আজঃ সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬

মশা নিয়ন্ত্রণে চসিক’র নতুন পদক্ষেপ বিটিআই লার্ভিসাইড প্রয়োগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে মশা নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে চসিক। এর অংশ হিসেবে বুধবার দুপুরে মহানগরের ১৭ নম্বর (বাকলিয়া) ওয়ার্ডের সৈয়দ শাহ সড়কের সামনের খালে পরীক্ষামূলকভাবে বিটিআই লার্ভিসাইড প্রয়োগ করা হয়েছে।এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

এ সময় মেয়র বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে আমরা বিভিন্ন ধরনের কীটনাশকের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করছি। বিটিআই লার্ভিসাইড একটি পরীক্ষিত পদ্ধতি, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোতে মশার লার্ভা ধ্বংসের জন্য ব্যবহার করা হয়। ঢাকায় এই প্রযুক্তি প্রয়োগের পর এবার আমরা চট্টগ্রামে এটি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করছি।এই কীটনাশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটি শুধু মশার লার্ভা ধ্বংস করে, কিন্তু অন্যান্য জলজ প্রাণী যেমন ব্যাঙের ব্যাঙাচি, মাছ বা অন্যান্য জীবের কোনো ক্ষতি করে না। ফলে এটি পরিবেশবান্ধব।

তিনি বলেন, বিটিআই মূলত মশার লার্ভার অন্ত্রে বিষক্রিয়া ঘটিয়ে তাদের ধ্বংস করে। তাই এটি বেশ কার্যকর একটি পদ্ধতি। যেহেতু এটি জৈবিক উপায়ে কাজ করে, তাই রাসায়নিক কীটনাশকের তুলনায় এটি অনেক বেশি নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান দিতে পারে।
মশার উপদ্রব কমাতে চসিক বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক প্রয়োগের পাশাপাশি নতুন ও কার্যকর পদ্ধতির সন্ধান করছে জানিয়ে চসিক মেয়র বলেন, আমি যখন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন থেকেই মশা নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।

শুরুতে আমরা কিছু দেশি কীটনাশক ব্যবহার করেছিলাম, যা আংশিক কার্যকর ছিল। কিন্তু মশার ওষুধের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়ায় আমাদের বারবার নতুন কৌশল নিতে হচ্ছে। বিটিআই হচ্ছে এমন একটি প্রযুক্তি, যা পরীক্ষিত এবং নিরাপদ।
আমরা দিনে দুবার মশার ওষুধ ছিটানোর নির্দেশনা দিয়েছি,একবার সকালে এবং একবার বিকালে।

কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, মাঠপর্যায়ের কর্মীরা ঠিকমতো কাজ করছে না। তাই আমি নগরবাসীকে আহ্বান জানাবো, যদি কোথাও মশার ওষুধ ছিটানো না হয়, তাহলে আমাদের জানান। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবো।
নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে মন্তব্য করেন মেয়র বলেন, মশা সাধারণত নালা, খাল ও যেখানে পানি জমে থাকে সেখানে বংশবৃদ্ধি করে। আমরা চট্টগ্রামের নালা ও খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছি, ফলে মশাগুলো এখন বাসাবাড়ির আশপাশে চলে যাচ্ছে।

তাই বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা, ফুলের টব, টায়ার, কনস্ট্রাকশনের অব্যবহৃত সামগ্রীতে পানি জমতে না দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ।
সব নাগরিকের দায়িত্ব হল নিজ নিজ বাড়ির আঙিনাসহ আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি, সেখানে নিয়মিত পানি জমা হচ্ছে কি না তা নজরদারি করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা মশা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো।

পরীক্ষামূলকভাবে বিটিআই লার্ভিসাইড প্রয়োগের কার্যকারিতা মূল্যায়নের পর এটি নগরজুড়ে প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা দেখবো, এটি মশার লার্ভা ধ্বংসে কতটা কার্যকর হচ্ছে। যদি ফলাফল সন্তোষজনক হয়, তাহলে পুরো নগরে এর ব্যবহার বাড়ানো হবে।

এ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব শর্মা, কামরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

কিউলেক্স মশার প্রকোপ বেড়েছে: মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নালা-নর্দমা ও ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে স্থির পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটছে। তাই নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।’শনিবারের অঙ্গীকার, বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’—এই স্লোগান সামনে রেখে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও এর আশপাশের এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারা দেশে পরিচালিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে।মেয়র বলেন, নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান, কারণ প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।তাই মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এই এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে টব, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনের সামগ্রী বা প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নেয়, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জন্য দায়ী। তবে বর্তমানে কিউলেক্স মশার বিস্তার বেশি দেখা যাচ্ছে, যার প্রধান উৎস নোংরা ড্রেন ও জমে থাকা বর্জ্য। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।তিনি জানান, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে এই পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও অতিরিক্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ১৬০ জনের একটি বিশেষ দল কাজ করছে।মেয়র বলেন, চকবাজার, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, ফিরিঙ্গিবাজার, হালিশহর, পাহাড়তলীসহ কয়েকটি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষভাবে মশক নিধন ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

কার্যকর ওষুধ ব্যবহারের কারণে বর্তমানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। আমেরিকা থেকে আনা কার্যকর লার্ভিসাইড ব্যবহার করায় ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংসে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহর শুধু সিটি করপোরেশনের নয়—এটি সবার শহর। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসা-বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখলে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা সম্ভব।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সব সময় উন্নয়ন ও উদ্যোগে পথ দেখিয়েছে। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

উদ্বোধনের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেইন গেট, কেবি ফজলুল কাদের সড়ক এবং প্রবর্তক মোড় এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার করা হয় এবং মশক নিধনে লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটানো হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা ফগার মেশিন ও স্প্রে মেশিন ব্যবহার করে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম প্রমুখ।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ