আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম মহানগরে জোড়া খুনের ঘটনায় ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার-২।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রাইভেট কারকে ধাওয়া করে জোড়া খুনের ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা মোটর সাইকেলে চড়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে কারটিকে ধাওয়া করেছিল এবং কিলিং মিশনে অংশ নিয়েছিল। গ্রেফতার দুজন বর্তমানে কারাবন্দি পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের অনুসারী বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরী ও ফটিকছড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন। গ্রেফতার দুজন হল, মো. বেলাল (২৭) ও মো. মানিক (২৪)।এদিকে জোড়া খুনের ঘটনায় নিহত বখতেয়ার হোসেন মানিকের মা বাদী হয়ে গত ১ এপ্রিল নগরীর বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার বেলালের বাড়ি বান্দরবান জেলায়। তাকে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার খাজা রোড থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর মানিককে তার গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, জোড়া খুনের ঘটনাস্থলে কয়েকটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে বেলাল ও মানিককে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে তাদের মোটর সাইকেল থেকে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলিবর্ষণ করতে দেখা গেছে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ মার্চ গভীর রাতে নগরীর বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকা থেকে একাধিক মোটর সাইকেলে থাকা সন্ত্রাসীরা প্রাইভেট কারকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। প্রাইভেট কারটি বাকলিয়া এক্সেস রোড দিয়ে প্রবেশ করে নগরীর চকবাজার থানার চন্দনপুরায় পৌঁছানোর পর থেমে যায়। তখন বেপরোয়াভাবে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা। এতে দুজন নিহত ও দুজন আহত হন।

নিহতরা হলেন, বখতেয়ার হোসেন মানিক ও মো. আব্দুল্লাহ। তাদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। আহতরা হলেন- রবিন ও হৃদয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. রবিন জানিয়েছিলেন, প্রাইভেট কারে চালক ছিলেন মানিক। কারের মালিক আবদুল্লাহ। কারে চালক মানিকের পাশে ছিলেন অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সরোয়ার হোসেন বাবলা। পেছনের সিটে আবদুল্লাহ, রবিন, হৃদয় ও ইমন ছিলেন।

রবিনের অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বী সরোয়ার ছোট সাজ্জাদকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেন বলে তার সন্দেহ ছিল। এজন্য সরোয়ারকে টার্গেট করে ছোট সাজ্জাদের অনুসারী সন্ত্রাসীরা কারে গুলিবর্ষণ করে। তবে সরোয়ার প্রাণে বেঁচে যান।উল্লেখ্য, ছোট সাজ্জাদ ও সরোয়ার হোসেন বাবলার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্যের বিরোধ চলছে। সেই বিরোধে এর আগেও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

গত ১৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা থেকে ছোট সাজ্জাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর সরোয়ার ও সাজ্জাদের বিরোধ নতুন মাত্রা পায়।জানা গেছে, জোড়া খুনের ঘটনায় নিহত বখতেয়ার হোসেন মানিকের মা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে গত ১ এপ্রিল নগরীর বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্নাসহ ৭ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় অন্য আসামিরা হলেন, মোহাম্মদ হাছান (৩৬), মোবারক হোসেন ইমন (২২), খোরশেদ (৪৫), রায়হান (৩৫) ও বোরহান (২৭)। তবে গ্রেফতার বেলাল ও মানিকের নাম ওই এজাহারে নেই।মামলায় অভিযোগ করা হয়, ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীর পরিকল্পনা অনুসারে আসামিরা গুলি করে মানিকসহ দুজনকে হত্যা করেছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএসএফের টাকার টোপে সীমান্তের দরিদ্ররা সহযোগিতা করছেন পুশ-ইনে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সীমান্তজুড়ে পুশ-ইন ইস্যু নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলা দিয়ে নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে কড়া নজরদারির কারণে অনেক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও এ কাজে সীমান্ত এলাকার কিছু দরিদ্র মানুষকে অর্থের প্রলোভনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্তে গিয়ে জানা গেছে, সীমান্তঘেঁষা নদীপথগুলো এখন নতুন কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। আগে যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া কিংবা স্থলপথে কড়াকড়ি ছিল, এখন সেখানে নদীপথকে ব্যবহার করে রাতের অন্ধকার কিংবা ভোরের সময় পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন একাধিক ঘটনার তথ্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী দরিদ্র কিছু বাংলাদেশিকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এসব কাজে ব্যবহার করছে বিএসএফ।

সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইন কার্যক্রমে কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী- একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিএসএফের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসব পুশইনে সহায়তা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একজনকে পুশ-ইন করতে পারলে দেওয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকা। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে।

তবে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের চেষ্টা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং যেকোনো পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ