২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১৪টি প্রস্তাবনা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যারা ব্যবসা বাণিজ্য করছেন, দেশের জন্য কর্মসংস্থান করছেন তারা রিয়েল হিরো বলে মন্তব্য করেছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজম্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।বৃহস্পতিবার দুপুরে আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সম্মেলন কক্ষে প্রাক বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটকে ব্যবসা ও শিল্পবান্ধব করতে আয়কর বিষয়ক ১৯টি, ভ্যাট বিষয়ক ৪০ ও শুল্ক বিষয়ক ৫৫টি প্রস্তাবনা দেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। প্রস্তাবনা বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে রাজস্ব বোর্ডের সকল কার্যক্রম সহজ ও অনলাইনভিত্তিক করার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

চিটাগং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রশাসক মুহাম্মদ আনোয়ার পাশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উইমেন চেম্বার, মেট্রোপলিটন চেম্বার, রাঙামাটি ও কক্সবাজার চেম্বারসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি। এসময় তিনি এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত প্রস্তাবনা তুলে দেন।

সভায় চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বারের সভাপতি আবিদা সুলতানা বলেন,বর্তমানে দেশের নারীরা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ব্যবসাক্ষেত্রে এগিয়ে আসছেন। বাজেটে তাদের দিকে বিশেষ নজর রাখা দরকার। ভ্যাট-ট্যাক্সের ক্ষেত্রেও তাদের বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, মেশিনারিজের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। রপ্তানি-আমদানি আরও সহজ করার লক্ষে এটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, বাংলাদেশের এখনও ৫৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। ভ্যাটকে সহনীয় পর্যায়ে এনে জনসাধারণের যাতে সুবিধা হয় সে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সরাসরি যেসব ট্যাক্স আছে সেগুলো কমিয়ে আনা হোক।

বিজিএমইএ’র সাবেক প্রথম সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, অডিটকে কত সহজভাবে করা যায়; সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এছাড়া চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ আলোচনা যাতে আমলে নেওয়া হয়। বিগত বছরগুলোতে আলোচনা হলেও তার প্রতিফলন বাজেটে দেখা যায়নি।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি একরামুল করিম, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সহ-সভাপতি এরশাদ উল্লাহ, বেলাল আহমেদ, সাবেক পরিচালক আমজাদ চৌধুরী, রাঙামাটি চেম্বারের সভাপতি মামুনুর রশীদ, কক্সবাজার চেম্বারের সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন শিল্পগ্রুপের প্রতিনিধিবৃন্দ।
সবার বক্তব্য শেষে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, অনেকগুলো বিষয়ের সঙ্গে আমরা সরাসরি জড়িত না।

আমরা বুঝতে পেরেছি বন্ডে সমস্যা আছে। তাই আমরা বন্ড পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করতে চাচ্ছি। কিন্তু অনেকে অসুবিধার কথা বলে এতে সমর্থন করছে না। সার্টিফিকেট, লাইসেন্স, পারমিট এসব অনলাইনে করার প্রক্রিয়া চলছে। ভ্যাটের অডিট ও ভ্যাটের রিটার্ন সহজ করার জন্য কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ট্যাক্স বাড়াতে না পারলে দেশের উন্নয়নে অংশীদার হওয়া যাবে না। আপনারা যৌক্তিক দাবি দিয়েছেন। বিষয়গুলো অবশ্যই বিবেচনা করা হবে। বাজেট প্রণয়নে এ সুপারিশ দেওয়া হবে। তবে আমরা এখন রাজস্ব আহরণের বিষয়ে জোর দিচ্ছি। এরমধ্যে কর ফাঁকির বিষয়টি আমাদের প্রধান প্রায়োরিটি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর এলাকার ন্যাম ভবন থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি জিএম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ন্যাম ভবনের ৫নং ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা এখনও জানা যায়নি।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, রুমের জানালা দিয়ে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। তবে কখন, কীভাবে কেন এ ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের দেয়া তথ্যে জানা যায়, মরদেহ উদ্ধারের পর ফরেনসিকের জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, নজরুল ইসলাম তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে দুপুরের খাবার খেয়েছেন। এরপর তারা বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আলাদা আলাদা রুমে যান। পরে ৫টার পরে ছোট স্ত্রী মরিয়মকে ডাকতে গেলে দরজা বন্ধ পান। পরে জানালা দিয়ে দেখেন আলোচিত দ্বিতীয় স্ত্রী ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন। পরে তিনি থানা পুলিশকে জানান। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা সে বিষয় বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।

৮০ হাজার কর্মী বছরে বেতন পায় ২ হাজার ৮২০ কোটি টাকা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের অন্যতম বৃহৎ সরকারি কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা বা ‘কেইপিজেড’। প্রতিদিন এখানে বিশ্বমানের কারখানাগুলোতে তৈরি হয় আন্তর্জাতিক বাজারের সব ব্র্যান্ডের পণ্য। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পেছনে আসল শক্তি একটাই-নগদ অর্থ। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন তিনটি কারখানা চালু হবে। এতে আরও ২০ হাজার কর্মী যুক্ত হয়ে মোট জনবল উন্নীত হবে এক লাখের মাইলফলকে। তখন মাসিক বেতনও পৌঁছাবে ৩০০ কোটি টাকায়।বর্তমানে ৮০ হাজার কর্মীর হাতে প্রতি মাসে পৌঁছায় ২৩৫ কোটি টাকা। তা-ও মাসের ১ থেকে ৮ তারিখের মধ্যে। গড়ে প্রতি কর্মীর বেতন প্রায় সাড়ে ২৯ হাজার টাকা।বছরে এই বেতনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। কর্মীদের বেতনের এই টাকায় মাত্র ৪ থেকে সাড়ে ৪ বছরেই একটি কর্ণফুলী টানেলের পুরো নির্মাণ খরচ তোলা সম্ভব!

এদিকে পতেঙ্গা এলাকায় মাস শেষে নগদে বেতন নেওয়ার পুরনো দৃশ্য এখন আর নেই। সেখানে ঘটেছে এক নীরব ‘ডিজিটাল বিপ্লব’। মাসের প্রথম সপ্তাহে ব্যাংকগুলোর স্বয়ংক্রিয় পে-রোল সিস্টেমের মাধ্যমে সরাসরি ৮০ হাজার শ্রমিকের অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায় ২৩৫ কোটি টাকা। এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে বেতনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে। এটিএম বুথ ও ডিজিটাল ওয়ালেটে টাকা পৌঁছে যাওয়ায় কেনাকাটা ও দ্রুত গ্রামে টাকা পাঠানো এখন সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত।

কেইপিজেডের ৮০ হাজার কর্মীর মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী। অর্থাৎ প্রায় ৪৮ হাজার নারী শ্রমিক প্রতি মাসে সরাসরি প্রায় ১৪১ কোটি টাকা বেতন পান। এই আয় দিয়ে নারীরা পরিবারের মূল চালকের ভূমিকা নিচ্ছেন। একই সঙ্গে সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যতের সঞ্চয় নিশ্চিত করে নিজেদের সামাজিক মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলছেন।

কর্ণফুলী ইপিজেডে শ্রীলঙ্কাভিত্তিক বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ক্যানপার্ক বাংলাদেশের পরিচালক খলিলুর রহমান (মিল্টন) জানালেন, ‘এই নারীরাই আমাদের কারখানার প্রাণ। সব ধরনের সমান সুযোগ-সুবিধা তারা পান। আমাদের এমন অনেক নারী কর্মী আছেন, যারা শুরু থেকে টানা ২০ বছর ধরে সুনামের সাথে কাজ করছেন।

জানা গেছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের বৃহত্তম সরকারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম স্টিল মিলের ২২২ একর জমিতে ২০০৬ সালে এই শিল্পনগরীর সূচনা হয়। ২৫৮টি শিল্পপ্লটের ওপর এখন চালু রয়েছে ৪০টি বিশাল কারখানা। এর ২৯টিই শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও থামেনি কেইপিজেডের অগ্রযাত্রা। ভোরের আলো ফোটার আগেই হাজার হাজার মানুষের আনাগোনা শুরু হয় পতেঙ্গায়। পাশে কর্ণফুলী নদী। একটু দূরেই বঙ্গোপসাগর। নদী-সাগরের হাওয়ায় ভেসে আসে তখন হাজারো মানুষের পায়ের শব্দ। জোরে হাঁটছেন, কেউ ছুটছেন গন্তব্যে। কারণ এখানে যন্ত্রের টুকটাক গুঞ্জন, মেশিনের অবিরাম শোঁ শোঁ শব্দ আর সুচ-সুতোর বুননে প্রতিদিন এখানে তৈরি হয় আন্তর্জাতিক বাজারের বিশ্বখ্যাত সব ব্র্যান্ডের পণ্য।

কর্ণফুলী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক জানালেন, ৮০ হাজার কর্মীর প্রতি পরিবারে চারজন সদস্য ধরলে ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ সরাসরি এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই আয় বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনে অভাবনীয় সামাজিক ও আর্থিক স্বস্তি এনে দিয়েছে। বেতনের সিংহভাগ টাকা স্থানীয় আবাসন, কাঁচাবাজার ও দৈনন্দিন কেনাকাটায় খরচ হয়। এতে পুরো পতেঙ্গা ও ইপিজেড মোড় এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসা, পরিবহন ও সার্ভিস সেক্টরে সচল অর্থনীতির চাকা।

কেইপিজেড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেইপিজেড থেকে প্রতি মাসে গড়ে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা) মূল্যের পণ্য বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। জাপানের হাই-টেক অপটিক্যাল লেন্স, দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বখ্যাত ক্যাম্পিং প্রোডাক্টস এবং চীন ও শ্রীলঙ্কাসহ ১৪টি দেশের কারখানায় তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত পণ্য এই আয়ের মূল উৎস। চট্টগ্রাম বন্দরের ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে পরিচালিত কেইপিজেডের এই ধারাবাহিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে।

কর্ণফুলী ইপিজেডের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ খালিদ চৌধুরী বললেন, ইপিজেডে পদোন্নতি না হলেও প্রতিবছর নিশ্চিত ৯ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট মেলে। বাৎসরিক নিশ্চিত আয় বৃদ্ধি, উন্নত চিকিৎসাসহ কমপ্লায়েন্সভিত্তিক নিরাপদ কর্মপরিবেশ থাকার কারণে শ্রমিকদের চাকরি ছাড়ার প্রবণতাও অনেক কম।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ