আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করতে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাসিন্দারা। রোববার বেলা পৌনে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনকারীরা। স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান। মানববন্ধনে তারা সড়কটি প্রশস্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু না করলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

বক্তারা বলেন, প্রতিবার ঈদ-কোরবানি ও বিভিন্ন উপলক্ষ্য আসে। কিন্তু কক্সবাজার সড়কে মৃত্যুর মিছিল কোনোভাবেই থামছে না। এই ঈদে একটু স্বস্তির আশায় পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ আনন্দ উপভোগের বদলে সড়কে মৃত্যুর মিছিল কেবল কক্সবাজার নয়, সারাদেশের মানুষকে কাঁদিয়েছে। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র। এই সড়কে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই সড়কে কোনোভাবেই মৃত্যুর মিছিল থামছে না। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, এই সড়ক দ্রুত ৬ লেনে উন্নীত করে মৃত্যুর মিছিল থামান।

গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক ইমন মোহাম্মদ বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কটি আমরা ছয় লেনের চাই। যে ছয় লেনের মধ্যে মাঝখানে একটি ডিভাইডার থাকবে। দুপাশে তিন লেন করে থাকবে। বিশেষ করে লবণের গাড়িগুলোর যে পরিবহন, এই লবণ তপ্ত রোদে গলে যায়। যার ফলে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে চালকরা যেতে চেষ্টা করে এবং এতে দুর্ঘটনা ঘটে। আবার ওই গাড়িগুলো থেকে লবণের পানি পড়ে রাস্তা পিচ্ছিল হয়। এজন্যও দুর্ঘটনা হয়।

তিনি বলেন, রাস্তাটিও এতটা সরু যে, দুটি বাস পাশাপাশি গেলে মোটরসাইকেল বা অন্য কোনো গাড়ি যাওয়ার সুযোগ থাকে না। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে দুর্ঘটনা ঘটার আরেকটি কারণ হলো, অবৈধ অটোরিকশা মহাসড়কে চলে। এ সড়ক ৬ লেনে উন্নীত হলে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে কক্সবাজারের গুরুত্ব আরও বাড়বে এবং দুর্ঘটনা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। পর্যটকরা তখন সেখানে যেতে আরও উৎসাহিত হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক মাহমুদুর রহমান সাঈদী বলেন, আমরা আজ প্রাণের দাবি নিয়ে এসেছি। আমাদের দক্ষিণ চট্টগ্রামের সড়কটি ঢাকা শহরের ফুটপাতের চেয়েও খারাপ। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়ক-১ হয়েও এটির প্রশস্ততা গড়ে ১৮ ফিট। দুটো গাড়ি স্বাভাবিকভাবে যেতে পারে না। যার ফলে এখানে মৃত্যুটা যেন নিশ্চিত বিষয়। দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্ব অনুসারে এই সড়কটি খুব শীঘ্রই যেন ৬ লেনে উন্নীত হয়, এটা আমরা চাই। এটা না হলে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো। আমরা আশ্বাস চাই না, বাস্তবায়ন চাই। আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া না দেখলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেবো।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এড. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। এই সরু রাস্তা দিয়ে বাংলাদেশের সমস্ত প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ গাড়িতে প্রবেশ করছে। অথচ এই সরু ও আকাবাঁকা রাস্তার কারণে বারবার সড়ক দুর্ঘটনা হচ্ছে। বারবার লাশ পড়ছে, কালো পিচগুলো রক্তে লাল হয়ে ওঠেছে। বিভিন্ন পরিবার আজ নিঃস্ব হয়েছে। এরপরেও সরকারের টনক নড়ে না।

তিনি বলেন, কয়েকটি স্পিড ব্রেকার এবং সড়কের উভয়পাশে ইট দিয়ে আমাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি সুনির্দিষ্ট এবং সুস্পষ্টভাবে বলছি, এই রক্তঝড়া ক্ষত মলম দিয়ে দূর করা যাবে না। তাই বলছি, অবিলম্বে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৬ লেনে করা হোক। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা চট্টগ্রামের ছেলে। সড়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা চট্টগ্রামের। উনি সন্দ্বীপের জন্য ফেরি সার্ভিস চালু করেছেন। তাকে অনুরোধ করবো আমাদের চট্টগ্রামবাসীর জন্য, বাংলাদেশের জন্য এ সড়ক ৬ লেনের উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও নগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, পত্রিকা-টেলিভিশন খুললেই দেখি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। আমরা এই মৃত্যুর মিছিল আর দেখতে চাই না। কক্সবাজার দেশের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, তাই সেখানে লক্ষ লক্ষ পর্যটক বেড়াতে যায়। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরসহ অনেক অবকাঠামো সেখানে। ফলে গাড়ির চাপ বেড়েছে। সড়কের উন্নয়ন না করে অপ্রয়োজনীয়ভাবে এখানে টানেল করা হয়েছে। আমরা অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের কাছে দাবি জানাই, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কাজ শুরু করুন অবিলম্বে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া অংশে ঈদুল ফিতরের প্রথম তিনদিনে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০ জনেরও বেশি। স্থানীয় বাসিন্দারা এসব দুর্ঘটনার জন্য মূলত চালকদের বেপরোয়া গতি, লবণবাহী ট্রাকের পানি ফেলা এবং অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলারের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলকে দায়ী করছেন।

হাইওয়ে পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন মাসে এই সড়কে ৫৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৪০ জন নিহত এবং ৭৩ জন আহত হয়েছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অংশে ৩৭টি দুর্ঘটনায় ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমী ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমীতে উৎসব মূখর পরিবেশে ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া, নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আলহাজ্ব মোঃ হেদায়েতুল তিনি অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক এবং শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

আলোচিত খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ