্রতিশ্রুতি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে ছিল, চব্বিশের গণঅভ্যত্থানে ছিল,

সেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ আমরা চাই কিনা তা নির্ধারণেই এবারের গণভোট।বিগত দিনে দুর্নীতির ভয়াবহ অবস্থার কথা তুলে ধরে গণভোটে সরকারের পক্ষে প্রচার কার্যক্রমের মূখ্য সমন্বয়ক আলী রীয়াজ বলেন, দুর্নীতি ঠেকানোর কোনো পথ এত দিন পরেও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমাদের দেশে করা সম্ভব হয়নি। সরকারি দলের লুটপাটকে উপেক্ষা করে বিরোধী দলকে দমনে দুর্নীতি দমন কমিশনকে বারবার ব্যবহার করা হয়েছে।

বিদ্যমান সংবিধানে কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ত্রুটির সুযোগ নিয়ে এতদিন দুদককে এ হীন স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে মন্তব্য করে আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদে এ বিদ্যমান ব্যবস্থাকে সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া জনগণ গণভোটে সংস্কারের পক্ষে সম্মতি দিলে সরকারের অর্থিক বিষয়াদি তদারকির জন্যও সংসদে বিরোধী দলের নেতৃত্বে একাধিক কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে, জানান আলী রীয়াজ।

ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী গণভোটকে ঘিরে ব্যাপক অপপ্রচার চালাচ্ছে জানিয়ে বিশেষ অতিথি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার বলেন, সেই ফ্যাসিস্টরা এখন লুটপাটের টাকায় মিথ্যাচার ছড়িয়ে, অপপ্রচার চালিয়ে জাতির ঘুরে দাড়ানোর প্রয়াসকে ব্যর্থ করে দিতে চাইছে।

গণভোট নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আমরা এখানে এসেছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ আমাদের জাতির ভবিষ্যত গড়ার একটি স্থায়ী দলিল। এই সত্যটি জনগণকে বোঝালে মিথ্যা এমনিতে বিলীন হয়ে যাবে।

মনির হায়দার বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা একটা বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, যেখানে নাগরিকদের সমতা, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অথচ ৫৪ বছর পরে এসেও আমরা একটি বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার জন্য যুদ্ধ করছি।তিনি বলেন, যে পরিবর্তনের জন্য আমরা ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করেছিলাম, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ ধরে সেই প্রচেষ্টাকে সামনের দিকে নিয়ে যেতেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।

ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন উপস্থিত আলেম ওলামাগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে বান্দার হক, মজলুমের হক তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। বিগত আমলে শত অত্যাচার- নির্যাতন করেও আলেমদের সত্য বলা থেকে বিরত রাখা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আপনারা ভূমিকা রাখলে সব ভোট ‘হ্যা’ -এর পক্ষেই পড়বে।’

সভার সভাপতি চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আলেম সমাজের উদ্দেশে বলেন, জনগণ গণভোট সম্পর্কে অল্প-বিস্তর জানেন কিন্তু সে ভোটে তারা অংশ নেবেন কিনা সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মানুষ আপনাদের সম্মতির অপেক্ষা করে আছেন।

ইসলামী ফাউন্ডেশন চট্টগ্রামের পরিচালক সরকার সরোয়ার আলম, লালখান বাজার জামে মসজিদের খতিব ড. মুফতি হুমায়ুন কবীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে অতিথিরা গণভোট নিয়ে আলেমদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ