আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

জেনারেল হাসপাতালে ১৮টি আইসিইউ শয্যার ২২টি ভেন্টিলেটরের ২০টি অকার্যকর

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের স্বার্থে ২০২০ সালে ১৮টি আইসিইউ শয্যা স্থাপন করা হয়। রোগীদের চাপও ছিল শয্যার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। এই ১৮টি শয্যার জন্য ২২টি ভেন্টিলেটর থাকলেও বর্তমানে ২০টিই অকার্যকর। বাকি দুটি সচল থাকলেও কর্মক্ষমতা কমে গেছে। যার কারণে প্রতিটি ভেন্টিলেটর ২৪ ঘণ্টা পরপর পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন করতে হয়।

করোনাকালীন মুমূর্ষু রোগীদের নির্বিঘ্নে সেবায় কমতি ছিল না। চিকিৎসক থেকে শুরু করে অন্যান্য জনবলও আনা হয় বিভিন্ন স্থান থেকে। কিন্তু মহামারির পর থেকে সেই আইসিইউ ওয়ার্ড এখন অনেকটাই রোগী শূন্য। শয্যা থাকলেও নেই মুমূর্ষু রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভেন্টিলেটর। অন্যান্য যন্ত্রপাতিরও আছে অভাব। রোগীদের চিকিৎসা যারা দিবেন, সেই চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরও সংকট প্রকট। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে আইসিইউ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেকটাই টেনেটুনে সেবা দিতে হচ্ছে তাদের। আইসিইউর পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় এখন এইচডিইউ সেবা দিয়েই দিন পার করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইসিইউ বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মৌমিতা দাশ বলেন, কোভিডের সময় আইসিইউগুলো স্থাপন করা হয়। তখন পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্সসহ অন্যান্য জনবল ছিল। কিন্তু এখন মাত্র দুই জন মেডিকেল অফিসার আছে। সংযুক্তিতে যারা ছিলেন, তারাও এখন নেই। জনবলের খুব সংকট। ১৮টি ভেন্টিলেটর অকার্যকর। মাত্র দুটি ভেন্টিলেটর কার্যকর আছে। তাও ২৪ ঘণ্টা পরপর পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন করতে হয়। প্রয়োজনীয় সবগুলো যন্ত্রপাতিরও সংকট আছে। সবমিলিয়ে কোনভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এখন অনেকটাই এইচডিইউর মতোই সেবা চলছে। তবুও চেষ্টা করে যাচ্ছি।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুল মান্নান বলেন, হাসপাতালে যোগদানের পর আইসিইউ’র যন্ত্রাংশসহ জনবল ও অবকাঠামোগত যে সমস্যা, তা দেখতে পাই। সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি আমি নিজেও গত নভেম্বর লিখিত আকারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। একটি আইসিইউ চলতে হলে অবকাঠামো থেকে শুরু করে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার। আশা করছি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
জানা গেছে, করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর হাসপাতালটিতে বৃহত্তর চট্টগ্রামের জন্য কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। রোগীদের স্বার্থে ২০২০ সালে ১৮টি আইসিইউ শয্যা স্থাপন করা হয়। ওই সময় আইসিইউ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সহায়ক স্টাফকে সংযুক্তিতে হাসপাতালে পদায়ন করা হয়। কিন্তু সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সব সংযুক্তি বাতিল করা হয়। যার কারণে আইসিইউ শয্যা পরিচালনার মতো বর্তমানে প্রয়োজনীয় জনবল নেই।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৮টি শয্যার জন্য ২২টি ভেন্টিলেটর থাকলেও বর্তমানে ২০টিই অকার্যকর। বাকি দুটি সচল থাকলেও কর্মক্ষমতা কমে গেছে। যার কারণে প্রতিটি ভেন্টিলেটর ২৪ ঘণ্টা পরপর পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন করতে হয়। বাইপ্যাপ মেশিন ৩৩টি থাকলেও ২৮টিই অকার্যকর। হাই ফ্লো ন্যাসাল ক্যানুলা ৩৯টির মধ্যে ৩৬টি অকার্যকর। চিকিৎসকদের মধ্যে সিনিয়র কনসালটেন্ট নেই। জুনিয়র কনসালটেন্ট আছে মাত্র ২ জন। তাও আবার তারা অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে এনেসথেসিয়া বিভাগে কাজ করে থাকেন। মেডিকেল অফিসার আছে মাত্র একজন। কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে ডায়ালাইসিসের কোন ব্যবস্থাই নেই। রেসটিরেটরি থেরাপিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, নিউট্রিশনিস্ট নেই। অন্যান্য জনবলেরও প্রকট সংকট রয়েছে। যার কারণে সংকটের মধ্যে কোনভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমী ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমীতে উৎসব মূখর পরিবেশে ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া, নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আলহাজ্ব মোঃ হেদায়েতুল তিনি অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক এবং শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

আলোচিত খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ